সর্বশেষ

  ২১ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পদবিবরণী দাখিল করতে হবে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ১০ কর্মকর্তার   হুমায়ূন আহমেদের ৭১তম জন্মবার্ষিকী আজ।   প্রাথমিকের শিক্ষকদের বেতন বাড়ছে   সড়ক পরিবহন আইন নিয়ে সিলেটে ট্রাফিক পুলিশের প্রচারণা   ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ৮ জনই হবিগঞ্জের   শ্রীমঙ্গলে একরাতে ৭ মন্দিরে চুরি, প্রতিমা ভাংচুর   আহত বাবা-মাকে নিয়ে ঢাকার পথে অ্যাম্বুলেন্স, মর্গে পড়ে আছে ছোঁয়া মনির নিথর দেহ   গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে সিলেটে নাহিদ   বুলবুলের পর এবার ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় 'নাকরি'   পায়ের ওপর দিয়ে বাস, মৃত্যুর কাছে হার মানলেন সেই নারী   আসন্ন সম্মেলন উপলক্ষে বিয়ানীবাজারে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের প্রচার মিছিল অনুষ্টিত   সিলেটের ট্রেন যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে   মেয়াদোত্তীর্ণ ৭৭% রেল ইঞ্জিন!   নিহতদের পরিবারকে ১ লাখ টাকা করে দেবে রেল মন্ত্রণালয়   সেই শিশুটির স্বজন পাওয়া গেছে

জাতীয়

জগন্নাথপুরে দাঙ্গা-হাঙ্গামার অভিযোগে অস্ত্রসহ ১৩ জন গ্রেপ্তার

প্রকাশিত : ২০১৯-১১-০৬ ০০:২২:২৩

রিপোর্ট : দিবালোক ডেস্ক

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে এক যুবকের ওপর হামলার ঘটনায় এবং দাঙ্গার প্রস্তুুতি নেয়ার অভিযোগে পুলিশ অস্ত্রসহ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। মঙ্গলবার বিকেলে তাদেরকে সুনামগঞ্জ জেল হাজতে পাঠানো হয়। এই দুইটি ঘটনায় পৃথক মামলা হয়েছে।

অস্ত্র ও হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন পৌরসভার ইসহাকপুর এলাকার আব্দুল আজিজের ছেলে রুহুল আমিন টিপু (২৯), আব্দুল গণির ছেলে আব্দুল কছির (৩৯), হবিব উল্লার ছেলে আব্দুল কাইয়ুম (৫০), মৃত আব্দুল মতিনের ছেলে আব্দুর রশিদ (৪২), মৃত আব্দুর নুরের ছেলে জুয়েল আহমদ (২৯), জগন্নাথপুর গ্রামের মৃত হারিছ উল্লার ছেলে শফিকুল ইসলাম খেজর (৩৬), সামছুল হকের ছেলে এনাম আহমদ (২৬), দিনাজপ্রু জেলার খানসেবা থানার হুলিহারা গ্রামের আকবল আলী ছেলে আব্দুল মতিন (৪২), সিলেটের দক্ষিণ সুরমা এলাকার বড়ইকান্দির তাহির আলীল ছেলে সুমন আহমদ (৩৮), জন্তার লামা মহাইল গ্রামের মৃত আজিজুল হকের ছেলে রইছ উদ্দিন (৩০), আব্দুস সত্তারের ছেলে মোহাম্মদ আলী (৩২), সিরাজুল হকের ছেলে নাছির উদ্দিন (২১) ও আব্দুল খালেকের ছেলে আল আমিন (২০)।

পুলিশ ও স্থানীয় এলাকাবাসি জানান, জগন্নাথপুর পৌর এলাকার ইসহাকপুরের আব্দুল জলাল এর পক্ষের সুন্দর আলীর ছেলে সরোয়ার হোসেন (২১) এবং একই এলাকার আব্দুস সাত্তারের পক্ষের লাল মিয়ার ছেলে রানা মিয়ার মধ্যে পূর্ব বিরোধ চলছিল। প্রায় আড়াই বছর পূর্বে রানা মিয়ার ওপর হামলা করে সরোয়ার। এই ঘটনায় প্রতিশোধ নিতে আড়াই বছর পর গত ২৮ অক্টোবর জগন্নাথপুরের আছিমশাহ’র ওরুস থেকে রাতে বাড়ি ফেরার পথে মনাইভাংতি নামকস্থানে সরোয়ার হোসেনের ওপর প্রতিপক্ষের লোকজন হামলা চালিয়ে ধারালো অস্ত্র নিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে পালিয়ে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে উপেজলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এঘটনায় দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সোমবার গভীর রাতে পুলিশ খবর পায় দাঙ্গা সৃষ্টির জন্য ভাড়াটিয়া লোকজন এলাকায় অস্ত্রসন্ত্রে সজ্জিত হয়ে অবস্থান নিয়েছে। এ অবস্থায় জগন্নাথপুর থানার একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে আব্দুস সত্তারের ভাই লন্ডন প্রবাসি আব্দুল কাহারের বাড়ি থেকে অস্ত্রসহ ১৩ জন গ্রেপ্তার করে। এই ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে অস্ত্র আইনে গ্রেপ্তারকৃত ১৩ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করে।

অপরদিকে হামলায় শিকার আহত যুবকের বাবা সুন্দর আলী বাদি হয়ে ২২জনকে আসামী করে মামলা করেছেন। এঘটনায় অস্ত্র আইনে গ্রেপ্তারকৃত ১৩ জনের মধ্যে ৫ জনকে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

যুক্তরাজ্য প্রবাসি আব্দুল কাহারের ভাই আব্দুস সত্তার জানান, ‘দুই ছোট বাচ্চাদের মধ্যে বিরোধ ছিল। এর জের ধরে প্রতিপক্ষের লোকজন ৩/৪ দিন আমাদের পক্ষের আব্দুল আজিজের ওপর হামলা করেছে। এই ঘটনার আড়াই তিন বছর পূর্বে রানা মিয়াকে তাঁরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। আমরা কোন পক্ষের ওপর হামলা করিনি।’

অপরদিকে আব্দুল জলাল জানান, আমাদের এক যুবককে প্রতিপক্ষের লোকজন হত্যার উদ্যেশে কুপিয়ে রক্তাক্ত করেছে। সে এখন আইসিইউতে রয়েছে। হামলার পর প্রতিপক্ষের লোকজন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী এনে আমাদের লোকজনের ওপর হামলার জন্য প্রস্তুতি নেয়। পুলিশ তাদেরকে গ্রেপ্তার করেছে।

স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর খলিলুর রহমান জানান, দুই পক্ষের মধ্যে পূর্ব বিরোধের জের ধরে গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

জগন্নাথপুর থানার এসআই অনুজ কুমার দাশ জানান, ‘বিভিন্ন এলাকার ১৩ জন ব্যক্তিকে অস্ত্রসহ জড়ো করার খবর পেয়ে আমরা অভিযান চালিয়ে আব্দুল কাহারের বাড়ি থেকে একটি পাইপগান, লোহার একটি তলোয়ার, ২টি রামদা, ২টি ছুরি, ৩টি বর্শাসহ দেশীয় বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ তাদের আটক করি। পরে অস্ত্র আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছি।’

সহকারী পুলিশ সুপার জগন্নাথপুর সারকেল মাহমুদ হাসান চৌধুরী বলেন, ‘দুই পক্ষের পূর্ব বিরোধের জের ধরে গত কয়েকদিন ধরে ইসহাকপুর গ্রাম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। পুলিশ বিষয়টি নজরদারি করছিল যে কারণে বড় ধরনের সংঘাতের আগেই আমরা তাদেরকে গ্রেপ্তার করতে পেরেছি।’

শেয়ার করুন

Print Friendly and PDF


মতামত দিন

Developed By -  IT Lab Solutions Ltd. Helpline - +88 018 4248 5222