সর্বশেষ

  আসামের রাষ্ট্রহীন মানুষ কোথায় যাবে   ঝাড়খন্ড থেকে আমদানি হবে বিদ্যুৎ   বাষট্টির আন্দোলনের স্মৃতিকথা   শিক্ষা দিবসের ৫৭ তম বার্ষিকী আজ   আমাদের বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে: রাব্বানী   নাটোরে যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে অফিসে আটকে শ্রমিককে মারধরের অভিযোগ   ইয়াবাসহ গ্রেফতার সেই ৫ পুলিশ সদস্য রিমান্ডে   নতুন ভিডিও প্রকাশ, মিন্নীই রিফাতকে হাসপাতালে নেন   দেশজুড়ে ছাত্রলীগ ও প্রশাসনের সম্পৃক্ততায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির ঘটনায় প্রগতিশীল ছাত্রজোটের সংবাদ সম্মেলন।   বিয়ানীবাজারে গাছের সাথে এ কেমন শত্রুতা!   ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি ফেরাতে চান নতুন নেতারা   ইমরান এইচ সরকারের ওপর হামলা মামলার প্রতিবেদন ২৩ অক্টোবর   সৌম্য বাদ, ফিরলেন রুবেল-শফিউল   যারা অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসে তারা দেশের উন্নতি চায় না: প্রধানমন্ত্রী   ঢাকসু থেকে রাব্বানীর পদত্যাগ করা উচিত: নুর

আন্তর্জাতিক

অমূল্য সম্পদ সুন্দরবনকে রক্ষা করতে হবে

প্রকাশিত : ২০১৯-০৭-০৬ ০০:১৮:৪৪

রিপোর্ট : দিবালোক ডেস্ক


 বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সম্পাদক রুহীন হোসেন প্রিন্স বলেন, সুন্দরবন আমাদের অমূল্য সম্পদ একে রক্ষা করতে হবে। দেশের মানুষ এই সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় দেখার জন্য ভোট দিয়েছিলাম। আজ সেই ঐতিহ্য আর সম্মান সরকারের ভুল ও দায়িত্বহীন কর্মকাণ্ডের কারণে চলে যাবে এটা মেনে নেয়া যায় না। 


গত ২৮ জুন জাতীয় প্রেসক্লাব, জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘সুন্দরবন সুরক্ষায় ইউনেস্কোর সর্বশেষ সুপারিশ, বনের প্রতি সরকারের অবহেলা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়াদী’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। 

তিনি আরও বলেন, সুন্দরবন রক্ষার পদক্ষেপ নিয়ে মিথ্যাচার করা হচ্ছে। সুন্দরবনে এ ধবংসযজ্ঞ চলছে। দেশের সব কাজতো হচ্ছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নামে, তাই মানুষের এ রক্ষা বর্ম ও বিশ্ব ঐতিহ্য যদি চলে যায় তার দায়িত্ব¡ দেশের তাকেই নিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক ও বাপা’র সহ-সভাপতি এডভোকেট সুলতানা কামাল। এতে উপস্থিত থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বক্তব্য রাখেন সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি’র সদস্য জনাব এ.বি. এম. শামসুল হুদা, রুহীন হোসেন প্রিন্স প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব ও বাপা’র সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আব্দুল মতিন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে পরিবেশবাদী অন্যান্য সংগঠনের প্রতিনিধিগণ, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও পরিবেশবিদরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে সুলতানা কামাল তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, ইউনেস্কোর ‘বিশ্ব ঐতিহ্য কেন্দ্রে’র পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সুন্দরবন বিষয়ে একটি সুপারিশ প্রস্তুত করেছে যা আসন্ন ‘বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি’র সভায পেশ করা হবে। এ বিষয়ে ‘বিশ্ব ঐতিহ্য কেন্দ্র’ বন রক্ষায় বাংলাদেশের কৃত কাজ সন্তোষজনক না হওয়ার কারণে আমাদের জাতীয় গর্ব, সম্পদ ও নিরপত্তা বর্ম সুন্দরবনকে ইউনেস্কোর ‘বিপদাপন্ন ঐতিহ্য’ তালিকাভুক্তির সুপারিশ করেছে। এই সভা আগামী ৩০ জুন থেকে ১০ জুলাই ২০১৯ পর্যন্ত আজেরবাইজানের রাজধানী ‘বাকু’ শহরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সভায় বিশ্ব ঐতিহ্য কেন্দ্রের সুপারিশ সমূহের উপর আলোচনা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহিত হবে। সুন্দরবন বিষয়ে ’কেন্দ্রের’ সুপারিশ যদি ’কমিটি’ চূড়ান্ত হিসেবে গ্রহণ, করে তাহলে সুন্দরবন তার বর্তমান‘ঐতিহ্যে’র সম্মান হারাবে। অর্থাৎ সম্মান হারাবে বাংলাশে, সারাবিশে^ দেশ ও জাতি হিসেবে আমাদের জন্য এটি একটি বড় অযোগ্যতা, ব্যর্থতা, লজ্জাকর ও অপমানকর বিষয় হিসেবে পরিগণিত হবে।

তিনি আরো বলেন, সরকার নির্বিকার হলে, তার উপর চাপ প্রয়োগের লক্ষ্যে বনকে ‘বিপদাপন্ন তালিকাভুক্ত’ করার ইউনেস্কোর একটি পদ্ধতি রয়েছে, সুন্দরবন বিষয়ে তারা সেটিই গ্রহণ করার চেষ্টা করছে। সুন্দরবন ও তৎসংলগ্ন এলাকা তথা সারা দেশের পরিবেশ সংরক্ষণের বৃহত্তর বিবেচনায়, আমরা মনে করি যে ইউনেস্কো কেন্দ্র সঠিকভাবেই তাদের এই প্রক্রিয়া গ্রহণ করেছে। সরকার যেহেতু সুন্দরবন ও পরিবেশের প্রতি যত্নশীল নয়, সেক্ষেত্রে বন রক্ষায় আমরা ইউনেস্কোর এই পদক্ষেপকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করছি।

সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব ডা. মো. আব্দুল মতিন বলেন, সুন্দরবন এলাকায় উন্নয়নের নামে ধ্বংস চলছে। আমরা সবাই উন্নয়ন চাই, তাই বলে পরিবেশ ধ্বংস করে, বন ধ্বংস করে সে প্রকল্প চাই না। সুন্দরবন রক্ষার আন্দোলন শুধু বাংলাদেশের আন্দোলন নয়, এটি ভারতসহ সারা বিশে^র পরিবেশ সংরক্ষণবাদী ও সর্বস্তরের জনগণের আন্দোলন। সুন্দরবন রক্ষায় বাংলাদেশের এ আন্দোলনের সঙ্গে অন্যান্য দেশের পরিবেশ ও বন সংরক্ষণকারী আন্দোলনকারীদের সম্বয়ে সম্মিলিত কার্যক্রমের প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরো বলেন, ইউনেস্কোর বৈঠক শেষ হওয়ার পরের পরিস্থিতি দেখে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি জাতীয় পর্যায়ে বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলনের প্রচেষ্টা গ্রহণ করবে।

এ.বি. এম. শামসুল হুদা বলেন, আমরা দেশের উন্নয়ন চাই বিদ্যুৎ চাই কিন্তু তা কোনভাবেই সুন্দরবনকে ধ্বংশ করে নয়। উন্নয়নের নামে সুন্দরবনে যে ধ্বংসলীলা চলছে তার বিরুদ্ধে গোটা জাতীকে আজ ঐক্য বদ্ধ হতে হবে। দেশের নদী, বন ও জলাশয়গুলোকে রক্ষা না করতে পারলে কোন উন্নয়নই কাজে আসবে না।

শেয়ার করুন

Print Friendly and PDF


মতামত দিন

Developed By -  IT Lab Solutions Ltd. Helpline - +88 018 4248 5222