সর্বশেষ

  চুয়াডাঙ্গায় মহিষের শিংয়ে প্রাণ গেল মালিকের   কুবিতে ভর্তির আবেদন ১ সেপ্টেম্বর   তিন দিনের সফরে ঢাকায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী   ডেঙ্গুতে পাঁচ জেলায় আরও ৭ জনের মৃত্যু   বিয়ানীবাজার পৌরসভার উদ্যোগে যথাযথ মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবস পালন   বিয়ানীবাজার উপজেলা প্রশাসনের জাতীয় শোক দিবস পালন   ঢাকা মেডিকেল এলাকায় এডিস মশার আবাসস্থল ধ্বংস করলো যুব ইউনিয়ন   এডিস মশা পানিতে ডিম পাড়ে না, জানালেন বিশেষজ্ঞ   রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়া সবাই রাষ্ট্রের চাকর: হাই কোর্ট   মুসলিমদের গরু কুরবানি দিতে নিষেধ করলেন মন্ত্রী!   বিনা পারিশ্রমিকেই খেলবে জিম্বাবুয়ের খেলোয়াড়রা   সিলেটেও ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু, ২৪ ঘন্টায় নতুন করে আক্রান্ত ৫৩ জন   সুপ্রিয় চক্রবর্তী রঞ্জু আর নেই   যার ফোনে ফেরি ছাড়তে দেরি তিনিই করলেন তদন্ত কমিটি!   মুসলিম নির্যাতনের প্রতিবাদ করায় সৌমিত্র-অপর্ণার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের মামলা

জাতীয়

ওষুধ ছেটালে দক্ষিণ সিটির মশা উড়ে যায় উত্তরে, হাইকোর্টকে আইনজীবী

প্রকাশিত : ২০১৯-০৭-২৬ ১৩:০৯:১১

রিপোর্ট : দিবালোক ডেস্ক



মশা নির্মূলে ঢাকার উভয় সিটি করপোরেশনের পদক্ষেপ সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তাদের আইনজীবীরা হাইকোর্টকে জানিয়েছেন, যদি রবিবার ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় মশা মারার ওষুধ দেওয়া হয় তবে সোমবার সে এলাকার মশা উড়ে উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় চলে যায়।

এ সময় বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ প্রশ্ন করেন, এটা কোনও কথা হলো? সদরঘাটের মশা কি তাহলে উত্তরা চলে যায়?

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) তলব আদেশ অনুসারে ২ সিটির প্রধান দুই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আদালতে হাজির হন। তাদের উপস্থিতিতে আইনজীবীরা আদালতকে এসব কথা বলেন।আদালতে উত্তর সিটি করপোরেশনে পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী তৌফিক ইনাম টিপু ও দক্ষিণের পক্ষে আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল হাসান ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সায়রা ফাইরোজ।

এর আগে সকালে আদালতের তলবে হাজির হওয়ার পর ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রি. জেনারেল ডা. মো. শরীফ আহমেদ ও ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রি. জেনারেল মো. মোমিনুর রহমান মামুনের বক্তব্য শোনেন হাইকোর্ট।তাদের বক্তব্য শুনে আদালত বলেন, ‘এডিস মশা ও ডেঙ্গুর কারণে মানুষ আজ ঘরে ঘরে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। যে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে তা কোনও কাজ করছে না। তাই এডিস মশা নির্মূল ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ১ সপ্তাহের মধ্যে আমরা নতুন কার্যকর ওষুধ চাই।’

আদালত ২ স্বাস্থ্য কর্মকর্তার উদ্দেশে আরও বলেন, ‘১ সপ্তাহের মধ্যে কোন প্রক্রিয়ায়, কীভাবে ওষুধ আনা যাবে আমাদের জানান, আমরা সরকারকে সেভাবে আদেশ দেবো।’ এডিস মশা নির্মূল ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু সিটি করপোরেশন নয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কেও এগিয়ে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেন আদালত।পরে ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়াসহ বিভিন্ন রোগের বাহক এডিস মশা নির্মূল ও ধ্বংসে বিদেশ থেকে ১ সপ্তাহের মধ্যে ওষুধ আনার প্রক্রিয়া দুপুর ২টার মধ্যে জানাতে বলেন আদালত।

পরে দুপুরে মামলাটি আবার শুনানির জন্য উঠলে ২ সিটি করপোরেশনের আইনজীবীরা আদালতকে জানান, মশা নিধনে বিদেশ থেকে ওষুধ আনতে ১ মাসের মতো সময় প্রয়োজন। তবে এজন্য ডিএসসিসি ও ডিএনসিসি কেনা ওষুধের ডোজ (মাত্রা) বাড়িয়ে চেষ্টা করতে সময় চান তারা। আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা আদালতকে বলেন, ‘ওষুধের ডোজ বাড়িয়ে দিয়ে কার্যকরী ফল পাওয়া যেতে পারে। সেখানে একবারের জায়গায় প্রয়োজনে একাধিকবার ফায়ার (স্প্রে) করে চেষ্টা করা হবে।’

আদালত বলেন, ‘আপনারা ৩ বা ৪ বার গুলি (স্প্রে) করতে পারেন। কিন্তু আমরা চাই মশা মরুক।’এসময় আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা আদালতকে বলেন, ‘যদি রবিবার ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় মশা মারার ওষুধ দেওয়া হয় তবে সোমবার সে এলাকার মশা উড়ে উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় চলে যায়।’এ পর্যায়ে আদালত প্রশ্ন তোলেন, ‘এটা কোনও কথা হলো? সদরঘাটের (ডিএসসিসি এলাকা) মশা কি তাহলে উত্তরা (ডিএনসিসি এলাকা) চলে যায়?

জবাবে আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা বলেন, ‘আমরা ২ সিটি করপোরেশন যৌথভাবে ডোজ বাড়িয়ে ওষুধ ছিটাতে চাই, তাহলে কাজ হবে। মশারা ফিনাইল, হারপিক ও বিটুমিনের পানি খেয়ে ফেলে। তাই ডোজ বাড়িয়ে চেষ্টা করতে হবে। প্রয়োজনে দিনে ৫-৬ বার ওষুধ দিয়ে দেখতে হবে।’

এরপর উভয় সিটি করপোরেশনের আইনজীবীরা ডোজ বাড়িয়ে সমন্বিতভাবে ওষুধ ছিটিয়ে দেখতে আদালতের কাছে সময় আবেদন করেন। আগামী মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন আদালত।তবে এ সময়ের মধ্যে ওষুধের ডোজ বাড়িয়ে মশা নিধন হয়েছে কিনা সে বিষয়ে একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেন আদালত। পাশাপাশি ২ সিটি করপোরেশনের প্রধান দুই স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেন।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ১৪ জুলাই আদালত তার আদেশে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জানাতে ২ সিটির মেয়র, নির্বাহী কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য সচিব, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালককে জানাতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।

একইসঙ্গে নাগরিকদের ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ এ ধরনের রোগে আক্রান্ত হওয়া বন্ধ করতে এবং এডিস মশা নির্মূলে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন।পরে ২ সিটির পক্ষ থেকে গত ২২ জুলাই হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। তবে প্রতিবেদনে আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ২ সিটির প্রধান দুই স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে তলব করেন।

শেয়ার করুন

Print Friendly and PDF


মতামত দিন

Developed By -  IT Lab Solutions Ltd. Helpline - +88 018 4248 5222