সর্বশেষ

  কবি হেলাল হাফিজ হাসপাতালে   সিলিং ফ্যানের দাম এক লাখ টাকা!   শুনতে কি পাও কৃষকের কান্না   আজ রক্তে ভেজা ২০ মে : মহান চা-শ্রমিক দিবস   একটি অন্য রকম প্রতিবাদ   হুয়াওয়ের শীর্ষে পৌঁছানোর স্বপ্ন গুড়িয়ে দিলো গুগল?   মৃত্যুদণ্ড থেকে রেহাই ছয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মী; হতাশ বিশ্বজিতের পরিবার   বুধবার থেকে পাটকল শ্রমিকদের ৬ ঘণ্টা সড়ক-রেলপথ অবরোধ   সাগরে যাবে বিয়ানীবাজারের দুই শতাধিক তরুণ   র‍্যাবের অভিযানে বিয়ানীবাজার দু'জন গ্রেফতার   ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে কেন এই রক্তারক্তি   ৯৫ ভাগ জাতীয় আয় চলে যাচ্ছে ৫ ভাগ মানুষের হাতে   যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও খরচ বেশি বাংলাদেশের শিক্ষায়   হাজী আব্দুস সাত্তার শপিং কমপ্লেক্স মালিকপক্ষে'র ইফতার সামগ্রী বিতরণ   অনন্ত হত্যার বিচার বিশেষ ট্রাইব্যুনালে করার দাবি

সম্পাদকীয়

নিম্ন মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ

প্রকাশিত : ২০১৯-০৫-০৮ ১৪:১৫:০৪

রিপোর্ট : এস এম চন্দন



দিনটা ছিলো পয়লা মে। খুলনা শহরে টিইউসির সমাবেশ চলছে। গভীর মনোযোগ দিয়ে বক্তৃতা শুনছেন এক প্রৌঢ়। জানতে চাইলাম মে দিবস সম্পর্কে। খেদোক্তি করলেন, ‘মন্ত্রীরা তো গরম গরম বক্তৃতা দেন। তারপর চিকন চালের ভাত আর মাংস দিয়ে ভোজ সারেন। একবারও কি ভাইবে দেহেন, এই চাল যেহান থেহে আসিলো, সেহানের কৃষকরা শ্রমের মূল্য পালো কিনা? মে দিবসে শ্রমিকের পক্ষে এত কথা। কই ভাইডি, আমরা যারা কৃষক, আমাগেরে তো শ্রমিক হিসেবেই স্বীকার করে না।’

ইরি ধানের পরিচিতিটা গ্রামাঞ্চলে চিকন ধান হিসেবে। কৃষক এখন এই ধান বিক্রি করছে মণপ্রতি ৬০০ টাকায়। মোটা ধানের পরিচিতি আমন হিসেবে। কাজীবাছা নদী ধরে কিছু দূর গেলেই ঝপঝপিয়া ঘাট। খুলনার এক সময়ের প্রখ্যাত কৃষকনেতা অধ্যাপক অচিন্ত্য বিশ্বাসের বাড়ির সামনের প্রধান সড়ক ধরে চলতে চলতে একসময় পড়বে এই ঘাট। ঘাট পার হলেই আরেকটু সামনে চালনা। খুলনার দাকোপ উপজেলার ইউনিয়ন। কথা হচ্ছিলো কিশোর রায়ের সাথে। দাকোপের জনপ্রিয় এই কৃষকনেতার ক্ষোভ, বোরো ধানের আবাদে মণপ্রতি খরচ পড়ে যেখানে প্রায় সাড়ে আটশো টাকা, সেখানে সরকারি হিসাব দেখানো হয় সাড়ে সাতশো টাকা। কৃষক সেই দামটাও পান না। তাই বাজারে এখন দাম চলছে ৬০০ টাকা।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে চা এর দোকানে বসেছিলেন আজিজুর রহমান। বাড়ি পাইকগাছা। স্ত্রী অসুস্থ। ডাক্তার দেখাবেন। পেশায় কৃষক। প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত তিনি। ব্যাপার কী জানতে চাইলে বললেন, ‘এক মণ ধান বেঁচলে পাই সাড়ে পাঁচশো টাকা। আর এহন বউয়ের একটা টেস্ট করাতিই নাকি লাগবেনে এক হাজার টাকা। সামনের বছর আর আবাদই করবো না।’

কমবেশি একই চিত্র সারা দেশেই। দিনাজপুরের একজনকে ফোন করলাম। বললেন, ‘ওখানে ইরি ধানের দাম মণপ্রতি সাড়ে পাঁচশো টাকা।’ ঈদে কী কী কেনার পরিকল্পনা- জানতে চাইলে এমন একটা হাসি দিলেন, মনে হলো আমি যেন খুব অদ্ভুত কোনো প্রশ্ন করেছি।

খুলনার কৃষকনেতা কিশোর রায়কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, কীভাবে এসব সমস্যা কাটানো যায়? তিনি বললেন, সরকার ধানের দাম ঠিক করে দিয়েই দায় সারে। এটা পাল্টাতে হবে। সরকারকেই ধান কিনতে হবে, এবং সেটা সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে। হাট-বাজারে সরকারি লোকজন ইচ্ছা করলেই এই কেনার কাজটা করতে পারে। সারা দেশে খাদ্য গুদামও বাড়ানো দরকার।

নয় সপ্তাহের বকেয়া মজুরির দাবিতে যখন রাজপথে উত্তাল আন্দোলন, সেই সময় খালিশপুর পাটকলের এক শ্রমিককে বলেছিলাম, ‘দুদিন পরপর এভাবে বেতন বাকী পড়ে। বারবার আন্দোলন করতে হয়। এর চেয়ে বাড়ি ফিরে গিয়ে কৃষিকাজ করলে তো নিজের মত স্বাধীন পেশায় থাকতে পারেন?’ তিক্ত হাসি দিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘ওরে ভাই! আমি কৃষকই ছিলাম। থাকতাম বাড়িতে, মাদারীপুর। কৃষিতে লস দিতে দিতে ফতুর হয়ে শেষে খুলনায় এসে বহু কষ্ট করে এই বদলী শ্রমিকের কাজটা পেয়েছি। এখন আর কিছু করার নেই। পথ আছে দুটো, হয় এইভাবে বাকী বেতনের চাকরি, নাহয় না খেয়ে মৃত্যু।’ নিম্ন মধ্যম আয়ের বাংলাদেশে এমনটাই বাস্তব চিত্র। 
লেখক : শ্রমিক আন্দোলনের সংগঠক

শেয়ার করুন

Print Friendly and PDF


মতামত দিন

Developed By -  IT Lab Solutions Ltd. Helpline - +88 018 4248 5222