Advertise
১৮ অগাস্ট, ২০২৬ ১৬:২৮
সম্প্রতি জাতীয় সংগীত ‘বন্দে মাতরম’ অবমাননার অভিযোগে কংগ্রেসকে আক্রমণ করেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই আক্রমণের জবাবে এবার ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বিজেপি নেতৃত্বকে তীব্র ভাষায় পালটা আক্রমণ করেছেন রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা ৮৪ বছর বয়সি কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে।
গোয়ায় এক জনসভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি অমিত শাহকে তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
খাড়গে বলেন, ‘অমিত শাহ আমাদের সোনিয়া গান্ধী এবং গান্ধী পরিবারের বিরুদ্ধে কথা বলেন। আমি যখন প্রথম বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলাম, অমিত শাহ তখন শিশু ছিলেন। আর আজ তিনি আমাদের দেশপ্রেম শেখাচ্ছেন!’
মূলত ভারতের স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচিতে জাতীয় সংগীতের পূর্ণাঙ্গ রূপ না গেয়ে মাঝপথে থামিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ তোলেন ৬১ বছর বয়সি ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
এই অভিযোগের সপক্ষে সাফাই দিয়ে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সোনিয়া গান্ধী মূলত কংগ্রেস প্রধান মল্লিকার্জুন খাড়গের বসার সুবিধার জন্য একটি চেয়ারের ব্যবস্থা করতেই অনুষ্ঠান পরিচালকদের ইশারা করেছিলেন, গান থামানোর জন্য নয়।
তারা জানান, অনুষ্ঠানে বন্দে মাতরম পুরোটাই গাওয়া হয়েছে। ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ টেনে কংগ্রেস আরও উল্লেখ করে যে, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতার কথা বিবেচনা করে বন্দে মাতরমের প্রথম কয়েকটি স্তবক গাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৩৭ সালে প্রাদেশিক নির্বাচনের পর কংগ্রেস প্রথম দুই স্তবকই ব্যবহারের জন্য গ্রহণ করে।
সম্প্রতি নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে লাল কেল্লায় অনুষ্ঠিত ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে ‘বন্দে মাতরম’ গানটি সম্পূর্ণ গাওয়া হয়। এ ছাড়াও গানটির সার্ধশতবর্ষে (১৫০ বছর) পুরো বন্দে মাতরমকে জাতীয় সংগীতের মতোই সমান আইনি সুরক্ষা প্রদান করা হয়েছে।
বিজেপির দেশপ্রেমের দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে খাড়গে বলেন, ‘আমাদের দল দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছে। আপনারা কি লড়াই করেছেন? বিজেপির কোন ব্যক্তি বা আরএসএসের কে দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়েছেন যে আজ আপনারা আমাদের দেশপ্রেমের শিক্ষা দিচ্ছেন?’
সম্প্রতি উত্তরাখণ্ডের হলদ্বানীর রামলীলা ময়দানে খাড়গের এক জনসভার পর একটি কট্টরপন্থী গোষ্ঠী ‘শ্রী রাম সেনা’ অনুষ্ঠানস্থলে ‘শুদ্ধিকরণ’ যজ্ঞ আয়োজন করে। একজন দলিত নেতা হিসেবে এই ঘটনার কথা উল্লেখ করে অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে খাড়গে বলেন, ‘আমরা নাকি দেশপ্রেমিক নই, আমরা ভারত-বিরোধী—আপনারা বলেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আপনারা (বিজেপি) ভারত-বিরোধী এবং ধর্ম-বিরোধী। আমি উত্তরাখণ্ডে লাখো মানুষের সামনে বক্তব্য দেওয়ার দুদিন পর আপনারা সেই স্থান ‘পবিত্র’ করার জন্য যজ্ঞ করেন। এটি কি এই দেশের জন্য লজ্জাজনক নয়?’
এই মন্তব্যের পর জনসভায় উপস্থিত জনতা একযোগে ‘ধিক্কার, ধিক্কার’ ধ্বনি তোলে।
খাড়গে আরও বলেন, ‘আপনাদের ধর্ম কি এটা শেখায়? আপনাদের গুরুরা কি এই শিক্ষা দেন? আপনারা নিজেদের আগে শুদ্ধ করুন, কারণ সবচেয়ে বড় পাপী আপনারাই।’