সর্বশেষ

  বসন্তের কবিতাগুচ্ছ - সঞ্জয় আচার্য   বিয়ানীবাজারে ছাত্র ইউনিয়নের ভাষা দিবস স্কুল উৎসব সম্পন্ন   ১৯ জানুয়ারী সাংবাদিক মোহাম্মাদ বাসিতের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী   এক বছরে বিশ্বে ধনীরা আরো ধনী হয়েছেন, গরিবরা আরো গরিব   হোলি আর্টিজানে হামলার জন্য ৩৯ লাখ টাকা জোগাড় করেন মামুন   জেলা হাসপাতালের ৪০ শতাংশ চিকিৎসকই অনুপস্থিত : দুদক   বিজ্ঞানী আবেদ চৌধুরীর উদ্ভাবিত ভুট্টা ক্যান্সার প্রতিরোধক!   আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল আর নেই   বিয়ানীবাজারের আব্দুল্লাপুর সপ্রাবিতে শিক্ষার্থী সংবর্ধনা   ক্ষমতাবলে শিক্ষক হওয়া স্যার, আপনাকেই বলছি!   মাথাপিছু ঋণ ১৭ হাজার টাকা   বিয়ানীবাজার ছাত্র ইউনিয়নের স্কুল উৎসব   উন্নয়ন, দুর্নীতি ও জিডিপি: একসঙ্গে বাড়ার রহস্য কী?   বিশ্বব্যবস্থাঃ পুঁজিবাদ যেভাবে আমাদের মেরে ফেলছে   গোলাপগঞ্জে বাস-সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ।। নিহত ২ আহত ২

শিক্ষা

যোগ্যতাভিত্তিক মূল্যায়ন

প্রকাশিত : ২০১৮-০৭-২৮ ২১:২৪:৪৭

রিপোর্ট : কাজী আরিফুর রহমান



প্রতিটি সকাল আসে নতুন সম্ভাবনা নিয়ে। আর সেই সম্ভাবনার পথে এগিয়ে চলছে জাতির মেরুদ-, শিক্ষা খাত। শিক্ষা নামের মৌলিক অধিকার অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে সরকার সব শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। এ অধিকারকে ত্বরান্বিত করতে সরকার সব রকমের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। সরকার যে শুধু নামমাত্র শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালনা করে আসছে তা নয়, তার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষা বাস্তবায়ন করছে। সম্ভাবনার স্রোতেই এখন শিক্ষার তরী, যা আমাদের একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ সৃষ্টিতে শুধু আশাবাদীই করে তুলছে।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের অভিভাবকত্বে ২০০৯ সালে শিক্ষা পরিবার তাদের কাজ শুরু করে। শুরুতেই তারা যে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেন তা হলো ২০১০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন। এই শিক্ষানীতি ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশ করা হয়। জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ প্রণয়নে বাংলাদেশ সংবিধান ও জাতিসংঘ শিশু অধিকার কনভেনশনকে বিবেচনায় রাখা হয়েছে। শিক্ষানীতির মূল উদ্দেশ্য মানবতার বিকাশ এবং জনমুখী উন্নয়ন ও প্রগতিতে নেতৃত্বদানের উপযোগী মননশীল যুক্তিবাদী, নীতিবান, নিজের এবং অন্যান্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কুসংস্কারমুক্ত, পরমতসহিষ্ণু, অসাম্প্রদায়িক, দেশপ্রেমিক এবং কর্মকুশল নাগরিক গড়ে তোলা। এই আলোকে শিক্ষার ৩০টি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য, লক্ষ্য ও নীতিগত তাগিদের কথা বলা হয়। নিম্নে তার কয়েকটি তুলে ধরা হলো :
১. শিক্ষার সর্বস্তরে সাংবিধানিক নিশ্চয়তার প্রতিফলন ঘটানো এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখ-তা রক্ষার প্রতি শিক্ষার্থীদের সচেতন করা।

২. ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনে নৈতিক, মানবিক, সাংস্কৃতিক, বিজ্ঞানভিত্তিক ও সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠাকল্পে শিক্ষার্থীদের মননে, কর্মে ও ব্যবহারিক জীবনে উদ্দীপনা সৃষ্টি করা।

৩. মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করে তোলা ও তাদের চিন্তা-চেতনায় দেশাত্মবোধ, জাতীয়তাবোধ এবং তাদের চরিত্রে সুনাগরিকের গুণাবলির বিকাশ ঘটানো।

৪. মুখস্থবিদ্যার পরিবর্তে বিকশিত চিন্তাশক্তি, কল্পনাশক্তি এবং অনুসন্ধিৎসু মননের অধিকারী হয়ে শিক্ষার্থীরা যাতে প্রতি স্তরে মানসম্পন্ন প্রান্তিক যোগ্যতা অর্জন করতে পারে তা নিশ্চিত করা।

৫. প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীর সুরক্ষা ও যথাযথ বিকাশের অনুকূল আনন্দময় ও সৃজনশীল পরিবেশ গড়ে তোলা এবং সেটি অব্যাহত রাখা।
এ ছাড়া প্রাথমিক শিক্ষার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যে আরও বলা হয়েছে
ক. মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং দেশজ আবহ ও উপাদানভিত্তিক শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক অনুসরণ করা।
খ. শিক্ষার্থীকে জীবনযাপনের জন্য আবশ্যকীয় জ্ঞান, বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা, জীবন দক্ষতা, দৃষ্টিভঙ্গি, মূল্যবোধ, সামাজিক সচেতনতা অর্জনের মাধ্যমে মৌলিক শিখন চাহিদা পূরণে সমর্থ করা এবং পরবর্তী স্তরের শিক্ষা লাভের উপযোগী করে গড়ে তোলার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

শিক্ষানীতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সরকার শুরুতেই গতানুগতিক শিক্ষার আমূল পরিবর্তন এবং একটি মানসম্পন্ন শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মিশন নিয়ে কাজ শুরু করে। আজ সরকারের নয় বছর অতিক্রম হওয়ার পর এটা সুস্পষ্ট, সরকার তার মিশন সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে। আর এতে যে নিয়ামক শক্তি পেছনে মন্ত্রের মতো কাজ করেছে তা হলো শিক্ষাক্ষেত্রে যোগ্যতাভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা। শিক্ষার সব স্তরে মানসম্পন্ন প্রান্তিক যোগ্যতা অর্জনে যোগ্যতাভিত্তিক মূল্যায়ন অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। প্রাথমিকে যোগ্যতাভিত্তিক শিক্ষায় ২৯টি প্রান্তিক যোগ্যতার উল্লেখ রয়েছে। 

যোগ্যতাভিত্তিক শিক্ষাক্রমে একটি লক্ষ্য, ১৩টি উদ্দেশ্য, ২৯টি প্রান্তিক যোগ্যতা ছাড়াও বিষয়ভিত্তিক প্রান্তিক যোগ্যতা, শ্রেণিভিত্তিক অর্জন উপযোগী যোগ্যতা, শিখনফল, পাঠ্যবই বা বিষয়বস্তু, শিখন শিখানো কার্যাবলি, মূল্যায়ন, নিরাময়মূলক ব্যবস্থা, ফিডব্যাক, ফলাবর্তন ইত্যাদির উল্লেখ করা হয়। যোগ্যতাভিত্তিক শিক্ষাক্রমে যে একটি লক্ষ্যের কথা বলা হয়েছে তা হলো শিশুর শারীরিক, সামাজিক, মানসিক, মানবিক, আধ্যাত্মিক, আবেগিক, নান্দনিক ও নৈতিক বিকাশ সাধন এবং তাকে দেশাত্মবোধে, বিজ্ঞানমনস্কতায়, সৃজনশীলতায় এবং উন্নত জীবনে স্বপ্ন দর্শনে উদ্বুদ্ধ করাই যোগ্যতাভিত্তিক শিক্ষাক্রমের মূল লক্ষ্য। 

শিক্ষার শক্তিকে কাজে লাগিয়ে উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে হাঁটছি আমরা। শিক্ষা খাতে বিপ্লব সাধিত হচ্ছে। শিল্প-সাহিত্য, খেলাধুলায় ঈর্ষণীয় সাফল্য দেখাচ্ছে বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা। দেখছি নতুন স্বপ্ন, নতুন সম্ভাবনা। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী ও যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। শত বাধা পেরিয়ে উন্নত দেশে পরিণত হবে বাংলাদেশ এ আমাদের বিশ্বাস।

লেখকঃ  কাজী আরিফুর রহমান : প্রাবন্ধিক

শেয়ার করুন

Print Friendly and PDF


মতামত দিন

Developed By -  IT Lab Solutions Ltd. Helpline - +88 018 4248 5222