সর্বশেষ

  নেত্রকোনা-৪ আসনে বাম জোটের প্রচারণায় হামলা, প্রার্থীসহ আহত ৪   ওয়ানডেতে অভিষিক্ত হচ্ছে সিলেট স্টেডিয়াম   আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস   কুড়ারবাজার ইউপি সদস্য মাছুম গ্রেফতার   ২৪-২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে সেনাবাহিনী নামবে   কলচার্জ, কলড্রপ ও বিরক্তিকর মেসেজের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট   আস্থা ভোটে টিকে গেলেন থেরেসা মে   জামায়াত বাদ, সিলেট-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী ফয়সল চৌধুরী   বিয়ানীবাজার পলাতক আসামী শিবির নেতা রাজ্জাক গ্রেফতার   বিয়ানীবাজার পৌর আ.লীগের সহ সভাপতি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী খছরুল হক মঙ্গলবার দেশে আসছেন   বিয়ানীবাজার মুড়িয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান খয়ের গ্রেফতার   বিয়ানীবাজারে ডাকাতিঃ নগদ দুই লক্ষ টাকাসহ ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট   বিএড কোর্সে ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু ১৭ ডিসেম্বর   হাঁসের ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর অভিনব ‘তুষ-হারিকেন’ পদ্ধতি   অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে ফিরছেন সেরেনা উইলিয়ামস, রাফায়েল নাদাল

শিক্ষা

স্বপ্নের স্কুল কার্যক্রম সৃজনশীলতার আদর্শ

বিয়ানীবাজার প্রমাণ করে শিক্ষাক্ষেত্রে সরকার কতটা সফল

প্রকাশিত : ২০১৮-০৮-১১ ২০:৪৭:৫৪

রিপোর্ট : কাজী আরিফুর রহমান



প্রাথমিক শিক্ষায় শিশুদের লেখাপড়ার হাতেখড়ি হয়। এই শুরুটা তার ভবিষ্যৎ জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। তাই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ালেখার সুষ্ঠু পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার নানা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। যার মধ্যে অন্যতম হলো স্বপ্নের স্কুল কার্যক্রম। একসময় যেখানে এমন ধারণা প্রচলিত ছিল যে, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর অবস্থা সাদামাটা ও জরাজীর্ণ, কিন্তু সেই দিন আর নেই। আজ প্রতিটি বিদ্যালয় যে কোনো মানুষের কাছে স্বপ্নের মতো। আর শিশুদের জন্য তো অনেক কিছুই। আগে যেখানে বিদ্যালয়ে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে শিশুরা বিদ্যালয়বিমুখ থাকত। অনেক শিশু পরিস্ফুটিত হওয়ার আগেই ঝরে পড়ত। আজ বিদ্যালয়গুলো শিশুদের কাছে স্বপ্নের মতো। বিদ্যালয়গুলোকে এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে শিশুরা স্কুলকেই সবচেয়ে বেশি আনন্দের জায়গা মনে করে। এতে করে আমরা খেলার ছলে আমাদের মূল লক্ষ্য অর্জন করতে যাচ্ছি। বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের ঝরে পড়ার হার একেবারেই কমে গেছে। আর এ সবকিছুর মূল কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতা এবং বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত গ্রহণ।

‘আমার স্বপ্ন-আমার স্কুল’ স্লোগানেই মূলত স্বপ্নের স্কুল পরিচালিত হয়ে আসছে। এ উদ্যোগের আওতায় বছরের প্রথম দিন শিশুদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়ার সময় এসএমসির উদ্যোগে আয়োজন করা হয় ‘শিশুবরণ’ অনুষ্ঠান। যেখানে গতানুগতিক শিক্ষায় শিশুদের বেঁধে দেওয়া কিছু পাঠ নেওয়ার জন্য বিদ্যালয়ে যেতে হতো, শিক্ষাজীবনের প্রথম দিনটি তাদের কাটে উৎসব-আনন্দের মধ্য দিয়ে। অর্থাৎ প্রথম থেকেই বিদ্যালয়ের প্রতি তাদের একটি ইতিবাচক ধ্যানধারণা তৈরি হতে থাকে। স্বপ্নের স্কুল কার্যক্রমে সৃজনশীল কাজে শিশুদের আকৃষ্ট করার জন্য প্রকাশ করা হয় শ্রেণিভিত্তিক ‘দেয়ালিকা’। দেয়ালিকায় তাদের লেখা প্রকাশ করা হয়, যা একটি শিশুর জন্য অনেক বড় পাওয়া।

দেয়ালিকায় লেখা ছাপার মাধ্যমে একটি শিশুর মেধার স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এটি যেমন তাদের মনে আনন্দের খোরাক জোগায়, পাশাপাশি ভবিষ্যতে সৃজনশীল কাজের প্রতি তাদের আরও উৎসাহ প্রদান করে। যেসব বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত কক্ষ রয়েছে, সেখানে বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ দিয়ে সাজানো হয়েছে ‘উপকরণ কক্ষ’। এই উপকরণগুলোর মধ্যে রয়েছে পোস্টার পেপার, ভিপ কার্ড, গাছপালার অংশবিশেষ, ফল, ফুল, রেডিও, টেলিভিশন, কম্পিউটার, মাল্টিমিডিয়া ইত্যাদি। এগুলো ব্যবহার করে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করায় শিশুরা একদিকে যেমন ক্লাসের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে, তেমনিভাবে তাদের শিখনটাও দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। শিশুদের বর্ণপরিচয়ের জন্য রয়েছে সংশ্লিষ্ট বস্তু বা ছবি।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের যথাসময়ে হাজিরা নিশ্চিত করতে ‘বায়োমেট্রিক হাজিরা’ ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব কাজের ব্যয় নির্বাহ করছেন শিক্ষক-অভিভাবক এবং স্থানীয় বিত্তশালী ব্যক্তিরা।শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণমূলক কাজের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়ে থাকে। বিভিন্ন সৃজনশীল কাজে ছাত্রছাত্রীদের এবং সেই সঙ্গে তাদের মায়েদেরও উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে ‘খুদে ডাক্তার’, ‘স্মাইল প্রোগ্রাম’, ‘সেরা মা’ এবং ‘সেরা ছাত্রছাত্রী’ নির্বাচনের ব্যবস্থা রয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করে তোলার জন্য তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতি শ্রেণি থেকে পাঁচজন করে মোট ১৫ জনের একটি দল হয়। তারা অন্য শিক্ষার্থীদের ওজন মেপে দেয় ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। তাদের ‘খুদে ডাক্তার’ বলা হয়। ছোট্ট একটি শিশুকে ‘ডাক্তার’ খ্যাতিতে ভূষিত করা তার জন্য প্রেরণার বিষয়। ‘স্মাইল প্রোগ্রাম’-এ ভালো কাজের পুরস্কারস্বরূপ প্রদান করা হয় ‘স্মাইল কার্ড’। নখ কাটা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ফুল বাগানের পরিচর্যাসহ বিভিন্ন ভালো কাজে শিক্ষার্থীদের প্রতীকী এসব ‘স্মাইল কার্ড’ প্রদান করা হয়ে থাকে। প্রতি তিন মাস পরপর যে বেশি কার্ড পাবে, তাকে সেরা ছাত্র নির্বাচন করা হয়।

‘সেরা মা’ নির্বচনের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের কার্যক্রমের প্রতি মায়েদের আগ্রহ বেড়ে গেছে। তারা তাদের সন্তানদের প্রতি আরও বেশি যতœবান হয়েছেন। তা ছাড়া ছাত্রছাত্রীদের সার্বিক কার্যক্রম বিবেচনা করে প্রতিবছর ‘সেরা ছাত্রছাত্রী’ নির্বাচন করা হয়। ফলে ছাত্রছাত্রীরা তাদের সৃজনশীলতা নিয়ে আরও বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আর এভাবেই আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সত্যিকার সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে।স্বপ্নের স্কুল কার্যক্রমে প্রতিটি বিদ্যালয়কে আকর্ষণীয় রঙে রঙিন করা হয়েছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে রয়েছে সুদৃশ্য ফটক, রয়েছে ছাত্রছাত্রীদের দ্বারা তৈরি বাগান। অর্থাৎ বিদ্যালয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, পড়ালেখা এবং সৃজনশীলতার আদর্শ একটি পরিবেশ আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি করে দিচ্ছে ‘স্বপ্নের স্কুল’ কার্যক্রম। 

বিয়ানীবাজার, সিলেট জেলার একটি সীমান্তবর্তী উপজেলা হলেও এখানে প্রতিটি বিদ্যালয়ে স্বপ্নের স্কুল কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। উপজেলার প্রতিটি বিদ্যালয়কে আকর্ষণীয় রঙে রাঙানো হয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের জন্য মানসম্পন্ন পোশাক তৈরি করায় তা অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। স্বপ্নের স্কুল কার্যক্রমের আওতায় বছরের প্রথম দিন স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটি আয়োজন করে ‘শিশু বরণ’ অনুষ্ঠান। অনেক স্কুলে স্কুলব্যাগ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে ‘স্কুল গার্ডেনিং’ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আকর্ষণীয় ফটক বিদ্যালয়ের সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। শিশুর শারীরিক, মানসিক শাস্তি বন্ধের নির্দেশনা প্রদান করে মহামান্য হাইকোর্ট কর্তৃক একটি নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে, যা স্বপ্নের স্কুল বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। এতে তাদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বিদ্যালয়ের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হচ্ছে।

আজ আমাদের ছাত্রছাত্রীদের কাছে বিদ্যালয় অত্যন্ত পছন্দের একটি জায়গা। বিদ্যালয়গুলোয় ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতির হার বাড়ানোর ক্ষেত্রে সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলায় বিপ্লব সাধিত হয়েছে। সেই সঙ্গে পাশের হার তো বৃদ্ধি পেয়েছে। আর সবচেয়ে বড় কথা, এ উপজেলা ঝরে পড়া রোধে অনেক এগিয়ে। যেখানে সারা দেশে ঝরে পড়ার হার কমে ১৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, সেখানে এ উপজেলায় ১ দশমিক ৮২ শতাংশ। বিয়ানীবাজারের মতো প্রত্যন্ত উপজেলায় এ হারই প্রমাণ করে শিক্ষাক্ষেত্রে সরকার কতটা সফল।জাতীয় অগ্রগতির প্রধান হাতিয়ার শিক্ষা। আর এ হাতিয়ারকে পুঁজি করেই উন্নত-সমৃদ্ধ স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।
কাজী আরিফুর রহমান : প্রাবন্ধিক

শেয়ার করুন

Print Friendly and PDF


মতামত দিন

Developed By -  IT Lab Solutions Ltd. Helpline - +88 018 4248 5222