সর্বশেষ

  বাজেটে শিক্ষাকে বিশেষ শ্রেণির হাতে দেওয়ার চেষ্টা: ছাত্র ইউনিয়ন   এ বাজেট ধনীকে আরও ধনী, গরিব-মধ্যবিত্তকে অসহায় করে তুলবে: সিপিবি   আড়াই বছরেও সম্পদের হিসাব জমা দেননি দুদকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা   মুর্তজার মৃত্যুদণ্ড বাতিল করছে সৌদি আরব!   বিয়ানীবাজারে তথ্য আপা প্রকল্পের উঠন বৈঠক অনুষ্ঠিত   শ্রীবাসুদেবের স্নানমন্দিরে উৎসব পালিত   প্রাণীর চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে বিলুপ্ত হচ্ছে উদ্ভিদ প্রজাতি   ডেনমার্কের কমবয়সী প্রধানমন্ত্রী হবেন বামদলের মিটি ফ্রেডরিকসেন   কৃষকের দুর্গতির আসল কারণ হলো দেশে ‘পুঁজিবাদী ব্যবস্থা’   দিনে ছাপবে ২৫ হাজার ই-পাসপোর্ট, ছাপা হবে এমআরপিও   সরকারবিরোধী স্লোগান দেয়ায় এই বালকের শিরোশ্ছেদ করবে সৌদি!   অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস   ৭৩ বছরে ৩ কোটি মানুষ হত্যা করেছে যুক্তরাষ্ট্র   মিলিয়ন বছরের ঘুমন্ত জীবের পুনরুত্থান!   আজ ঐতিহাসিক ৭ জুন- শহিদ মনু মিয়া দিবস

সম্পাদকীয়

কৃষকের দুর্গতির আসল কারণ হলো দেশে ‘পুঁজিবাদী ব্যবস্থা’

প্রকাশিত : ২০১৯-০৬-০৮ ১৬:০১:২৪

রিপোর্ট : সম্পাদকীয়


কৃষকের দুর্গতির আসল কারণ হলো দেশে বর্তমানে বিদ্যমান ‘পুঁজিবাদী ব্যবস্থা’। পুঁজিবাদী বাজার ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্যই হলো এমন যে, কৃষককে সবসময় ‘বেশি দামে কিনতে হয়’ এবং ‘কম দামে বেচতে হয়’। এ কারণেই তাকে ক্রমাগত নিঃস্ব থেকে নিঃস্বতর হয়ে পড়তে হয়। পুঁজিবাদী বাজার ব্যবস্থার চরিত্র ও বৈশিষ্ট্যই হলো এমন যে তা কৃষককে সবসময়ই ‘ক্রেতা’ হিসেবেও ঠকায়, আবার ‘বিক্রেতা’ হিসেবেও ঠকায়। এ যেন ‘শাঁখের করাত’– আসতেও কাটে, যেতেও কাটে। এর নিচে পড়লে নিস্তার নেই। কৃষককে যেসব উৎপাদনসামগ্রী ও দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসপত্র কিনতে হয় সেসবের দাম যে হারে বাড়ে, তার চেয়ে অনেক কম হারে বাড়ে তার উৎপাদিত ফসলের দাম। তদুপরি, ফসল বিক্রির আয় দিয়ে ফসল উৎপাদনের খরচ সে পুষিয়ে নিতে পারে না। ফলে ‘লোকসান’ তার নিত্যসঙ্গী হয়ে থাকে। 

ফসলের লেনদেনের ক্ষেত্রে আসলে দু’টি পৃথক সমান্তরাল বাজার রয়েছে। একটি হলো ‘উৎপাদকের বাজার’, আর অপরটি হলো ‘ভোক্তার বাজার’। ‘ভোক্তার বাজারে’ দাম বাড়লেই যে ‘উৎপাদকের বাজারে’ একই হারে দাম বাড়বে, তা সত্য নয়। পৃথক এই দু’টি বাজারের মধ্যে সামঞ্জস্য স্থাপনের কোনো ক্ষমতা ‘মুক্ত বাজারের’ নেই। সাধারণ অভিজ্ঞতা হলো এই যে, যে দামে কৃষক চাল, সবজি ইত্যাদি পণ্য ‘উৎপাদকের বাজারে’ বিক্রি করে, ভোক্তা সাধারণকে সেই পণ্যই ‘ভোক্তা বাজারে’ দ্বিগুণ দামে কিনতে হয়। নিতান্তই গরিব কৃষক, তারাই সংখ্যায় বেশি। তারা নানাভাবে দায়গ্রস্ত থাকায় অথবা জমে থাকা জরুরি কোনো ব্যয় নির্বাহের জন্য ক্যাশ টাকার প্রয়োজনে তাদের ফসলের একটি অংশ তারা ফসল ওঠার সাথে সাথে দ্রুত বাজারজাত করতে বাধ্য হচ্ছে। গরিবের এই ধানে বাজার ভরে ওঠার সাথে সাথে ধানের দাম পড়ে গেছে। সে দামেই গরিবকে তার ‘রক্তে বোনা ধান’ বেচে দিতে হচ্ছে। কিন্তু ধনী কৃষক ও বড় জোতদারদের সংসারে সে ধরনের অভাব না থাকায় তারা তাদের বিপুল উদ্বৃত্ত ধান উঠতি বাজারের কমতি দামে বিক্রি না করে পরবর্তীতে দাম চড়া হলে তখন তা বিক্রি করবে বলে ধরে রাখতে পারছে। 

ক্ষুদে উৎপাদকরাই দেশের সিংহভাগ ‘ধান’ উৎপাদন করে থাকে। কিন্তু সাধারণ ভোক্তারা ‘ধান’ কেনেন না। তারা কেনেন ‘চাল’। তাই, কৃষকরা ভোক্তাদের কাছে তাদের ক্ষেতের ধান সরাসরি বিক্রি করতে পারেন না। ভোক্তাদের কাছে বাজারজাত করার আগে প্রথমে তাদেরকে কেটে আনা ধানকে চালে প্রক্রিয়াকরণ করতে হয়। এই প্রক্রিয়াকরণ কাজটি বিচ্ছিন্নভাবে ক্ষুদে আকারে করা তুলনামূলক ব্যয়বহুল। ঢেকি এখন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। ধানকে চালে রূপান্তর করার জন্য তাদেরকে তাই বিত্তবান ও মুনাফা শিকারী ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ‘রাইস মিলের’ কাছে ‘পানির দামে’ তাদের ধান বিক্রি করে দেয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায় থাকে না। ক্ষুদে উৎপাদকরা অনেকজন মিলে যদি সমবায়ের ভিত্তিতে আধা-যান্ত্রিক রাইস মিল স্থাপন করার সুযোগ পেত, তাহলে তারা ধানকে চালে পরিণত করার প্রক্রিয়ার অংশীদার হতে সক্ষম হতো। 

সরকারি মালিকানায় আধুনিক রাইস মিল থাকলে তাতেও ক্ষুদে উৎপাদকরা, তার ওপর তাদের গণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে, কিছু সুবিধা পেতে পারত। কিন্তু সে ধরনের অর্থনৈতিক-সামাজিক ব্যবস্থা না থাকায় বিশাল এই ক্ষুদে উৎপাদক শ্রেণিকে এবারও রাইস মিলের বিত্তবান মালিকদের উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকতে হচ্ছে। তাদের কাছেই ‘পানির দামে’ ধান বেঁচে দিতে হবে। 

এ অবস্থা অনেকটুকু নিরসন করা যেত যদি সরকার খোদ উৎপাদনকারী- কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান (চাল নয়, ধান!) কেনার ব্যবস্থা করতো। সেজন্য যদি লাভজনক দাম (উৎপাদন খরচের ১০ শতাংশ বেশি) নির্ধারণ করে দিত। ওয়ার্ডে-ওয়ার্ডে না হলেও অন্তত ইউনিয়নে-ইউনিয়নে যদি ‘সরকারি ধান ক্রয় কেন্দ্র’ স্থাপন করে, কোনোরকম কারসাজি বা ‘কমিশন’ খাওয়া-চাঁদাবাজি ব্যতিরেকে, মৌসুমের গোড়া থেকেই ধান কেনা শুরুর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতো। 

কিন্তু সরকার ২৫ লক্ষ মণ (১০ লক্ষ টন) চাল কেনার ঘোষণা দিলেও মাত্র ৩ লক্ষ ৭৫ হাজার মণ (১.৫ লক্ষ টন) ধান কেনা হবে বলে জানিয়েছে। উৎপাদিত ৫ কোটি মণ (২ কোটি টন) ধানের মধ্যে এটি একটি অতি ক্ষুব্ধ অংশ মাত্র। এসব কারণে সরকারি ‘চাল ক্রয় কার্যক্রমের’ প্রত্যক্ষ সুবিধার সবটাই ক্ষুদে কৃষকের বদলে পাবে বিত্তবান রাইস মিল মালিকরা। এভাবে, দেশের বাজারজাত চালের সরবরাহ ও বাজার নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা খোদ কৃষকের হাত থেকে স্থানান্তরিত হয়ে তুলনামূলকভাবে মুষ্টিমেয় সংখ্যক রাইস মিল মালিকদের হাতে। তাই কৃষকের বঞ্চনার অবসান ঘটাতে হলে প্রয়োজন কৃষিব্যবস্থা ও গ্রাম-জীবনের আমূল বিপ্লবী পুনর্গঠন।

শেয়ার করুন

Print Friendly and PDF


মতামত দিন

Developed By -  IT Lab Solutions Ltd. Helpline - +88 018 4248 5222