সর্বশেষ

  চুয়াডাঙ্গায় মহিষের শিংয়ে প্রাণ গেল মালিকের   কুবিতে ভর্তির আবেদন ১ সেপ্টেম্বর   তিন দিনের সফরে ঢাকায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী   ডেঙ্গুতে পাঁচ জেলায় আরও ৭ জনের মৃত্যু   বিয়ানীবাজার পৌরসভার উদ্যোগে যথাযথ মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবস পালন   বিয়ানীবাজার উপজেলা প্রশাসনের জাতীয় শোক দিবস পালন   ঢাকা মেডিকেল এলাকায় এডিস মশার আবাসস্থল ধ্বংস করলো যুব ইউনিয়ন   এডিস মশা পানিতে ডিম পাড়ে না, জানালেন বিশেষজ্ঞ   রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়া সবাই রাষ্ট্রের চাকর: হাই কোর্ট   মুসলিমদের গরু কুরবানি দিতে নিষেধ করলেন মন্ত্রী!   বিনা পারিশ্রমিকেই খেলবে জিম্বাবুয়ের খেলোয়াড়রা   সিলেটেও ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু, ২৪ ঘন্টায় নতুন করে আক্রান্ত ৫৩ জন   সুপ্রিয় চক্রবর্তী রঞ্জু আর নেই   যার ফোনে ফেরি ছাড়তে দেরি তিনিই করলেন তদন্ত কমিটি!   মুসলিম নির্যাতনের প্রতিবাদ করায় সৌমিত্র-অপর্ণার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের মামলা

কৃষি

বিরল প্রজাতির উদ্ভিদ সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণে কাজ করে যাচ্ছেন বাকৃবির অধ্যাপক মোস্তাফিজ

প্রকাশিত : ২০১৭-০৮-১৮ ১৯:৫৫:১৬

রিপোর্ট : দিবালোক ডেস্কঃ


নিরবে কাজ করে যাচ্ছেন বিরল প্রজাতির উদ্ভিদ সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণে। বাসায় গেলে দেখা মিলবে উদ্ভিদের উপর শত শত বইয়ের সংগ্রহশালা, বাসার নিচতলা যেনো উদ্ভিদ পুস্তকের এক বড় লাইব্রেরী। পুরো নাম মো. মোস্তাফিজুর রহমান। গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরের পার্বতীপুর। ১৯৬৫ সালে অনার্স পড়তে পাড়ি জমান ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি)। পরে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৭৪ সালে কৃষি অনুষদের ফসল উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। ২০১৬ সালের জুলাই মাসে শিক্ষকতা থেকে অবসরে যান তিনি।


১৯৮৮ সালের কথা, বাকৃবি বোটানিক্যাল গার্ডেনের কিউরেটরের দায়িত্ব পান তিনি। দু’বছরের দ্বায়িত্ব এরপর আবার অন্যজন দায়িত্ব পান। দু’বছরের এই দায়িত্বভার নেওয়ার পরই উদ্ভিদের বেশি কাছাকাছি আসার সুযোগ হয় তাঁর। তখন বোটানিক্যাল গার্ডেনের সৌন্দর্যবর্ধন ও উদ্ভিদ সংরক্ষণে সবসময় তদারত্বি করতে হতো। ১৯৯০ সালে দায়িত্ব শেষ হয়ে গেলেও তিনি বোটানিক্যাল গার্ডেনের মায়া কাটাতে পারেননি। তাই কিউরেটর দায়িত্ব শেষ হলেও বোটানিক্যাল গাডের্নে তার যাতায়াত অব্যাহত থাকে। সেই থেকে গত ২৬ বছরে প্রতিদিনই সময় পেলে গার্ডেনে আসেন, ৪০টি জোনে বিভক্ত গার্ডেনে ঘুরেন। এসে যেখানে যে গাছে পরিচর্যা ও কাজ প্রয়োজন তার তদারকি করেন।


আবেগআপ্লুত হয়ে যান বোটানিক্যালের ইতিহাস বলতে গিয়ে। তাঁর সংগ্রহে থাকা অনেকগুলো বিরল ছবি দেখিয়ে বলতে থাকেন আজকের যে সুন্দর সাজানো গোছানো বোটানিক্যাল গার্ডেন দেখতে পাচ্ছো আগে এর কিছুই ছিলো না। এই সুন্দর গেট এখানে শুধু দুটো খুঁটি ছিলো এখন সেখানে তৈরি হয়েছে সুন্দর একটি প্রবেশদার। এই যে অর্কিড বাগান, ক্যাকটাস, পাম, ফাইকাস, মসলা, টিম্বার, বাঁশ, বেত, সুন্দরবন, চা বাগান, বিরল উদ্ভিদ ও বনজ উদ্ভিদ জোনসহ জলজ উদ্ভিদ (হাইড্রোফাইটিক) সংরক্ষণের জন্য ওয়াটার গার্ডেন এবং মরুভূমি ও পাথুরে অঞ্চলের উদ্ভিদ বাগান এর এত সজ্জা ও সুন্দর ঘর দেখছো আগে এমন ছিলো না। কোথাও একটি দেয়াল ও ভেতরের জঙ্গল ছিলো। আজ উপরে সুন্দর টিনশেড ও ভিতরে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন সাজানো গোছানো উদ্ভিদের সমারোহ দেখছো। নিজের সন্তানের মতো গার্ডেনটিকে বড় করেছি, সাজিয়েছি। গার্ডেনে যেসব বিরল প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে তাদের গায়ে উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নাম ইংরেজি নাম, প্রাপ্তস্থানসহ পূর্ণাঙ্গ তথ্য লাগিয়ে দেওয়া আছে। আর যেসব বিলুপ্ত প্রজাতি তাদের গায়ে লাল হরফে উদ্ভিদটির বিস্তারিত তথ্য সাঁটানো রয়েছে। এখানে অনেক ভেটেরিনারি শিক্ষার্থী আসেন বিষাক্ত উদ্ভিদ নিয়ে গবেষণা করতে।


কিউরেটরের দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর থেকেই নিজ উদ্যোগে গাছের প্রতি ভালোবাসা থেকে কাজ করে চলছেন মোস্তাফিজ। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন)Ñএর রেডলিষ্ট সংগ্রহ করে সেখানে লাল তালিকাভুক্ত যেসব গাছের কথা আছে সেগুলো সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করে চলেছেন। গাছ সংগ্রহের জন্য তিনি দেশ হতে দেশান্তরে ঘুরেছেন। এক এক জায়গায় গেছেন তো সেখান থেকে বিরল প্রজাতির গাছ সংগ্রহ করে বোটানিক্যালে স্থান দিয়েছেন।


উদ্ভিদ সংগ্রহের বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে বলেন, রংপুরের পায়রাবন্দের রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্র থেকে বিশেষ ধরণের কলাগাছ এনেছি যা এখন শুধু বাকৃবিতেই পাওয়া যায়। উদ্ভিদটির মূল বৈশিষ্ট্য অন্যান্য কলা জাতীয় গাছ অঙ্গজ জনন হলেও এটি বীজ থেকে গাছ হয়। চট্রগ্রামের বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে মেলা লিউকার আনি যা এখন আমাদের এখানে আছে শুধু। হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হলুদ পলাশ আনি যা একদম হলুদ যা শুধু আমাদের এখানেই রয়েছে। একবার সাজেকে গিয়েছিলাম একটা কুমড়া জাতীয় গাছ (সিডা মেডুলী) যা দেশের আর কোথাও নেই সেটি এনে বোটানিক্যাল গার্ডেনে সংরক্ষণ করি। আগে যষ্টিমধু ময়মনসিংহের মধুপুরে পাওয়া যেতো। এখন পাওয়া যায় না সেটি ইন্ডিয়া থেকে সংগ্রহ করেছি। উদ্ভিদ সংগ্রহের জন্য তিনি ছুটে গিয়েছেন শ্রীমঙ্গল, বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট, পটুয়াখালির দুমকি, হাবিপ্রবি, কক্সবাজার, সুন্দরবন, সিলেট, লাওয়াছড়া, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি বোটানিক্যাল গার্ডেন, ইংল্যান্ডের রয়েল বোটানিক্যাল গার্ডেন (কিউ), ইন্ডিয়ার কেরালা, ত্রিভানদারামসহ দেশের বিভিন্ন বৃক্ষমেলা, নার্সারী ও বনে-জঙ্গলে ।


শ্রীমঙ্গলের আকবরপুর ফার্ম (২০০৫-২০০৯) থেকে তইকর, কুমারিলতা, তরকি লাউ, কাকড়া, কফি ; বান্দরবান (১৯৯৯) থেকে ঘা আলু, বুলগুজারি: ময়মনসিংহের গোপালপুরের বগার বিল (২০০৯) থেকে সাদা পদ্ম; পটুয়াখালীর দুমকী (২০০২-২০০৯) থেকে উরমই, পদ্মাগুলঞ্চা, ডেওরা, হারগুজা কান্টা, হুগলা; শ্রীমঙ্গলের ফিনলে টি এস্টেট (২০০৯) থেকে বানভেনডি, মটরকড়ই, এপিকাক, কালাহুজা, প্যাশন ফ্রুট, ডেরিস; নাটোরের হায়বাতপুর (২০০৫) থেকে কালোমেঘ, মিছরিদানা, নিলকান্ত, শতমূলী, স্বর্পগন্ধা, তালমুলি; হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৯৯-২০০৯) থেকে হানি সাকল, বানকলা, হলুদ পলাশ, হলুদ কাঞ্চন, শম্ভুকাস, পিচ, অনন্ত লতা; মৌলভীবাজার লাওয়াছড়া (২০০১-২০১০) বন থেকে খামি, কুলানজান, পাহাড়ি কাশ, কানথাকাশ, সুলতানচাপা; মধুপুর শাল বন (১৯৯-২০১০) থেকে কাইকা, সিধা, কানসুনালু, লেতকানথা, নদাজাম, তিথিজাম, আজুলি, শাল, আমরাগুতা; রাজশাহীর নারিকেলবাড়িয়া (২০০৩-২০০৫) থেকে খারাজুরা, আরুসা, পানিকলমি: নাটোর (১৯৯৮) কুরচি; পার্বতীপুরের নয়াপাড়া (২০০৪-২০০৫) থেকে খুসখের, এলেনা, চাগাল্লাদি, মোথা; পটুয়াখালি (২০০৪) থেকে বিষকফিয়া; মধুপুরের পিরগাছা মিশন (২০০২-২০০৯) থেকে আভুকাদো, ডুরিয়ান, কোকুয়া; সিলেটের জৈন্তাপুর (২০০২-২০০৪) থেকে সাতকরা, অ্যাভুকডা, বরমালা; টেকনাফ (২০০৪) থেকে মেইলাম, ছাগল-লাদি; বলদা বোটানিকাল গার্ডেন (২০০২-২০১১) থেকে স্বর্ণ অশোক, রাজ অশোক, জাচুইনা, কন্ঠলতা, ব্রানফেলসিয়া, আফ্রিকান টিউলিপ, অ্যামাজান লিলি. ক্যাকটাস, লালচিতা, নিলচিতা; চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিকাল গার্ডেন (১৯৯৯) থেকে গোলমরিচ, পাটিপাটা; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বোটানিক্যাল গার্ডেন (২০০৩-২০০৯) থেকে নাক্্রভোমিকা, কচুরিপানা, মাসুকদা, গানিয়ারি, গ্রিলিরিচিডা; জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয বোটানিকাল গার্ডেন (২০১০) থেকে ফার্ন হরিণসিংঙ্গা; ন্যাশনাল বোটানিকাল গার্ডেন (২০০১-২০১১) থেকে অশোক, আতমরা, পাদুক, বেরিয়া, বেহেলাতদ, ফার্ন কড়ই, গার্ডেনিয়া, ঝাল কচু, লাল ঝুমকা, কপূর, ব্যামব্রুস, টিটপাই, রনডেলিটিয়া, টাবেবুইয়া, সুগার পাম্প; রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বোটানিকাল গার্ডেন (২০০৩-২০০৪) থেকে ডুমবিয়া, গারিয়া বেত, বনজারি; ঢাকা বৃক্ষমেলা (২০০১-২০১১) জয়ত্রী, জয়পাল, নাগনাথ, জাচারান্দা, বন্য খেজুর, স্কাফেলারা, রাভেনিয়া, জাকুটিভাসা, ভেরিগেটেট বকুল, ভেরিগেটেট মন্ডার, পারসিমন, পিচ, ইশরমূল, রামবুতুম, নাগমনি, ম্যানগ্রোভ প্রজাতি; খুলনা বৃক্ষমেলা (২০০৮) থেকে কাকড়া, বাইন, হারগুজা কান্তা, হেনতাল, টাইগার ফার্ন, খালসি; বগুড়া নুর সবুজ নার্সারী (২০০২-২০১২) থেকে আলস্পেসিস, বাঁশপাতা, ব্রাউনিয়া,ূ ব্রাউনফালসিয়্;া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আনোয়ার (২০১০) থেকে তালি পাম্প সংগ্রহ করেছেন। এমন অনেক বনে-জঙ্গলে ঘুরেছেন উদ্ভিদের খোঁজে।


মোস্তাফিজ তার কাজ সম্পর্কে বলেন, যদি বিরল প্রজাতির উদ্ভিদ বিলুপ্ত হওয়ার আগেই এক্স-সিটু (কোন কিছু নিজস্ব বা প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে সরিয়ে সংরক্ষিক পরিবেশে সংরক্ষণ করা, আরেকটি হলো ইন সিটু যেখানে কোন কিছু নিজস্ব বা প্র্কাৃতিক পরিবেশে থাকে) পরিবেশে সংরক্ষণ করা যায় তাহলে তা যেমন সংরক্ষিত থাকবে তেমনি প্রয়োজনে বিস্তার ঘটানো যাবে। তাই আমি বোটানিক্যাল গার্ডেনকেই বেছে নিয়েছি সংরক্ষনের জন্য। গাছ সংগ্রহে কেমন অর্থ লাগে জানতে চাইলে বলেন, অনেক উদ্ভিদ আছে জঙ্গল থেকেই সংগ্রহ করি এজন্য পরিশ্রম লাগে শুধূ, কিছু প্রজাািত ফল বা বীজ এনে চারা বড় করে সংরক্ষণ করি, কিছু নার্সারী থেকে নেই। এভাবেই উদ্ভিদের সংগ্রহ করি এজন্য ডাচ বাংলা ব্যাংকের সহায়তায় একটি উদ্ভিদ আনা নেওয়ার জন্য পিকআপ ভ্যান রয়েছে এটা পরিবহনে সহায়তা করে। বেশিরভাগ নিজের অর্থ কিছু প্রজেক্ট থাকে সেখান থেকে এভাবেই উদ্ভিদ সংগ্রহের অর্থায়ন হয়।


আচ্ছা দেশ থেকে দেশান্তরে উদ্ভিদ সংগ্রহের সময় কোন অভিজ্ঞতা কি মনে পড়ে? বলতেই এক চিলতে হাসি, অনেক অভিজ্ঞতা। যখন বিভিন্ন বনে জঙ্গলে উদ্ভিদের খোঁজে ঘুির মাঝে মাঝেই সাপের দেখা পাই, হঠাত বুঝতে পেরে সতর্ক হই। আর প্রায়ই তো দুর্গম-বন্ধুর পথ, ঘন বন জঙ্গল, সাপ-পোকামাকড়ের ভয়, বেত ও কাাঁটা পাড়ি দিয়ে যেতে হয় উদ্ভিদের নতুন প্রজাতি সংগ্রহের জন।


বিশ্ববিদ্যালয়ের যেখানেই ফাঁকা জায়গা দেখেছেন, গাছ লাগিয়েছেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় অডিটোরিয়াম অঞ্চলে আফ্রিকান টিউলিপ, কাইজেলিয়া, স্বর্ণঅশোক, অশোক, কুম্ভি, নাগেশা¦রচাপা, বুধানারিকেল, পাটেনজাবা, কাঠবাদাম, তমাল সুলতানচাপা, জংলী বাদাম, নাগেশ্বারচাপা, বুধানারিকেল মহুয়া, বকুল, হিজল, পলাশ, কদম  ভেটেরিনারি অনুষদ ও পশুপালন অনুষদের সামনে তানপুরা, অর্জুন, বহেরা, আমলকি, হিজল, বরুণ, কদম, কাইকা, সিন্দুরি, বিক্সা, চান্দুল, কনকচাাঁপা, স্বর্ণাচাপা, আজুলি, দেশি ডাব, ড্যাডমারডন, জইনা, মাহুয়া, কারপুর, তেজবাল, কুরচি, শিমুল, গুইয়াবাবলা ইত্যাদি গাছ লাগিয়েছেন। ক্যাম্পাসের বাইরে শম্ভুগঞ্জের শিশুপল্লীতেও জাম, জামরুল, পেয়ারা, কামরাঙা, বিলিম্বি, লটকন, ডেওয়া, ডেইপাল, গুটগুটিয়া, অর্জন, আমলকি, হরতকিব, তেজপাতা জারুল প্রভৃতি বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, ওষধি গাছ লাগিয়েছেন।


বৃঅন্তপ্রাণ মানুষটি বললেন, ‘অবসরে যাওয়ার পর মানুষ পরিবারকে সময় দেয়। কিন্তু আমি ১৯৯০ সাল থেকে নিজ উদ্যোগে বিনা পয়সায় এখনো উদ্ভিদ নিয়ে কাজ করে চলছি। কারণ আমি আমাদের এই বোটাানিক্যাল গার্ডেনকে আরো সমৃদ্ধ করতে চাই।


উদ্ভিদ এর সংরক্ষণ ও বিস্তারের কাজটিকে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে ১৫ জন মিলে ২০১৫ সালের ১¦৬ নভেম্বর প্লান্ট করজারভেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন’ নামে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছেন তিনি। যা উদ্ভিদের সারাদেশব্যাপী গবেষণা, সংরক্ষরণ ও ছড়িয়ে দিতে কাজ করবে। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেন ও বিভিন্ন জাতীয় ও পরিচিত বনের সাথে সংযোগ স্থাপন, বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। ইতোমধ্যে ঢাকা, চট্রগ্রাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেনের সাথে যোগাযোগ হয়েছে। অন্যান্যগুলোতে যোগাযোগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে অনেকগুলো আন্তর্জাতিক উদ্ভিদ সংরক্ষণে কাজ করছে এমন সংগঠনের সদস্য হয়েছে তার মধ্যে ২০১৭ সালের প্রথম দিকে বোটানিক গার্ডেন কনজারভেশন ইন্টারন্যাশনাল (বিজিসিপি) এর সদস্য, ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে  সাউথইষ্ট এশিয়া বোটানিক গার্ডেন (এসইএ) এর অংশীদার, যুক্তরাষ্টভিত্তিক সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল এজেন্ডা অফ বোটাানিক গার্ডেন ইন কনজারভেশন এর সদস্যপদ অর্জন করেছে। দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন বোটানিক্যাল গার্ডেন ও সংগঠন যারা উদ্ভিদ নিয়ে কাজ ও গবেষণা করছে বিভিন্ন এনজিও ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এদের সাথে ও কাজ করবে এই সংগঠনটি।

শেয়ার করুন

Print Friendly and PDF


মতামত দিন

Developed By -  IT Lab Solutions Ltd. Helpline - +88 018 4248 5222