সর্বশেষ

  বিয়ানীবাজার পৌরসভার উদ্যোগে যথাযথ মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবস পালন   বিয়ানীবাজার উপজেলা প্রশাসনের জাতীয় শোক দিবস পালন   ঢাকা মেডিকেল এলাকায় এডিস মশার আবাসস্থল ধ্বংস করলো যুব ইউনিয়ন   এডিস মশা পানিতে ডিম পাড়ে না, জানালেন বিশেষজ্ঞ   রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়া সবাই রাষ্ট্রের চাকর: হাই কোর্ট   মুসলিমদের গরু কুরবানি দিতে নিষেধ করলেন মন্ত্রী!   বিনা পারিশ্রমিকেই খেলবে জিম্বাবুয়ের খেলোয়াড়রা   সিলেটেও ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু, ২৪ ঘন্টায় নতুন করে আক্রান্ত ৫৩ জন   সুপ্রিয় চক্রবর্তী রঞ্জু আর নেই   যার ফোনে ফেরি ছাড়তে দেরি তিনিই করলেন তদন্ত কমিটি!   মুসলিম নির্যাতনের প্রতিবাদ করায় সৌমিত্র-অপর্ণার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের মামলা   মুসলিম নির্যাতনের প্রতিবাদ করায় সৌমিত্র-অপর্ণার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের মামলা   মশক নিবারণ দফতরের গল্প   প্রাণ-আড়ংসহ ১৪ কোম্পানির দুধ উৎপাদন ও বিপণনে নিষেধাজ্ঞা   দুদক টিম দেখে ৮০ লাখ টাকা পাশের বাসার ছাদে ফেলে দেন ডিআইজি পত্নী

সম্পাদকীয়

শুনতে কি পাও কৃষকের কান্না

কৃষিতে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ চালু করতে হবে

প্রকাশিত : ২০১৯-০৫-২০ ২৩:৫৫:৩৭

রিপোর্ট : সম্পাদকীয়


এখন ক্ষেত ভরা পাকা ধান। কেউ কেউ তা কেটে তুলছেন গোলায়। আবার শ্রমিকের অভাবে কেউ কেউ আছেন কেটে তোলার অপেক্ষায়। কিন্তু কারও মুখে হাসি নেই। বরং চাপা কান্নায় বুক ভারি কৃষকের। কারণ ধানের দাম নেই। জমি চাষ করতে যে খরচ হয়েছে পুরো ফলন বিক্রি করেও তা উঠবে না। তাহলে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে জমি চাষ করে কী লাভ? কষ্টের পুঁজি খাটানোরই বা দরকার কী? এমন প্রশ্নের কোনো উত্তর পাচ্ছে না কৃষক। সরকারি নীতি কৃষকের এমন দুরবস্থার জন্য দায়ী। এমন অবস্থা অব্যাহত থাকলে সামনে ধান চাষই ছেড়ে দিতে পারেন।

ধান উৎপাদনে বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। দেশের সবচেয়ে বড় কর্মসংস্থানের খাতও কৃষি। কিন্তু কৃষি খাতে সুনজর নেই সরকারের। নেই কৃষিবান্ধব নীতি। দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে কৃষিঋণ ব্যবস্থাপনা। ঝড়-জলোচ্ছ্বাস, খরাসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের নিরাপত্তা বা কৃষকের জন্য বীমা সুবিধাও নিশ্চিত করতে পারেনি সরকার। সরকারের কার্যকর কৃষিনীতি না থাকার কারণে কৃষকরা আজ দিশাহারা। বোরো ধানের মণ বাজারে প্রকার ভেদে ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা। ধান কাটা শ্রমিকের মজুরি গুনতে হচ্ছে পাঁচশ থেকে নয়শ টাকা পর্যন্ত। কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের কৃষকদের এ দুর্দশা পুরো দেশের অর্থনীতির জন্য এক অশনিসংকেত বলে মনে করে সংশ্লিষ্টরা।

গেল মৌসুমে আমন ধান বিক্রির শুরুতেই বাজারে প্রতি মনের দাম ওঠে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। অথচ এর আগের মৌসুমে ছিল ৮৫০ থেকে ১০৫০ টাকা। ফসল কাটার শুরুতেই আমনের মণপ্রতি ২৫০-৩৫০ টাকা অর্থাৎ ৩০ থেকে ৩৩ শতাংশ দাম কমে যায়। ফলে ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত কৃষকের চোখজুড়ে নেমে আসে অন্ধকার স্বাভাবিকভাবেই। আর এটাও বলা দরকার- সেই ক্ষতে প্রলেপের পরিবর্তে নতুন করে আঘাত করেছে সদ্য ওঠা বোরো ধানের বাজার দর! কেননা বোরো ধান বাজারে ৫০০, বড়জোর ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা ধানকাটার শ্রমিকের দৈনিক মজুরির প্রায় অর্ধেক। আবার সরকারিভাবে ধান কেনায় এখনও গতি আসেনি। ফলে কৃষক ভাল দামে ধান বিক্রি করতে পারছেন না। যদি ধান-চালের দাম বাড়ে, তাহলে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের কষ্ট হয়। আবার ধানের দাম কমে গেলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কাজেই দুইয়ের মধ্যে একটা ভারসাম্য থাকা দরকার।

সরকার নির্ধারিত এক কেজি ধানের মূল্য ২৬ টাকা, সে হিসেবে এক মণ (৪০ কেজি) ধানের মূল্য ১০৪০ টাকা। কিন্তু বর্তমান বাজারে প্রকারভেদে ধান বিক্রি হচ্ছে ১৬ থেকে ১৭ টাকা কেজি দরে (এক মণ ৬৪০ থেকে ৬৮০ টাকা)। তাদের অভিযোগ, প্রান্তিক কৃষকদের প্রতি মণ ধানে ৩৬০ থেকে ৩৮০ টাকা লোকসান হচ্ছে। অথচ বাজারে সিন্ডেকেটকারীরা কম মূল্যে ধান কিনে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। কৃষকদের দাবি, প্রতি বছর প্রভাবশালী ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট সদস্যরা জেলা ও উপজেলা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তাদের মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে গুদামে ধান বিক্রি করে কয়েক লাখ টাকা লাভবান হচ্ছেন।

এরই মধ্যে এগিয়ে আসছে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ। এ উৎসবে আনন্দ উদযাপনের পরিবর্তে বিষাদের নোনাজলই হবে সেই কৃষককুলের আশ্রয়, যে কৃষককুল রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, শীতে কেঁপে আমাদের জন্য ফসল ফলান। কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের কৃষককুলের এ দুর্দশা পুরো দেশের অর্থনীতির জন্য এক অশনিসংকেতও বটে।

কৃষিখাতকে শতভাগ বাজারে ছেড়ে দিলে এ সমস্যার মধ্যেই কৃষককে ঘুরপাক খেতে হবে। সেজন্য বাজারে ছেড়ে না দিয়ে কৃষির প্রতি সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করতে হবে। কৃষক ও ভোক্তার পরস্পরবিরোধী স্বার্থের মধ্যে সমন্বয় আনতে হবে। সেজন্য দরকার হলো কৃষির খরচ কমিয়ে আনা। সরকারি উদ্যোগে বীজ, সার, কীটনাশক সরবরাহ করে কৃষককে বহুজাতিক কোম্পানির বীজ বেনিয়াদের খপ্পর থেকে রক্ষা করতে হবে। কৃষিতে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ চালু করতে হবে। তাতে ফড়িয়া ও মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেট যেমন থাকবে না তেমনি আমাদের খাদ্যের মূল উৎস কৃষি খাতের শ্রমিক ও উদ্যোক্তা বা কৃষকরাও ভালো থাকবে।

শেয়ার করুন

Print Friendly and PDF


মতামত দিন

Developed By -  IT Lab Solutions Ltd. Helpline - +88 018 4248 5222