আজ শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯ ইং

বিয়ানীবাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক

০২ জুলাই, ২০১৯ ১৩:৫০

প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউএনও'র মধ্যে বিরোধের অবসান


বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান (মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান) রোকসানা বেগম লিমা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আরিফুর রহমান এর মধ্যকার সৃষ্ট বিরোধ নিষ্পত্তি হয়েছে। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এক মত বিনিময় সভায় এ বিরোধ নিষ্পত্তির অবসান হয়।  লিমা ও নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আরিফুর রহমান ভুলবোঝাবুঝির অবসান হয়েছে জানিয়ে তারা  বলেন, সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে আগামীর দিনগুলোতে আমরা মিলেমিশে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।     
বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম পল­ব’র সভাপতিত্বে ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আরিফুর রহমান এর পরিচালনায় এতে উপস্থিত ছিলেন পৌর মেয়র মো: আব্দুস শুকুর, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জামাল হোসেন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রোকসানা বেগম লিমা, থানা অফিসার ইনচার্জ অবনী শংকর কর, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম আলী খান, আলী নগর ইউপি চেয়ারম্যান মামুনুর রশীদ, চারখাই ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদ আলী, দুবাগ ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম, কুড়ারবাজার ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহের, মাথিউরা ইউপি চেয়ারম্যান শিহাব উদ্দিন, মুড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবুল খায়ের প্রমুখ।

মত বিনিময় সভায় উপজেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রোকসানা বেগম বলেন, বিগত দিনে আমার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মধ্যকার যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছিল, তা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র ও ইউপি চেয়ারম্যানদের মধ্যস্থতায় তা মিমাংসিত হয়েছে। উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসন যাতে একই সাথে কাজ করতে পারে এজন্য তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও কাজী আরিফুর রহমান বলেন, আমার কোন নির্দিষ্ট গন্ডি নেই, বিয়ানীবাজারের সার্বিক দিক বিবেচনা করে আমাকে কাজ করতে হয়। আমি চাইলেও সবার উপকার করতে পারিনা। তবে উন্নয়ন অগ্রগতির স্বার্থে যা কিছুর করার আমি করে যাচ্ছি। আমাদের মধ্যে ভুলবোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছিল তা ইতিমধ্যে আন্তরিক পরিবেশে নিরসন হয়েছে। বিয়ানীবাজারের সার্বিক উন্নয়নে আমরা স্ব স্ব অবস্থান থেকে প্রত্যেকে আন্তরিকভাবে কাজ করব। 

সভাপতির বক্তব্যে আবুল কাশেম পল­ব বলেন, আমরা সবাই একই ঘরের মানুষ। আমাদের হয়তো ব্যক্তিগত ত্র“টি-বিচ্যুতি থাকতে পারে। তা নিয়ে পরিষদকে কলুষিত করা উচিত নয়। আবার পরিষদের কর্মকান্ডে অনিয়ম, দুর্নীতি থাকলে তা গণমাধ্যমে প্রকাশের আগে দায়িত্বশীলদের নজরে আনার অনুরোধ করেছেন চেয়ারম্যান পল­ব। তাহলে আমরা নিজেরা যেমন সংশোধিত হবো তেমনিভাবে বিয়ানীবাজারের সুনাম কোন অবস্থাতেই ক্ষুন্ন হবে না বলে তিনি দৃঢ় বিশ্বাস করেন। আমাদের পরিষদের মধ্যে কিছুটা ভুলভ্রান্তি হয়েছিল তা আমরা পরিষদের সবাই বসে মীমাংসা করেছি। 
এ সময় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা বিশেষত বিয়ানীবাজারের পজেটিভ দিকগুলো বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে চাই। সেই সাথে সংশ্লিষ্টদের অসংগতি ও অনিয়মগুলো সুধরানোর স্বার্থে জনগণের কল্যাণে তুলে ধরি। এক্ষেত্রে বিয়ানীবাজারের সম্মান ও মর্যাদার কথা চিন্তা করে চোখের সামনে ঘটে অনেক অসামঞ্জস্য দেখে ও গণমাধ্যমে প্রকাশ করি না। এতে অনেকেই মনোঃক্ষুন্ন হন, তা আমরা বুঝি জনস্বার্থে পেশাগত কারণে তা আমাদের করতে হয়। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির অবসান হোক তা আমরা চাই। কিন্তু আমাদেরকে দাওয়াত করে এনে গণমাধ্যমে মুখ খুললে তা আমাদের লিখতে হয়। 

মত বিনিমিয় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিয়ানীবাজার পৌর মেয়র মোঃ আব্দুস শুকুর, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জামাল হোসেন, আলীনগর ইউপি চেয়ারম্যান মামুনুর রশীদ, বিয়ানীবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মিলাদ জয়নুল, বিয়ানীবাজার রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক শাহীন আলম হৃদয়, বিয়ানীবাজার জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি আহমেদ ফয়সল। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বিয়ানীবাজারে কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 



শেয়ার করূন

আপনার মতামত