সর্বশেষ

  নেত্রকোনা-৪ আসনে বাম জোটের প্রচারণায় হামলা, প্রার্থীসহ আহত ৪   ওয়ানডেতে অভিষিক্ত হচ্ছে সিলেট স্টেডিয়াম   আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস   কুড়ারবাজার ইউপি সদস্য মাছুম গ্রেফতার   ২৪-২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে সেনাবাহিনী নামবে   কলচার্জ, কলড্রপ ও বিরক্তিকর মেসেজের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট   আস্থা ভোটে টিকে গেলেন থেরেসা মে   জামায়াত বাদ, সিলেট-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী ফয়সল চৌধুরী   বিয়ানীবাজার পলাতক আসামী শিবির নেতা রাজ্জাক গ্রেফতার   বিয়ানীবাজার পৌর আ.লীগের সহ সভাপতি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী খছরুল হক মঙ্গলবার দেশে আসছেন   বিয়ানীবাজার মুড়িয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান খয়ের গ্রেফতার   বিয়ানীবাজারে ডাকাতিঃ নগদ দুই লক্ষ টাকাসহ ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট   বিএড কোর্সে ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু ১৭ ডিসেম্বর   হাঁসের ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর অভিনব ‘তুষ-হারিকেন’ পদ্ধতি   অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে ফিরছেন সেরেনা উইলিয়ামস, রাফায়েল নাদাল

কৃষি

বড়লেখায় আমন ফসলের মাঠে এখন পাকাধানের সোনালি হাসি

প্রকাশিত : ২০১৭-১১-২৭ ২১:০৭:৫৬

রিপোর্ট : জালাল আহমদ, বড়লেখা,

পর পর তিনদফা বন্যায় বোরো ফসল হারিয়ে হতাশাগ্রস্ত মৌলভীবাজারের বড়লেখার কৃষক-কৃষাণীর মুখে হাসি ফিরিয়েছে আমন ধান। বন্যা পরবর্তী কৃষকরা আমন চাষে মনোযোগী হওয়ায় ও প্রকৃতির আনুকূল্য পাওয়ায় এবার আমনের ফলণ ভালো হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে সোনালি আমন ঘরে তোলার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষাণ-কৃষাণীরা। আনন্দ আর উৎসাহ নিয়ে আমন ধান কাটা চলছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, খরা, ধানের চিঠাসহ বিভিন্ন ধরনের দুর্যোগ এবার আমন ফসলের মাঠে হানা না দেওয়ায় বছরান্তে চাল কিনে খাওয়ার হতাশা ফুরাচ্ছে তাদের।

উপজেলার সর্বত্র এখন আমন ফসলের মাঠে এখন পাকা ধানের সোনালি হাসি। অগ্রহায়ণের উজ্জ্বল রোদে সেই হাসি আরও ঝলমল করছে। এতদঞ্চলের আকাশে-বাতাসে এখন নতুন ধানের গন্ধ, গ্রামে-গ্রামে নবান্নের সাজ সাজ রব। মাঠে মাঠে কৃষকেরা কাস্তে নিয়ে ধান কাটার উৎসবে নেমে পড়েছেন। শীতের সকাল থেকে শুরু করে পড়ন্ত বিকেল পর্যন্ত মাঠে-মাঠে ফসল কর্তনের চিরাচরিত দৃশ্য এখন উপজেলার সর্বত্র।
ধান মাড়াই, বাছাই আর শুকানোর কাজে এখন মহাব্যস্ত এখানকার সব কৃষক পরিবার। অতীতের চেয়ে লক্ষ্যমাত্রার অধিক জমিতে সোনা রাঙা আমন ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে কিছুটা হলেও হাসি ফুটেছে এবার। কেননা এ বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে একাধিকবার ফসল বিনষ্ট হয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগে। এরপর সাম্প্রতিক আবহাওয়া ও পরিবেশ অনুকূল থাকায় এবার ধানের ফলন ভালো হয়েছে। এতে কৃষকের মন ভরছে ঠিকই। কিন্তু তা বেশিক্ষণ তাঁদের পক্ষে ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ, তাদের উৎপাদন খরচই উঠছে না। উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে ও কৃষকের সাথে কথা বলে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কার্যালয় সূত্র জানায়, এবার ৭ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে আমন ফসল চাষাবাদের সরকারি লক্ষ্যমাত্রা ছিল। চাষাবাদ হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১৫০ হেক্টর কম জমিতে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চাষাবাদ কমেঠে। তবে এবার ধানের উৎপাদন তুলনামূলক ভালো হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল স্থানীয় ও উচ্চ ফলনশীল মিলিয়ে ধানে প্রায় প্রায় ৩২ হাজার টন। ধানে পোকার আক্রমণ না হওয়া, জমিতে সুষম সার ব্যবহারে কৃষকের দক্ষতা বৃদ্ধির কারণে উৎপাদনে কিছুটা সুফল মিলেছে বলে কৃষি অফিস জানিয়েছে। একই কথা কৃষকদেরও। সম্প্রতি বিভিন্ন মাঠ ঘুরে ভালো ফলন আর কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক দেখা গেছে। যেদিকে চোখ যায়, আমন ধানের পাকধরা বিস্তৃত সোনালি রঙের ঢেউ। অনেকে উৎসবের আনন্দে ধান কাটতে শুরু করেছেন। যখনই উৎপাদন খরচ ও ধানের বাজারমূল্যের প্রসঙ্গটি আসছে, তখনই তাদের মন ভারী হয়ে যায়।
উপজেলা পৌর শহরের গাজিটেকা, হাটবন্দ ও উপজেলার নিজবাহাদুর এলাকায় কিছু পতিত জমি দেখিয়ে বেশ কয়েকজন কৃষক জানালেন, ধান উৎপাদন করে প্রকৃত খরচটাই তোলা যায় না বলে অনেকে চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। ভবিষ্যতে এ রকম পতিত জমির পরিমাণ বাড়ছেই।মাঠে ধান কাটতে আসা কৃষক খছরুল ইসলাম, মাসুক আহমদ, কামাল উদ্দিন বলেন, ‘অখন (এখন) যে অবস্থা। গিরস্তি খরি (চাষ করে) জমি বেচি বেচি (বিক্রি করে) খাওয়া লাগব। এখনো নতুন ধানের দাম জানছি না। যদি আগের দাম থাকে, তাইলে ভিক্ষা করতে অইব (হবে)। খছরুল ইসলাম জানান, তার এক কিয়ার (বিঘা) জমিতে প্রায় ৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন এই ১ কিয়ার জমি থেকে খরচের টাকা তোলাই কঠিন হয়ে পড়ছে। ধান চাষ নিয়ে অনেকটা ক্ষুব্ধ হয়ে আছেন। তিনি বলেন, এবার ফলন মোটামুটি ভালা অইছে। কিন্তু উচিত দাম পাইয়ার (পাচ্ছি) না। এক কিয়ার জমিতে খরচ অয় (হয়) ৪ থাকি (থেকে) ৫ হাজার টাকা। ধান পাইয়ার ৩ হাজার টাকার। ভাগিউলেও (বর্গাচাষী) জমি নেয় না। এখন আমরার যে কী উপায় অইব, বুঝরাম না।
কৃষকরা জানান, মণপ্রতি ধান উৎপাদন করতে খরচ হয় ৫০০-৬০০ টাকা। প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকা থেকে ৭৫০ টাকায়। দাম বেড়ে গেলে কৃষকের এই হতাশা আর থাকবে না।কৃষি অফিস সূত্র আরও জানায়, বড়লেখায় আবাদকৃত জমির মধ্যে এবার ৫ হেক্টর জমিতে নতুন জাতের ব্রি ধান-৫৬ চাষ করা হয়েছে। ব্রি ধান-৫৬ আষাঢ়ের শেষ দিকে রোপণ করে আশ্বিনে কাটা যায়। রোপন থেকে শুরু করে ১০০ দিনের মধ্যে ওই ধান কাটা যায়। ধানে ভালো ফলন পাওয়া যায়। এবার ব্রি ধান-৪৯ এ ভালো ফলন পাওয়া গেছে। ব্রি ধান-৫৬ আগাম পাকে বিধায় কাটার পর সহজেই আলু, গম বা রবি শস্য চাষ করা যায়। এবার ব্রি ধান-৫৬ এর বাম্পার ফলনে কৃষকরা আগামীতে এই জাতের ধান চাষ করতে আরও আগ্রহী হবেন বলে আশাবাদী কৃষি অফিস।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কুতুব উদ্দিন জানান, এবার উপজেলায় রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৭ হাজার ৯০০ হেক্টর। কিন্তু আবাদ হয়েছে ৭ হাজার ৭৫০ হেক্টর, যা লক্ষ্যমাত্রার ১৫০ হেক্টর কম। চাষাবাদ হ্রাসের কারণ হিসেবে তিনি বিগত সময়ের একাধিকবারের প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়টি সামনে তুলে ধরেন। তবে ফলন মোটামুটি ভালে হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৬৫ ভাগ ধান কাটা হয়ে গেছে। 
 

শেয়ার করুন

Print Friendly and PDF


মতামত দিন

Developed By -  IT Lab Solutions Ltd. Helpline - +88 018 4248 5222