Advertise
০৮ মে, ২০২৬ ২২:১৬
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে কৃষকের স্বপ্ন ভাঙল দুর্বৃত্তের প্রতিহিংসায়। রাতের আঁধারে এক কৃষকের ১৫ শতাংশ জমির সব মরিচ গাছ উঠিয়ে ভেঙে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। স্বপ্নের ফসল হারিয়ে এখন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ইমাম হোসেন খোকনের আহাজারি থামছেই না।
উপজেলার মুমুরদিয়া ইউনিয়নের বাঘবের উমেদপুর গ্রামে বৃহস্পতিবার (৭ মে) দিবাগত রাতের কোনো এক সময়ে এ ঘটনা ঘটেছে।
কৃষক ইমাম হোসেন শুক্রবার সকালে জমিতে গিয়ে দেখতে পান তার রোপণ করা সমুদয় মরিচ গাছ মাটি থেকে উঠানো ও ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। প্রতিটি গাছে মরিচ ধরা তার স্বপ্নের জমির এ অবস্থা দেখে আহাজারি করতে করতে মূর্ছা যান। এমন নিন্দনীয় ঘটনায় মর্মাহত এলাকার লোকজন।
এলাকার লোকজন এসে উঠিয়ে ফেলা মরিচ গাছ পুনরায় রোপণ করে দেয়। পুনরায় রোপণ করা মরিচ গাছ জীবিত হওয়ার সম্ভাবনা নাই বলে অনেকে মনে করছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও স্থানীয় লোকজন সূত্রে জানা যায়, প্রায় আড়াই মাস আগে নিজের ১৫ শতক জমিতে বগুড়া থেকে এনে বিদেশি হাইব্রিড উচ্চ ফলনশীল জাতের মরিচের চাষ করেন তিনি। প্রতিটি গাছে প্রচুর মরিচ হওয়ায় ভালো লাভের স্বপ্ন দেখছিলেন। কয়েক দিন পর মরিচ বাজারে বিক্রি করার পরিকল্পনাও করেছিলেন। এর পেছনে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৮ হাজার টাকা তার খরচ হয়েছে।
কৃষক ইমাম হোসেন খোকন বলেন, আমার সঙ্গে কারও শত্রুতা নেই; কিন্তু কে বা কারা এই সর্বনাশ করল আমার। হাইব্রিড উচ্চ ফলনশীল মরিচের চাষ করেছিলাম, আমার কষ্টের ফসল বিনষ্ট দেখে বুকটা শুধু জ্বলছে। প্রায় দুই লাখ টাকার মতো ক্ষয়ক্ষতি হয়ে গেল।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম ভুঁইয়া জানান, কৃষকের মরিচের গাছ উপড়ে ফেলা এক চরম বর্বরতা। কৃষকের সর্বনাশের পাশাপাশি মানুষের খাদ্যেরও ক্ষতি করেছে তারা। আমি এ বিষয়ে খোঁজ নিয়েছি। ক্ষতি পুষিয়ে দিতে কৃষক ইমাম হোসেনকে প্রণোদনা দেওয়া হবে।
কটিয়াদী মডেল থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে সরেজমিন খোঁজ নিয়ে তদন্তসাপেক্ষে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যারা কৃষকের ফসল বিনষ্ট করেছে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।