সর্বশেষ

  বসন্তের কবিতাগুচ্ছ - সঞ্জয় আচার্য   বিয়ানীবাজারে ছাত্র ইউনিয়নের ভাষা দিবস স্কুল উৎসব সম্পন্ন   ১৯ জানুয়ারী সাংবাদিক মোহাম্মাদ বাসিতের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী   এক বছরে বিশ্বে ধনীরা আরো ধনী হয়েছেন, গরিবরা আরো গরিব   হোলি আর্টিজানে হামলার জন্য ৩৯ লাখ টাকা জোগাড় করেন মামুন   জেলা হাসপাতালের ৪০ শতাংশ চিকিৎসকই অনুপস্থিত : দুদক   বিজ্ঞানী আবেদ চৌধুরীর উদ্ভাবিত ভুট্টা ক্যান্সার প্রতিরোধক!   আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল আর নেই   বিয়ানীবাজারের আব্দুল্লাপুর সপ্রাবিতে শিক্ষার্থী সংবর্ধনা   ক্ষমতাবলে শিক্ষক হওয়া স্যার, আপনাকেই বলছি!   মাথাপিছু ঋণ ১৭ হাজার টাকা   বিয়ানীবাজার ছাত্র ইউনিয়নের স্কুল উৎসব   উন্নয়ন, দুর্নীতি ও জিডিপি: একসঙ্গে বাড়ার রহস্য কী?   বিশ্বব্যবস্থাঃ পুঁজিবাদ যেভাবে আমাদের মেরে ফেলছে   গোলাপগঞ্জে বাস-সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ।। নিহত ২ আহত ২

সম্পাদকীয়

'কমিউনিস্টরা ধর্ম বিরোধী এবং নাস্তিক'

কমিউনিস্ট পার্টির ঘোষণাপত্র বা গঠনতন্ত্রে পাইনি

প্রকাশিত : ২০১৮-১১-০৫ ১৭:৪৯:৩৭

রিপোর্ট : নাসের আহমদ


'কমিউনিস্টরা ধর্ম বিরোধী এবং নাস্তিক' এই ঘোষিত বয়ান আমি বাংলাদেশের কোনো কমিউনিস্ট পার্টির ঘোষণাপত্র বা গঠনতন্ত্রে পাইনি। এ বিষয় আমি দেশের অনেক প্রখ্যাত বুদ্ধিজীবীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছি। পারলে তারা কমিউনিস্টদের প্রচারিত ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্র থেকে তারা তাদের চালানো এই প্রচারণার পক্ষে প্রমাণ হাজির করুক। তারা তা পারেননি। কারণ এ প্রপাগাণ্ডা আজেকের দিনেও শ্রেণি সংগ্রামের বিপরীতে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক হাতিয়ার। 

মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে ইন্দোচীনে বা ভিয়েতনাম, লাওস ও কম্বোডিয়ায় ফ্রান্স এবং মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আন্দোলন যখন তুঙ্গে, তখন মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের পক্ষ থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করে কমিউনিস্টরা নাস্তিক ও ধর্ম বিরোধী এই প্রচারণা চালানো হয়। এ প্রপাগাণ্ডা হয়েছিল ছিল ইন্দোচিনে মার্কিনিদের উপনিবেশ বহাল রাখার অংশ হিসেবে। 

পাকিস্তান আমলে রাজনৈতিক ইসলাম হিসেবে জামায়াতে ইসলামসহ আরো কিছু ধর্মীয় রাজনৈতিক দল ছিল মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের ঘনিষ্ট মিত্র। জামাত ও তার অপরাপর সহযোগী রাজনৈতিক দলগুলো ১৯৫৩ সালে পাঞ্জাবে কাদিয়ানিদের অ-মুসলিম ঘোষণা করা ও পাকিস্তানকে ইসলামিক রাষ্ট্র কায়েমের লক্ষ্য নিয়ে সাম্পদায়িক দাঙ্গার সুচনা করে। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে প্রথম সামারিক শাসন জারি হয়। ওই দাঙ্গায় অনেকে নিহত হওয়াসহ প্রায় ১ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। একই সাথে ওই দাঙ্গার ফলাফল হিসেবে ১৯৪৬ সালে পাকিস্তানের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে যারা ক্ষমতায় ছিলেন তাদেরকে অপসারণ করা হয়। 

এর বিপরীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত হিসেবে কর্মরত বগুড়ার মোহাম্মদ আলীকে সেনাবাহিনীর সমর্থনে ক্ষমতায় বসানো হয়। মার্কিন সরকার মোহাম্মদ আলীকে সমর্থন জানায়। মোহাম্মদ আলী ক্ষমতায় বসে পেশয়ার, সিয়াট ও সিনোট নামে মার্কিনিদের সাথে তিনটি সামরিক চুক্তি স্বাক্ষর করে। পাকিস্তানের রাজনীতিতে জামাতসহ অন্যান্য সাম্প্রদায়ীক দলের দাঙ্গার ফলাফল হিসেবে পাকিস্তানের রাজনীতিতে মার্কিন সাম্রাজ্যদের অনুপ্রবেশ ঘটে। ফলে জামাতসহ কোনো ধর্মীয় রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে পাকিস্তান বা বাংলাদেশের আমলে কোনো দিনই সাম্রাজ্যবাদ বিরোধীতার কোনো নজির নেই।

অন্যদিকে পাঞ্জাবে দাঙ্গার অপরাধে পাকিস্তানের আদালত জামাত নেতা মওদুদের ফাঁসির রায় ঘোষণা করে। ওই রায় মার্কিন সাম্রাজাবাদ ও সৌদি আরবের চাপে বাস্তবায়ন করা যায়নি। মওদুদের পরবর্তি জীবন কেটেছে সৌদি আরবে। আর ঘটনার তৃতীয় দিকটি হলো মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের অর্থ ও মদদে পাকিস্তানে যে রাজনৈতিক ইসলামের উত্থান ঘটে, এই রাজনৈতিক ইসলামই কিন্তু ৫০ এর দশক থেকে আজ পর্যন্ত প্রচারণা চালিয়ে আসছে কমিউনিস্টরা হলো ধর্ম বিরোধী ও নাস্তিক।

 যার সাথে কমিউনিস্টদের রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সাল থেকে পাকিস্তানে কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্ব জমিদারী ও জোতদার প্রথা উচ্ছেদ, বৃটিশ প্রবর্তিত সম্পত্তি-সম্পর্ক উচ্ছেদ, কৃষক সমাজকে জমিদারদের প্রজার বিপরীতে রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে গণ্য করা এবং ব্রিটিশ প্রবর্তিত সমস্ত কালাকানুন বালিতের আন্দোলন চলছিল। রাজনৈতিক ইসলাম কমিউনিস্ট পার্টির এ আন্দোলনের বিরুদ্ধে তরিকা হিসেবে ধর্ম বিরোধী ও নাস্তিকতার রাজনীতিটা দাঁড় করায়। তার অর্থ যোগান দেয় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও সৌদি আরব। সেই প্রপাগণ্ডা তারা আজো অব্যহত রেখেছে। এক্ষেত্রে একটা কথা না বললেই নয়, নাস্তিকতা-আস্তিকতার লড়ায়ের এজেন্ডা কমিউনিস্টদের নয়, বুর্জোয়াদের। 

ইউরোপের ইতিহাস সেটাই বলে। অন্যদিকে কমিউনিস্টদের রাজনৈতিক চর্চা নিয়ে অনেকের দ্বিমত থাকতে পারে। কিন্তু তাদের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সম্পত্তি-সম্পর্ক রূপান্তর প্রশ্ন। এ সম্পত্তি-সম্পর্ক রূপান্তরের প্রশ্নে বুর্জোয়া আইন-কানুন, ধর্মীয় আইন-কানুন, প্রথাগত আইন-কানুন, লিঙ্গিয় আইন-কানুন- গোষ্টিগত আইন-কানুন বা সম্প্রদায়গত আইন-কানুন যদি ব্যক্তি মানুষের বিকাশ ও সমাজ বিকাশের পথকে রূদ্ধ করে, তাহলে তারা ওই আইন-কানুন অপসরণের জন্য লড়াই করে। ধর্মকে সমাজ বাস্তবতা থেকে পৃথক করে তাকে বিশ্লেষণ করার কোনো এজেন্ডা কমিউনিস্টদের নেই। এ প্রচারনা চালিয়ে আসছে মার্কিন লবির ধর্মীয় নেতা ও লুটেরা বুর্জোয়াদের সাথে সংশ্লিষ্ট বুদ্ধিজীবী জোট।

শেয়ার করুন

Print Friendly and PDF


মতামত দিন

Developed By -  IT Lab Solutions Ltd. Helpline - +88 018 4248 5222