সর্বশেষ

  বাজেটে শিক্ষাকে বিশেষ শ্রেণির হাতে দেওয়ার চেষ্টা: ছাত্র ইউনিয়ন   এ বাজেট ধনীকে আরও ধনী, গরিব-মধ্যবিত্তকে অসহায় করে তুলবে: সিপিবি   আড়াই বছরেও সম্পদের হিসাব জমা দেননি দুদকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা   মুর্তজার মৃত্যুদণ্ড বাতিল করছে সৌদি আরব!   বিয়ানীবাজারে তথ্য আপা প্রকল্পের উঠন বৈঠক অনুষ্ঠিত   শ্রীবাসুদেবের স্নানমন্দিরে উৎসব পালিত   প্রাণীর চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে বিলুপ্ত হচ্ছে উদ্ভিদ প্রজাতি   ডেনমার্কের কমবয়সী প্রধানমন্ত্রী হবেন বামদলের মিটি ফ্রেডরিকসেন   কৃষকের দুর্গতির আসল কারণ হলো দেশে ‘পুঁজিবাদী ব্যবস্থা’   দিনে ছাপবে ২৫ হাজার ই-পাসপোর্ট, ছাপা হবে এমআরপিও   সরকারবিরোধী স্লোগান দেয়ায় এই বালকের শিরোশ্ছেদ করবে সৌদি!   অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস   ৭৩ বছরে ৩ কোটি মানুষ হত্যা করেছে যুক্তরাষ্ট্র   মিলিয়ন বছরের ঘুমন্ত জীবের পুনরুত্থান!   আজ ঐতিহাসিক ৭ জুন- শহিদ মনু মিয়া দিবস

সিলেট

হাঁস পালন একটি লাভজনক ব্যবসা

প্রকাশিত : ২০১৪-১০-০৩ ১৯:৫৯:৪৩

রিপোর্ট : ইমাম হাসনাথ সাজু

হাঁস পালন একটি লাভজনক ব্যবসা। এই আশায় প্রায় ছয় বছর আগে হোসেন মিয়া একটি হাঁসের খামার গড়ে তোলেন। হাটি হাটি পা পা করে খামারটি ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে। প্রথমদিকে এ খামারটি কয়েকটি হাঁস নিয়ে গড়ে তোলা হলে এখন খামারটিতে বর্তমানে প্রায় ছয়শতের অধিক হাঁস এ খামারে রয়েছে। হাঁসগুলো সারাদিনের খাবার হাওরের বিভিন্ন পোকামাকড় খেয়ে এক সাথে বাড়ি ফিরছিল। তাদের ঘ্যাত ঘ্যাত শব্দে হাওরের বেশ বড় একটি জায়গা কোলাহলে মুখরিত হয়ে উঠলো। পড়ন্ত বিকেলে হাঁসের এক রাখাল তাদেরকে পথ দেখিয়ে নিয়ে আসছেন খামারের দিকে। বর্তমানে এ খামারে প্রায় ৬শতের অধিক হাঁস রয়েছে।

হাঁসের খামারের মালিকের সাথে কথা হলে তিনি তার এ খামারের বিভিন্ন অগ্রগতি ও অগ্রগতির পথে বাঁধার কথা উল্লেখ করেন। বিয়ানীবাজার উপজেলার মুড়িয়া ইউনিয়নের বড়দেশ গ্রামের আমির আলীর পুত্র হোসেন আহমদ কৃষি কাজের পাশাপাশি হাঁসের খামার করে বর্তমানে স্বাবলম্বী। প্রায় ছয় বছর পূর্বে উপজেলার মুড়িয়া ইউনিয়নের বড়দেশ গ্রামের ছোট গাঙের পাশে ৭ শতাংশ জমির ওপর একটি টিনসেডের ঘর দিয়ে শুরু করেন হাঁসের খামার। প্রথম দিকে মাত্র ৬০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে ছোট বড় কয়েকটি হাঁস দিয়ে খামার শুরু করলেও দিনে দিনে খামারের আয় বৃদ্ধি করে হাঁসের সংখা বর্তমানে ৬শত। হাঁসের রোগব্যাধি সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রতি বছর বিভিন্ন রোগ ব্যাধিতে মারা যায় অনেক হাঁস। মৃত্যুর এ হার কমাতে তাই নিয়মিত খামারে হাঁসগুলোকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।
হাঁস পরিচর্যার জন্য তার খামারে দুজন বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হয়েছে। তাদের প্রতিমাসে বেতন বাবদ দিতে হয় জন প্রতি ৫ হাজার টাকা। মুড়িয়া হাওরে খামার হওয়ায় খাল বিলের প্রাকৃতিক খাবার যেমন শামুক, পোকা-মাকড়, কীটপতঙ্গ ইত্যাদি খাবার খায়। এতে খরচ অনেকটা কমে যায়। তবে মাঝে মধ্যে প্রাকৃতিক খাবার কমে গেলে হাঁসগুলোকে ধান অথবা র্বানের কুড়া খেতে দিতে হয়।
শরতের পড়ন্ত এক বিকেলে খামারে গিয়ে দেখা যায়, হাঁসগুলো হাওর থেকে দলবদ্ধ হয়ে তাদের নিড় খামার ঘরে আসছে। খামারের উঠোনে দাঁড়িয়ে আছেন হোসেন আহমদ। চারিদিকে হাওরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। খামার ঘরের পাশে পেপে সহ বিভিন্ন সবজির গাছ। খামারের হাঁসগুলো এক নাগাড়ে ৪ থেকে ৫ মাস ডিম দেয়। মধ্যখানে ২ থেকে ৩ মাস বিরতি দিয়ে আবার ডিম দেয়। বর্তমানে হাঁসের ডিম দেওয়ার বিরতির সময় হওয়ার বাজারে চাহিদা মত ডিম না হওয়ার ডিমের দাম বেশি। হোসেন জানান, তার খামারে ৬ শত হাঁসের মধ্যে প্রতিদিন গড়ে ৮০ থেকে ১০০ টি ডিম পাওয়া যায়। যা নিজেরও স্থানীয় দোকানের চাহিদা মিটিয়ে বিয়ানীবাজারে পাইকারের কাছে বাড়ি থেকে প্রতিদিন গড়ে ৬ শত থেকে ৬শত ৫০টি ডিম দিয়ে যায়।
হাঁসের রোগে হাওরের শিয়ার সহ বিভিন্ন প্রাণীর আক্রমণে প্রতি বছর প্রায় ২-৩ শ হাঁস মারা যায়। এ ক্ষতি না হলে খামারটি আরও লাভজনক হতো। সরকারী কোন অনুদান ও ব্যাংক ঋণ ছাড়া নিজ উদ্যোগে চলছে খামার। তিনি জানান, যেহেতু ধান চাষের জন্য বছরের বেশির ভাগ সময় হাওরের থাকতে হয়। এই কথা চিন্তা করে আমার এই খামারটি হাওরের গড়ে তোলা।
দিবালোকের আলাপকালে হোসেন জানান, হাঁসের খাবার ও ঔষধের মূল্য বৃদ্ধি হওয়ায় আগের মতো এখন লাভ ভালো হয় না। তারপরও হাঁসের খাবার, শ্রমীকের বেতন, ঔষধ ইত্যাদি খরচ বাদ দিয়ে প্রতি মাসে গড়ে তার এই হাঁস থেকে ৩০ হাজার টাকা আয় হয়। যা আমাদের কৃষি প্রধান দেশে কম কিসের।

শেয়ার করুন

Print Friendly and PDF


মতামত দিন

Developed By -  IT Lab Solutions Ltd. Helpline - +88 018 4248 5222