সর্বশেষ

  নেত্রকোনা-৪ আসনে বাম জোটের প্রচারণায় হামলা, প্রার্থীসহ আহত ৪   ওয়ানডেতে অভিষিক্ত হচ্ছে সিলেট স্টেডিয়াম   আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস   কুড়ারবাজার ইউপি সদস্য মাছুম গ্রেফতার   ২৪-২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে সেনাবাহিনী নামবে   কলচার্জ, কলড্রপ ও বিরক্তিকর মেসেজের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট   আস্থা ভোটে টিকে গেলেন থেরেসা মে   জামায়াত বাদ, সিলেট-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী ফয়সল চৌধুরী   বিয়ানীবাজার পলাতক আসামী শিবির নেতা রাজ্জাক গ্রেফতার   বিয়ানীবাজার পৌর আ.লীগের সহ সভাপতি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী খছরুল হক মঙ্গলবার দেশে আসছেন   বিয়ানীবাজার মুড়িয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান খয়ের গ্রেফতার   বিয়ানীবাজারে ডাকাতিঃ নগদ দুই লক্ষ টাকাসহ ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট   বিএড কোর্সে ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু ১৭ ডিসেম্বর   হাঁসের ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর অভিনব ‘তুষ-হারিকেন’ পদ্ধতি   অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে ফিরছেন সেরেনা উইলিয়ামস, রাফায়েল নাদাল

সম্পাদকীয়

বিয়ানীবাজারের নব নির্বাচিত মেয়রকে খোলা চিঠি:

প্রকাশিত : ২০১৭-০৬-০৫ ২১:২০:০৪

রিপোর্ট : আনোয়ারুল ইসলাম অভি


অভিনন্দন মেয়র আব্দুস শুকুরআমাদের দূ:খ গুলোর দিকে নজর দিনআনোয়ারুল ইসলাম অভি

অভিনন্দন বিয়ানীবাজার পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত মেয়র আব্দুস শুকুর। পৌরশহর সহ গোটা বিয়ানীবাজারবাসী অপেক্ষায়-প্রতিক্ষায় ছিলো বছরের পর বছর এবং নাগরিক অধিকার বঞ্চিত  জনগণ বলা যায় ‘ফটিক জল’ এর মতো চেয়ে ছিল একটা নির্বাচন। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি । আলোর খবর হলো-দীর্ঘ পথ পরিক্রমা এবং আলোচনা সমালোচনার পর দীর্ঘ ষোলটি বছর পর আমরা নির্বাচিত পৌরমেয়র পেয়েছি। আপনিই আমাদের বিয়ানী বাজার পৌর সভার নির্বাচিত প্রথম পৌর মেয়র। আপনাকে অভিবাদন।

আপনি নির্বাচিত প্রথম পৌর মেয়র হবার পেছনে অনেক গুলো কারণও আছে- পৌর নির্বাচন সংগ্রাম কমিটিতে আপনার সক্রিয় অংশ গ্রহন এবং উচ্চ আদালতে দ্রুত পৌর নির্বাচন নিয়ে ধারাবাহিক মামলা পরিচালনায় সক্রিয় থাকার জন্যে শুধু নয়। আমরা যারা কলম কষি(তবে আদর্শিক ভাবেই, কলম কষে খাই না), যারা দলীয় রাজনীতির বাইরের মানুষ,যারা সংখ্যাগরিষ্ট এবং সর্বান্তকরণে বিয়ানী বাজারের উন্নয়ন চায়,পরিচ্ছন্ন নগর এবং সৃজনমনস্ক মানুষ এবং রাজনীতিবিদদের গনমানুষ বান্ধব দেখতে চায়; তাদের কাছে সঙ্গত কারনেই আপনি গুরুত্বপূর্র্ণ।সংস্কৃতিবান্ধব এবং বাঙালির হীরন্ময় ইতিহাস মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির হয়েই মেয়র হিসাবে নেতৃত্ব দেয়াটাও একটা আলোর সংবাদ ছিল, সন্দেহ নেই। এইসব অনেক স্বচ্ছ,স্পষ্ট যুক্তির আলোকেই বিয়ানীবাজার এর প্রথম পৌর মেয়র হিসাবে আপনাকে আমরা পেয়েছি।

বিয়ানীবাজারের বর্তমান দূ:খ গুলো....ঐতিহ্যবাহী বিয়ানীবাজার এখন অনেক দূ:খে ভাসমান।অশেষ মনীষা,পন্ডিত,সমাজসের্বী, রাজনীতিবিদ,প্রাকৃতিক সম্পদ, পর্যটনের অপার সম্পদ এবং সম্ভাবনা,রাজনীতিতে পরিচ্ছন্ন পবিবেশ এবং সম্প্রীতির অঞ্চল,প্রবাসীদের রেমিটেন্সে ফেলেফুপে থাকা ব্যাংকের শহর, ওয়েজ আর্নার স্কিমে সিলেটের হয়ে শতকরা ৬০ ভাগেরও বেশী প্রদানকারী এবং হালের বহুল উচ্চারিত অনেক সেরাদের পুরস্কার অর্জনের শহরআমাদের বিয়ানীবাজার নাকি কার্যত এখন অনেক দূখিই। অন্তত দেশে বিদেশে এটা এখন বহুল উচ্চারিত।আমরা অনেক ভাবে নাগরিক অধিকার থেকেবঞ্চিত । দীর্ঘ ১৬ বছর পৌর সভায় আমরা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি পাইনি। সরকার দলীয় এমপি- মন্ত্রী, দলীয় উপজেলা চেয়ারম্যান থাকা সত্বেওঅনেক গুলো কাজ ব্যক্তিগত অন্তর্ন্ধদ্ধ এবং আঞ্চলিক রেষারেষির কারনেও আটকে ছিল দীর্ঘ দিন থেকে বলে সচেতন মহল বিশ্বাস করে। অর্থাৎ দূখের তিমিরেই আছে বিয়ানী বাজার পৌর শহর এবং এটা খোদ সরকার দলীয় রাজনীতিবিদরাওপ্রকাশ্যে বলতে না পারলেও বিশ্বাস করেন।

পৌর শহরটা আমাদের বিয়ানী বাজারবাসীর সৃজনশীলতার একটা অন্যতম প্রতীক বহন করে থাকে। সিলেট -বারইগ্রাম রাস্তা বুক চিরে গেছে আমাদের বিয়ানবাজার শহরের। প্রতিদিন এই পথে চলে হাজার হাজার যানবাহন এবং বিয়ানীবাজার ও বড়লেখার অগনণ যাত্রী সাধারণ। সেখানে অল্প হলেও নির্বাচিত পৌর মেয়র হয়ে আপনার কিছু  দৃশ্যমান কাজ আমরা দেখছি। আমি বিশ্বাস করি ক্ষমতা এবং কাজ করার ইচ্ছা শক্তি থাকলে কিছু কাজ শুরু করলেই ধীরে ধীরে হয়ে যায়। কিছু প্রশাসনিক জনগুরুত্বপূর্ণ কাজ রেললাইনের ইঞ্জিনের মতো চলে। আর জনবান্ধব লিডারশীপ স্কীলটাই তো এই রকম। টিম লীডারই দায়ীত্বশীলতার পথ দেখান।

রাস্তার দৈন্যদশা বিয়ানীবাজারবাসীকে অসহনীয় দুর্ভোগে ফেলে রেখেছে দীর্ঘ দিন থেকে। আমরা জনগণ,স্পষ্টত- মাইনকা চিপায় ছিলাম। সদিচ্ছা থাকলে একজন জনপ্রতিনিধি তা সমাধান করতে পারতেন এটা বিয়ানীবাজারবাসী বিশ্বাস করেন। বিয়ানীবাজারের অগনন মানুষের বিশ্বাস, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি এবং এবং সাবেক পৌর প্রশাসক তফজ্জুল হোসেন এর অন্তর্দ্বন্দের কারনেই  এই কাজ গুলো হয়নি। বিশ্বাসটা সত্যি কি-না তা বিচারের দায়ীত্ব আমার না, তবে বিয়ানীবাজারের উন্নয়ন যে ঝুলেছিলো, তা বিয়ানীবাজারের দিকে তাকালেই বুঝা যায়।।

প্রসঙ্গত ‘কিন্তু’, ‘যদি’ ইত্যাদি দিয়ে দলকানাদের তথাকথিত যুক্তির ব্যাখ্যায় বলা যায়- মন্ত্রনালয় কার অধীনেএবং কে, সে দায়িত্ব কখনপালন করবেন- সেটা হচ্ছে একটা প্রশাসনিক আইনী নিয়ম ও কাটামোর বিষয়।যা সব সময়, সব অবস্থায়, সব জায়গায়ই আছে। জনগুরুত্বপূর্ন এবং জনদূর্ভোগের বিষয় গুলো সমাধানের জন্য জনপ্রতিনিধিদের সবার সাথে এক যোগে কাজ করতে হয়।এটাকে  গ্লোবাল দুনিয়ায় বলা হয়-ওয়ার্ক ইন পার্টনারশীপ। আমাদের পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রতে  যা করা উচিত ছিল অনেক আগেই-এই বিষয়টিখোদ আওয়ামীলীগের মধ্যেই বহুল উচ্চারিত। ব্যক্তিগত ইগো, আঞ্চলিকতা এবং ক্ষমতার অপব্যহার ইত্যাদি মিশেলেএইসব কাজ গুলো হয়নি এবং এর দায়ভার আমাদের মাননীয় মন্ত্রীর উপরই পড়ছে । বলা হয়ে থাকে-ঝড় আসলে বড় গাছেই সবার আগে লাগে এবং এর সাথে আমি যোগ্যতাকেও মোটা দাগে দেখছি। বড় মাপের মানুষরা সংবেদনশীল এবং বৃহৎ চিন্তায় নিজেকে বিলিয়ে দেন। বিয়ানীবাজার বাসীর দীর্ঘ দিনের এই সমস্যা উত্তরণে আমরা শিক্ষা মন্ত্রীকে সেভাবে- ভোক্তভোগী জনগন স্পষ্টত পায়নি। যদিও শিক্ষামন্ত্রী হিসেবেতাঁর নিজস্ব এলাকার শিক্ষার উন্নয়নসহ সারা দেশব্যাপিই তাঁর সক্রিয় এবং সফল একটা ইমেজ রয়েছে।

মনিং স্যোজ দ্যা ডে- আপনার বেলায় আমি দেখছি। দায়িত্ব গ্রহনের প্রথম সপ্তাহেই দেখিয়েছেন- আপনি আপনার চিন্তাশীলতায় অটুট থাকতে চান।‘প্রথাবদ্ধ প্রতিশ্রুতির মোলা ঝুলালো বিষয় থেকে আপনি একটু আলাদা’ - বিয়ানীবাজারবাসী দেখবে বলে অনেকে আশায় বুক বাঁধছেন।

 গভীর রাতে অথবা দিবালোকে যেভাবেই হোক, দূর্ভোগে আমরা অন্তত আপনাকে দেখছি কাজ করার প্রত্যয়ে।কয়েকজন নির্বাচিত কাউন্সিলর নিয়ে কাজ করছেন। আপনাকে অভিনন্দন। ষোল বছরের জঞ্জালে আপনার শক্ত পদচিহ্ন এবং  অতীতের আঞ্চলিক রাজনীতির বৌ- শাশুরীর মতো ঝগড়ায়, মান অভিমানে অথবা ইগো দ্বন্ধে আটকে থাকা বিষয় গুলো আপনি ডিঙিয়ে যেতে রাস্তায় দৃশ্যমান আছেন;আপনাকে অভিবাদ দিতেই হয়।

চাই একটি নান্দনিক পরিবেশবান্ধব সৃজনশীল নগর পরিকল্পনা ও কাজ:প্রতিশ্রুতির ঝুলিতে ঝুলে আছে আমাদের সাংস্কৃতিক শহর। বিয়ানীবাজারকে আমরা গর্ব করে বলতে পারি সিলেট বিভাগের অন্যতম সাংস্কৃতিক শহর। বিয়ানী বাজার মুক্তিযোদ্ধা সাংস্কৃতিক কামান্ড এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছাড়াও একজন সাংস্কৃতিকর্মী হিসাবে আপনার দৃশ্যমান পদচারনা আছে। বিয়ানী বাজারে সাহিত্য ও সংস্কৃতি বান্ধব অনেক গুলো কাজ প্রতিশ্রুতির মধ্যে আটকে আছে। অনেক  গুলো কাজ  শিক্ষা মন্ত্রীর উদ্যোগে হচ্ছেও।

আমরা দ্রুত গোলাবিয়া পাবলিক লাইব্রেরীকে সচল দেখতে চাই।বিয়ানীবাজারে নিয়মিত নাট্য উৎসব হলেও সৃজন ও মননের প্রান বইমেলা  বর্ণাট্য আয়োজনে খুব সহজেই করা যায়।আপনার সহযোগীতায় তা দুই হাজার আঠারোতে পূর্বাঞ্চলে সৃজন আলো ছড়াক-----প্রত্যাশা এবং সর্বাতœক সহযোগীতার প্রত্যয় রইল।

বিয়ানী বাজারের দুই প্রজন্মেও দুইজন প্রিয়মানুষ এর নামে  চারখাই বাজারে শহীদ নাহিদ চত্তর, শেওলা মায়ন চত্তর এর প্রতিশ্রুতি আজও পরোপুরি পূরণ হয়নি। জানি এটা আপনার দায়িত্বের মধ্যে পড়েনা।সে প্রসঙ্গে আমি যাচ্ছিওনা।বিয়ানীবাজার পৌরসভার দুটি চত্বর-প্রমথ নাথ এবং ড.জিসি দেব চত্তর বাস্তব রুপলাভ এখনো করেনি। এইদুটি নির্মাণ এবং  বাস্তবায়ন করা আমাদের সময়ের দাবী। আমার বিশ্বাস সংস্কৃতিবান্ধব হিসাবে  আপনি সেটা বাস্তব রুপ দেবেন। 

আমাদের একটা উচ্চারিত দাবী আছে- আমরা আপনার কাছ থেকে বিয়ানীবাজার শহরটির জন্য প্রথমেই একটি নান্দনিক পরিবেশ বান্ধব সৃজনশীল নগর পরিকল্পনা দেখতে চাই।যেখানে বিয়ানীবাজারের স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রাজ্ঞদের মতামত গুলো শুনার এবং বিবেচনার সুযোগটি থাকা খুবই জরুরী। যাতে করে  অদূর ভবিষ্যতে ক্ষমতার পট পরিবর্তন হলেও পরিকল্পিত কাজের একটা দৃশ্যমান ধারাবাহিকতা বজায় থাকার মতো দূরপ্রসারী মহৎ কাজটির শক্ত ভীত রচিত হতে পারে। 

প্রসঙ্গত,আমাদের অঞ্চলের অনেক স্থাপত্য ও পরিবেশবিদ বাংলাদেশে তাঁদের কর্মসৃজনে উজ্জল অবস্থানে আছেন। আলোর খবর হলো, আমাদের অঞ্চলে অনেক ধর্মীয় এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এর স্থাপত্য নকশা এবং তদারকির কাজটি তাঁরা বিনামূল্যে সামাজিক দায়িত্ব হিসাবেই করে দিয়েছেন।আমাদের শহরটিকে নান্দনিক, পরিচ্ছন্ন এবং যানযট মুক্ত রাখতে তাদের ডাকলে তারা বিমূখ করবেন না বলে আমার গভীর বিশ্বাস। আমাদের আলোজ্ঝলমল আতিœক সামাজিক সাংস্কৃতিক ইতিহাস এবং চর্চিত বন্ধন অন্যান্য অঞ্চলের চাইতে ঈর্ষনীয় বলা চলে।

পৌর শহরের  প্রধান রাস্তাটি  ডিভাইডার দিয়ে সুদৃশ্য করা হয়েছিল। ডিভাইডারটি মাঝখানেবড় টবের মতো জায়গায় মাটির ব্যবস্থা রেখেই তৈরী করা হয়েছিল। যা সবুজ বৃক্ষে আচ্ছাদিত থাকারই কথা। উত্তর এবং দক্ষিন দুই ভাগে ভাগ করে সেখানে ছোট ছোট পরিবেশ বান্ধব গাছ লাগানোর কাজটি প্রাথমিক প্রদক্ষেপেই করা যায় বলে মনে করি। বিয়ানীবাজারকে অনেকে ব্যাংকের শহর বলেও পরিচয় দেন।বিয়ানীবাজারে প্রায় সব গুলো বেসরকারী ব্যাংক এর শাখাও রয়েছে।টাকার বিরাট দেলদেন হয় বলেই এখানে এতো গুলো ব্যাংক আছে এবং ভালো মতোই আছে। সামাজিক উদ্ধোদ্ধকরণ কাজে এইসব কর্পোরেট প্রতিষ্টান গুলোকে কাজে লাগানো যায়।

অতীতে অনেক ছোট কাজই ক্ষমতার দ্বন্দ এবং ব্যক্তিগত ইগো’য় আমরা বঞ্চিত হয়েছি।বলা যায়, বিয়ানীবাজারবাসী নিয়ত একটা অসহনীয়সমস্যার জালে আটকা পড়ে আছে। আমরা বিশ্বাস করতে চাই আপনি একটু ব্যতিক্রম হবেন। লেবু তিতা কথার চর্চিত রাজনীতি ও চিন্তা থেকে আপনি বেরিয়ে বিয়ানীবাজার বাসীর দূ:খ গুলোকে আমলে নিবেন। 

নির্বাচনী প্রচারে পৌর শহরের জলাবদ্ধতাকে আপনি অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসাবে চিহ্নিত করেছেন। নির্বাচনী প্রচারণায় আপনি দলীয় সমর্থকদের নিয়ে কাচাবাজার মাছবাজার ঘুরে ভোট প্রার্থনা করেছেন। ভোক্তভোগী ব্যবসায়ী ও ক্রেতা সাধারণ আপনাকে তাদের দূ:খ ক্ষোভ এর কথা সরাসরি বলার সুযোগও পেয়েছিল। আপনি শুনেছেনও। অন্তত এই কয়েকটি দিন  মাছ ও শাকশবজি পচে-গলে একারার হওয়া বিশ্রি দুগন্ধযুক্ত পানি আপনার পা স্পর্শ করেছে। 

জনবান্ধব রাজনীতির বড় গুণ হচ্ছে- গণমানুষের দূ:খ কষ্ট বুঝা এবং যথা সম্ভব তাদের সমস্যা উত্তরণে সবসময় সাহায্যে তাদের পাশে থাকা। কালের পঞ্চখন্ডের অন্যতম একটি পরিচয় হলো-আমরা উজানের অর্থাৎ শুকনো ,পরিস্কার পরিচ্ছন্ন এবং প্রাকৃতিক সুন্দর্যমন্ডিত অঞ্চলের মানুষ। আমরা যারা রিকসা, মোটরসাইকেল অথবা অন্য বাহনে প্রতিদিন বাজার প্রদক্ষিণ করি, তাদের পায়ে বিশ্রিগন্ধের পচা গলে যাওয়া আবর্জনা যুক্ত পানি হয়তো লাগেনা। স্বচ্ছল শ্রেনী  প্রতিদিন নতুন পোশাক গায়ে দিয়ে বাজারে আসা যাওয়া করা মানুষের অভাব নেই এই শহরে। তাদের জন্যে বিষয়টি এতটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, যতোটা একজন খেটে খাওয়া ও সাধারণ মানুষ এর জন্য। 

যারা বৃষ্টি হলেই মোঠফোনের ক্যামেরায় ছবি তুলে স্যোসাল মিডিয়ায় আপলোড করে আলোচনা-সমালোচনায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন, তাদের কথা  এইমূহুর্তে আমি ভাবছিনা।আমার ভাবনায়-আমাদের পঞ্চখন্ডের ঐতিহ্য গুলো ভাসছে। অর্থাৎ যে মহিলা তার ছোট সন্তান বা স্বজনদের নিয়ে নিরুপায় অথবা প্রয়োজনে কাঁচাবাজার, মাছবাজার ইত্যাদিতে আসে এবং পায়ে হেটে  বাজার ঘুরে তাকে সদাইপাতি করতে হয়; তার জন্য এটা অত্যন্ত অমানবিক কষ্টের এবং কাদাজলে ভেজে বাড়ী যাওয়া অনেকটা লজ্জারও বটে।এবং এরাই এখন  রাস্তায় ভোক্তভোগি সংখ্যা গরিষ্ট জনগণ। এদেরই  বিরাট একটা অংশ  পরিবর্তনের আশায় ভোট দিয়ে আপনাকে পৌর মেয়র নির্বাচিত করেছে।

চাই নাগরিকদের ভূল গুলো জনসচেতনতায় তুলে ধরা.......আমাদের ভুলগুলো আমাদের বুঝতে দিন।বৃষ্টি হলেই বিয়ানীবাজার শহর পানিতে ডুবে যায়।হালে, সাথে সাথে আরেকটি মনখারাপের বিষয় ঘটে আমাদের জন্য। বৃষ্টির পানিতে ভেজা শহর স্যোসালমিডিয়ায় অল্পক্ষনের মধ্যেইভেসে উঠে  নগন্য ভাবে। তারপর ক্ষোভে দূখে চলে অসংযত মন্তব্য,প্রতিমন্তব্য।ফলত: বিয়ানীবাজারবাসী অন্য অঞ্চলের কাছে বারবার লজ্জিত হয়।কষ্ট দহনে ভোগেন দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা অগনণ বিয়ানীবাজারী।বলা হয়ে থাকে- কাজ করলেই ভূল হয়। আলোচনা সমালোচনা হয়। বিগত প্রায় পাঁচ বছর থেকে আমাদের বিয়ানীবাজার শহর পানিতে ডুবছে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কেউ অফিসে বসে হুক্কা টেনে ভারবাহী অথবা প্যাচাল তত্বকথা শুনিয়েছেন আরও একজনজনপ্রতিনিধি শহরের বাইরেহাটু জলে দাড়িয়ে বন্যার ছবি স্যোশাল মিডিয়ায় পোষ্ট করে লাইক কমেন্ট এ ব্যস্ত থেকে তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন।স্যোসাল মিডিয়ার কল্যাণে সবাই  এসব দেখেছে এবং দূ:খ, ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন যার যার মতো করে ।

পৌর শহরের বুক চিরে যাওয়া রাস্তাটি কার দায়িত্বে ?স্থানীয় এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান নাকি সাবেক পৌর প্রশাসক এর দায়িত্বের আওতায় পড়ে ? তা সাধারণ জনগনের দেখার বিষয় মোটা দাগে পড়েনা।তারা দূর্ভোগ থেকে বাঁচতে চায়।আমাদেরজনপ্রতিনিধিরা যে বৌ-শাশুরী ও ইগোইস ক্ষমতা যুদ্ধে মত্ত ছিলেন সেটা ভোক্ত ভোগী মানুষমাত্রইজানে এবং তাদের মাইনকা চিপায় পড়ে হলফ করে বুঝেছেও।

বিয়ানীবাজার শহরের জলাবদ্ধতা নিয়ে আপনি চাইলেও সহজে দ্রুত কোন সমাধান দিতে পারবেন বলে মনে হয়না। এটা সওজ এর  কাজ ,আপনার দায়িত্বেও পড়েনা।সে বিষয়ে আমি যেতে চাচ্ছিনা। কিন্তু আপনি চাইলে পৌরমেয়র হিসাবে অনেক দূরপ্রসারী কাজ করতে পারেন, যেটা আপনার আয়ত্বে এবং কর্মসৃজনে রয়েছে। তা হলো-পৌরবাসী এবং শহরের ব্যবসায়ীদের মাঝে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের সাথে জলাবদ্ধতা দূরীকরণে একসাথে কাজ করা। 

বিয়ানীবাজারের ড্রেনের পানি যানবাহন চলাচলের রাস্তা দিয়ে যায়। প্রশ্ন করা অবান্তর নয়-কেন রাস্তার পানি ড্রেন দিয়ে যায় না? অতীতেও বিয়ানীবাজারে বৃষ্টি হয়েছে, এখনও হচ্ছে।বৃষ্টিতে তো কোন ভেজাল বা পার্থক্য নেই, ছিলও না। গলদ হলো-  আমরা অতীতের মতো মানবিক,সমাজবান্ধব এবং প্রকৃতিবান্ধব থাকতে পারিনি। 

আমার বাসা,বাড়ী প্রতিষ্ঠান আমি ইট,পাথর,টাইলস এ মোড়াবো; সেটা আমার অধিকার আছে। এটা যেমন ঠিক তেমনি, আমার বাড়ীর বৈজ্য এবং পানি নি:স্কাশনের ব্যবস্থাও আমাকে রাখতে হবে, এটাও সত্য। আমি কি করে সব বৈজ্য এবং পয়:নিস্কাশন,বিবিধপানি ইত্যাদি সব সরকারী রাস্তায় ফেলে দিচ্ছি অবলিলায় এবং যা আমার চোখের সামনেই জনগণকে কষ্ট দিয়ে চলেছে দিনের পর দিন!

 আরেকটি বিষয় হলো-  বিয়ানীবাজার এর বুক চিরে যাওয়া রাস্তার দুই পাশের বাড়ি, শপিং সেন্টার ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মালিকগণদের  রাজনৈতিক সামাজিক পরিচিতি রয়েছে। এটা সচেতন শহরবাসীও জানেন। এবং এই অমানবিক,অসামাজিক কর্মটি যে একটা  ‘বড় অপরাধ’, সেটা যারা করছেন অর্থাৎ জেগে ঘুমানো ভোগবাদি নাগরিককে আইনি ভাষায় বুঝানো জরুরী।জনগণকে তার নাগরিক অধিকার আদায়ে উদ্বোদ্ধ করার কাজে লাগলে আপনার পাশে অনেক সংগঠক এবং সমাজকর্মী সাথে পাবেন বলে বিশ্বাস করি।

পৌর শহরের ব্যবসায়ীদের তাদের বৈজ্য ফেলার নিদৃষ্ট ডাষ্টবিন এর ব্যবস্থা করে সেটাকে ব্যবহারে উদ্ধোদ্ধ করণ  এবং নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে ধারাবাহিক কাজ করা জরুরী। দীর্ঘদিন থেকে আপনি বিলেতে বসবাস করছেন এবং ল্যোকাল কাউন্সিলের এই সেবা সম্পর্কে আপনার  স্পষ্টত খুব ভালো ধারনা আছে।

জনবান্ধব হিসাবেই আমরা আপনাকে দেখতে চাই.... প্রতিটি মানুষ তার আপন পরিবেশ এবং রুচিবোধ নিয়েই চলে। তবে পরিবেশ মানুষকে প্রভাবিত করে বৈইকি। বাংলাদেশ এবং বিলেতের দুই পরিবেশে আপনার জীবন যাপন। দুই দেশের ভালো-মন্দ দুই দিক দেখার এবং অনুধাবন করার সুযোগ এবং অভিজ্ঞতা আপনার আছে।যা রাজনীতিবিদ হিসাবে  সবার ভাগ্যে জুটেনা। আপনি ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত, সংসদীয় আসনের নিজ দলীয় এমপি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের অত্যন্ত আস্থাভাজন হিসাবে পৌর মেয়রের মনোনয়ন পেয়েছেন। এবং পৌর মেয়র হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন। সুতরাং আপনি অনেক ক্ষেত্রে অনেক শক্তিশালীও বটে।

এটা অস্বীকারের উপায় নেই যে, রাজনীতির বড় একটা অংশ এখন অযোগ্য ও চাটুকারদের হাতে চলে গেছে। জাতির জনক  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই গোত্রীয়দের সম্পর্কে আক্ষেপ করে বলেছিলেন-‘চাটার দল’ আর হালে তাদের সংস্করিত নাম হচ্ছে  ‘কাউয়ার দল’।

কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর সমাজসম্পর্কিত প্রাসঙ্গিক একটি উক্তি আছে - ‘যে মাটি যতোটা উর্বর সেখানে আগাছার বৃদ্ধিও ততোটা প্রবল।’ রাজনৈতিক  একটা পরিশীলিত সংস্কৃতি আছে আমাদের বিয়ানী বাজারে । যা বিয়ানী বাজার পৌর নির্বাচনেও স্পষ্টত দৃশ্যমান ছিল। অর্থাৎ রাজনৈতিক দলীয় আদর্শ যাই হোক না কেন, সবাই একে অপরের প্রতি ছিলেন শ্রদ্ধাশীল। সমালোচনায় ছিলেন অনেকটা যুক্তিনির্ভরএবং প্রতিশ্রুতি গুলোকে মোটামুটি বাস্তববাদি চিন্তায় তারা ভোটারদেরকাছে  তুলে ধরেছেন। 

তবে চাটুকার আর কাউয়াদেরও ভীড় ছিল দেশ বিদেশে। ফেইসবুক ফিডে আপনাকে নিয়ে অতিরিক্ত চর্বিত চর্চা এবং তৈলমর্দন প্রতিটি দিন তাদের আপলোডকৃত ভিডিও এবং ছবিতে  প্রবাসীরা দেখেছেন।প্রবাসীদের কয়েকজনের অতিউৎসাহি ভূমিকা এবং নির্বাচনে সহযোগিতা ইত্যাদি স্বপ্রনোদিত প্রকাশ এবং নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে করেযাওয়া দেখে অনেক  শংকাও উচ্চারিত আছে। আমরা ভোক্তভোগী জনগণ তো ঘর পোড়া গরুর মতো,সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় না পেয়ে উপায় নেই।

প্রাসঙ্গিক একটা উদাহরন দেই। বিয়ানীবাজারবাসীর  প্রিয়নেতা শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এর একটি অনন্য পরিচয় আছে আপাময় জনসাধারণের কাছে- সবাই তাকে ‘নাহিদ ভাই’ বলে ডাকেন। ছোট বড় সবার কাছেই তিনি জননেতা‘নাহিদ ভাই’ অথবা আমাদের প্রিয় নেতা ‘নাহিদ ভাই’। আমরা এই চর্চিত বাক্য স্কুল জীবন  থেকেই শুনে আসছি এবং সত্যি বলতে কি এতো বড় নেতাকে মানুষের এভাবে সন্মোধন শুনলেই মনপ্রাণ  ভালোবাসায় বিন¤্র  হয়ে যায়!এটাই স্বাভাবিক।

 ইদানিং তাকে ঘিরে থাকে একশ্রেনীর ফেসবুকিয় কাউয়ারা।তাকে ডাকে ‘মন্ত্রী মহোদয়’। অথচ যিনি মন্ত্রী হয়ে পায়ে হেটে রাস্তা চলেন, প্রত্যন্ত গ্রামে কাদামাখা আইলপথ স্বচ্ছন্দে হাটেন,ভাঙ্গা পুরোনো নৌকায় বিনা পুলিশ প্রহরায় নদীপথ চলেন ভরসায়-নেতাকর্মীদের নিয়ে। তার চরিত রাজনৈতিক  এই ইমেজ এর কারণে সংবাদপত্রে আদর্শিক অর্থে শিরোনাম হোন। আর কিছু অশিক্ষিত লোভী চাটুকাররা  আমাদের জনগণ নাম ‘নাহিদ ভাই’বাদ দিয়ে তাকে কথায় কথায় সম্মোধন করে‘মন্ত্রী মহোদয়’!সাধারণ মানুষ যখন কথা বলে তখন তার আপন মনে এবং প্রাণের সন্মোধনেই তো কথা বলে এবং সেভাবেই তো তাকে ডাকে। এবং তারা নিশ্চয় জানেন  কখন সম্মানিত মানুষকে কিভাবে সম্মান জানাতে হয়।

বিয়ানীবাজার, যুক্তরাজ্য,যুক্তরাষ্ট্র সব খানে জেগে উঠেছে এই নব্য কাউয়ার দল। যুক্তরাজ্যে কাছ থেকে দেখেছি,যারা অন্তপ্রাণ দলের জন্য কাজ করেন। সেইসব ত্যাগী নেতা কর্মীদের ডিঙ্গিয়েই এরা কিভাবে সেলফি আর ফটোশেসনে ব্যস্ত রাখে আমাদের মাটি মানুষ আর সংস্কৃতিবান্ধব নেতা ‘নাহিদ ভাই’কে।ধরুন,মন্ত্রী সচিবালয়ে,কর্মক্ষেত্রে এমকি রাস্তায় হাটছেন সবখানে তাদের ছবিবাজি আর আতেলবাজি। বিলাতেও এরা সংখ্যায় মোটেও কম নয়। সামনে খাবারের পসরা সাজিয়ে  বৌ বাচ্চা পরিবার আর গ্রুপ ছবি তোলা নিয়েই তাদের কাজ কারবার। পরিশীলিত রাজনীতিবিদ হতে যাকে সারাজীবন অনেক শ্রম,ত্যাগ করে এই পর্যায়ে আসতে হয়েছে , সাম্প্রতিক সময়ের কাউয়াবাজরা সম্পূর্ন বিরূপ ইমেজ তৈরীতেতারা যেন কোমরবেধে লেগেছে কোন এক অদৃশ্য শক্তির জোরে। 

যদিও সচেতনদেরভালোই জানা যে, এরা এসব করেইনেতাদের কাছে আসে,ধান্দা করে, গ্রপিং লবিং, টেন্ডারবাজিতে মোটা অংকের ব্যবসা করে। আতেলবাজ এবং নব্য কাউয়ারা এসব সচেতন ভাবেই করে। দল, নেতা,সমাজকর্ম তাদের কাজ থেকে যোজন দূর।

আপনার বেলায় সেটা ব্যতিক্রম হোক মনে প্রাণে আপনার অগনিত ভোটার, কর্মী স্বজনদের মতো আমিও চাই। মন খারাপের কথা হলো- আমি  আতংক এবং শংকা বোধ করছি ইদানিং- এই সব সমান কাউয়ার দল আপনার ডান- বামে অল্প দিনে কিছুটা হলেও জায়গা করে নিয়েছে। অন্তত স্যোসাল মিডিয়ার ফিড তাই বলে।আমি বরাবরই আশাবাদি মানুষ।নিজের বোধের কাজে বরাবরই -রাবার নয় কাচের মতো স্বচ্ছ চলতে চেষ্টা করি এবং সেই বোধ শক্তি থেকেই আমার মন্তব্য।

আপনাকে নিয়ে আমি আশাবাদি এবং  এইপ্রত্যয়েই থাকতে চাই। আমি আমার বিয়ানী বাজার পৌরশহর তথা বিয়ানীবাজার বাসীর  পেছনের সুদীর্ঘ  ষোল বছরের অভিবাবকহীন শহরের তিক্ত অভিজ্ঞতার মানদন্ডে সূর্যমুখী আলোর আগামী খুঁজছি।আবারও অভিবাদন, অভিনন্দন। 

লেখক: কবি, প্রবাস বিষয়ক সম্পাদক দিবালোক। 

শেয়ার করুন

Print Friendly and PDF


মতামত দিন

Developed By -  IT Lab Solutions Ltd. Helpline - +88 018 4248 5222