সর্বশেষ

  দাবি মেনে নেবার আশ্বাসে অনশন ভাঙলেন শিক্ষার্থীরা...   সন্ত্রাসবিরোধী রাজু স্মারক ভাস্কর্য: কে এই রাজু?   বৃটেনের সেরা চিকিৎসক সিলেটের ডা. শাফি আহমেদ   সমাজতন্ত্রের ভবিষ্যৎ কী?   মইনুদ্দিন আহমদ জালাল সুরমা স্মরণ আয়োজন অনুষ্টিত   ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা, অল্পের জন্য রক্ষা পেল বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা   রাসায়নিক থেকেই চুড়িহাট্টার আগুন   ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ নেতা রাশেদকে হুমকির অভিযোগ   এবার ভারতের বিপক্ষে আম্পায়ারের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত!   মাস্টার্স শেষপর্ব পরীক্ষার ফল প্রকাশ   ডাকসু পুনর্নির্বাচনের দাবিতে ছয় শিক্ষার্থীর আমরণ অনশন চলছে   জয়ী হয়েও ভোটের ফল প্রত্যাখ্যান তানহার   ৩১ মার্চের মধ্যে পুনর্নির্বাচন চান ডাকসু ভিপি নুরুল হক   অধিক কাজ করেও নায্য মজুরী পান না চা বাগানের নারী শ্রমিকরা   মাস্টারপিস বাংলাদেশ'র উদ্যোগে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন

সম্পাদকীয়

‘মুক্তি-সংগ্রাম’ এখনো চলছে, চলবে

প্রকাশিত : ২০১৮-১২-১৮ ২৩:৫০:৩৫

রিপোর্ট : সম্পাদকীয়



ডিসেম্বর মাস। বিজয়ের মাস। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বাঙালি জাতির গর্বের শেষ নেই। জাতি হিসেবে ইতিহাসে এটিই বাঙালির শ্রেষ্ঠ অর্জন। কিন্তু সবাই কি আমরা জানি, কেন একাত্তরের নয় মাসের সশস্ত্র সংগ্রামকে আমরা মুক্তিযুদ্ধ বলে আখ্যায়িত করা হয়? ‘মুক্তিযুদ্ধ’ শব্দের রাজনৈতিক অর্থটিই বা কি? একাত্তরে আমরা যে সশস্ত্র সংগ্রাম করেছি, সেটি শুধুই কেবল নয় মাসের একটি ‘সামরিক অভিযান’ ছিল না। এই সশস্ত্র সংগ্রাম ছিল বছরের পর বছর ধরে পরিচালিত গণসংগ্রামের শীর্ষ বিন্দু। জনগণের ধারাবাহিক সংগ্রামী অভিযাত্রার শক্তিকে অবলম্বন করেই গড়ে ওঠে সশস্ত্র সংগ্রামের রাজনৈতিক-সামাজিক-আদর্শিক ভিত্তি। 

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলতে যা বোঝায় তা হল ধর্মনিরপেক্ষ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা। এই চেতনা আরও বলে, জাতীয়তাবাদের ভিত্তি হবে ভাষা। ধর্ম নয়। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলতে আরও কিছু বোঝায়, সেগুলিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। মুক্তিযুদ্ধের উত্তাপ থাকা অবস্থাতেই স্বাধীনতার মাত্র এক বৎসরের মধ্যেই যে সংবিধান রচিত হয়েছিল তাতে সেই চেতনার প্রকাশ ঘটেছে।

 ১৯৭২ এর সংবিধানে যে চারটি রাষ্ট্রীয় মূলনীতি ঘোষিত হয়েছিল তার মধ্যেই রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নির্যাস। যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে গোটা দেশ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল সেই আকাঙ্ক্ষায়ও প্রতিফলন পাওয়া যায় এই চার মূলনীতির মধ্যে। গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র–এই দুইটি শব্দও কেবল বইয়ে লিখিত আছে, বাস্তবে নেই। গণতন্ত্রের বদলে কর্তৃত্ববাদী শাসন চলছে। আর সমাজতন্ত্র? একসময় মুখে হলেও আওয়ামী লীগ সমাজতন্ত্রের কথা বলতো। কিছুটা জগাখিচুড়ি ধরণের সমাজতন্ত্রের লক্ষ্য রেখে প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা রচিত হয়েছিল। মূল শিল্প জাতীয়করণ করা হলেও বেপরোয়া লুটপাটের মাধ্যমে এক ধরণের রাষ্ট্রীয় পুঁজিবাদের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা শব্দটি বাদ দিলেন। আর সমাজতন্ত্রের এমন সংজ্ঞা জুড়ে দিলেন যাতে, যাতে তা পুঁজিবাদের পক্ষে গ্রহণযোগ্য হয়। 

১৯৭১ সালে মহান সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যে রাজনৈতিক ও ভাবাদর্শগত ধারা তৈরি হয়েছিল, অল্পদিনের মধ্যেই তা ধ্বংস করে পাকিস্তানি ভাবাদর্শের জায়গায় ফিরে যাবার উদ্যোগ নিয়েছিল এই দেশের সদ্য গঠিত ধনীক শ্রেণি। বিশেষ করে জিয়াউর রহমানের সময় থেকে এই পশ্চাৎমুখী যাত্রা শুরু হয়েছিল। তারপর অনেক পানি গড়িয়ে গেছে। কতবার সরকার বদল হল। সামরিক শাসন, ক্যু, ক্যু প্রচেষ্টা হয়েছে কয়েকবার। পালা করে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। বিগত দুই টার্ম ধরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীনে আওয়ামী লীগ সরকার। কমিউনিস্ট ও প্রগতিশীল মহলের আশু কর্তব্য হচ্ছে দেশকে মুক্তিযুদ্ধের ধারায় ফিরে নিয়ে আসা।লাখ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছেন যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে, সেই আকাঙ্ক্ষা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। বরং সশস্ত্র যুদ্ধের যে অঙ্গীকার ছিল, তা আমরা ভুলে গেছি। গণতন্ত্র নির্বাসিত। 

সমাজতন্ত্রের বদলে চলছে নিকৃষ্ট ধরনের লুটেরা পুঁজিবাদ, যা কেবল ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য বাড়াচ্ছে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষাকে বাণিজ্যিক উপাদানে পরিণত করা হয়েছে। আর ধর্মনিরপেক্ষতা? জিয়াউর রহমান ওই শব্দটাকে ছেঁটে ফেলে দিলেও পরবর্তী সময়ে তা সংবিধানে সংযোজিত হয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম রেখে দিলে ধর্মনিরপেক্ষতার কতটুকু অবশিষ্ট থাকে? উপরন্তু মৌলবাদের উৎপাত, পাকিস্তানি প্রেতাত্মাদের ঘোরাফেরা এবং ধর্মীয় ও জাতীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনকে কি আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বলতে পারি না?

১৯৭১ এর ১৬ ডিসেম্বর পাক হানাদারদের আত্মসমর্পণ করার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত বাঙালি ও পাক হানাদাররা পরস্পরের দিকে বন্দুক তাক করেছিল। এমনকি সেদিনও অনেক রক্ত ঝরেছে। ১৯৭১ এর ১৬ ডিসেম্বরের স্বাধীনতা অনেক জীবনের বিনিময়ে অর্জিত। তাই এই স্বাধীনতা তুচ্ছ তো নয়ই, বরং গৌরব আর অহংকারের। তাই জাতি হিসেবে আমাদের প্রত্যাশাও অনেক। 

সব স্বাধীনতাই ‘মুক্তি-সংগ্রাম’ হয় না। আবার সব ‘মুক্তি সংগ্রামই’ স্বাধীনতা অর্জনকে আবশ্যক করে তোলে না। কিন্তু ’৭১-এ আমাদের সংগ্রামটি ছিল একই সঙ্গে স্বাধীনতা ও মুক্তির সংগ্রাম। তাই তো, এত গর্ব আমাদের সেই মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে। কিন্তু, সেই ‘জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের’ ধারা থেকে আমাদের দেশ আজ বহুদূরে। বস্তুতঃ দেশ এখন তার বিপরীত ধারায় চলছে। তাই বলতে হয়– আমাদের ‘মুক্তি-সংগ্রাম’ আজও শেষ হয়নি। ‘মুক্তি-সংগ্রাম’ এখনো চলছে, চলবে!

শেয়ার করুন

Print Friendly and PDF


মতামত দিন

Developed By -  IT Lab Solutions Ltd. Helpline - +88 018 4248 5222