সর্বশেষ

  কবি হেলাল হাফিজ হাসপাতালে   সিলিং ফ্যানের দাম এক লাখ টাকা!   শুনতে কি পাও কৃষকের কান্না   আজ রক্তে ভেজা ২০ মে : মহান চা-শ্রমিক দিবস   একটি অন্য রকম প্রতিবাদ   হুয়াওয়ের শীর্ষে পৌঁছানোর স্বপ্ন গুড়িয়ে দিলো গুগল?   মৃত্যুদণ্ড থেকে রেহাই ছয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মী; হতাশ বিশ্বজিতের পরিবার   বুধবার থেকে পাটকল শ্রমিকদের ৬ ঘণ্টা সড়ক-রেলপথ অবরোধ   সাগরে যাবে বিয়ানীবাজারের দুই শতাধিক তরুণ   র‍্যাবের অভিযানে বিয়ানীবাজার দু'জন গ্রেফতার   ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে কেন এই রক্তারক্তি   ৯৫ ভাগ জাতীয় আয় চলে যাচ্ছে ৫ ভাগ মানুষের হাতে   যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও খরচ বেশি বাংলাদেশের শিক্ষায়   হাজী আব্দুস সাত্তার শপিং কমপ্লেক্স মালিকপক্ষে'র ইফতার সামগ্রী বিতরণ   অনন্ত হত্যার বিচার বিশেষ ট্রাইব্যুনালে করার দাবি

অর্থনীতি

অধিক কাজ করেও নায্য মজুরী পান না চা বাগানের নারী শ্রমিকরা

প্রকাশিত : ২০১৯-০৩-০৯ ১৯:২৪:৩৩

রিপোর্ট : দিবালোক ডেস্ক


দেশের চা বাগানগুলোর প্রধান শ্রমিক মূলত নারীরাই। চা বাগানের প্রধান যে কাজ- পাতা চয়ন, তা সাধারণত নারীরাই করে থাকেন। পুরুষ শ্রমিকরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কাজ করেন কারখানায়। নারীরা অধিক শ্রম দিলেও মুজরী পান পুরুষেরই সমান। বাগানভেদে ৯৭ থেকে ১০২ টাকা।

এই মজুরীর টাকাও নিজেরা তুলতে পারেন না বেশিরভাগ নারী শ্রমিক। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দিন শেষে বাগান কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নারী শ্রমিদের পক্ষে তাদের স্বামী বা পরিবারের পুরুষ প্রতিনিধিই মজুরীর টাকা উত্তোলন করেন। নিজের পরিশ্রমের টাকা ব্যয়ের ক্ষেত্রেও নারীদের মতামত নেওয়া হয় সামান্যই।

চা বাগানের একাধিক নারী শ্রমিক জানান, নারী শ্রমিকরা প্রতিদিন ৮ ঘন্টা কাজ করেন। আর পুরুষ শ্রমিকরা কাজ করেন ৩/৪ ঘন্টা। অথচ উভয়ে সমান মজুরী পান। 

চা বাগানের শ্রম আইন অনুযায়ী, প্রতিদিন ৩০ কেজির অধিক চা পাতা উত্তোলন করলে প্রতি কেজির বিপরীতে একজন শ্রামিককে ৫টাকা করে বাড়িতে দেওয়ার কথা। তবে এক্ষেত্রে নারীদের কম দেওয়া হয় বলে অভিযোগ শ্রমিকদের।
পুরুষ শ্রমিকরা পদোন্নোতি পেয়ে ‘সর্দার’, ‘বাবু’ হলেও নারী শ্রমিকদের সাধারণ পদোন্নোতি দেওয়া হয় না বলেও জানান তাঁরা। এছাড়া মাতৃত্বকালীন সময়েও বঞ্চনার শিকার হন চা বাগানের নারী শ্রমিকরা। 

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন সূত্রে জানা যায়, সারাদেশে কর্মরত মোট চা শ্রমিক প্রায় দেড় লাখ। এর মধ্যে ৫২ শতাংশ নারী চা শ্রমিক। কমলগঞ্জের খুরমা চা বাগানের শ্রমিক গীতা রানী কানু বলেন, বাগানে নারীরা বেশি পরিশ্রম করেন অথচ মজুরি পান পুরুষের সমান। আবার অতিরিক্ত পাতা উত্তোলন করেও নির্ধারিত বোনাস পান না। 

চা শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা মিন্টু দেশোয়ারা বলেন, দেশের সব চা বাগানেই প্রধান শ্রমিক মূলত নারীরা। অপরিদেক, পুরুষরা অনেকসময় কাজে ফাঁকি দিলেও নারীরা তা করেন না। সে হিসেবে পুরুষদের চেয়ে নারীদের মজুরী বেশি হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু দু’জনের মজুরিই সমান। তারউপর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নারীদের মুজরীর টাকা তাদের স্বামীরা সংগ্রহ করেন। তারাই ইচ্ছেমত ব্যয় করেন এ টাকা। নিজেদের টাকা সাধারণত নারীরা ব্যয় করতে পারেন না। অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে চা শ্রমিক পরিবারে নারীদের মত উপেক্ষিত থাকে।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রামভজন কৈরি নারীদের বঞ্চনার উদাহরণ দিয়ে বলেন, মাতৃত্বকালীনক্ষেত্রে চা বাগানের নারী শ্রমিকদের পূর্ববর্তী তিনমাসের কাজের উপর ভিত্তি করে মাতৃত্বকালীন ভাতা পান। ফলে কিছু বেশি ভাতা পাওয়ারা জন্য গর্ভাবস্থায় বাগানের নারীরা আরও বাড়তি পরিশ্রম করেন। এতে মা ও সন্তান দু’জনেই স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ে। অন্য চাকরীর ক্ষেত্রে নারীরা ছয় মাসের ছুটি পেলেও চা শ্রমিক নারীরা পান তিনমাসের। এছাড়া পরিবারেও নারীরা বঞ্চনার শিকার হন। দীর্ঘদিন কাজ করলেও নারীরা সাধারণ পদোন্নোতি পান না।

শেয়ার করুন

Print Friendly and PDF


মতামত দিন

Developed By -  IT Lab Solutions Ltd. Helpline - +88 018 4248 5222