Advertise
৩১ জুলাই, ২০২৬ ১৯:৪৪
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) মো. রাশেদ খান অভিযোগ করেছেন যে, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তাকে ফোন করে ‘সব ফাঁস’ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকাল ৪টা ৮ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ অভিযোগ করেন।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান দাবি করেন, বৃহস্পতিবার বিকালে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তাকে ফোন করে তার বিরুদ্ধে আর কোনো কথা না বলার অনুরোধ করেন। বিনিময়ে পাটওয়ারীও তার বিরুদ্ধে কোনো বক্তব্য দেবেন না বলে জানান।
রাশেদ লেখেন, গতকাল বিকালে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হঠাৎ আমাকে কল করে বলল- আমি যাতে তার বিরুদ্ধে আর না বলি, সেও আমার বিরুদ্ধে বলবে না। আমি তাকে বললাম- তুমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, তার সহধর্মিণী, কন্যা ও মন্ত্রীদের নিয়ে বাজে কথা বলা বন্ধ করলে, আমি বিষয়টি ভেবে দেখব।
রাশেদের দাবি, জবাবে পাটওয়ারী তাকে বলেন- আজকে এ বিষয়ে মিডিয়ায় বলেছেন, আর এসব করবে না।
তবে একই রাতে পাটওয়ারী আবার ফোন করে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ করে দেওয়ার কথা বলেন বলে দাবি করেন রাশেদ খান। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী বলেন, এরপর রাতে আবার কল করে বলল- আপনি তো আমার বিরুদ্ধে বলেছেন, আমি কিন্তু সব বলে দেব, আমাদের (নাহিদ-আসিফ) কাছে এসে আপনি ৫ লাখ করে টাকা নিয়ে যেতেন! আমি সব ফাঁস করে দেব।
রাশেদ খান দাবি করেন, তিনি তখন পাটওয়ারীকে এসব তথ্য প্রকাশ করে দিতে বলেন। এরপর পাটওয়ারী তার ফ্ল্যাট কেনার বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ থাকার দাবি করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে রাশেদ খান আরও লেখেন, এরপর বলল- আপনি ফ্ল্যাট কিনেছেন, সব ডকুমেন্টস আছে। এসব থেকে বাঁচার জন্য বিএনপিতে গিয়েছেন! উত্তরে আমি বললাম- আমার কোনো ফ্ল্যাট নেই, আর কোনো দিন নাহিদ-আসিফ থেকে ১ টাকা নিইনি! তোমার কাছে আমার সম্পর্কে যা তথ্য আছে, সব ফাঁস করে দাও!
রাশেদ খানের মন্তব্য, তিনি ভেবেছিলেন পাটওয়ারী তার ভুল বুঝতে পেরেছেন। এ কারণে তাকে সুযোগ দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন তিনি।
‘গতকাল তার কল পেয়ে আমি ভেবেছিলাম, ছেলেটি হয়তো তার ভুল বুঝতে পেরেছে। তাকে সুযোগ দেওয়া উচিত। কিন্তু আজকেই দেখলাম, সে আমাকে দেওয়া কথা ভুলে গেছে। আবারও আবোলতাবোল বকা শুরু করেছে...।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানিয়েছিলেন, তিনি আর কোনো কথা বলবেন না এবং চুপ থাকবেন। তিনি বলেছিলেন, আমি আজকে থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব। পুরো বাংলাদেশে দেখব ওনারা কতটুকু বাড়তে পারে, কতটুকু যেতে পারে। আমরা সেই মাত্রাটা দেখব।