সর্বশেষ

  প্রতিটি স্কুলে অভিযোগ বক্স রাখার নির্দেশ হাইকোর্টের   ছাত্রলীগ নেতা বললেন, ‘সাংবাদিক পেলেই গুলি করে মারব’   কৃষক নয়, নেতারাই দিচ্ছেন ধান-চাল   বিয়ানীবাজারে ছাত্র ইউনিয়নের কাউন্সিল সম্পন্ন।। সভাপতি আবীর সম্পাদক সুজন   এইচএসসিতে বিয়ানীবাজারে পাশের হার ও ফলাফল   এইচএসসিতে বিয়ানীবাজারে পাশের হার ও ফলাফল   আনু মুহাম্মদের পরিবারের সদস্যদের গুমের হুমকি   ধর্ষণের বিচার ১৮০ দিনের মধ্যেই শেষ করার নির্দেশ   ইংল্যান্ড জিতেছে, নিউজিল্যান্ড তো হেরে গেল ভাগ্যের কাছে   বিয়ানীবাজারে সাংবাদিকের উপর হামলার প্রতিবাদে সাংবাদিকদের নিন্দা ও উদ্বেগ   বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড   বিয়ানীবাজার সাংবাদিককে ডেকে নিয়ে জিম্মি রেস্টুরেস্টের মালিকের হামলা   স্পর্শ সোস্যাল মিডিয়া’র উপদেষ্টা ও গভর্নিংবডির কমিটি গঠন এবং বিদায়ী সংবর্ধনা   পানি বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপরে, তিস্তা ব্যারাজের সব গেট খোলা   পানি বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপরে, তিস্তা ব্যারাজের সব গেট খোলা

বিয়ানীবাজার

শ্রীবাসুদেবের স্নানমন্দিরে উৎসব পালিত

প্রকাশিত : ২০১৯-০৬-১৭ ২০:৫৯:২৬     আপডেট : ২০১৯-০৬-১৭ ২১:০০:৫৪

রিপোর্ট : নিজস্ব প্রতিবেদক

সংক্ষিপ্ত কলেবরে বিয়ানীবাজারের বাসুদেব বাড়ীতে শ্রীবাসুদেবের স্নানযাত্রা উৎসব পালিত হয়েছে। বেলা ১২টার পর অভিমন্যু রাম বিশ্বাস এর অনুদানে নির্মিত শ্রীবাসুদেবের স্নানমন্দিরে অনুষ্ঠানের সূচনা ঘটে। মন্দিরের পুরোহিত বনমালী চক্রবর্তী মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে শুদ্ধিকরণের মাধ্যমে আতপ চাল, হলুদ, তুলসী পাতা, ঘি, ১০৮ তীর্থের জল, ফুল, চন্দন, নানা জাতের সুগন্ধি ও অন্যান্য উপাচার সহযোগে অনুষ্ঠানের মূল কার্য সম্পাদন করেন। এরপর বাসুদেবকে মনোহর বেশে সাজানো হয়। 

জগন্নাথ বা বাসুদেবের স্নানযাত্রা হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে জ্যৈষ্ঠ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে আয়োজিত একটি উৎসব। হিন্দু দেবতা জগন্নাথের ভক্তদের কাছে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। এই দিনটিকে জগন্নাথের জন্মতিথি মনে করা হয়। স্নানযাত্রা উপলক্ষ্যে জগন্নাথ, বলভদ্র, সুভদ্রা, সুদর্শন চক্র ও মদনমোহন বিগ্রহকে জগন্নাথ মন্দির থেকে স্নানবেদীতে বের করে আনা হয়। সেখানে তাঁদের প্রথাগতভাবে স্নান করানো হয় এবং ভক্তদের দর্শনের জন্য সুন্দর বেশভূষায় সজ্জিত করা হয়।
জগন্নাথের ভক্তদের বিশ্বাস, সেদিন যদি তাঁরা পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে দেবতাকে দর্শন করতে যান, তবে তাঁদের সকল পাপ থেকে মুক্ত হতে পারবেন। এই জন্য অসংখ্য ভক্ত স্নানযাত্রা উপলক্ষ্যে পুরীর মন্দির দর্শনে যান। স্কন্দপুরাণম্‌ বলা হয়েছে, পুরীর মন্দিরে বিগ্রহ প্রতিষ্ঠার পরেই প্রথম বার রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন এই অনুষ্ঠান আয়োজন করেছিলেন।

স্নানপর্বের সমাপ্তির পর জগন্নাথ ও বলভদ্রকে গণেশের রূপে সাজানোর জন্য হস্তীমুখ-বিশিষ্ট মস্তকাবরণী পরানো হয়। জগন্নাথের এই রূপটিকে বলা হয় 'গজবেশ'।
প্রথাগত বিশ্বাস অনুসারে, স্নানযাত্রার পর জগন্নাথ অসুস্থ হয়ে পড়েন। এই সময় তাঁকে রাজবৈদ্যের চিকিৎসাধীনে গোপনে একটি সংরক্ষিত কক্ষে রাখা হয়। জগন্নাথের এই অসুস্থতার পর্যায়টি 'অনসর' নামে পরিচিত। এই সময় ভক্তেরা দেবতার দর্শন পান না। তাঁদের দর্শনের জন্য বিগ্রহের পরিবর্তে মূল মন্দিরে তিনটি পটচিত্র রাখা হয়। এই সময় ভক্তেরা ব্রহ্মগিরিতে অলরনাথ মন্দিরে যান। তাঁরা বিশ্বাস করেন, অনসর পর্যায়ে জগন্নাথ অলরনাথ রূপে অবস্থান করেন। কথিত আছে, রাজবৈদ্যের আয়ুর্বৈদিক 'পাঁচন' খেয়ে এক পক্ষকালের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠেন। তারপর ভক্তেরা আবার তাঁকে আবার দর্শন করতে পারেন।
স্নানযাত্রায় ঘড়া ঘড়া জল গায়ে ঢাললে জ্বর না এসে পারে? এ জ্বরে তাঁদের রাজশয্যাও ভালো লাগে না। এখন তাই তিন ভাইবোনের কলমীর শয্যা, পটলের বালিশ। জগন্নাথ ভক্তেরা এই সময় সেজন্য কলমী শাক আর পটল খান না। এই জ্বরের সময় প্রভু জগন্নাথ, বলরাম আর সুভদ্রাকে পূর্ণ বিশ্রাম দেওয়ার জন্যই মন্দির বন্ধ রাখা হয়। পনের দিনের মাথায় তিন ভাইবোনের জ্বর সারে। তখন তাঁরা নতুন কাপড় গায়ে দিয়ে, নতুন অলংকার পরে রথে চেপে মাইলটাক দূরে মাসির বাড়ি গুণ্ডিচায় যাত্রা করেন। এই যে যাত্রা, এটাই শ্রীজগন্নাথদেবের রথযাত্রা। সেখানে মাসির আদরে আব্দারে জ্বরের পরেকার শারীরিক দূর্বলতা কাটিয়ে ঠিক ন’দিন পরে উল্টোরথে আবার বাড়ি (মন্দিরে) ফিরে আসেন । ফিরে আস হল উল্টো রথ বা শ্রীজগন্নাথদেবের পুনর্যাত্রা। 

শেয়ার করুন

Print Friendly and PDF


মতামত দিন

Developed By -  IT Lab Solutions Ltd. Helpline - +88 018 4248 5222