আজ শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬ ইং

Advertise

মুক্তমত

আর জে নীলাঞ্জন

০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৪৩

গোটা লাইফটাই ইনপ্রম্পটু

বুকে ব্যথা নিয়ে হসপিটালে ভর্তি হয়েছিলেন।পরিচালকের প্রযোজকের লস হবে বলে ডাক্তার নিয়ে শেষ সিনটা করতে এসেছিলেন। অথচ সিন তখনও লেখাটাই হয় নি। নানার কথায় একাধিক ক্যামেরা লাগানো হল...ছ দিনে শ্যুটিং হবার সিনটা সাড়ে তিন ঘন্টার মধ্যে হয়ে গেল...ফিল্ম ক্রান্তিবীর।শেষের নানা পাটেকরের অমর ডায়লগ..."আ গয়ে, সব মেরে মওত কা তামাশা দেখনে..."


বৃহস্পতিবার সকালে নিজের মৃত্যুর মর্মান্তিক খবরটা যখন সোস্যাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে পড়ছে ধিকিধিকি আগুনের মত, নানা সেটা দেখলে কী বলতেন? আ গয়ে মেরে মওত কা তামাশা দেখনে? কল্পনা করতে পারি, তেরিয়া হয়ে নানা হয়ত বলতেন,"কই কৃষকদের নিয়ে তো সক্কাল সক্কাল লিখছো না, কই না খেতে পাওয়া মানুষগুলো কে নিয়ে তো লিখছো না...আমার মৃত্যুর তামাশা দেখছো বুঝি?"


রাজনীতির অফার ফিরিয়েছেন। উপার্জনের বেশিটা বিলিয়ে দিয়েছেন অকাতরে। সাদামাটা জীবন কাটিয়েছেন। "এত টাকা বিলিয়ে দেন!" জিজ্ঞেস করায় সাংবাদিক কে যেটা বলেছেন তার মোটামুটি বাংলা অর্থ দাঁড়ায়,'দিয়েছি তো তোর বাপের কী'...


একটা ইন্টারভিউ তে বলেছিলেন, সিনেমার স্ক্রিপ্ট লেখার সময় থেকে সামনে থাকেন। সিন গুলো আগে অভিনয় করে করে দেখান। সেটা দেখে দেখে ডায়লগ লেখা হয়। ভাবুন একবার, সিনটা লেখার আগে ডিরেক্টর বোঝাচ্ছেন, আর নানা পাটেকর নিজের মতো করে অভিনয় করে দেখাচ্ছেন। ডায়লগ রাইটারের কাজটা অর্ধেক হয়ে গেল...অভিনেতাকে অভিনয় করতে হল না, অভিনয়টা জীবন্ত হয়ে গেল...


সালাম বম্বে তে একটা সিনে ইনপ্রম্পট টু বাচ্চাকে তুলে বিল্ডিং এর উপর থেকে ঝাঁকিয়েছিলেন। এত অকস্মাৎ হয়ে গেছিল ঘটনাটা চারপাশের মানুষজন থমকে গেছিল। হাত ফসকালে বাচ্চাটা হাত থেকে পড়ে যেতে পারতো, কিন্তু তিনি নানা পাটেকর, ভুল হবে কেন। কোথাও পড়েছিলাম, লিখে লিখে ডায়লগ মুখস্ত করেন।ডায়লগ মুখস্ত ছাড়া সেট এ আসেন না, যেটা হয়ে আসেন, সেটা চরিত্রটাই। তাই হটাৎ কিছু করলে সেটাও পারফেক্ট হয়। মনে হয় চরিত্রটা এটা করতে পারে...সালাম বম্বেতেই একটা সিনে পিঠে ছুরি লেগে গেছিল। টুঁ শব্দ না করে রক্তাক্ত নানা সিন কমপ্লিট করেছিলেন...ওই যে বললাম, জীবনের লড়াই এ হটাৎ কিছু ঘটতে পারে, ম্যানেজ করে নেবার ইনপ্রম্পট টু ঘটনা...


তাই সব ছেড়েছুড়ে গোয়াতে চলে গেলে, অবাক লাগে না। চাষবাস করে জীবনের শেষটা কাটানোর কথা বললে অবাক লাগে না। গরীব মানুষদের জন্য কোটি টাকা বিলিয়ে দিলে মনেই হয় না হটাৎ করে হল...আসলে এটাই রিয়েল লাইফ নানা...জীবনের স্ক্রিপ্টে এতটাই ম্যারিনেট করে আছেন, যে ইনপ্রম্পট টু দিলে, মনে হয় এটাও চিত্রনাট্যের অংশ...এতে কিস্যু অঙ্গহানি হবে না...


শুধু বৃহস্পতিবার সকালের সিনটা মিললো না...এই দৃশ্যটার টেক টা আরেকটু পরে হলে ভালো হতো না?

শেয়ার করূন

আপনার মতামত