সর্বশেষ

  প্রতিটি স্কুলে অভিযোগ বক্স রাখার নির্দেশ হাইকোর্টের   ছাত্রলীগ নেতা বললেন, ‘সাংবাদিক পেলেই গুলি করে মারব’   কৃষক নয়, নেতারাই দিচ্ছেন ধান-চাল   বিয়ানীবাজারে ছাত্র ইউনিয়নের কাউন্সিল সম্পন্ন।। সভাপতি আবীর সম্পাদক সুজন   এইচএসসিতে বিয়ানীবাজারে পাশের হার ও ফলাফল   এইচএসসিতে বিয়ানীবাজারে পাশের হার ও ফলাফল   আনু মুহাম্মদের পরিবারের সদস্যদের গুমের হুমকি   ধর্ষণের বিচার ১৮০ দিনের মধ্যেই শেষ করার নির্দেশ   ইংল্যান্ড জিতেছে, নিউজিল্যান্ড তো হেরে গেল ভাগ্যের কাছে   বিয়ানীবাজারে সাংবাদিকের উপর হামলার প্রতিবাদে সাংবাদিকদের নিন্দা ও উদ্বেগ   বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড   বিয়ানীবাজার সাংবাদিককে ডেকে নিয়ে জিম্মি রেস্টুরেস্টের মালিকের হামলা   স্পর্শ সোস্যাল মিডিয়া’র উপদেষ্টা ও গভর্নিংবডির কমিটি গঠন এবং বিদায়ী সংবর্ধনা   পানি বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপরে, তিস্তা ব্যারাজের সব গেট খোলা   পানি বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপরে, তিস্তা ব্যারাজের সব গেট খোলা

অর্থনীতি

অধিক কাজ করেও নায্য মজুরী পান না চা বাগানের নারী শ্রমিকরা

প্রকাশিত : ২০১৯-০৩-০৯ ১৯:২৪:৩৩

রিপোর্ট : দিবালোক ডেস্ক


দেশের চা বাগানগুলোর প্রধান শ্রমিক মূলত নারীরাই। চা বাগানের প্রধান যে কাজ- পাতা চয়ন, তা সাধারণত নারীরাই করে থাকেন। পুরুষ শ্রমিকরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কাজ করেন কারখানায়। নারীরা অধিক শ্রম দিলেও মুজরী পান পুরুষেরই সমান। বাগানভেদে ৯৭ থেকে ১০২ টাকা।

এই মজুরীর টাকাও নিজেরা তুলতে পারেন না বেশিরভাগ নারী শ্রমিক। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দিন শেষে বাগান কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নারী শ্রমিদের পক্ষে তাদের স্বামী বা পরিবারের পুরুষ প্রতিনিধিই মজুরীর টাকা উত্তোলন করেন। নিজের পরিশ্রমের টাকা ব্যয়ের ক্ষেত্রেও নারীদের মতামত নেওয়া হয় সামান্যই।

চা বাগানের একাধিক নারী শ্রমিক জানান, নারী শ্রমিকরা প্রতিদিন ৮ ঘন্টা কাজ করেন। আর পুরুষ শ্রমিকরা কাজ করেন ৩/৪ ঘন্টা। অথচ উভয়ে সমান মজুরী পান। 

চা বাগানের শ্রম আইন অনুযায়ী, প্রতিদিন ৩০ কেজির অধিক চা পাতা উত্তোলন করলে প্রতি কেজির বিপরীতে একজন শ্রামিককে ৫টাকা করে বাড়িতে দেওয়ার কথা। তবে এক্ষেত্রে নারীদের কম দেওয়া হয় বলে অভিযোগ শ্রমিকদের।
পুরুষ শ্রমিকরা পদোন্নোতি পেয়ে ‘সর্দার’, ‘বাবু’ হলেও নারী শ্রমিকদের সাধারণ পদোন্নোতি দেওয়া হয় না বলেও জানান তাঁরা। এছাড়া মাতৃত্বকালীন সময়েও বঞ্চনার শিকার হন চা বাগানের নারী শ্রমিকরা। 

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন সূত্রে জানা যায়, সারাদেশে কর্মরত মোট চা শ্রমিক প্রায় দেড় লাখ। এর মধ্যে ৫২ শতাংশ নারী চা শ্রমিক। কমলগঞ্জের খুরমা চা বাগানের শ্রমিক গীতা রানী কানু বলেন, বাগানে নারীরা বেশি পরিশ্রম করেন অথচ মজুরি পান পুরুষের সমান। আবার অতিরিক্ত পাতা উত্তোলন করেও নির্ধারিত বোনাস পান না। 

চা শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা মিন্টু দেশোয়ারা বলেন, দেশের সব চা বাগানেই প্রধান শ্রমিক মূলত নারীরা। অপরিদেক, পুরুষরা অনেকসময় কাজে ফাঁকি দিলেও নারীরা তা করেন না। সে হিসেবে পুরুষদের চেয়ে নারীদের মজুরী বেশি হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু দু’জনের মজুরিই সমান। তারউপর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নারীদের মুজরীর টাকা তাদের স্বামীরা সংগ্রহ করেন। তারাই ইচ্ছেমত ব্যয় করেন এ টাকা। নিজেদের টাকা সাধারণত নারীরা ব্যয় করতে পারেন না। অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে চা শ্রমিক পরিবারে নারীদের মত উপেক্ষিত থাকে।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রামভজন কৈরি নারীদের বঞ্চনার উদাহরণ দিয়ে বলেন, মাতৃত্বকালীনক্ষেত্রে চা বাগানের নারী শ্রমিকদের পূর্ববর্তী তিনমাসের কাজের উপর ভিত্তি করে মাতৃত্বকালীন ভাতা পান। ফলে কিছু বেশি ভাতা পাওয়ারা জন্য গর্ভাবস্থায় বাগানের নারীরা আরও বাড়তি পরিশ্রম করেন। এতে মা ও সন্তান দু’জনেই স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ে। অন্য চাকরীর ক্ষেত্রে নারীরা ছয় মাসের ছুটি পেলেও চা শ্রমিক নারীরা পান তিনমাসের। এছাড়া পরিবারেও নারীরা বঞ্চনার শিকার হন। দীর্ঘদিন কাজ করলেও নারীরা সাধারণ পদোন্নোতি পান না।

শেয়ার করুন

Print Friendly and PDF


মতামত দিন

Developed By -  IT Lab Solutions Ltd. Helpline - +88 018 4248 5222