আজ শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ইং

Advertise

মুক্তমত

নিউজ ডেস্ক

১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:২৭

সঞ্জীব চৌধুরীর স্মৃতি ও মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন, প্রতিবাদে সহকর্মী

সঞ্জীব চৌধুরী রিয়েল বোহেমিয়ান। খ্যাপাটে মানুষ। স্ট্যান্ড করা ছাত্র। অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার ইচ্ছে ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিতে ভর্তি হলেন। ছাত্র ইউনিয়ন, গান আড্ডা আর মিছিলে মশগুল থেকে ড্রপআউট। সাংবাদিকতা করবেন বলে সাংবাদিকতা বিভাগে মাস্টার্স করলেন। গল্প, কবিতা, গান লেখেন ছাত্রজীবন থেকেই। সাংবাদিকতা করতে গিয়ে একটা সিগনেচারও তৈরি করতে পেরেছিলেন। সঞ্জীবদা আমার ঘনিষ্ঠ কলিগ ছিলেন।

বহু সকাল-সন্ধ্যা-রাত আমরা হাতের তুড়িতে উড়িয়েছি। বহুদিন এমন হয়েছে, একসঙ্গে রাস্তা পার হচ্ছি, হঠাৎ স্লো হয়ে যাওয়া বাস থেকে লাফ দিয়ে দাদার সঙ্গে একটা হ্যান্ডশেক করে আবার বাসে উঠে যাচ্ছে কেউ। এমন ভক্ত দেখলে আমরা ফোঁড়ন কাটতাম। দাদা বেশ লজ্জা পেতেন। তার কাছে, তার বন্ধুদের কাছে শোনা, ছাত্রজীবনে সাকুরায় টাকা ফুরিয়ে গেলে কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ আর সঞ্জীবদা গান গেয়ে গেয়ে টেবিলে টেবিলে যেতেন। দুজনের টেবিল ভরে উঠতো সঞ্জীবনী সুধায়। জীবন এদের কাছে ছিল হাতের মুঠোয় কচলানো কাগজের মতো। তো এই সঞ্জীব কারও দয়া বা দাক্ষিণ্যের কাঙাল কোন কালেই ছিলেন না। নামের কাঙাল হওয়া দূর কি বাত! সাধারণ মানুষের এক জীবন ছিল তার। কিন্তু খ্যাপা ছিলেন। কখনো কখনো মুখের অর্গল খুলে যেত।

মানুষ সেটাকে সাহস বলতো। সঞ্জীবদা হঠাৎ হঠাৎ বেপরোয়া হয়ে যেতেন। ব্যক্তি সঞ্জীব যেমন, শিল্পী সঞ্জীবও তেমনই। অনেক মানিয়ে নেওয়া মাঝে মাঝে বোহেমিয়ান সঞ্জীবকে দমিয়ে রাখতে পারতো না। তো এই নিরীহ সঞ্জীব, বহুবছর আগে গত হওয়া সঞ্জীবকে এতো আয়োজন করে অপমান করতে হলো আপনাদের? সঞ্জীব পাঁড় প্রগতিশীল। নিজের দেহখানাও দিয়ে গেছেন চিকিৎসা বিদ্যার শিক্ষার্থীদের জন্য। নিজের আনন্দে বেঁচে থাকার জন্য সমাজের অনেককেই তিনি সেই আনন্দের ভাগ দিয়েছেন। সেরেফ নামটার কারণে তাকে অপমান করার আয়োজন করলেন কারা? আপনারা কারা ভাই? সঞ্জীবদার একজন বন্ধু, ভাই ও সহকর্মী হিসেবে এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে গেলাম। 

আফজাল অরণ্য ফেইসবুক পেইজ থেকে সংগৃহীত 

শেয়ার করূন

আপনার মতামত