সর্বশেষ

  উন্নয়ন, দুর্নীতি ও জিডিপি: একসঙ্গে বাড়ার রহস্য কী?   বিশ্বব্যবস্থাঃ পুঁজিবাদ যেভাবে আমাদের মেরে ফেলছে   গোলাপগঞ্জে বাস-সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ।। নিহত ২ আহত ২   বিয়ানীবাজারে হোসেন হত্যা: ঘাতক সুমন গ্রেফতার   বন্ধ হচ্ছে রাজনৈতিক বিবেচনায় এপিএস নিয়োগ   বিয়ানীবাজারের মেয়ে 'নায়িকা' নিশাত নাওয়ার সালওয়া   প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চতুর্থবারের মতো শপথ নিলেন শেখ হাসিনা   বিয়ানীবাজারের নোহা-সিএনজি’র মুখোমুখি সংঘর্ষ।। আহত ৩   ইতিহাসের মহানায়ক কমরেড মণি সিংহ   বাদ পড়লেন যাঁরা   ব্যাংকের অবলোপন করা ঋণ ৫০ হাজার কোটি টাকা   সরকার-রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচার চালালেই কঠোর ব্যবস্থা   বিয়ানীবাজারে বৈধ ও অবৈধ পন্থায় অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন   ‘স্বৈরতান্ত্রিক দেশের’ তালিকায় বাংলাদেশ   শিক্ষামন্ত্রী নাহিদকে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অভিনন্দন

বিয়ানীবাজার

বিয়ানীবাজারে বৈধ ও অবৈধ পন্থায় অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন

প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় ক্ষোভ এলাকাবাসীর

প্রকাশিত : ২০১৯-০১-০৫ ১৮:৪০:০৭

রিপোর্ট : দিবালোক ডেস্ক


কুশিয়ারা নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনে নদীর তীরবর্তী বিয়ানীবাজার উপজেলার তিন ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় শঙ্কিত এলাকাবাসী। গত নভেম্বর থেকে শেওলা ইউনিয়নের কাকরদিয়া ও তেরাদল এবং কুড়ারবাজার এলাকার আঙ্গারজুর গ্রামের সড়ক নদীভাঙনে বিলীন হয়েছে। তেরাদল গ্রামের মসজিদও রয়েছে নদীভাঙনের হুমকির মুখে। অভিযোগ রয়েছে, নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় ভাঙন দেখা দিয়েছে।

কয়েক বছর থেকে কুশিয়ারা নদী থেকে বৈধ ও অবৈধ পন্থায় অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করায় উপজেলার দুবাগ, শেওলা ও কুড়ারবাজার ইউনিয়নের প্রায় ১৫টি গ্রামে ভাঙন দেখা দেয়। শীতকালে নদীর পানি শুকিয়ে গেলে এসব এলাকায় ভাঙনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। ইতোমধ্যে ভাঙনকবলিত এলাকার রাস্তা, বসতবাড়ি, মসজিদ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, কবরস্থানসহ ফসলি জমি বিলীন হয়েছে। এলাকাবাসী ভাঙন রোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

শেওলা ইউনিয়নের কাকরদিয়া, তেরাদল এবং কুড়ারবাজার ইউনিয়নের আঙ্গারজুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদীভাঙনে বিলীন হয়েছে গ্রামের চলাচলের একমাত্রা রাস্তাটি। এলাকাবাসী বিভিন্ন বাড়ির আঙিনা দিয়ে চলাচল করছেন। কাকরদিয়া গ্রামের জামে মসজিদে ফাটল দেখা দিয়েছে। যেকোনো সময় মসজিদটি নদীতে বিলীন হওয়ার শঙ্কার কথা জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা নদীভাঙন রোধে প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তাদের গ্রাম টিকিয়ে রাখতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ প্রশাসনের দায়িত্বশীলদের ভাঙনরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। কাকরদিয়া গ্রামের কবির বলেন, নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তিনি জানান, ড্রেজার দিয়ে রাতের বেলাও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হয়। এতে তীব্র শব্দের কারণে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন।

এলাকাবাসী বলেন, গ্রামের রাস্তা গেছে, এবার মসজিদটিও যাওয়ার পথে। মেম্বার, চেয়ারম্যানদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান ও নির্বাহী কর্মকর্তাও নদীভাঙনের বিষয়টি জেনেছেন। কিন্তু বালু উত্তোলন বন্ধ ও ভাঙন রোধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।


কুশিয়ারা নদীর ভাঙনের কবলে রয়েছে কুড়ারবাজার ইউনিয়নের উত্তর আকাখাজানা, লাউঝারি, আঙুরা মোহাম্মদপুর, আঙুরা, গোবিন্দ্রশ্রী, দেউলগ্রাম ও গড়বন্দ গ্রামের বসতি, রাস্তা, কবরস্থান ও বাজার। শেওলা ইউনিয়নের বালিঙ্গা, দুবাগ ইউনিয়নের নয়াদুবাগ, দক্ষিণচরিয়া, মেওয়া এলাকার বসতবাড়ি ও রাস্তা।

এর আগে নদীভাঙনে উত্তর আকাখাজানা বাজার ও ফাঁড়ির বাজারের অর্ধেক নদীতে বিলীন হয়েছে। নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে কুড়ারবাজার উচ্চ বিদ্যালয়, পঞ্চখণ্ড বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং জামিয়া মাদানিয়া আঙুরা কওমি মাদ্রাসা ভবন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গ্রামগুলোতে প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মিত না হওয়ায় ঝুঁকি বেড়েছে। এরই মধ্যে কুশিয়ারা নদী-তীরবর্তী কুড়ারবাজার ইউনিয়নের প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। অনেকে বসতি ছেড়ে অন্যত্র যাচ্ছেন।

শেয়ার করুন

Print Friendly and PDF


মতামত দিন

Developed By -  IT Lab Solutions Ltd. Helpline - +88 018 4248 5222