সর্বশেষ

  বাজেটে শিক্ষাকে বিশেষ শ্রেণির হাতে দেওয়ার চেষ্টা: ছাত্র ইউনিয়ন   এ বাজেট ধনীকে আরও ধনী, গরিব-মধ্যবিত্তকে অসহায় করে তুলবে: সিপিবি   আড়াই বছরেও সম্পদের হিসাব জমা দেননি দুদকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা   মুর্তজার মৃত্যুদণ্ড বাতিল করছে সৌদি আরব!   বিয়ানীবাজারে তথ্য আপা প্রকল্পের উঠন বৈঠক অনুষ্ঠিত   শ্রীবাসুদেবের স্নানমন্দিরে উৎসব পালিত   প্রাণীর চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে বিলুপ্ত হচ্ছে উদ্ভিদ প্রজাতি   ডেনমার্কের কমবয়সী প্রধানমন্ত্রী হবেন বামদলের মিটি ফ্রেডরিকসেন   কৃষকের দুর্গতির আসল কারণ হলো দেশে ‘পুঁজিবাদী ব্যবস্থা’   দিনে ছাপবে ২৫ হাজার ই-পাসপোর্ট, ছাপা হবে এমআরপিও   সরকারবিরোধী স্লোগান দেয়ায় এই বালকের শিরোশ্ছেদ করবে সৌদি!   অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস   ৭৩ বছরে ৩ কোটি মানুষ হত্যা করেছে যুক্তরাষ্ট্র   মিলিয়ন বছরের ঘুমন্ত জীবের পুনরুত্থান!   আজ ঐতিহাসিক ৭ জুন- শহিদ মনু মিয়া দিবস

আন্তর্জাতিক

চলবো-পড়বো, উঠে দাঁড়াবো, লড়বো-জিতবো: কানহাইয়া

প্রকাশিত : ২০১৯-০৫-২৭ ১৭:৩৫:০৭

রিপোর্ট : দিবালোক ডেস্ক


ভারতের জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) ছাত্রসংগঠনের সাবেক সভাপতি কানহাইয়া কুমার। তাকে চিনতো জেএনইউ ক্যাম্পাস। বিহার ভোটে তাকে কিছুটা চিনেছিল বেগুসরাই। কিন্তু ক্রমে তিনি জাতীয় রাজনীতির নতুন তারকায় পরিণত হন। ২০১৬ সালের মার্চে দেশদ্রোহিতার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে তিন সপ্তাহ তিহার জেলে কাটিয়েছেন। দিল্লি হাইকোর্টের আদেশে অন্তর্বর্তী জামিন পেয়ে মুক্ত হয়ে তিনি জাতীয় নেতায় পরিণত হন। জেএনইউ ক্যাম্পাসে বক্তৃতা করে গোটা দেশকে মাতিয়ে তোলা কানহাইয়ার নাম এখন সকল ভারতীয়র মুখে মুখে। সংবাদমাধ্যমে ও সোশ্যাল মিডিয়ায় তার বক্তৃতা ভাইরাল হয়ে ঘুরছে।

ভোটের লড়াইয়ে খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি শেষ পর্যন্ত। প্রায় চার লাখ ভোটে হেরে গেছেন বিজেপির হাইপ্রোফাইল প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিংয়ের কাছে। মোট ১২ লাখ ১৭ হাজার ভোটের মধ্যে গিরিরাজ পেয়েছেন ৬ লাখ ৮৮ হাজার, কানহাইয়া পেয়েছেন ২ লাখ ৬৮ হাজার এবং তানভীর হাসান পেয়েছেন ১ লাখ ৯৭ হাজার ভোট। 
ভোটে হারের পর শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কানহাইয়া কুমার। হিন্দিতে প্রকাশিত ওই পোস্টটি বাংলা ট্রিবিউন পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-
বন্ধুরা,
আপনাদের সবার সাহস জোগানো বার্তাগুলোর জন্য মন থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এক এক করে সবাইকে জবাব দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, তাই এই পোস্টেই আমি সবাইকে লিখছি। আপনাদের কথাগুলো পড়ে আমার মনে হয়েছে আপনারা ভাবছেন আমি হতাশ। কিন্তু এটা মোটেই সত্য নয়। আমি মনে করি-
‘ভোটে হেরেছি, লড়াই নয়

হেরেছি, নত হইনি

জীবনের জন্য,

সবার খুশির জন্য

চলবো-পড়বো, আবার উঠে দাঁড়াবো

লড়বো, জিতবো’

এই ভাবনার কারণে আজ এই পর্যায়ে আমি পৌঁছাতে পেরেছি। ভরসা রাখুন, আগামীতেও এই দৃঢ়তা অব্যাহত থাকবে। আমি সব সময় বলেছি, আমার লড়াই অধিকার ও লুট এবং সত্য ও মিথ্যার লড়াই। সংখ্যার শক্তিতে হেরে গেলেও সত্য সব সময় সত্য থাকে। সংখ্যার শক্তিতে হেরে গিয়েছিলেন গ্যালিলিও এবং কোপেরনিকাসও। বাবা সাহেব ও ইরম শর্মিলাও হেরেছেন সংখ্যার শক্তিতে। যখন রাজতন্ত্র কায়েম ছিল তখন গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলা লোকদের দমন করা হয়েছে। এখনকার বাস্তবতা হলো,  ১৫ শতাংশ বিদ্বেষবাদী ৮৫ শতাংশ জনগণকে আতঙ্কে রেখে ৯৯ শতাংশ মানুষের ওপর লুটতরাজ চালাচ্ছে। শক্তির কাছে আজ হয়ত সত্য হেরে গেছে, কিন্তু একদিন মানুষ নিশ্চিতভাবেই এর তাৎপর্য বুঝতে পারবে।

ভোটের ফল নিয়ে যারা হতাশ তাদের বুঝতে হবে যে, এই হার আমাদের চিন্তার হার নয়। আমাদের লড়াই বিদ্বেষ ও লুটতরাজের বিরুদ্ধে। এই লড়াই হলো আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের সন্তানদেরও ভবিষ্যৎ উন্নত করার লড়াই, যে বিষয়ে বিরোধীরা এখনও আমাদের সঙ্গে একমত হয়নি। আজ তাদের রাজনৈতিক অবস্থা ভিন্ন, কিন্তু আমরা যদি আমাদের যোগযোগ অব্যাহত রাখি একদিন ওই সন্তানরাও আমাদের অবস্থান বুঝতে পারবে।

এক সময় জাতিবিদ্বেষ ও দাসপ্রথা ইত্যাদি সমাজের বড় অংশের সমর্থন পেয়েছিল। যেসব দেশে জাতিবিদ্বেষ ও দাসপ্রথা বৈধ ছিল সেই সব দেশেও জনগণের আন্দোলন সত্যকে সত্য আর মিথ্যাকে মিথ্যা প্রমাণ করেছে। সমাজের বড় অংশের সমর্থন থাকার ফলে এটা সত্য বলে প্রমাণিত হয় না। ঘৃণা ও সহিংসতাকে দেশপ্রেম হিসেবে হাজির করার চেষ্টারত বাজার ও ক্ষমতার যৌথ প্রচেষ্টা ও শক্তিশালী ব্যবস্থার কারণে অধিকাংশ মানুষের সামনে সঠিক বাস্তবতা উঠে আসছে না। কিন্তু কোটি কোটি রুপি খরচ করে জনগণের সামনে যে চিত্র রাখা হচ্ছে তা খুব শিগগিরই সত্যের তাপে গলে যাবে। আমাদের সবাইকে সেই পর্যন্ত নিজেদের সাহস ও দৃঢ়তা ধরে রাখতে হবে। আর আমাদের বিরোধীদের সঙ্গে লড়াই জারি রাখতে জনগুরুত্বপূর্ণ দাবি নিয়ে কণ্ঠস্বর জোরদার করতে হবে।

আপনারা যেভাবে সব বাধা ও হুমকি মোকাবিলা করে সত্যের পক্ষে লড়াই করেছেন তাতে অনেকেই অনুপ্রেরণা পেয়েছে। ভবিষ্যতেও আপনাদের নিজেদের ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে। আপনারা নিশ্চয়ই সেই পাখির গল্প শুনেছেন, জঙ্গলে আগুন লাগার পর পাখিটি পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছিল। তখন জঙ্গলের অন্যান্য পশুরা তাকে নিয়ে হাসাহাসি করছিল। পাখিটির জবাব ছিল- ‘যখন ইতিহাস লেখা হবে তখন আমার নাম থাকবে আগুন নেভানোর কাজে এবং তোমরা নীরবে দাঁড়িয়ে পুরো ঘটনা দেখেছো, কিছু করোনি’।

ভয় পাবেন না, কারণ ভয় থেকেই হার আসে এবং লড়াইয়ের পরই আসে জয়। আসুন আমরা সবাই এই কথাটি স্মরণ করি, ‘প্রথমে মানুষ আপনাকে উপেক্ষা করবে, এর পর আপনাকে নিয়ে হাসবে, এরপর আপনার সঙ্গে লড়াই করবে। কিন্তু এর পর আপনারই জয় হবে’।

শেয়ার করুন

Print Friendly and PDF


মতামত দিন

Developed By -  IT Lab Solutions Ltd. Helpline - +88 018 4248 5222