সর্বশেষ

  জগন্নাথপুরে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দিল সোনার বাংলা সমাজ কল্যাণ সংস্থা   আশারআলো ফাউন্ডশনের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ   জুড়ীতে আদালতের নির্দেশে মৃত্যুর ১৮দিন পর ধনমিয়ার লাশ উত্তোলন   ক্যাসিনো থেকে মাসে ১০ লাখ টাকা নিতেন মেনন   ভারতের সঙ্গে চুক্তি বাতিল, আবরার সহ সকল হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে প্রগতিশীল সংগঠনসমূহের বিক্ষোভ সমাবে   বিয়ানীবাজারে নিসচা'র সড়ক দূর্ঘটনা রোধে করণীয় শীর্ষক মতবিনিময় সভা ও অভিষেক অনুষ্ঠিত   ৫ দফা দাবীতে বিয়ানীবাজারে ফারিয়া'র মানববন্ধন   লক্ষীপুরে ছাত্রলীগে পদ পেতে লিখিত পরীক্ষা, ডোপ টেস্ট   ভারী অস্ত্রসহ ভাইরাল ছাত্রলীগ কর্মী   ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ৫০, আটক ৩   কুষ্টিয়ায় চাঁদাবাজি মামলায় ছাত্রলীগ আহ্বায়ক গ্রেফতার   বালিশকাণ্ডের দায় মন্ত্রণালয়ও এড়াতে পারে না: আইইবি সভাপতি   ঢাবির ‘ক’ ও ‘চ’ ইউনিটের ফল রোববার   শ্রীমঙ্গলে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে চার ভুয়া সাংবাদিক আটক   মানসিকভাবে দুর্বল তরুণরাই জঙ্গিবাদে ঝুঁকছে : মনিরুল

সম্পাদকীয়

পচন ধরেছে গোটা ব্যবস্থায় : দায়ী কে

প্রকাশিত : ২০১৯-০৯-২৪ ০১:২৪:৫৪

রিপোর্ট : দিবালোক ডেস্ক

দেশের মানুষ মাত্র কয়েক দিন আগে আকস্মিকভাবে জানতে পারল যে, ঢাকা শহরে বহুদিন ধরে উন্নত পুঁজিবাদী পশ্চিমা দেশের কায়দায় ‘ক্যাসিনোর’ মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার জুয়ার ব্যবসা চলছে। ক্ষমতাসীন দলের একজন শীর্ষ নেতা ঢাকা শহরকে সিঙ্গাপুরের মতো শহরে পরিণত করার যে ঘোষণা দিয়েছিলেন তা যে এত দ্রুত এবং সবকিছু বাদ দিয়ে কেবল জুয়ার ব্যবসার ক্ষেত্রে এভাবে কার্যকর হবে, সে কথা সাধারণ মানুষের ধারণার একেবারে বাইরে ছিল। এই ‘সুখবরটি’ জেনে তারা স্তম্ভিত এবং অবাক বিস্ময়ে হতবাক হয়ে পড়েছে।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর, বুধবার দুপুর থেকে বেশ কয়েকটি ‘ক্যাসিনোতে’ অভিযান চালিয়ে র‌্যাবের চৌকস বাহিনী এই অবৈধ ও অনৈতিক অপরাধ-তৎপরতা হাতেনাতে ধরে ফেলতে সক্ষম হয়েছে। ঢাকা শহরে ৬০টি ‘ক্যাসিনোর’ অস্তিত্ব রয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছে। এগুলোর সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠন আওয়ামী যুবলীগের অনেক দাপুটে নেতার সম্পৃক্ততাও উন্মোচিত হয়েছে। খোদ শাসক দলের কিছু নেতাও যে এর সঙ্গে যুক্ত, সে কথাও প্রকাশিত হয়েছে। যেসব ‘ক্লাবের’ নামে এসব ‘ক্যাসিনোতে’ জুয়ার আসর চালানো হতো তার একটির পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান যে একজন স্বনামধন্য এমপি, সে তথ্যটিও উদঘাটিত হয়েছে। বিশ্লেষকদের নিশ্চিত ধারণা যে, এই ‘কারবারের’ সঙ্গে প্রশাসন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও জড়িত। ধারণা করা হচ্ছে, এসব ‘ক্যাসিনোতে’ প্রতিদিন ২০-৩০ কোটি টাকার জুয়ার কারবার চলত। সঙ্গে সঙ্গে চলত অন্যান্য সব ধরনের আনুষঙ্গিক অনৈতিক কাজকর্ম।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, “বিএনপিই ঢাকা শহরকে ‘ক্যাসিনোর শহর’ বানিয়ে রেখে গিয়েছিল।” কিন্তু ১০ বছর ধরে একনাগাড়ে চলা আওয়ামী শাসনামলে সেগুলো শুধু চালুই থাকল না, সেগুলো যে ফুলে-ফেঁপে উঠল, সে অপরাধ কোন সরকারের তা তিনি বলেননি। বিএনপিও এ বিষয়ে তাদের ‘হাওয়া ভবন’ ইত্যাদির দায় স্বীকার না করে ‘ক্যাসিনো ব্যবসার’ জন্য এককভাবে আওয়ামী লীগকেই দায়ী করেছে। এ ওর ঘাড়ে এবং ও এর ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে তারা তাদের দায়িত্ব শেষ করছে। কিন্তু কেউই এর পেছনের আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার দায়ের কথা বলছে না।
ঘুষ-দুর্নীতি-পার্সেন্টেজ ব্যবসা ইত্যাদি এখন অর্থনৈতিক-সামাজিক বাস্তবতার স্বাভাবিক অংশে পরিণত হয়েছে। ‘ক্যাসিনো’কা-ের মাত্র দিনকয়েক আগে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির মাধ্যমে ঠিকাদারের কাছ থেকে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ৮৬ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করার ‘সেনসেশনাল’ ঘটনা সব মহলের মাঝে প্রবল ধিক্কার ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। সেই অবস্থায় ক্ষমতাসীন দল তাদের দুজনকে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করতে বাধ্য হয়েছিল। কিন্তু দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা হলেও তাদের ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়নি। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাদের দায়িত্ব থেকে অপসারণের কারণ হিসেবে তাদের ‘অপরাধমূলক’ কাজের বদলে তাদের ‘শৃঙ্খলাবিরোধী’ কাজের কথা বলেছেন। অবাক কা-! তাই দেখা যাচ্ছে যে, এখনো তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করা এবং তাদের গ্রেপ্তার করা হয়নি।
সমাজ-অর্থনীতির পচন আজ সর্বত্র বিপজ্জনক মাত্রায় ছড়িয়ে পড়েছে। লুটপাট যে এ দেশে আজ কতটা বিস্তৃত ও ভয়ঙ্কর পর্যায়ে উপনীত হয়েছে তার ভীতিপ্রদ চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে সম্প্রতি প্রকাশ হয়ে পড়া ৬ হাজার টাকায় বালিশ ক্রয়, ৩৭ লাখ টাকায় হাসপাতালের পর্দা ক্রয়, ১৭ লাখ টাকায় ১ বান ঢেউ টিন ক্রয় ইত্যাদি ঘটনা। এ অবস্থা নতুনও যেমন নয়, হঠাৎ করেও তার উদ্ভব ঘটেনি। এই সরকারের আমলে যেমন জনগণ এসব অপরাধের ঘটনাবলি দেখছে, তারা পূর্ববর্তী বিএনপি, বিএনপি-জামায়াত, এরশাদ প্রভৃতি সরকারের আমলেও সেসব ঘটতে দেখেছে। বিএনপি আমলের ‘হাওয়া ভবনের’ অনাচার-দুরাচারের কাহিনি কার না জানা আছে। বস্তুত সরকার আসে-যায়, গদির হাতবদল হয় কিন্তু ঘুষ-দুর্নীতি অনাচার-দুরাচারের অবসান ঘটে না! কেন? সে রহস্যের কিনারা না করতে পারলে এহেন ক্রমবর্ধমান পচন থেকে সমাজকে রক্ষা করার পথ খুঁজে পাওয়া যাবে না।
এদিকে সাধারণ মানুষের জীবনযন্ত্রণাও লাঘব হচ্ছে না। জনগণকে বলা হচ্ছে যে, এ যন্ত্রণা ধৈর্যের সঙ্গে সহ্য করে যেতে হবে। বিত্তবানদের হাতে জমা হওয়া সম্পদ চুইয়ে পড়ে এক সময় সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছাবে। এই অন্তর্বর্তী সময়ের সাধারণ মানুষের এসব জীবনযন্ত্রণা হচ্ছে ‘উন্নয়নের প্রসববেদনা’ মাত্র। তাই দশকের পর দশক ধরে দেশের অধিকাংশ মানুষের কাছে প্রধান দুশ্চিন্তা ও দুর্ভাবনার বিষয় হয়ে থাকছে দ্রব্যমূল্যের অনিয়ন্ত্রিত ঊর্ধ্বগতি, আয়ের সঙ্গে মূল্যস্তরের অসঙ্গতি, কন্ট্রোল দামে রেশনে নিত্যব্যবহার্য দ্রব্য সরবরাহ ব্যবস্থার অনুপস্থিতি, দুর্নীতিমুক্ত ও দক্ষ গণবণ্টন ব্যবস্থার অভাব, মুনাফালোভী অসাধু ব্যবসায়ীদের শোষণ, বাজার-কারসাজির ছলচাতুরী ইত্যাদি।
জনগণের প্রধান ভাবনা-চিন্তার আরও বিষয়গুলো হলোÑ মহামারী আকারে একেবারে ওপরতলা থেকে তৃণমূল পর্যন্ত শাসক দলের নেতাকর্মী ক্যাডারদের ঘুষ-দুর্নীতি-চাঁদাবাজি-দখলদারিত্ব, তদবির বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি, নিয়োগ বাণিজ্য, বদলি বাণিজ্য, পদায়ন বাণিজ্য, প্রমোশন বাণিজ্য, ভর্তি বাণিজ্য, সিট বাণিজ্য, দলবাজি, পরিবারবাজি, দলীয় দাপট, হত্যা-খুন-গুম-ক্রসফায়ার, ছিনতাই-ধর্ষণ-নারী নির্যাতন, প্রজেক্টের টাকা চুরি, প্রজেক্ট লোপাট ইত্যাদি। চোখের সামনে প্রতি মুহূর্তে ঘটে যাচ্ছে এসব নারকীয় অপরাধের সব ঘটনাবলি। এসবের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী, এমপি, আমলা, দলীয় ‘ক্যাডার’ বাহিনী, নেতা-পাতিনেতা প্রমুখ যে জড়িত তা দেশের ৯৯ শতাংশ সাধারণ মানুষ স্বচক্ষে দেখতে পাচ্ছে।
অন্যদিকে দেশে চলছে ১ শতাংশ মানুষ কর্তৃক এই ৯৯ শতাংশ মানুষের সহায়-সম্পদের সীমাহীন লুটপাট। এ যেন শুধু পুকুর চুরি নয়, একেবারে সাগর চুরি। দেশের অপ্রদর্শিত কালো টাকার পরিমাণ জাতীয় আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ। প্রদর্শিত সাদা টাকার সিংহভাগও মুষ্টিমেয় ব্যক্তি ও পরিবারের ‘অনুপার্জিত আয়ের’ ফসল। শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি, হলমার্ক কেলেঙ্কারি, ডেসটিনি-যুবক প্রভৃতির প্রতারণা বাণিজ্য, সোনালী ব্যাংকসহ পাবলিক-প্রাইভেট ব্যাংকের ক্ষমাহীন অনিয়ম, নিয়োগ-ব্যবসার বড় বড় সিন্ডিকেটেড লুটপাট ইত্যাদি লুটপাটের বিস্তৃতি ও মাত্রাকে উন্মোচিত করে দিয়েছে। এগুলো হলো কেবল ‘ধরা খাওয়া’ লুটপাটের ঘটনা। এ থেকেই জনগণ

শেয়ার করুন

Print Friendly and PDF


মতামত দিন

Developed By -  IT Lab Solutions Ltd. Helpline - +88 018 4248 5222