সর্বশেষ

  বসন্তের কবিতাগুচ্ছ - সঞ্জয় আচার্য   বিয়ানীবাজারে ছাত্র ইউনিয়নের ভাষা দিবস স্কুল উৎসব সম্পন্ন   ১৯ জানুয়ারী সাংবাদিক মোহাম্মাদ বাসিতের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী   এক বছরে বিশ্বে ধনীরা আরো ধনী হয়েছেন, গরিবরা আরো গরিব   হোলি আর্টিজানে হামলার জন্য ৩৯ লাখ টাকা জোগাড় করেন মামুন   জেলা হাসপাতালের ৪০ শতাংশ চিকিৎসকই অনুপস্থিত : দুদক   বিজ্ঞানী আবেদ চৌধুরীর উদ্ভাবিত ভুট্টা ক্যান্সার প্রতিরোধক!   আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল আর নেই   বিয়ানীবাজারের আব্দুল্লাপুর সপ্রাবিতে শিক্ষার্থী সংবর্ধনা   ক্ষমতাবলে শিক্ষক হওয়া স্যার, আপনাকেই বলছি!   মাথাপিছু ঋণ ১৭ হাজার টাকা   বিয়ানীবাজার ছাত্র ইউনিয়নের স্কুল উৎসব   উন্নয়ন, দুর্নীতি ও জিডিপি: একসঙ্গে বাড়ার রহস্য কী?   বিশ্বব্যবস্থাঃ পুঁজিবাদ যেভাবে আমাদের মেরে ফেলছে   গোলাপগঞ্জে বাস-সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ।। নিহত ২ আহত ২

প্রবাস

বাংলাদেশে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শহীদ আলতাব আলী পার্কে প্রতিবাদ সমাবেশ

প্রকাশিত : ২০১৮-০৮-০৭ ১৫:০২:২৪

রিপোর্ট : দিবালোক ডেস্ক



গত সপ্তাহ থেকে আমার মনে বেশ আনন্দ ভর করে আছে। বাংলাদেশে স্কুলের বাচ্চারা রাস্তায় নেমেছে নিরাপদ সড়কের দাবিতে। দশজন বারোজন করে করে বৃহৎ এক আন্দোলনে মোড় নিয়েছে। তারপর রাষ্ট্রযন্ত্রের মেরামতের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। রাস্তাঘাট সব জায়গায় ট্রাফিক আইনের একেক ট্রাফিক সার্জেন্ট। ইতিহাসের বিরল এক উদাহরণ তৈরি করে খুদে এই সার্জেন্টরা। তারা সবার গাড়ির লাইসেন্স পরীক্ষা করছে। যাতে যোগ্য চালকই গাড়ি চালায়।
শস্যের ভেতরে ভূত। ফিটনেসবিহীন গাড়ি আর লাইসেন্সবিহীন চালকের ওপর ভর করে চলছে বাংলাদেশ। এ যেন লাইসেন্সবিহীন চালক দিয়ে ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালানোর এক মহরত। বাদ নেই কেউই। মন্ত্রী, এমপি, বিচারপতি, নির্বাচন কমিশনার, দুদক কমিশনার, সরকারি আমলা, পুলিশ কর্মকর্তা থেকে সবাই। জাতির এই ক্রান্তিকালের চোখ খুলে দিল স্কুলের বাচ্চারা। অথচ এসব ব্যাপারে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের বক্তব্য না দিয়ে একটা হাসি উপহার দিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রী। যেই হাসিতে তাচ্ছিল্য আছে, আছে কুড়িয়ে খাওয়ার দানবীয় দন্ত।

দেশে গিয়েছিলাম ২০১৫ সালে। তেজকুনি পাড়া থেকে জিগাতলা যাব। সিএনজি নিলাম। ফার্মগেটে জ্যামে পড়েছি। চালককে বললাম কি ব্যাপার, আপনারতো ডান দিকের লেনে থাকা উচিত, আপনি বাঁ দিকে যে! চালক উত্তর দেন, মামা টেনশন নেবেন না, দেখেন। ট্রাফিক ছাড়লে ১০ কী ২০ সেকেন্ডের ব্যবধানে সিএনজি ডানে। কী এক বীরত্বগাথার কাজ করে বিজয়ের হাসি হাসলেন চালক। অথচ আমি আর আমার স্ত্রী যেন দুমড়ে মুচড়ে গেছি। অসম্ভব রকমের অব্যবস্থাপনার মধ্যে যেন বাংলাদেশ। তার ওপর তখন চলছিল পেট্রল বোমা। ফিরে আসার পর প্রায়ই মনে প্রশ্ন জাগত, কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে বাংলাদেশ।

অথচ গত এক সপ্তাহে বাংলাদেশ যেন নতুন এক দেশ। বাংলাদেশের মানুষজন রাস্তায় লেন মেনে গাড়ি চালাচ্ছে। ছাত্ররা লাইসেন্স চেক করছে। আন্দোলন তার গতি ত্বরান্বিত করছে। সরকার সময় নিচ্ছে। এসব আন্দোলনে আপনি যত সময় নেবেন ততই দুষ্কৃতকারীরা ঢুকে পড়বে, এটি অত্যন্ত সহজ একটি পথ। ঠিক তাই হয়েছে। বাচ্চাদের ব্যবহার করে যে যার রাজনৈতিক ফায়দা লুটবে।

এরপর ছাত্রদের ওপর নেমে এল এক ধরনের বর্বরতা। শিক্ষার্থীদের রক্তে লাল হয়ে আছে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা। এরা কি রাজনীতি বোঝে? এরা তো নিরাপদ সড়ক চেয়েছিল। বন্ধুর হত্যার বিচার চেয়েছিল। নিরাপদে ঘরে ফিরতে চেয়েছিল

ওদের কান্না আমাকে কাঁদায়। ওদের রক্ত দেখে আমার রক্তের প্রবাহ বাড়ে। আমিও দাঁড়িয়ে যাই লন্ডনের শহীদ আলতাব আলী পার্কে। প্রতিবাদ জানাই আর বিচার চাই। দাবি জানাই নিরাপদ সড়কের। গত রোববার (৫ আগস্ট) শহীদ আলতাব আলী পার্কে এই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মহি উদ্দিন: লন্ডন, যুক্তরাজ্য। (প্রথম আলো থেকে নেয়া)

শেয়ার করুন

Print Friendly and PDF


মতামত দিন

Developed By -  IT Lab Solutions Ltd. Helpline - +88 018 4248 5222