আজ সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯ ইং

বিয়ানীবাজার

দিবালোক ডেস্ক

৩০ অক্টোবর, ২০১৯ ১৯:১১

আজ শোকাবহ ৩০ অক্টোবর- স্মৃতিতে অম্লান তাঁরা

আজ শোকাবহ ৩০ অক্টোবর। ২০১৭ সালে এই দিনে কেঁদেছিল সমগ্র বিয়ানীবাজারবাসী। রোহিঙ্গাদের ত্রাণ দিয়ে  বিয়ানীবাজার ফেরার পথে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহন হন বিয়ানীবাজারের অতিপরিচিত পাঁচ তরুণ ব্যবসায়ী ও মাইক্রোবাস চালক। সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ তরুণের অকাল মৃত্যুর শোক এখনো কাটাতে পারেননি বিয়ানীবাজারবাসী। বিয়ানীবাজারবাসীর স্মৃতিতে অম্লান হয়ে থাকবে তাঁরা।


মায়ানমারের সেনাবাহিনীর দমন, নিপীড়ন ও হত্যার ভয়ে নিজ মাতৃভূমি ছেড়ে ১০ লাখ রোহিঙ্গা মুসলমান বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। তীব্র শীতে কাতর রোহিঙ্গারাদের সহায়তা নিয়ে এগিয়ে যায় দেশের বিভিন্ন স্থানের মানুষজন। সেই রোহিঙ্গা শরনার্থীদের সাহায্যার্থে এগিয়ে যান বিয়ানীবাজারের কয়েকজন তরুণ। তীব্র শীতের একটু উষ্ণতা ছড়িয়ে দিতে শরনার্থীদের জন্য শীতবস্ত্র নিয়ে যান বিয়ানীবাজারের তরুণ ব্যবসায়ী খয়ের, রেজাউল, জুবের, ইকবাল, বাবুল ও মাইক্রোবাস চালক বাবুল।


কিন্তু রোহিঙ্গাদের ত্রাণ দিয়ে ফেরা হলো না ওদের! ফেরার পথে ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর সকাল ৭টায়  ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নরসিংদী সদর উপজেলার কান্দাইল এলাকায় বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে প্রাণ হারান তরুণ ব্যবসায়ী খয়ের, রেজাউল, জুবের, ইকবাল, বাবুল ও মাইক্রোবাস চালক বাবুল। তবে সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপায় বেচে যান তাদের মধ্যে আরোও দুই তরুণ ব্যবসায়ী হাফিজ ও দেলোয়ার।



পরদিন ৩১ অক্টোবর ৬ তরুণের মরদেহ বিয়ানীবাজারে পৌছালে আত্মীয়-স্বজনসহ বিয়ানীবাজারবাসীর আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছিল পরিবেশ। একই অবস্থা ছিল নিহত অপর তিনজনের বাড়িতেও। শোকগ্রস্ত পরিবার-পরিজনের সঙ্গে বিয়ানীবাজারের আকাশও যেন কেঁদেছিল। কেঁদেছেন বেঁচে যাওয়া তাদের দুই সঙ্গী হাফিজ ও দেলোয়ার। বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ মাঠে তাদের জানাজার নামাজে মানুষের ঢল নেমেছিল। উপস্থিতির দিক দিয়ে সেই জানাজাই এখন পর্যন্ত উপজেলার সর্ববৃহৎ জানাজার নামাজ।



সর্বমহলে পরিচিত তরতাজা ৬ প্রাণ হারানোর ব্যথা পরিবার থেকে পরিজন, ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ মানুষ সর্বত্র বিরাজ করে। শোকে কাতর উপজেলাবাসী যেন শান্তনার ভাষা হারিয়ে ফেলেন। শোক সহ্য ও হৃদয়ের মণিকোঠায় তাদের স্মৃতিধারণ করেই বিয়ানীবাজারবাসী ২ বছর পার করে দিয়েছে। এই দুই বছরে তাদের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কিংবা পরিবার সব কিছুই চলছে বিধির নিয়মে, নেই শুধু তাঁরা। এখনো তাদেরকে ভুলতে পারেনি বিয়ানীবাজারবাসী, কাটাতে পারেনি শোক। বিয়ানীবাজারবাসীর হৃদয়ের মণিকোঠায় তারা চিরকালই বেঁচে থাকবেন ভালোবাসা, সম্মান ও শ্রদ্ধায়।



উল্লেখ্য, কক্সবাজারে আশ্র্যয় নেয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের উখিয়া ও টেকনাফ ক্যাম্পে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় শীতবস্ত্র বিতরণ শেষে চটগ্রাম ও ঢাকা হয়ে ফেরার পথে ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর সকাল ৭টায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নরসিংদী সদর উপজেলার কান্দাইল এলাকায় বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে প্রাণ হারান বিয়ানীবাজারের ৬ তরুণ ব্যবসায়ী। এ ঘটনায় তাদের সঙ্গী দুই তরুণ ব্যবসায়ী আহত হন।



নিহতরা হলেন- বিয়ানীবাজারের মাথিউরা পূর্বপাড় এলাকার মৃত লুৎফুর রহমানের ছেলে রেজাউল করিম (৩৪), মুড়িয়া ইউনিয়নের ছোটদেশ গ্রামের যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাজিদ খানের ছেলে খায়রুল বাশার খান খয়ের (৪২), পৌরসভার শ্রীধরা গ্রামের ময়না মিয়ার ছেলে জোবের আহমদ (৩০), শেওলা ইউনিয়নের কাকরদিয়া গ্রামের নাজিম উদ্দিনের ছেলে ইকবাল আহমদ (২৮) এবং কসবা গ্রামের আরজিদ আলীর ছেলে বাবুল আহমদ (৩৩) ও মুসলিম আলীর ছেলে মাইক্রোবাস চালক বাবুল আহমদ (৩৫)।



নিহতদের মধ্যে রেজাউল, খায়রুল, জোবের ও ইকবাল ছিলেন বিয়ানীবাজার পৌরশহরের জামান প্লাজার ব্যবসায়ী এবং বাবুল ছিলেন কলেজ রোডের ব্যবসায়ী। আহত দুজন হলেন ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন ও হাফিজুর রহমান।



এর আগে ২৬ অক্টোবর তারা বিয়ানীবাজার থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছিলেন।

সোজন্য:বিয়ানীবাজারনিউজ২৪.কম

শেয়ার করূন

আপনার মতামত