সর্বশেষ

  নেত্রকোনা-৪ আসনে বাম জোটের প্রচারণায় হামলা, প্রার্থীসহ আহত ৪   ওয়ানডেতে অভিষিক্ত হচ্ছে সিলেট স্টেডিয়াম   আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস   কুড়ারবাজার ইউপি সদস্য মাছুম গ্রেফতার   ২৪-২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে সেনাবাহিনী নামবে   কলচার্জ, কলড্রপ ও বিরক্তিকর মেসেজের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট   আস্থা ভোটে টিকে গেলেন থেরেসা মে   জামায়াত বাদ, সিলেট-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী ফয়সল চৌধুরী   বিয়ানীবাজার পলাতক আসামী শিবির নেতা রাজ্জাক গ্রেফতার   বিয়ানীবাজার পৌর আ.লীগের সহ সভাপতি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী খছরুল হক মঙ্গলবার দেশে আসছেন   বিয়ানীবাজার মুড়িয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান খয়ের গ্রেফতার   বিয়ানীবাজারে ডাকাতিঃ নগদ দুই লক্ষ টাকাসহ ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট   বিএড কোর্সে ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু ১৭ ডিসেম্বর   হাঁসের ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর অভিনব ‘তুষ-হারিকেন’ পদ্ধতি   অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে ফিরছেন সেরেনা উইলিয়ামস, রাফায়েল নাদাল

সম্পাদকীয়

রাষ্ট্রের এই স্বৈরতন্ত্রী ভূমিকার মূল কারণ কি

প্রকাশিত : ২০১৮-০৯-২৪ ১৬:১৫:১৭

রিপোর্ট : অভিনু কিবরিয়া ইসলাম


১.ক্ষমতার বাইরে থাকলে বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলো গণতন্ত্রপন্থী হয়ে যান। তাদের মুখ দিয়ে তখন এমন এমন কথা বের হয়, যা শুনলে মনে হয়, আহারে, এরাই সাচ্চা গণতন্ত্রী। জনগণের সকল ন্যায্য দাবির পক্ষে তারা একমত পোষণ করেন।

আওয়ামী লীগও তাই করেছিলো। ফুলবাড়ি আন্দোলনে তারা সংহতি জানিয়েছিল, ওয়াদা করেছিল, ফুলবাড়ি চুক্তির বাস্তবায়ন তারা করবে। বিচারবহির্ভুত হত্যা বন্ধ করা, সুশাসন নিশ্চিত করা, দুর্নীতি বন্ধ করা ইত্যাদি ইত্যাদি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ছিল। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার কথাও তারা জোর গলায় বলতেন।

ক্ষমতায় যাওয়া আওয়ামী লীগের মূল উদ্দেশ্য ছিল। তাই একদিকে তারা বামপন্থী নামধারীদের টেনেছিলেন, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম-মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের নামে। অপরদিকে খেলাফতে মজলিসের সাথে চুক্তিও করেছিলেন। শেষে 'রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম'-এর প্রবর্তনকারী এরশাদের সাথেও জোট করেছিলেন। এর আগে জাহানারা ইমামের আন্দোলনের পিঠে ছুরিকাঘাত করে জামায়াতের সাথে যুগপৎ আন্দোলনও করেছিলেন। ক্ষমতায় যাওয়াই যেখানে মুখ্য, সেখানে নীতি-আদর্শের বালাই নাই। আজ মেনন ভাই বলেছেন, ক্ষমতার স্বার্থে বিএনপি-জামাতি-বামাতিরা এক হয়েছে, অথচ সেইসময় খেলাফত মজলিস-এরশাদের সাথে এক কাতারে নামতে তাদের বাধে নি।
বামপন্থী নামধারীদের কেউ কেউ তখন সাম্প্রদায়িকতাকে মূল দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখেছিলেন। আগে সাম্প্রদায়িকতা ঠেকাও, জামাত-শিবির-জঙ্গিবাদ রুখো, পরে অন্যসব ভাবা যাবে। সাম্প্রদায়িকতা, উগ্র মতাদর্শ কতটুকু দমন করা গেছে এভাবে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গত ১০ বছরে এই দেশ কতটুকু এগিয়েছে তা সকলেই দেখেছে৷ সেই সময় আমরা যারা বিকল্পের কথা বলেছিলাম, জাসদ-ওয়ার্কার্স পার্টির সমালোচনা করেছিলাম, আমাদের বিএনপি জামায়াতের দোসর বলা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, ক্ষমতায় না গেলে পরিবর্তন সম্ভব নয়। আমরা কেবল সাইডলাইনেই খেলে যাব। তারা তাদের স্বকীয় অবস্থান থেকে মহাজোটে থাকবেন আর আওয়ামী লীগকে দিয়ে ভালো ভালো কাজ করিয়ে নেবেন। অথচ আমরা দেখি, সংবিধানে যখন রাষ্ট্রধর্ম পুনর্বহাল করা হলো, তারা বিপরীতে ভোট দেয়া দূরের কথা, সেটার সপক্ষে ভোটও দিলেন।
২.কামাল হোসেন এর গণফোরাম এবং বদরুদ্দোজার যুক্তফ্রন্ট নিয়ে অনেক কথা বলা যেতে পারে। এইসব নেতাদের অতীত কর্মকাণ্ড, বর্তমান কানেকশন ইত্যাদি নিয়ে অনেক কথা বলা যেতে পারে। কিন্তু তারপরও, যেহেতু আমরা দুঃশাসনের মুখোমুখি, তার বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রয়োজনীয়তা যেহেতু বিরাজমান, রাজপথে তাদের সক্রিয় ভূমিকা দেখলে আমরা খুশি হতাম। এমনকী ইস্যুভিত্তিক ঐক্যও গড়ে ওঠা সম্ভব ছিল বামপন্থীদের সাথে তাদের। আমরা তাদের রাজপথে আসতে আহ্বান করেছিলাম। দুঃখের বিষয়, ন্যুনতম আন্দোলন করার মত সাংগঠনিক শক্তি বা রাজনৈতিক মনোবল তারা অর্জন করতে পারেননি। আমরা দেখলাম, যুক্তফ্রন্ট বিএনপির সাথে কত আসন নেবে তা নিয়ে দরকষাকষি শুরু করলো। অদ্ভুত ফর্মূলা বের হলো, জামাত বিএনপির সাথে ২০ দলের জোটে থাকবে, আবার বিএনপি বাকিদের সাথে ঐক্য প্রক্রিয়ায়ও থাকবে। এই ব্যাপারে আবার নাকি জামাতেরও সম্মতি আছে!

যাই হোক, গত ২৭ বছরের অভিজ্ঞতা হলো এই বড় বড় দলগুলো ক্ষমতার যাওয়ার স্বার্থে সব শর্তেই রাজি হয়, সব রকমের ঐক্যের পক্ষেই তারা থাকে, নীতি-আদর্শের বালাই সেখানে নেই। ৯০ এ ছাত্রদের দশ দফায় সকলেই স্বাক্ষর করেছিল-ক্ষমতায় গিয়ে তারা সব ভুলে গেছিলেন৷ কেয়ারটেকার সরকারের দাবিতে জামাত আওয়ামী লীগ একসাথে আন্দোলন করলো বিএনপির বিরুদ্ধে, পরে আবার সেই বিএনপিই জামাতের সাথে চারদলীয় জোট করে ক্ষমতায় গেল!
৩.জাতীয় ঐক্য গোলটেবিলে বা বৈঠকখানায় সৃষ্টি হয় না। নেতারা নেতারা এক মঞ্চে হাত ধরাধরি করে দাঁড়ালেই হয় না। মহাজোট গঠনের সময়ও এইরকম হাত ধরাধরি হয়েছিল, তাতে জাতির বিভেদ কমেনি। জাতি ঐক্যবদ্ধ হয় লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে৷ মুক্তিযুদ্ধে জাতীয় ঐক্য হয়েছিল, জাতীয় ঐক্য হয়েছিল স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে। জাতীয় ঐক্যের জন্য জনগণকে কোন বড় আদর্শের লক্ষ্যে উদ্বুদ্ধ করতে হয়। রাষ্ট্রের বিপ্লবী গণতান্ত্রিক পরিবর্তনই বর্তমানে সেই লক্ষ্য হতে পারে।
৪.রাষ্ট্রের এই স্বৈরতন্ত্রী ভূমিকার মূল কারণ কি? কেন দলগুলো ক্ষমতায় আসলে এইরকম স্বৈরাচারী কিংবা ফ্যাসিবাদী চেহারা নেয়? কেন গ্রেনেড হামলা করে, ক্রসফায়ার করে, রাষ্ট্রীয় বাহিনী ও দলীয় ক্যাডার ব্যবহার করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়? এটা কি শুধু শাসনতান্ত্রিক সংকট? সংবিধান পরিবর্তন করে দুটো ভালো ভালো কথা লিখলই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে? সংবিধানে তো বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, গণতন্ত্রের কথা লেখা আছে। কাগজে কলমে বিচার বিভাগ স্বাধীন, স্বাধীন নয় বলে দাবি করলে এমনকী আদালত অবমাননার দায়ে আমার সাজাও হতে পারে। কিন্তু এর প্রকৃত চিত্র কি তা তো দেখাই যাচ্ছে, জনগণও বুঝছে।

ক্ষমতা কেবল সংবিধানে থাকে না। সংবিধান অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, সংবিধানের যেকোন গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের কিংবা সংবিধানকে যুগোপযোগী করার দাবি অবশ্যই ন্যায্য। কিন্তু সংবিধান পরিবর্তনই রাজনৈতিক পরিবর্তনকে নিশ্চিত করে না৷ সংবিধানে মূলনীতি হিসেবে সমাজতন্ত্র ফিরে এসেছে, তাতে কি আর এসে গেছে! দেশে অন্য যেকোন সময়ের তুলনায় বৈষম্য বেড়েছে। ধরা যাক, নির্বাচনের আগে একটা জাতীয় সনদ কিংবা ঘোষণাপত্র কিংবা দাবিনামায় সকলেই স্বাক্ষর করলো, তাতে কি সব বদলে যাবে?
৫.এভাবে বদল ঘটে না। উপরিকাঠামোর খানিকটা সংস্কার করে পরিবর্তন সম্ভব নয়। আজকে যে ফ্যাসিবাদী বা স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তার ভিত্তি হলো লুটপাটের অর্থনীতি। ক্ষমতার আসলে পরিবর্তন হচ্ছে না, কেননা ঘুরেফিরে একই শ্রেণি ক্ষমতায়, একই অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় দেশ পরিচালিত হচ্ছে। মুক্তবাজার অর্থনীতি এদেশের স্বাধীন অর্থনৈতিক বিকাশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। উৎপাদনমুখী শিল্প অর্থনীতির বিকাশের পরিবর্তে রাজনৈতিক-সামরিক-আমলাতান্ত্রিক মাফিয়াতন্ত্রের ছত্রছায়া জনগণের পকেট কাটা লুটপাটতন্ত্রের বিকাশ ঘটছে। বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাও যতটুকু গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ কিংবা অন্যান্য প্রগতিশীল চেতনা ধারণ করে আমাদের মত তৃতীয় বিশ্বের নব্য ধনিকশ্রেণি তাও ধারণ করে না। প্রতিযোগিতামূলক স্বাধীন বিকাশের পথে না গিয়ে তারা বৃহৎ পুঁজির অধীন থাকে, দেশের স্বার্থ, সমাজের স্বার্থকে বিকিয়ে দিতেও তারা পিছপা হয় না। এই শ্রেণির বিরুদ্ধে জোরদার সংগ্রাম গড়ে না তুলে, এই লুটপাটনির্ভর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বদলে ফেলার লক্ষ্যে বিকল্প অর্থনৈতিক কর্মসূচিকে জনপ্রিয় না করে তুলতে পারলে এইদেশে গণতান্ত্রিক পরিবর্তন সম্ভব নয়। এমন নয়, যে সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির কর্মসূচি এই মূহূর্তে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। তবে উদার গণতান্ত্রিক দল বলে যদি কেউ থেকে থাকে তাদের অবশ্যই দেশের স্বার্থবিরোধী মুক্তবাজার অর্থনীতি, লুটপাটতন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন। একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার পেছনে যে অর্থনৈতিক ভিত লাগে, সেটাকে না গড়ে তুলে বা সেটা গড়ার সংগ্রামকে গুরুত্ব না দিয়ে শাসনতন্ত্রের পরিবর্তন নতুন বোতলে পুরনো পানীয়ই সরবরাহ করবে কেবল।
৬.বিকল্প মানে শুধু ক্ষমতায় যারা থাকে তাদের মুখ বা মুখোশের পরিবর্তন ঘটানো না, পুরনো ব্যবস্থার নবসংস্করণ না। বিকল্প মানে হলো বিকল্প কর্মসূচি। নীতির পরিবর্তন। আদর্শকে থোড়াই কেয়ার করে শর্টকাটে ক্ষমতায় গিয়ে পরিবর্তন আনা যায় না, অভিজ্ঞতা তাই বলে। নানা মতাদর্শের নেতাদের ঐক্য নয়, বরং নির্দিষ্ট আদর্শের পেছনে জনগণের ঐক্যই কাম্য। সেটাই পরিবর্তনের পথ।

বর্তমান বিশ্বে ফ্যাসিবাদ এক নতুন চেহারা নিয়ে হাজির হয়েছে। বৃহৎ পুঁজির স্বার্থে, নয়া উদারনীতিবাদ ও মুক্তবাজার মানুষকে শুষে নিচ্ছে, কেড়ে নিচ্ছে তার অন্তঃসার। এই শোষণমূলক ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে নিত্য নতুন চেহারায় হাজির হচ্ছে ফ্যাসিবাদ। উন্নত দেশ ও তৃতীয় বিশ্বের দেশে ফ্যাসিবাদী এই প্রবণতাগুলোর চরিত্রে পার্থক্য থাকলেও উৎস একই অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। পুঁজিবাদ ফ্যাসিবাদী চেহারা না নিয়ে টিকে থাকতে পারবে না। কখনো ধর্মের নামে, কখনো উগ্র জাতিয়তাবাদের নামে, ফ্যাসিবাদী এই প্রবণতাগুলো দেখা যাচ্ছে৷তৃতীয় বিশ্বের অধিকাংশ দেশের শাসকশ্রেণি বৃহৎ পুঁজির সেবাদাস ও এজেন্ট হয়ে নিজেরাই লুটপাটের অর্থনীতি কায়েম করছে ও সেটাকে টিকিয়ে রাখতে ফ্যাসিবাদী চেহারা নিচ্ছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। ক্ষমতায় যারা আসছে তারা ক্রমশ স্বৈরাচারী হয়ে উঠছে। এর অর্থনৈতিক ভিত্তিটা না বুঝলে ক্ষমতার পরিবর্তন হয়তো হবে কিন্তু যে ব্যবস্থা ফ্যাসিবাদ তৈরি করছে তা রয়েই যাবে। এক ধরণের ফ্যাসিবাদী প্রবণতা আরেক ধরনের ফ্যাসিবাদী প্রবণতা দিয়ে প্রতিস্থাপিত হবে কেবল।

৭.ফ্যাসিবাদী প্রবণতার বিরুদ্ধে জনগণের ব্যাপকতর ঐক্য গড়ে তোলা উচিত ঠিকই। সেই ঐক্য হতে হবে এই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিপরীতে সংগ্রামরত জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোকে দিয়েই। হিটলারের বিরুদ্ধে সংগ্রামে দরকার হলে চার্চিল, রুজভেল্টের সাথে কৌশলগত যোগাযোগ ও সমন্বয় করা করা যায় বড়জোর , তবে মুসোলিনির সাথে ঐক্য করা যায় না, বা মুসোলিনিকে ক্ষমতায় বসানোর কাজে সহায়তা করাও যায় না। বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী শাসনকাঠামো কখনো উগ্র জাতীয়তাবাদ বা কখনো উগ্র ধর্মীয় মৌলবাদের চেহারায় হাজির হলেও তার অন্তঃসারটা একই। ভেতরে সবাই একই অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারী। যে ব্যবস্থাটা ফ্যাসিবাদী প্রবণতা তৈরি করছে ভিন্ন ভিন্ন মুখোশে, সেই ব্যবস্থার বিরুদ্ধেই দীর্ঘ, ক্লান্তিকর ,ধৈর্যশীল সংগ্রাম পরিচালনা করা জরুরি। বামপন্থীদের অবশ্যই ক্ষমতায় যেতে হবে, তবে তা নিজস্ব ভিত ও জনগণের সমর্থনের উপর দাঁড়িয়ে, শর্টকাট পথে নয়।

স্বল্প পরিসরে সব কথা বলা কঠিন৷শেষে শুধু একটি কথাই বলা যেতে পারে, চমক সৃষ্টি করে হয়তো ক্ষণিকের জন্য কিছু অর্জন করা গেছে বলে মনে হতে পারে। কিন্তু চমক কখনো ভিত্তিমূলে আঘাত হেনে পরিবর্তন আনতে পারে না৷একদা গণফোরাম চমক তৈরি করতে চেয়েছিল। সোভিয়েত পতনের পর কামাল হোসেনের নেতৃত্বে সিপিবি থেকে চলে যাওয়া তারকা নেতা ও কিছু আওয়ামী নেতা মিলে নতুন যুগের রাজনীতির কথা বলেছিলেন। গণফোরামের শুরুটা চমক জাগানিয়া হলেও পরিণতি করুণ। একদা জিয়ার উপর নির্ভর করে ক্ষমতায় যেতে চেয়েছিল জাসদ, সফল হয়নি। সিপিবিও একটা দীর্ঘ সময় আওয়ামী বলয়ের বাইরে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান দৃশ্যমান করতে পারেনি। এই সব উদাহরণ ও বাস্তবতাকে মাথায় রেখে বাম গণতান্ত্রিক জোট ও তার শরীক দলগুলো নিজেদের স্বতন্ত্র অবস্থান বজায় রেখে বিকল্প গড়ার সংগ্রামকে অব্যাহত রাখবে এই প্রত্যাশা থাকলো।

শেয়ার করুন

Print Friendly and PDF


মতামত দিন

Developed By -  IT Lab Solutions Ltd. Helpline - +88 018 4248 5222