সর্বশেষ

  দাবি মেনে নেবার আশ্বাসে অনশন ভাঙলেন শিক্ষার্থীরা...   সন্ত্রাসবিরোধী রাজু স্মারক ভাস্কর্য: কে এই রাজু?   বৃটেনের সেরা চিকিৎসক সিলেটের ডা. শাফি আহমেদ   সমাজতন্ত্রের ভবিষ্যৎ কী?   মইনুদ্দিন আহমদ জালাল সুরমা স্মরণ আয়োজন অনুষ্টিত   ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা, অল্পের জন্য রক্ষা পেল বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা   রাসায়নিক থেকেই চুড়িহাট্টার আগুন   ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ নেতা রাশেদকে হুমকির অভিযোগ   এবার ভারতের বিপক্ষে আম্পায়ারের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত!   মাস্টার্স শেষপর্ব পরীক্ষার ফল প্রকাশ   ডাকসু পুনর্নির্বাচনের দাবিতে ছয় শিক্ষার্থীর আমরণ অনশন চলছে   জয়ী হয়েও ভোটের ফল প্রত্যাখ্যান তানহার   ৩১ মার্চের মধ্যে পুনর্নির্বাচন চান ডাকসু ভিপি নুরুল হক   অধিক কাজ করেও নায্য মজুরী পান না চা বাগানের নারী শ্রমিকরা   মাস্টারপিস বাংলাদেশ'র উদ্যোগে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন

সম্পাদকীয়

সিলেট ৬ আসনে ভোটের রাজনীতি-অর্থনীতি

পুঁজির পাহারাদার ও পুঁজিপতির লড়াই

প্রকাশিত : ২০১৮-১২-২৯ ২২:৩৬:৫৫

রিপোর্ট : সম্পাদকীয়



দেশে প্রতিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটের অর্থনীতি চাঙ্গা হয়ে ওঠে। বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকার তার মত করে সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করে। ভোটকে কেন্দ্র করে চায়ের পেয়ালায় ঝড় উঠে শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন। পুলিশ প্রশাসন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ফটোগ্রাফার শহিদুল আলমকেও রেহাই দেয়নি। সরকার বিভিন্ন কুট-কৈশলে বাক স্বাধীনতা অনেক আগে থেকে হরণ করে ফেলছে।

সরকারের স্বৈরতান্ত্রিক রুপ আমরা দেখতে পাই সরকারের বিভিন্ন এজেন্সির এজেন্ডা বাস্থবায়নের ক্রিয়া কলাপ দেখে। একাত্তরে পাকিস্থানী বাহিনী যেভাবে ঘরে ঘরে গিয়ে আমাদের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে তারই প্রতিরূপ আমরা দেখতেছি ২০১৮ সালে। ভিন্ন মতালম্বিদের ঘর থেকে ধরে নিয়ে কারাগারে প্রেরণ করছে। তাই নির্বাচন উৎসব না হয়ে আতঙ্গে রূপ নিচ্ছে। এর ফায়দায়া ব্যবসায়ী প্রার্থীদের হচ্ছে, আবারো কম বিনোয়েগে আগামী পাঁচ বছর রাজনীতির নামে ব্যবসা করার লাইসেন্স পাচ্ছে। টাকা ও প্রশাসনের ভয়ে অর্ধেকেরও বেশি আসনে প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থী নিরব, নিষ্ক্রিয়। 

ফলে টাকাও সেভাবে গ্রামাঞ্চলে যায়নি। গণতন্ত্রের নামে গরিব, অসচ্ছল, টাউট-বাটপারদের দুই চারদিনের আনন্দে একটু কমতি হচ্ছে ও শোষকদের শোষণ প্রক্রিয়ার সময় বৃদ্ধি পাচ্ছে। কেননা তারা বিনা প্রতিদ্ধন্দিতায় পাস করবে। 

এদিকে, সিলেট ৬ আসনে পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, যিনি দীর্ঘদিন থেকে রাষ্ট্রের পুজিপতিদের পাহারাদার হিসাবে সৎ, যোগ্যব্যক্তি ও প্রার্থী হিসেবে পরিচিত। তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে মাঠে আছেন। উনার সততার ও রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে এলাকায় জনপ্রিয়তা আগের চেয়ে কমলেও উন্নয়নের কথা বিবেচনায় উনি এগিয়ে। অন্যদিকে ক্ষমতার অপব্যবহার না করায় তার প্রতি জনগনের আস্থা রয়েছে।
অপর দিকে পুঁজিপতি ফয়সাল আহমদ চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোটের লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করছেন। টাকার প্রভাবে জণগনের কাছে আসতে চাইলেও রাজনৈতিক কারণে এইবার হয়ত টাকার কেরামতি কাজে লাগবে না।

অক্টোবরের শুরুতে বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত বাংলাদেশের অর্থনীতির হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কয়েকটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সেগুলো মোকাবিলা করতে পারলে বছর শেষে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন হবে। একাদশ সংসদ নির্বাচনের কথা মনে রেখে নির্বাচন কমিশনের জন্য সরকার ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে ১ হাজার ৮৯৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে। এ বরাদ্দ আগের বছরের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশন ৭০০ কোটি টাকা চেয়েছে নির্বাচনকে নিরপেক্ষ করার জন্য। স্থানীয় নির্বাচন ও অন্যান্য নির্বাচনের জন্য আরও ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে কমিশন।

নির্বাচনে প্রতিটি প্রার্থী ২৫ লাখ টাকা ব্যয় করতে পারবেন নির্বাচনী প্রচারণায়। তবে কোনো কোনো প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয় যে কোটি টাকার অঙ্কও ছাড়াবে এটি একটি ওপেন সিক্রেট। অনুমিত হিসেবে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ব্যয় সার্থক হবে নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হলে, নির্বাচনে জনরায়ের সত্যিকারের প্রতিফলন ঘটলে। আমরা আশাকরি ব্যবসায়ী-দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি-গুষ্টিকে ভোটাররা ভোট দানে বিরত থাকবে।

শেয়ার করুন

Print Friendly and PDF


মতামত দিন

Developed By -  IT Lab Solutions Ltd. Helpline - +88 018 4248 5222