সর্বশেষ

  চুয়াডাঙ্গায় মহিষের শিংয়ে প্রাণ গেল মালিকের   কুবিতে ভর্তির আবেদন ১ সেপ্টেম্বর   তিন দিনের সফরে ঢাকায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী   ডেঙ্গুতে পাঁচ জেলায় আরও ৭ জনের মৃত্যু   বিয়ানীবাজার পৌরসভার উদ্যোগে যথাযথ মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবস পালন   বিয়ানীবাজার উপজেলা প্রশাসনের জাতীয় শোক দিবস পালন   ঢাকা মেডিকেল এলাকায় এডিস মশার আবাসস্থল ধ্বংস করলো যুব ইউনিয়ন   এডিস মশা পানিতে ডিম পাড়ে না, জানালেন বিশেষজ্ঞ   রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়া সবাই রাষ্ট্রের চাকর: হাই কোর্ট   মুসলিমদের গরু কুরবানি দিতে নিষেধ করলেন মন্ত্রী!   বিনা পারিশ্রমিকেই খেলবে জিম্বাবুয়ের খেলোয়াড়রা   সিলেটেও ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু, ২৪ ঘন্টায় নতুন করে আক্রান্ত ৫৩ জন   সুপ্রিয় চক্রবর্তী রঞ্জু আর নেই   যার ফোনে ফেরি ছাড়তে দেরি তিনিই করলেন তদন্ত কমিটি!   মুসলিম নির্যাতনের প্রতিবাদ করায় সৌমিত্র-অপর্ণার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের মামলা

সম্পাদকীয়

সমস্যার অন্ত নেই

প্রকাশিত : ২০১৯-০৭-২৫ ১৫:২৮:১৪

রিপোর্ট : সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী



ঘটনা-দুর্ঘটনা ঘটছেই। দুর্ঘটনাগুলো মারাত্মক। কোনো কোনোটা অবিশ্বাস্য। মানুষ পাচার হচ্ছে, সমুদ্রে ভাসছে, ডুবছে, মরছে, তীরে উঠে দাসের জীবনযাপন করছে, হারিয়ে যাচ্ছে। তবু মানুষ পড়ি তো মরি করে ছুটছে, বিদেশে যাবে। কেননা দেশে তার জন্য কর্মের সংস্থান নেই। দেশের অর্থনীতি যে টিকে আছে তার মূল কারণ কৃষক। কৃষক শ্রম দেয়, বিনিয়োগ করে, কিন্তু পরিণতিতে শ্রমের মূল্য পায় না, বিনিয়োগ উঠে আসে না। উৎপাটিত হয়ে সে শহরে আসে, নয়তো বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করে। অতি উন্নত ভারতে কৃষকের আত্মহত্যা এখন স্বাভাবিক ঘটনা, বাংলাদেশও মনে হয় পিছিয়ে থাকবে না।

বৈশাখে বাঙালির উৎসব করার কথা, বেশির ভাগই তা করে না। খাজনার কথা ভাবে, আকাশের তপ্ত সূর্য দেখে ভয় পায়। কিছুটা ভালো যাদের অবস্থা, শহরে থাকে, বয়স অল্প, তারা পহেলা বৈশাখের উৎসব খোঁজে। ছেলেরা আসে, মেয়েরাও আসে। মেয়েরা বিপদে পড়ে। ঢাকা শহরের সবচেয়ে নিরাপদ হওয়ার কথা যে এলাকা সেখানেই মেয়েরা নিগৃহীত হয়। পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকে, দেখেও দেখে না, বাধা দেয় না, কাউকে গ্রেপ্তার করে না, পাবলিক যদি ধরে ফেলে পুলিশ তবে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। নারায়ণগঞ্জে ত্বকী নিহত হয়। আসামিকে চেনা যায়, কিন্তু ধরা যায় না। ঢাকায় রুনি-সাগরকে হত্যা করা হয়। বছরের পর বছর ধরে তদন্ত চলে, কিন্তু রহস্যের উদ্ঘাটন হয় না। শিশু জিহাদ খেলতে গিয়ে খোলা পাইপে পড়ে গিয়ে হারিয়ে যায়। 

সংবেদনশীল তরুণরা এগিয়ে আসে, কিন্তু হাত লাগাতে পারে না রাষ্ট্রীয় লোকদের তৎপরতার কারণে; রাষ্ট্রীয় উদ্ধারকর্মীরা জিহাদকে উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়, তারা বলতে চায়, ঘটনা আসলে ঘটেইনি, গুজব মাত্র। শেষ পর্যন্ত ওই তরুণরাই জিহাদকে উদ্ধার করে, জীবিত জিহাদকেই হয়তো তুলে আনতে পারত, যদি রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ না ঘটত। মৃত অবস্থায় ফেরত এসে জিহাদ অবশ্য তার মা-বাবাকে বাঁচিয়েছে, তা না হলে তারা অভিযুক্ত হতো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র মামলায়, তার খেলার সাথিরাও অভিযোগের জাল থেকে বাঁচত কি না কে জানে। ওদিকে হত্যা, গুম, ছিনতাই, রাহাজানি নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মত প্রকাশের অধিকার নেই; সরকার কণ্ঠরোধ করে, জঙ্গিরা চাপাতি মারে। ওদিকে অস্বীকার করার উপায় নেই যে ধর্ষণ এখন দুর্বৃত্তদের স্বচ্ছন্দ ও বীরত্বব্যঞ্জক বিনোদনে পরিণত হয়েছে। হানাদারদের সন্ত্রাসের কারণে একাত্তরে মেয়েরা বোরকার আড়ালে লুকাতে চাইত, সেই বোরকা আবার ফেরত এসেছে, তবু বাঁচতে পারছে না।

বলা হচ্ছে সবই বিচ্ছিন্ন ঘটনা কিন্তু কোনো কিছুই বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, ব্যতিক্রমও নয়; সব কিছু একই সূত্রে গাঁথা, একই কথা বলে, সেটা হলো গোটা ব্যবস্থাটাই এখন ভয়ংকরভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। রাষ্ট্র তার দায়িত্ব পালন করতে পারছে না। কেন যে পারছে না তাও অজানা নয়। এ রাষ্ট্র জনগণের নয়। জনগণের কাছে এর কোনো জবাবদিহির দায় নেই। শাসনকর্তারা জনগণের সম্মতি নিয়ে শাসন করে না। এবং তাদের শাসন শোষণ ভিন্ন অন্য কিছু নয়। শোষণ চলে ক্ষমতার জোরে। শাসকদের একদল ক্ষমতা প্রাণপণে আঁকড়ে ধরে থাকে, অন্য দল দখল করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ে। ফলে সংঘর্ষ বাধে। শাসকদের দুই পক্ষের এই সংঘর্ষই হচ্ছে এখন মূল ধারার রাজনীতি। বর্তমানে যাঁরা ক্ষমতায় আছেন তাঁরা বলছেন আগে উন্নয়ন দরকার, গণতন্ত্র পরে দেখা যাবে। অর্থাৎ উন্নয়ন হবে শতকরা পাঁচজনের, ৯৫ জনের শ্রম ও বঞ্চনার ওপর ভর করে। অবশ্য এমন উন্নতি সাধনই স্বৈরশাসকদের স্বাভাবিক সাধনা।

মানুষ এখন ভরসা করবে কার ওপর? আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো বেআইনি কাজে ব্যস্ত। আদালতে বিচার পাওয়া যায় না। আইন টাকাওয়ালাদের সমীহ করে চলে। আর রাষ্ট্র নিজেই যখন অপরাধী হয়ে দাঁড়ায় তখন বিচারটা করবে কে? জনগণের জন্য গণমাধ্যমের পক্ষে ভরসাস্থল হওয়ার কথা। সাংবাদিকরা অনেক কিছুই দেখেন ও জানেন, কিন্তু সত্য প্রকাশ করতে পারেন না। সরকার বাধা দেয়, বাধা দেয় গণমাধ্যমের মালিক, যাঁদের স্বার্থ সরকারের স্বার্থের সঙ্গে অভিন্ন। পাকিস্তান আমলেও সাংবাদিকদের একটা শক্তি ছিল। কারণ তাঁরা ঐক্যবদ্ধ ছিলেন। লৌহমানব আইয়ুব খান পর্যন্ত তাঁদের সমীহ করতেন। এখন তাঁরা ভাগ হয়ে গেছেন শাসক শ্রেণির দুই বড় শরিকের লাইন ধরে। বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা অতীতে যে অত্যুজ্জ্বল ছিল তা নয়; এখন তা একেবারেই নিষ্প্রভ, ক্ষেত্রবিশেষে ন্যক্কারজনক। সাংবাদিকদের মতো তাঁরাও খাড়াখাড়ি ভাগ হয়ে গেছেন। বড় বড় বুদ্ধিজীবীর একদল শত নাগরিকের কমিটি গড়েছেন, দেখাদেখি অন্য দল খাড়া করেছেন সহস্র নাগরিকের কমিটি। শতদল অপ্রস্ফুটিত, সহস্রের দল কর্কশ বাচনে মুখর; কিন্তু এই শত-সহস্রদের কেউই জনবান্ধব নন, সবাই জনবিরোধী। ছাত্ররা ছিল, এখন নেই। জাতীয়তাবাদী ছাত্র আন্দোলনের প্রধান প্রবাহ সরকারের কুক্ষিগত, বিপরীত প্রবাহ সরকারের ভয়ে সন্ত্রস্ত। বামপন্থী ছাত্ররা দুর্বল ও বিভক্ত। দুই যুগ ধরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কোনোটিতেই ছাত্র সংসদ নেই। তার অর্থ ছাত্ররা সাংস্কৃতিক ও সামাজিকভাবে এবং রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে সংগঠিত হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। এই ফাঁকে দুর্বৃত্তরা বীর সেজে বহুবিধ অপকর্ম করে চলেছে।

সমাধান একটাই; রাষ্ট্রের ওপর জনগণের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা। সে লক্ষ্যে আমরা দীর্ঘকাল সংগ্রাম করেছি। রাষ্ট্র আকারে এবং নামে বদলেছে, কিন্তু স্বভাব-চরিত্রে বদলায়নি; আগের মতোই ফ্যাসিবাদী রয়ে গেছে। তবে রাষ্ট্রের নিপীড়ন আজ আগের তুলনায় দুঃসহ। কেননা রাষ্ট্রকে বদলাবার জন্য মানুষ প্রাণ পর্যন্ত বিসর্জন দিয়েছে। রাষ্ট্র যে বদলিয়েও বদলাল না তার কারণ এর পুঁজিবাদী চরিত্র। মানুষ চেয়েছে পুঁজিবাদের দৌরাত্ম্য থেকে মুক্ত হবে। সে মুক্তি আসেনি। তাই দুষ্টু লোকেরা যতই মিষ্টি কথা বলুক না কেন মুক্তির ওই সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া ছাড়া বাঁচার কোনো উপায় নেই। এরই মধ্যে ফ্যাসিবাদের তৎপরতা কিন্তু বাড়ছেই।
২.
বাংলাদেশে সমস্যার অন্ত নেই; অনেক সমস্যাই গুরুতর। দুটি সমস্যা অত্যন্ত প্রকট হয়ে দেখা দিচ্ছে—একটি প্রাকৃতিক, অন্যটি মানবিক। বন্যা, খরা, নদীভাঙন ইত্যাদি প্রাকৃতিক কারণে আজ আমরা অত্যন্ত বিপন্ন। মানবিক সমস্যাগুলোর ভেতর একটি হচ্ছে জনসংখ্যা বৃদ্ধি। জনসংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। জনবিস্ফোরণ এখন অগ্নি বিস্ফোরণের মতোই ভয়াবহ। সেই সঙ্গে প্রতিদিন বাড়ছে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা। গ্রামাঞ্চলে কাজ নেই, তাই কাজের সন্ধানে বন্যার স্রোতের মতো মানুষ যেমন শহরমুখী হচ্ছে, তেমনি দেশ ছেড়ে বিদেশে অজানা গন্তব্যে পাড়ি জমাচ্ছে। ভাসছে সমুদ্রে, শিকার হচ্ছে বিদেশের গভীর জঙ্গলের বন্দি শিবিরে নির্মম নির্যাতনের। অন্যত্র যেমন এখানেও তেমনি রাষ্ট্র চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিচ্ছে। দোষ চাপাচ্ছে বিপদগ্রস্তদের কাঁধেই।

কোটি কোটি মানুষ আজ বেকারত্বের অভিশাপে মুহ্যমান। এরা আধুনিক শিক্ষা প্রযুক্তি ও কারিগরি জ্ঞান থেকে বঞ্চিত। এ দেশে যেখানে খুব বেশি হলে দুই কোটি মানুষ ভালোভাবে বসবাস করতে পারে, সেখানে এখনই আছে ১৬ কোটিরও বেশি,  ২০২৫ সালে এর সংখ্যা কত দাঁড়াবে কে জানে। তখন ঘরবাড়ি তৈরির জন্য ভূমি নিয়ে মানুষে মানুষে কাড়াকাড়ি লেগে যাবে।

জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ এখন পৃথিবীর অষ্টম বৃহত্তম দেশ এবং সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। এখানে প্রতি বর্গমাইলে জনবসতি এক হাজার ৯৯০ জন এবং মাথাপিছু আবাদযোগ্য জমি মাত্র ০০.১৪ শতাংশ। এই ভূমি আবার সব মানুষের হাতে নেই। বেশির ভাগ জমির মালিক ধনিক শ্রেণি এবং দরিদ্রের ক্ষুদ্র জমিটুকু ক্রমাগত চলে যাচ্ছে দখলবাজ নব্য ধনী লুটেরাদের হাতে।

ষাটের দশকে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য তৎকালীন সরকার পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি গ্রহণ করে। একাত্তরে দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও এই কর্মসূচি চালু ছিল। কিন্তু নব্বই দশকে এসে তথাকথিত গণতান্ত্রিক সরকারগুলোর আমলে এই কর্মসূচি আর সচল থাকেনি, মুখ থুবড়ে পড়ে গেছে।

আসলে শাসক শ্রেণি চাইছে দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধি হোক। এর পেছনে রয়েছে তাদের দুরভিসন্ধি। তারা মনে করে এ দেশের কোনো ভবিষ্যৎ নেই, তাদের লক্ষ্য যত দ্রুত পারা যায় দেশের যা কিছু অর্থ-সম্পদ আছে তা লুণ্ঠন করে বিদেশে পাচার করা। তাদের স্থায়ী নিবাস অন্য দেশে, ভিন্ন গোলার্ধে। ফলে অবৈধভাবে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা লুটেরা রাজনীতিকদের প্রধান তৎপরতা হলো লুণ্ঠনের। এ লক্ষ্যে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে শ্রমদাস বানানোর সহজ উপায় খোঁজে।


আর এ কাজে তাদের জন্য দুটি প্রশস্ত পথ খোলা আছে। প্রথমত, পোশাকশিল্পে সস্তায় শ্রমিক জোগান দেওয়া এবং এ খাতের রপ্তানি থেকে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা পুনর্বিনিয়োগ না করে উল্টোপথে বিদেশে পাচার করা বা জালিয়াতির মাধ্যমে একটা বৃহৎ অংশ বিদেশেই রেখে দেওয়া। দ্বিতীয়ত, বিদেশের বাজারে শ্রমিক রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করার নামে আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচার করা।

শাসক শ্রেণি কখনোই বৃহৎ বিনিয়োগে উৎসাহী নয়। তাদের উৎসাহ ফটকাবাজারিতে। শ্রম-শোষণভিত্তিক পোশাক রপ্তানিতে বিদেশ থেকে যে কাঁচা পয়সা আসে তা সহজেই লুণ্ঠন করা যায়। অন্যদিকে জনগণের অর্থে পরিচালিত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে স্বল্প সুদে ঋণ নিয়ে তা ফেরত না দিলেও চলে। আর এ জন্যই দেশের বাজারে পোশাকশিল্পের জন্য সস্তায় শ্রমিক প্রয়োজন এবং বৈদেশিক মুদ্রার জন্য প্রয়োজন বিদেশে শ্রম-দাস প্রেরণ।

জনসংখ্যার আধিক্য ও দারিদ্র্যের কারণে এখানে সস্তায় শ্রম-শোষণ সহজ বলে পোশাকশিল্পের এই রমরমা বাণিজ্য, যার পুরোটাই শ্রমিক শোষণের ওপর নির্ভরশীল। এটা বিদেশি ক্রেতারাও ভালো বোঝে। অন্যদিকে জনশক্তি আমদানিকারক দেশগুলোতে সস্তায় শ্রম কে দেবে? বাংলাদেশের দরিদ্র জনশক্তিই তাদের ভরসা। বাংলাদেশি অদক্ষ শ্রমিকরা বিদেশে নিম্নমানের, বিপজ্জনক ও অমানবিক কাজ করে—যা অন্য দেশের শ্রমিকরা করতে সম্মত হয় না। তারা রক্ত-ঘামে ঝরা বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠায়। কিন্তু সে মুদ্রা আত্মসাৎ করে ধনীরা।

বর্তমান সরকারকে জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে উৎসাহী বলেই মনে হচ্ছে। এরই মধ্যে মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ থেকে ১৬ এবং ছেলেদের বয়স ২১ থেকে ১৮তে নামিয়ে আনা হয়েছে। পৃথিবীর বৃহত্তম বাল্যবিয়ের দেশ এই বাংলাদেশ। উষ্ণমণ্ডলীয় আবহাওয়ার কারণে এমনিতেই বাংলাদেশে জন্মহার বেশি। তার ওপর কম বয়সে বিয়ে ও বাল্যবিয়ে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। পৃথিবী যখন সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, এ দেশের সরকার শ্রেণিস্বার্থে তখন পেছনের দিকে লগি ঠেলছে।

চীনের সরকার যদি এক সন্তান নীতি গ্রহণ না করত, তাহলে তাদের জনসংখ্যা এরই মধ্যে দ্বিগুণের বেশি হতো। তারা কঠোরতার সঙ্গে জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করে। ফলে জন্মহারে একপর্যায়ে স্থিতি আসে। আজ চীন বিশ্বের সবচেয়ে আর্থিক ও সামাজিকভাবে সচ্ছল দেশে পরিণত। এই সাফল্যের পেছনে প্রজ্ঞা ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নীতির ভূমিকা অনস্বীকার্য।

ভবিষ্যতে বিপুল মানুষের খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষার ব্যবস্থা কিভাবে হবে সেই মূল প্রশ্নে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ না করার বিকল্প নেই। এ অবস্থায় বিশেষ করে বিবেকবান মানুষ ও তরুণসমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। অন্যথায় সামনে এক অশুভ সময় আসছে। সে সময় পুরো দেশটাই মনুষ্য বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। তখন এই ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে এ দেশকে আর উদ্ধারের উপায় ও সময় থাকবে না।

লেখক : ইমেরিটাস অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সূত্র ঃ কালের কণ্ঠ

শেয়ার করুন

Print Friendly and PDF


মতামত দিন

Developed By -  IT Lab Solutions Ltd. Helpline - +88 018 4248 5222