সর্বশেষ

  উন্নয়ন, দুর্নীতি ও জিডিপি: একসঙ্গে বাড়ার রহস্য কী?   বিশ্বব্যবস্থাঃ পুঁজিবাদ যেভাবে আমাদের মেরে ফেলছে   গোলাপগঞ্জে বাস-সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ।। নিহত ২ আহত ২   বিয়ানীবাজারে হোসেন হত্যা: ঘাতক সুমন গ্রেফতার   বন্ধ হচ্ছে রাজনৈতিক বিবেচনায় এপিএস নিয়োগ   বিয়ানীবাজারের মেয়ে 'নায়িকা' নিশাত নাওয়ার সালওয়া   প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চতুর্থবারের মতো শপথ নিলেন শেখ হাসিনা   বিয়ানীবাজারের নোহা-সিএনজি’র মুখোমুখি সংঘর্ষ।। আহত ৩   ইতিহাসের মহানায়ক কমরেড মণি সিংহ   বাদ পড়লেন যাঁরা   ব্যাংকের অবলোপন করা ঋণ ৫০ হাজার কোটি টাকা   সরকার-রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচার চালালেই কঠোর ব্যবস্থা   বিয়ানীবাজারে বৈধ ও অবৈধ পন্থায় অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন   ‘স্বৈরতান্ত্রিক দেশের’ তালিকায় বাংলাদেশ   শিক্ষামন্ত্রী নাহিদকে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অভিনন্দন

সম্পাদকীয়

নুরুল ইসলাম নাহিদঃ একজন ধ্রুপদী রাজনীতিক ও উন্নয়নের স্থপতি

প্রকাশিত : ২০১৮-১২-২৯ ২১:০৬:১২

রিপোর্ট : এডভোকেট সাঈদ আহমদ মুমিত (স্বপন)


সমাজ ব্যবস্থার প্রবর্তন ও রাজনীতি এক সূত্রে গাঁথা। সমাজ বিবর্তনে মানুষের ওপর রাজনীতি সবসময় প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে ভারতবর্ষের বৈচিত্র্যময় ঐতিহাসিক পটপরিবর্তনে রাজনীতির গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতি সেই ঐতিহাসিক রাজনীতিরই পরম্পরা। বৈচিত্রময় রাজনীতির অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সশস্ত্র সংগ্রাম ও লক্ষ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের স্বাধীনতা। 

এই স্বাধীনতা অর্জনে এই জাতিকে কত চরম মূল্য দিতে হয়েছে। বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে এই স্বাধীনতা অর্জনে আমাদের প্রথিতযশা রাজনীতিবীদদের অবদান প্রাতঃস্মরণীয়। এসব রাজনীতিকদের কত আন্দোলন সংগ্রামের ফসল আমাদের স্বাধীনতা। যার ফলে বাংলাদেশ আজ একটি মর্যাদাশীল দেশ হিসাবে, বাঙালী আজ এক মর্যাদাশীল জাতি হিসাবে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত। এই রাজনৈতিক আন্দোলনের তেমনি এক প্রাণ পুরুষ, এক ধ্রুপদী রাজনীতিক জনাব নুরুল ইসলাম নাহিদ। তাঁর জন্ম ১৯৪৫ সালের ৫ই জুলাই সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলার কসবা গ্রামে। কসবা প্রাথমিক বিদ্যালয়, পঞ্চখণ্ড হরগোবিন্দ হাই স্কুল, সিলেট এমসি কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি লেখাপড়া করেন। 

একজন সৎ, নিষ্ঠাবান ও ত্যাগী রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তাঁর রয়েছে সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক ও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাঁর গৌরবোজ্জল ভূমিকা রয়েছে। ষাটের দশকের ছাত্র আন্দোলনের ঐতিহ্য ও ধারাবাহিকতা অনুসরণ করে তৎকালীন ছাত্রনেতাদের মধ্যে যে কয়জন আজও রাজনীতির ময়দানে সক্রিয় অবদান রাখছেন, নাহিদ তাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি মানুষের জন্য রাজনীতি করেছেন। সামাজিক-সাংগঠনিক কাজ এবং মানুষের মুক্তির জন্য সংগ্রামের কর্তব্যকেই প্রধান পেশা হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন। আজও সেই রাজনৈতিক ধারাকে আঁকড়ে ধরে জনগণের সাথে আছেন, তাদেরই একজন হয়ে। 

এমসি কলেজের ছাত্রাবস্থায় ষাটের দশকের সূচনালগ্নে আইয়ুব খানের সাময়িক শাসন বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় কর্মী হিসাবে তাঁর প্রত্যক্ষ সংগ্রামী জীবনের সূচনা হয়েছিল। সিলেটে সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলনের প্রথম মিছিল ও আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সক্রিয় কর্মী সংগঠকদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। পরবর্তীকালে জাতীয় পর্যায়ে ষাটের দশকের সামরিক স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, শিক্ষার দাবী ও অধিকার অর্জন এবং অসা¤প্রদায়িক চেতনা, গণতন্ত্র ও জাতীয় অধিকার প্রতিষ্ঠার সকল আন্দোলন, ৬দফা ও ১১দফার প্রেক্ষাপটে ’৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধ সহ ঐ সময়কালের সকল আন্দোলন সংগ্রামে একজন ছাত্রনেতা এবং সর্বদলীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের সদস্য হিসাবে তিনি ছিলেন আন্দোলন সংগ্রামের প্রথম সারিতে।

ষাটের দশকের প্রথম থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত তৎকালীন গৌরবোজ্জল ছাত্র আন্দোলনে তিনি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ছাত্র আন্দোলনের একজন নিষ্ঠাবান কর্মী হিসাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য জাতীয় নেতৃবৃন্দের ঘনিষ্ঠতা ও বিশেষ স্নেহ লাভের সৌভাগ্য হয়েছিল তাঁর। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক ও মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে যৌথ গেরিলা বাহিনী সংগঠিত করার ক্ষেত্রে নুরুল ইসলাম নাহিদের প্রধান ভূমিকা ছিল। এ সময় তিনি ভারত সরকারের নিকট থেকে এই বাহিনীর জন্য ট্রেনিং, অস্ত্র ও অন্যান্য সাহায্য আদায় করা এবং শেষ পর্যন্ত তা অব্যাহত রাখার দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেন। 

ওই সময়ে অর্থাৎ ৬মে ১৯৭১, দিল্লীতে তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে গণহত্যা ও প্রতিরোধ সংগ্রাম সম্পর্কে সামগ্রিক পরিস্থিতি সকল দেশের মিডিয়ার প্রতিনিধিদের সম্মুখে তুলে ধরেন এবং তাঁর বক্তব্য দুনিয়ার সর্বত্র ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বাংলাদেশের কোনও নেতার এটাই ছিল এ ধরণের প্রথন সংবাদ সম্মেলন, যেখানে পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীর গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়। তাই এই সংবাদ সম্মেলন বহিঃর্বিশ্বে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

স্বাধীনতার সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি ও সার্বিক পরিস্থিতির বিবরণ দিয়ে ১০মে ১৯৭১ আন্তর্জাতিক ছাত্র ইউনিয়ন (অখন্ড) ও বিশ্ব গণতান্ত্রিক যুব ফেডারেশন (আইএসইউ) সহ বিশ্বের সকল আন্তর্জাতিক ছাত্র ও যুব সংগঠন এবং সকল দেশের ছাত্র ও যুব সংগঠনগুলোর কাছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সমর্থন ও সহযোগিতা প্রদানের আহবান জানিয়ে নুরুল ইসলাম নাহিদ যে চিঠি পাঠান তারপর থেকে সারাবিশ্বের ছাত্র যুব সংগঠনগুলো দ্রুত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করে। (পূর্ণ বিবরণ: বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র: চতুর্থ খণ্ড, পৃষ্ঠ ৪৯৮-৫০২) ।

স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর ১৯৭২ সালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঝাঁকজমকপূর্ণভাবে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের ত্রয়োদশ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। স্বাধীন বাংলাদেশের মন্ত্রীসভার সকল সদস্য, বিদেশী রাষ্ট্রদূতগণ, সমাজের সকল স্তরের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ এবং বিশ্বের ১৯টি ছাত্র ও যুব সংগঠনের প্রতিনিধি এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রধান অতিথি হিসাবে এই সম্মলনে উপস্থিত ছিলেন, নুরুল ইসলাম নাহিদ ছিলেন সম্মেলনের সভাপতি। বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতিতে নুরুল ইসলাম নাহিদ স্বাধীন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন ও লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য সকল ছাত্র সংগঠনকে একই প্ল্যাটফর্মে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ঐতিহাসিক আহবান জানিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ ছাত্র সংগঠন গড়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, আদর্শ ও লক্ষ্য বাস্তবায়নের প্রয়োজন এবং তার নিজ সংগঠন বিলুপ্ত করতেও প্রস্তুত আছেন বলে ঘোষণা দিয়ে তখন এক অভূতপূর্ব সাড়া জাগিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের শত্র“রা এখনো সক্রিয়। তাদের সম্পূর্ণভাবে পরাজিত করতে না পারলে জাতির জন্য মহাবিপদ ডেকে আনতে পারে, মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন ও লক্ষ্য পূরণ হবে না। স্বাধীনতা অর্জন করা যেমন কঠিন, তার চেয়েও আরো কঠিন হলো স্বাধীনতা রক্ষা করা। বঙ্গবন্ধু ওই সম্মেলনে তাঁর ভাষণে নাহিদের ঐক্যের বক্তব্যকে ঐতিহাসিক বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। 

নব্বইয়ের দশকের প্রথম দিকে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী পাক-বাহিনীর দালাল খুনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গঠিত ‘ঘাতক-দালাল নির্মূল জাতীয় সমন্বয় কমিটি’র সাত সদস্য বিশিষ্ট স্টিয়ারিং কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন নাহিদ। ওই আন্দোলন ও গণ আদালত সংগঠিত করা সহ নব্বই এর দশকে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনা পুনরুজ্জীবিত করার ঐতিহাসিক সংগ্রামে নুরুল ইসলাম নাহিদ বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করেন। 

১৯৯৩ সালে ভারতে বাবরি মসজিদের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে যে সাম্প্রদায়িক সংকটজনক পরিস্থিতি দেখা দিয়েছিল তা প্রতিহত করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার জন্য দেশনেত্রী শেখ হাসিনাকে আহবায়ক করে দেশের সকল অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল, ছাত্র, শ্রমিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ঐক্যবদ্ধ হয়ে সর্বদলীয় ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা’ কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির যুগ্ম আহবায়ক ছিলেন নুরুল ইসলাম নাহিদ। 

অতঃপর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তন দেখা দিলে ১৯৯৮ সালে  তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। বর্তমানে নুরুল ইসলাম নাহিদ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসাবে দায়িত্বরত আছেন। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সিলেট জেলার কোন আওয়ামী লীগ নেতা এই পদ ইতিমধ্যে অলংকৃত করতে পারেন নাই। তিনিই প্রথম সিলেট জেলা থেকে মনোনীত প্রেসিডিয়াম সদস্য। ১৯৯৬, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলা (সিলেট-৬) থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। 

জাতীয় সংসদে তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন। এছাড়াও তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। সংসদ সদস্য হিসাবে তিনি জাতীয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা পরিষদ, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় সিলেট, জাতীয় শিশু পরিষদ, শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট, জাতীয় প্রেস কাউন্সিল প্রভৃতি বহু প্রতিষ্ঠানে জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি হিসাবে মনোনীত হয়েছিলেন। 


১৯৯৮ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৫৩তম অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসাবে যোগদান করেন এবং বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্যালেস্টাইন ও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির উপর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন। 

নুরুল ইসলাম নাহিদ বর্তমানে জাতিসংঘের শিক্ষা বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা (ইউনেস্কো) এর ভাইস প্রেসিডেন্ট, নয় দেশীয় শিক্ষা সংস্থা (ই-নাইন) এর সভাপতি এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য সহ বহু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ওয়ার্ল্ড এডুকেশন কংগ্রেস এ্যাওয়ার্ড সহ বহু আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। 

তার কর্মজীবন শুরু রাজনীতি দিয়ে এবং এখনও তিনি রাজনীতিতেই নিজেকে নিবেদিত রেখেছেন। তাঁর রাজনৈতিক দর্শন হলো গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, মানুষের শিক্ষা ও জীবন মানের উন্নতি, সর্বোপরি বঙ্গবন্ধুর ‘সোনার বাংলা’র বাস্তব রূপায়ন সহ দেশনেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত সহস্রাব্দ উন্নয়ন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ডিজিটালাইজেশন, সহ সকল উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়া। তাঁর সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন ও কর্মকান্ডই তাঁকে সফল রাজনীতিক ও গণ মানুষের নেতা হিসাবে এবং সরকারের সফল শিক্ষামন্ত্রী হিসাবে দেশে বিদেশে প্রতিষ্ঠিত করেছে।   

উন্নয়নের স্থপতি নাহিদ: একটানা দু’বার সরকারের শিক্ষামন্ত্রী হিসাবে তিনি শিক্ষাক্ষেত্রে বৈপ্লবিক ও যুগান্তকারী উন্নয়ন সাধিত করেন। তিনিই প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন করে জাতিকে উপহার দেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বৎসরের প্রথম দিন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তোলে দিয়ে তিনি তাঁর কৃতিত্ব প্রমাণ করেছেন। এমনকি ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে বিএনপি-জামায়াতের দেশব্যাপী ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ডের মধ্যেও অসীম সাহসিকতা ও চ্যালেঞ্জের সাথে বৎসরের প্রথম দিন সারাদেশের সকল শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তোলে দিয়েছেন। 

শিক্ষামন্ত্রী হিসাবে এ যাবৎ শিক্ষাক্ষেত্রে সারাদেশে প্রাথমিক থেকে শুরু করে সকল স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা উপকরণসহ শিক্ষাক্ষেত্রে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করণ, বেসরকারি শিক্ষকদের এমপিও ভূক্তিসহ তাদের জীবন মানের উন্নয়ন, মাধ্যমিক স্তরে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ারোধ করার জন্য শিক্ষা উপবৃত্তির প্রচলন, সবেতনে নারী শিক্ষকদের মাতৃত্বকালীন ছুটিসহ কর্মমুখী ও জীবনমুখী শিক্ষার জন্য নুরুল ইসলাম নাহিদ নিরলস কাজ করে গেছেন, তাঁর এই ঐকান্তিক কর্মযজ্ঞ বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গনে এক নবজাগরণ বা রেনেঁসার জন্ম দিয়েছে। তাই তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সফল শিক্ষামন্ত্রী হিসাবে জননন্দিত। 

শিক্ষাক্ষেত্রে সিলেট বিভাগের পিছিয়ে পড়া, অর্ধ শতাব্দী ধরে সিলেট বিভাগের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক বৈষম্য দূরীকরণ, সিলেটে শিক্ষাবোর্ড প্রতিষ্ঠা, প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের দুটি উপ-পরিচালকের দপ্তর স্থাপন, এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ স্থাপনসহ সিলেট অঞ্চলের শিক্ষাক্ষেত্রে যুগান্তকারী উন্নয়ন এ সবই তাঁর অবদান। তাঁর নির্বাচনী এলাকায় এমন একটিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে কোন অবকাঠামোগত উন্নতি হয়নি। নুরুল ইসলাম নাহিদের উদ্যোগে সিলেট বিভাগে অনেক স্কুল, কলেজ সরকারীকরণ হয়েছে। 


নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি বা সংসদ সদস্য হিসাবে তাঁর নির্বাচনী এলাকা বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জের অসংখ্য অগণ্য উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। তিনি বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জে শিক্ষা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ফায়ার থাকার ব্রিগেড বা সিভিল সার্ভিস স্টেশন স্থাপন, চন্দরপুর সেতু (২৫ কোটি টাকা), সদাখাল সেতু (৫ কোটি ৭ লক্ষ), কানলি সেতু (৫ কোটি ৬৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে) নির্মাণে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। কুশিয়ারা সেতুর উপর ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে শিকপুর সেতুও তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টায় নির্মাণাধীন। 

তাঁর আন্তরিক উদ্যোগে বিয়ানীবাজার উপজেলায় শহীদ স্মৃতিসৌধ, (এক কোটি আট লক্ষ টাকা ব্যয়ে), বিয়ানীবাজার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স (২ কোটি ৫১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত), মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্থান সংরক্ষণ প্রকল্প (সারপার সপ্রাবি টর্চার সেল-৩৪ লক্ষ ২৯ হাজার টাকা ব্যয়ে), বিয়ানীবাজার পৌরসভা উন্নয়ন কার্যক্রম (২২ লক্ষ টাকা), চারখাই-বিয়ানীবাজার সড়কে (সাত)টি সেতু নির্মাণ (৪৩ কোটি টাকা), বিয়ানীবাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩০ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত (৪ কোটি টাকা), বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে চলমান অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষকতার পদ সৃষ্টি (৩৫ কোটি টাকা), পিএইচজি উচ্চ বিদ্যালয়কে সরকারি করণ (৩ কোটি ৭০ হাজার), বিয়ানীবাজার উপজেলায় ৪২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণসহ উর্ধ্বমুখী ৮৯টি ভবন নির্মাণ ও সংস্কার সহ ০৯টি নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ, ৮টি মাদ্রাসার নতুন ভবন নির্মাণ কাজ প্রকল্প (৯০কোটি ৫০ লক্ষ টাকা), ১১৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণাধীন প্রকল্প (৫২ কোটি টাকা),

 চারখাই-দক্ষিণ হাওর প্রকল্প (২ কোটি ২০ লক্ষ টাকা), বিয়ানীবাজার উপজেলার সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবন ও অডিটোরিয়াম ভবন নির্মাণাধীন প্রকল্প (৪ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা), উপজেলা সার্ভার স্টেশন নির্মাণ (২০ লক্ষ টাকা), বিয়ানীবাজার উপজেলায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৩২/৩৩ কেভি চারখাই বিদ্যুৎ গ্রীড উপকেন্দ্র নির্মাণ (১১ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা), আলীনগর ৩৩/১১ কেভিএ গ্রীড উপকেন্দ্র নির্মাণ (১০ কোটি টাকা), চারখাই-কুড়ারবাজার-শেওলা ও মুড়িয়া ইউপি কমপ্লেক্স নির্মাণ (১ কোটি ৭৬ লক্ষ), সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (বাসুদেব মন্দির, পিএইচজি হাই স্কুল মাঠ উন্নয়ন ও গোলাবশাহ মাজার উন্নয়ন-১ কোটি টাকা), কৃষি, বয়স্ক ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, রাস্তাঘাট উন্নয়ন গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন সহ কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প নির্মাণ বা বাস্তবায়িত হয়েছে। যার ফলে বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জের মানুষের জীবনমানের প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়েছে।

সাধারণ মানুষের ভাষায় “নুরুল ইসলাম নাহিদের দ্বারা যে উন্নয়ন হয়েছে বিগত পঞ্চাশ বৎসরেও এত উন্নয়ন হয়নি।” ভবিষ্যতেও জাতীয় উন্নয়নের পাশাপাশি যুগপৎ বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জের অঞ্চলের ধারাবাহিক আরো উন্নয়নে নুরুল ইসলাম নাহিদ দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এককথায় নুরুল ইসলাম নাহিদ দেশ ও জনগণের উন্নয়নের একজন স্বপ্নদ্রষ্ঠ ও স্থপতি। তাঁর এই অবদানের জন্য তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন গণ মানুষের কাছে। তাঁর এই উন্নয়ন কর্মযজ্ঞের কারণে গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারবাসী তাঁর কাছে ঋণী। আজ সময় এসেছে সেই দায়মুক্তির এবং ঋণ পরিশোধের। 

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনা তাঁর আস্থাভাজন এই অনন্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ (সিলেট-৬) আসনে প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দিয়েছেন। এই এলাকার ভোটার আবারো শিক্ষা উন্নয়নের অগ্রদূত, উন্নয়নের স্থপতি, জনদরদী নেতা নুরুল ইসলাম নাহিদকে ভোট দিয়ে জাতীয় সংসদে তাদের প্রতিনিধি বা সংসদ সদস্য হিসাবে নির্বাচিত করবে বলে আমার বিশ্বাস। মহান রাজনীতিবীদ ও উন্নয়নের অগ্রদূত নুরুল ইসলাম নাহিদের সু-স্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি। জয়তু: নুরুল ইসলাম নাহিদ। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয় জননেত্রী শেখ হাসিনা। 

লেখক: শহীদপুত্র, সদস্য সচিব- প্রজন্ম ৭১, বিয়ানীবাজার শাখা, আইনজীবী (জর্জ কোর্ট, সিলেট) ও আইন উপদেষ্টা- বিয়ানীবাজার পৌরসভা এবং সদস্য- শিল্পকলা একাডেমী, বিয়ানীবাজার। 

শেয়ার করুন

Print Friendly and PDF


মতামত দিন

Developed By -  IT Lab Solutions Ltd. Helpline - +88 018 4248 5222