আজ শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯ ইং

জাতীয়

মো. কিবরিয়া

০৬ জুলাই, ২০১৯ ১৫:০৪

৭ জুলাই, সেই অস্ত্রটি ফেরত নেবার দিন


 একটা ভোটের নামে প্রহসন হয়ে গেল, কেউ রুখে দাঁড়াতে পারলো না। একেকটা হত্যা হচ্ছে প্রকাশ্য দিবালোকে- মানুষ ক্ষোভে ফুঁসে উঠছে না৷ গুম-ক্রসফায়ারের নামে যা ইচ্ছে তাই করছে সরকারি বাহিনী- বিচারব্যবস্থা হচ্ছে প্রশ্নের সম্মুখীন- প্রতিরোধ নেই সে অর্থে।

নিরংকুশ ক্ষমতাচর্চার এই সময়ে মানুষ কেমন যেন হতবিহ্বল হয়ে উঠছে, ফলে সরকার হয়ে উঠছে আরো বেপরোয়া। বাজেট হচ্ছে দুর্নীতিবাজ, বড়লোকদের সুবিধা দিতে, অপরদিকে সাধারণ জনগণের টাকা পকেটে পুরতে বসানো হচ্ছে ভ্যাট ট্যাক্স। গ্যাসের দাম বিনা কারণে বাড়ানো হলো লুটপাটের সুবিধার্থে।

এমন সময় বামজোট ৭ জুলাই গ্যাসের দাম বৃদ্ধি ও গরীব শোষণের বাজেটের প্রতিবাদে হরতাল ডেকেছে।
হরতাল মানে ভাঙচুর, সংঘর্ষ নয়, হরতাল হলো এক ধরনের অসহযোগ৷ সত্যিকারের হরতাল হলো সেটাই, যেখানে মানুষ সরকারকে বুঝিয়ে দেয়, তোমার সাথে আমি নেই। মানুষ একদিন কাজ বন্ধ করে রাখলে, সরকারকে অসহযোগিতা করলে সরকার একটা সিগন্যাল পায়, অন্তত এই মেসেজটা পায় যে, যতই ক্ষমতা থাকুক, জনগণকে ছাড়া একটা রাষ্ট্র চালানো সম্ভব নয়।

হ্যাঁ, হরতালের মত হরতালে দেশের সাময়িক কিছু ক্ষতি হয়, কিন্তু সেই হরতালের মত হরতালগুলো আমাদের দেশকে দিয়েছে অনেক কিছু৷ সরকারকে অসহযোগিতা করার মাধ্যমে হরতাল হয়ে ওঠে শাসককে কাবু করার এক বিশেষ অস্ত্র। মুক্তিসংগ্রামের ক্ষেত্র প্রস্তুতিতে, গণতন্ত্রের সংগ্রামে হরতাল রেখেছে বিশেষ ভূমিকা। অথচ, এই হরতালকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি অকার্যকর অস্ত্রে পরিণত করেছে, ক্ষমতার কামড়াকামড়িতে এর অতি অপব্যবহার করে। মানুষের এই অসহযোগিতার অস্ত্রটি হাতছাড়া হয়ে গেছে মানুষের কাছ থেকে।

৭ জুলাই, সেই অস্ত্রটি ফেরত নেবার দিন। মানুষের কাছ থেকে গণতন্ত্রসহ যা যা কেড়ে নেওয়া হয়েছে, তা ফেরত আনার প্রক্রিয়া শুরুর দিন। ওইদিন সরকারকে জানিয়ে দেয়ার দিন যে, তোমার গণবিরোধী নীতির সাথে আমরা নেই। হরতাল কে ডাকলো তা বড় ব্যাপার নয়, বড় ব্যাপার হলো এই হরতাল আমাদের সুযোগ করে দিয়েছে নৈশভোটে নিজেদের বিজয়ী ঘোষণা করা এই সরকারকে প্রত্যাখ্যান করার৷

৭ তারিখ, যে যেভাবে পারেন, এই হরতালকে সফল করতে চেষ্টা করুন, নিজ স্বার্থেই। ছেলে মেয়েদের স্কুলে একদিন না পাঠালে খুব একটা ক্ষতি হবে না, একদিনের বেতন কিংবা একটা লাল কালিতে কি খুব বেশি ক্ষতি হবে চাকরিজীবনের? একটা দিন একটু দেরি করে গেলে অফিসে একটু না হয় বিপদেই পড়লেন, আপনি ও আপনার পরিবার কি কম বিপদ ও অনিশ্চয়তায় আছে? কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, একদিন ক্লাস বন্ধ করে নেমেই দেখুন না কী হয়- আপনারা তো দেখিয়েছেন কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়কের আন্দোলনে, আরেকবার নামুন না!

জনগণের হাতে ট্যাংক-কামান-বন্দুক নেই। কিন্তু জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ সবকিছুর চেয়ে শক্তিশালী। অসহযোগ আন্দোলনের অভিজ্ঞতা এই অঞ্চলের মানুষের আছে। জনগণ না চাইলে, কোন শক্তিধর কেউই ক্ষমতার দাপটে যা ইচ্ছে তাই করতে পারে না। হরতালের মত কর্মসূচি জনগণের অসহযোগের প্রথম ধাপ।

এই হরতালে রাস্তায় নেমে মিছিল না করুন, পারলে একবার ফুটপাত ঘেঁষে হলেও দাঁড়ান৷ দরকার হলে অন্য কোন ব্যানারে নামুন, একটা ফেস্টুন নিয়ে দাঁড়ান। তাও না পারলে অন্তত হরতালের প্রচারটা করুন, সেদিন অন্তত কয়েকটা ঘন্টা গাড়িতে নাই উঠলেন, স্কুল কলেজ অফিসে নাইবা গেলেন।

এগুলোর কোনটাই নাও করতে পারেন আপনি। এমনকি এই হরতাল সমর্থন নাও করতে পারেন। কিন্তু ভবিষ্যতে আপনার আরো দুর্দশার জন্য তখন নিজেদের দায়ী না করে থাকতে পারবেন? এটাও তো বলার সুযোগ নেই যে, কেউ ডাক দেয়নি!



শেয়ার করূন

আপনার মতামত