সর্বশেষ

  সিলেট চেম্বারের নতুন সভাপতি শোয়েব, সহ সভাপতি চন্দন ও তাহমিন   মৌলভীবাজারের মেয়ে পিংকি বাংলাদেশ বিমানের ক্যাপ্টেন   হবিগঞ্জে একযোগে ১৪৩ শহীদ মিনার উদ্বোধন   এবার অভিযান সিলেটের ক্লাবপাড়ায়   নারায়ণগঞ্জে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে বাড়ি ঘেরাও   ক্যাসিনোর পাশাপাশি স্পা সেন্টারেও পুলিশের অভিযান   লন্ডনে বাড়ছে ঘরহীনের সংখ্যা, ডাস্টবিন থেকে খাবার কুড়িয়ে খাচ্ছে মানুষ   আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে দুদকের অভিযান   বিয়ানীবাজারে নবাগত ইউএনও হিসেবে যোগদান করলেন মৌসুমী মাহবুব   মৌলভীবাজারে ১০১৪ মণ্ডপে হবে শারদীয় দুর্গাপূজা   জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নতুন চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম   মোহামেডান–ভিক্টোরিয়াসহ চার ক্লাবে ক্যাসিনো আছে জানত না পুলিশ   রুবেল মুর্মুকে আহ্বায়ক করে জয়পুর – মাদারপুর (আদিবাসী সাঁওতাল পল্লীতে ) ছাত্র ইউনিয়নের কমিটি   মইনুদ্দিন জালালের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালনে কমিটি গঠন   মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে কলেজছাত্রকে শ্বাসরোধে হত্যা

শিক্ষা

শিক্ষার ‘প্রাইভেটাইজেশন’ সমস্যা সমাধানের পথ নয়

প্রকাশিত : ২০১৯-০৯-১২ ১৩:৪৮:০৬

রিপোর্ট : দিবালোক ডেস্ক


‘শিক্ষা নিয়ে কেউ ব্যবসা করতে পারবে না’ – এটাই নীতি হওয়া উচিত ছিল। ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই বাংলাদেশ। কিন্তু না, ১৯৭৫-এর পটপরিবর্তনের পর সেই চেতনা তিরোহিত হয়েছে। আশির দশক থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক সব সংকটের দাওয়াই হিসেবে দেশের সকল কলকারখানা ব্যাংক বীমা বিরাষ্ট্রীয়করণ করার পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল ব্যক্তিখাতে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা। যেহেতু পুঁজিবাদী বিশ্বে বিশেষত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এরূপ বিশ্ববিদ্যালয় আছে। যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অনুসরণ করার জন্য এ-দেশের মানুষ আত্মহুতি দেয় নাই। এখানে একটি কথা পরিষ্কার করে বলতে চাই যে, তা হলো এইসব প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ বা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল যাদেরকে সকল ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া ‘বেসরকারি’ বলছে -এগুলো কিছুতেই বেসরকারি হতে পারে না।

কারণ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উপার্জিত অর্থ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী খুশিমত ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করতে পারে না। সে-সব প্রতিষ্ঠানের মালিকানা ব্যক্তির থাকতে পারে না। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ট্রাস্টি বোর্ড থাকে না। থাকে গভর্নিং বডি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে সিনেট, সিন্ডিকেট, একাডেমিক কাউন্সিল প্রভৃতি। এসব সভায় উপস্থিতির জন্য সদস্যদের কোনো প্রাপ্তিযোগ থাকে না। পক্ষান্তরে প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের সভায় উপস্থিতির জন্য ট্রাস্টি সদস্যরা ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকেন। আর এইসব ট্রাস্টি সদস্যরা হয়ে থাকেন নিকট আপনজন। যেমন পুত্র, পুত্রবধূ, কন্যা, জামাতা বিশ্বস্ত বন্ধু প্রভৃতি।

সিনেট সিন্ডিকেটের বালাই নেই। তারা ছাত্রদের থেকে উচ্চহারে বেতন ও নানারকম ফি আদায় করে তা দিয়ে যাবতীয় খরচ পরিচালনা করেন। ব্যক্তির টাকা খরচ করে ঐসব প্রতিষ্ঠানের মুনাফা অর্জন করা হয় না। শিক্ষার্থীদের টাকা থেকেই মুনাফা -‘কই এর তেলে কই ভাজা’ প্রবাদটি এখানে খুবই প্রযোজ্য। এভাবেই প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের করা হয় বহুমাত্রিকভাবে শোষণ।

স্বাধীনতার চেতনায় দেশ গড়ে তোলার মুহূর্তেই সাড়ে তিন বছরের মাথায় বঙ্গবন্ধুকে নিহত হতে হয়েছে। তাই বিদ্যমান সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য ধুরন্ধর, লোভী, মুনাফাখোর ব্যক্তিবর্গ সর্বরোগের মহৌষধ হিসেবে একমাত্র প্রাইভেটাইজেশনের দাওয়াই দিয়েই চলেছিলেন। অথচ শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে বিদ্যমান বড় বড় প্রতিষ্ঠানসমূহে উপযুক্ত বেতন ভাতাদিসহ শিক্ষক নিয়োগ, লাইব্রেরির উন্নয়ন এবং প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য উন্নয়নের মধ্য দিয়ে সমাধানের উদ্যোগ নেয়ার পরামর্শ তারা দিতে পারতেন।

যেমন কারমাইকেল কলেজ, আনন্দমোহন কলেজ, মুড়ালি চাঁদ কলেজ, ব্রজলাল কলেজ, ব্রজমোহন কলেজ, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ, ১৮৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম কলেজসহ আরও বড় অন্যান্য কলেজসমূহকে যদি স্বায়ত্বশাসিত করা যেতো এবং এইসব কলেজসমূহ যদি ৪০ বছর ধরে গড়ে ওঠার সুযোগ পেতো তাহলে আজ এই প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় বা ব্যক্তিখাতের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ শিক্ষার্থীদের রক্ত চুষে বেড়ে উঠতে পারতো না।

আর কতিপয় মালিক -ব্যবসায়ী হয়ে উপাচার্য এবং টিভি ‘টক-শো’তে এসে বলার সাহস পেতো না, “যেহেতু আমাদের দেশে রেস্ট্রিকটেড ইকোনমি না, ফ্রি ইকোনোমি -সেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় দাম বাড়াবেই। পড়তে যারা পারবে সে থাকবে, না পারলে চলে যাবে।” অথচ এরা ট্রাস্টি বোর্ডের মিটিংয়ে বসে যেমন ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা সিটিং অ্যালাউন্স হিসেবে নেন তেমনই লক্ষ লক্ষ টাকা ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে বিদেশ ভ্রমণে বের হন। সবই এদেশের রক্ত শুষে নেয়া টাকা, কর ফাঁকির টাকা।

মানুষের রক্ত শুষে নেয়ার অর্থনীতির নাম যদি হয় ফ্রি ইকোনোমি -তাহলে সে ইকোনোমি তো মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ইকোনোমি হতে পারে না। বিশ্বব্যাপি শোষিত মানুষেরও তা হতে পারে না। এ পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের গুজরাট রাজ্যের শিক্ষার প্রাইভেটাইজেশনের বিরুদ্ধে ১৯৬৫ সাল থেকে শিক্ষকদের আন্দোলনের কথা একটু স্মরণ করা যেতে পারে।

১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতা লাভের পর সারা ভারতেই শিক্ষাব্যবস্থার সম্প্রসারণ ঘটেছিল দ্রুত গতিতে। গুজরাটে ২২ বছরে শিক্ষা-সম্প্রসারণ হয় প্রায় ১০ গুণ। ১৯৫০ সালে অধিভুক্ত কলেজের সংখ্যা ৩১ থেকে ২৫০ এবং কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে ছাত্র সংখ্যা ১৬,৮০০ থেকে ১,৬২০০০-এ পরিণত হয়। প্রথমে নতুন কলেজের ৯০-৯৫% ছিলো বেসরকারি, আমাদের দেশের মতো।

এর মধ্যে কিছুসংখ্যক ছিল ‘শিক্ষকদের সমবায় সমিতি’ এবং উচ্চবিত্ত পরিবারের ট্রাস্টি বোর্ড কর্তৃক পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত। এদের অনন্য বৈশিষ্ট্যের মধ্যে ছাত্রসংখ্যা ছিলো কৃত্রিমভাবে সীমাবদ্ধ (প্রায় এক হাজার) এবং শিক্ষার মান ছিলো খুবই উন্নত। আর কলেজের আয় ভোগ করতেন সমবায়ের সদস্যগণ এবং ক্ষেত্রবিশেষে ঐসব ট্রাস্টিগণ। আইনগত বাধা না থাকায় বিত্তবান ও পুঁজিপতিরা মুনাফালাভের আশায় এ-জাতীয় কলেজের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি করে ফেলেন।

পুঁজিপতিরা যেসব কারণে লাভের আশায় এগিয়ে এলেন তা হলো: (১) শিক্ষকদের বেতন ছিল অত্যন্ত কম, অর্থাৎ তাঁদের শ্রমের উদ্বৃত্ত ভোগ করতেন ‘মালিকেরা’ এবং চাকরির কোনো টেনিউর ছিলো না। প্রতি বছর তা কর্তৃপক্ষের ইচ্ছানুসারে ‘নবায়িত’ হত। গ্রীষ্মকালীন ছুটি পর্যন্ত (১৫ মার্চ) যারা চাকরিতে থাকতেন, ছুটি শেষে ফিরে এসে ওই চাকরিতে যোগ দিতে পারবেন কি না, তা অনিশ্চিত ছিল। তা ছিল সম্পূর্ণ ‘মালিকের’ ইচ্ছানুসারে।

একবার ১৯৬৮ সালে ২০০ শিক্ষককে কোনো রকম নোটিশ ছাড়াই চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। (৩) ‘মালিক’দের আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবরা সহজে চাকরি পেতো। (৪) কলেজগুলোর ওপর একচ্ছত্র আধিপত্য থাকায় সমাজে ‘মালিকদের’ প্রতিপত্তি থাকতো। তা বিভিন্ন পর্যায়ে নির্বাচনে একটি চমৎকার অস্ত্র হিসেবেও কাজ করতো।

কাজেই তথাকথিত ‘মালিকরা’ ‘রাজনীতিবিদে’ এবং ‘রাজনীতিবিদরা’ ‘মালিকে’ প্রতিষ্ঠালাভ করেছিল। আমাদের দেশেও আমরা একই প্রতিচ্ছবি দেখতে পাচ্ছি। গুজরাটের এসব ‘ব্যক্তিগত খাতে’ প্রতিষ্ঠিত কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের অগণতান্ত্রিক চাকরিবিধি ও আচরণবিধি সিনেট কর্তৃক পরিবর্তনের যেকোনো প্রচেষ্টা ঐ গোষ্ঠী প্রতিহত করতো। এ-সংক্রান্ত যেকোনো গণতন্ত্রসম্মত বিধি প্রণয়নের প্রস্তাব অনেক সময় সিনেটে ধ্বনি ভোটেই বাতিল হয়ে যেতো। আর এইসব বিষয়ের মূল নায়ক ছিলেন একজন লেকচারার থেকে মুখ্যমন্ত্রী পদে আরোহনকারী ব্যক্তি, যার নাম চিমনভাই প্যাটেল। তিনি এমন কি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য থেকে শুরু করে কলেজসমূহের অধ্যক্ষ পদে তাঁর পছন্দসই ব্যক্তিদের নিয়োগ ও নিয়ন্ত্রণ করতেন।

এক সময়ে এসব চক্রান্তের বিরুদ্ধে শিক্ষক সংগঠন এবং শিক্ষক আন্দোলন গড়ে উঠে। এই আন্দোলনের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য দিকের মধ্যে ছিলো যেমন- সারা রাজ্যব্যাপি একদিনের শিক্ষক ধর্মঘট, সারা রাজ্যের শিক্ষকদের রাজধানীতে সমবেত হয়ে বিশাল সমাবেশ ও মিছিল, ক্ষমতাসীন স্থানীয় রাজনৈতিক দলের অফিসের সামনে ৭২ ঘণ্টাব্যাপি গণ-অনশন, পার্লামেন্ট ভবনের সামনে আইন অমান্য ও গণগ্রেফতার বরণ এবং সফররত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর কাছে স্মারকলিপি প্রদানসহ ৭২ ঘণ্টার গণ-অনশন প্রভৃতি।

ঐ সময়ে একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা আন্দোলনে ঘৃতাহুতি দিয়েছিল। বেসরকারি কলেজ-এর ১৬ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন অধ্যাপককে কর্তৃপক্ষ জোর করে ইস্তফা দেয়ায় তিনি আত্মহত্যা করেন। তার এই আত্মহত্যাই প্রাইভেট ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত প্রতিষ্ঠানসমূহের ব্যবস্থাপকদের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল। আন্দোলনের সফল পরিণতিতে শিক্ষকদের দাবি মেনে নেয়ার ফলে, গুজরাটের শিক্ষকদের বেতন ১০০% আসে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে, শিক্ষক নিয়োগ হয়ে থাকে নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত বেতন-স্কেল সর্বত্রই দেয়া হয়ে থাকে। স্কুল ও কলেজের ব্যবস্থাপনা, লাইব্রেরি, পরীক্ষাগার ইত্যাদির জন্য রাজ্য সরকার থেকে আরও ২০% মজুরি দেয়া হয়। শিক্ষার্থীদের বেতন প্রতিষ্ঠানের তহবিলেই থেকে যায়। শিক্ষকদের জন্য গণতান্ত্রিক চাকুরিবিধি, পেনশন, গ্রাচুইটি প্রভৃতি চালু হয়েছে। সমাজ সচেতন বুদ্ধিজীবী হিসেবে শিক্ষকরা রাজনীতিতেও অংশগ্রহণ করতে পারেন।

আবার ‘গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয় অঞ্চল শিক্ষক সমিতি’ শিক্ষকদের মৃত্যু, জটিল রোগসহ যেকোনো কল্যাণ পাঁচ লাখ রূপি, কল্যাণ ফান্ড গঠনসহ শিক্ষকদের জন্য ইন্স্যুরেন্স ইত্যাদি কল্যাণমূলক ব্যবস্থাদি গ্রহণ করেছিলেন এবং শিক্ষকদের পদোন্নতি, ট্রেইনিং, শিক্ষার মান উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ অব্যাহত রেখেছেন।

আমাদের দেশেও প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের গড়ে ওঠার উদ্দেশ্য ঐ একই কারণে -মুনাফা আর মুনাফা। মালিকপক্ষ সব সময়ই বলে এসেছে “বিদেশে গিয়ে পড়লে অনেক টাকা লাগতো এবং আমরা অনেক কম টাকা নিচ্ছি, পৃথিবীর সব দেশে ফি অনেক বেশি, আমরা অনেক কম টাকায় পড়াচ্ছি” ইত্যাদি। ঐসব দেশের গড় আয়ের সাথে আমাদের গড় আয় যে তুলনায় আসতে পারে না, তা মালিকপক্ষ মুনাফালোভীরা কোনো সময়েই ভেবে দেখে না- এটাই তাদের চরিত্র।

তবে শেষ করবো ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৬২-র শিক্ষা আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ড. খুদা কমিশনের ১৩নং অধ্যায়ে বর্ণিত ‘উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণা’ অধ্যায়ের দু-একটি সুপারিশের উল্লেখ করে – যেখানে অত্যন্ত সুচিন্তিতভাবে ২২টি সুপারিশ করা হয়েছিল। সেখানে যেমন বলা হয়েছিল যে, যেহেতু শোষণহীন সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলা জাতির অন্যতম লক্ষ্য, সেহেতু সমাজের সকল স্তরের শিক্ষার্থীদের মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত রাখতে হবে।

তাই ডিগ্রি কলেজসমূহে প্রথমে ডিগ্রি পর্যায়ে পাস ও অনার্স কোর্সের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছিলো, গবেষণার ওপর জোর দেয়া হয়েছিলো, খুলনায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছিলো। শিক্ষার ব্যাপ্তিতে গ্রন্থাগারের জন্য কয়েক হাজার ‘গ্রন্থাগার-বিজ্ঞান’র ডিগ্রিধারী তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছিলো। বিদ্যমান সমস্ত প্রতিষ্ঠানসমূহকে কাজে লাগিয়ে উচ্চশিক্ষা প্রসারের চিন্তা এই কমিশনের প্রতিটি ছত্রেই রয়েছে। আমরা সে-পথে না হেঁটে শিক্ষাকে পণ্যে পরিণত করে দোকান খুলে বসলাম।

তাই প্রশ্ন- স্বৈরাচারি এরশাদ ও বিএনপি-জামাতের পথে আওয়ামী লীগ হাঁটবে কেন?
পরিশেষে বলবো, আমাদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অধিভুক্ত যে-সব প্রকৃত বেসরকারি কলেজসমূহ প্রতিটি জেলা, উপজেলায় ছড়িয়ে আছে -শিক্ষাখাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে যোগ্য শিক্ষক, যোগ্য ভাতাদি দিয়ে সেইসব প্রতিষ্ঠানকে উচ্চশিক্ষা প্রদানের উপযোগী করা হলে উচ্চশিক্ষায় যে সমস্যা -তা সমাধানের লক্ষ্যেই এগিয়ে যাবে দেশ। শুধু নতুন জায়গায় নতুন নতুন ভবন নির্মাণ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না।
লেখক: এ এন রাশেদা, সম্পাদক, সাপ্তাহিক একতা

শেয়ার করুন

Print Friendly and PDF


মতামত দিন

Developed By -  IT Lab Solutions Ltd. Helpline - +88 018 4248 5222