Advertise
১৮ অগাস্ট, ২০২৬ ২১:৫৬
সর্বশেষ আপডেট :
১৮ অগাস্ট, ২০২৬ ২২:৪১
ইউরোপ-আমেরিকায় এসে বাংলাদেশী সবাই প্রথম যে ভুলটি করেন সেটি হলো এখানে এসে সাথে সাথেই সেটেলের জন্য দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ না করা।
অনেকে এই দেশগুলোতে আসেন এখানকার সেটেলমেন্ট প্রক্রিয়াগুলোর কোনকিছু না জেনেই। কেউ কেউ এখানে এসে দেশ থেকে করে আসা বিশাল অংকের ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে মাসের পর মাস হাবুডুবু খান।
এই দেশগুলোতে এসে সবারই প্রথম টার্গেট থাকে কিভাবে টাকাপয়সা রুজি করে দেশে রেখে আসা ঋণ পরিশোধ করা যায়। কারণ, বড় অংকের টাকাপয়সা ঋণ করেই সবাইকে ইউরোপ-আমেরিকায় আসতে হয়।
কেউ কেউ ইউরোপ আমেরিকায় এসে একটি কাজ পেতে গিয়ে অনেক সময় পার করে দেন। এরপর একটি কাজ যোগাড় হলে একটু দম ফেলতে ফেলতেই জীবন থেকে কারো কারো কয়েক মাস, এমনকি বছর চলে যায়।
যারা ইউরোপ আমেরিকায় টেম্পারারি ভিসায় আসেন অথবা ইলিগ্যালি প্রবেশ করেন তাদের প্রথম করনীয় কী?
এ ব্যাপারে বলব, নিয়ম হলো এই দেশগুলোয় আসার সাথে সাথে আপনি যে এই দেশগুলোয প্রবেশ করেছেন সে ব্যাপারে একজন ভাল আইনজীবী ধরে অফিসিয়ালি এই দেশগুলোতে আপনার উপস্থিতি প্রমাণ করা এবং এজন্য এই দেশগুলোতে দ্রুত স্থায়ী ভাবে বসবাসের অনুমতির জন্য একটি আইনি দরখাস্ত সাবমিট করা। এটিই হলো আপনার বিদেশে সেটেলের জন্য প্রথম অফিসিয়াল লিগ্যালাইজেশন প্রক্রিয়া।
এই আইনি দরখাস্তের নথিপত্রের উপরই আপনাকে ধীরে ধীরে ব্যাংক একাউন্ট থেকে শুরু করে আইডি এমনকি ওয়ার্ক পারমিট পর্যন্ত পাওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয় এই দেশগুলোয়।
আপনি যে কোন ধরনের টেম্পারারি ভিসা অথবা ভিসাহীন ইলিগ্যাল বোর্ডার ক্রসিং এর মাধ্যমে যদি কোন দেশে প্রবেশ করেন তাহলে সে দেশে প্রবেশের সাথে সাথে অথবা প্রথম ছয় মাসের মধ্যে অবশ্যই আইনিভাবে সেটেলের জন্য এপ্লিকেশন জমা দেওয়াটা হলো বুদ্ধিমানের কাজ। নতুবা আপনাকে অনেক দেশে ডিপোর্টের মুখে পড়তে হতে পারে।
যদি এটি না করেন তাহলে এই দেশগুলোতে লিগেল হওয়ার সুযোগটি কঠিন হয়ে যায়। বাংলাদেশী যারা ইউরোপ-আমেরিকায় বিভিন্নভাবে প্রবেশ করেন তাদের অনেকেই লিগ্যালাইজেশনের জন্য আইনজীবীদের শরণাপন্ন হতে বিলম্ব করেন বলেই কেউ কেউ পরবর্তীতে খুব ভোগান্তিতে পড়েন এবং কারো কারো পক্ষে এই দেশগুলোয় কখনো সেটেলের সুযোগই মিলে না।
আমি বিগত বছরগুলোর বিদেশ জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, বাংলাদেশী অনেকে ইউরোপ-আমেরিকায় এসে সঠিক সময়ে সঠিক আইনজীবী না ধরায় এবং আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় একসময় পুরোপুরি ব্যর্থ হয়ে কাউকে কাউকে দেশেই ফিরে যেতে হয়।
এমনকি সঠিক সময়ে এসব না করায় কাউকে কাউকে সেটেলের জন্য এই দেশগুলোয় দেড়-দুই যুগ পর্যন্ত সাফার করতে হয়।
বিদেশে এসে একজন আশ্রয় প্রার্থীকে উন্নত একটি দেশে কোর্ট হিয়ারিং এর দিন জাজ প্রশ্ন করলেন, আমি আপনার সব বিবরণ শুনলাম এবং বিশ্বাসও করলাম। কিন্তু একটি বিষয় আমি বুঝতে পারছি না, আপনি এই দেশে প্রবেশের বহু পরে কেন স্থায়ীভাবে আশ্রয়ের জন্য এপ্লিকেশন জমা দিলেন?
যদি আপনার নিজ দেশে ফিরতে সিরিয়াস কোন প্রবলেম থাকত তাহলে তো আপনি এই দেশে প্রবেশের সাথে সাথেই এখানকার নির্ধারিত বোর্ডকে এই আশ্রয়ের বিষয়টি জানাতেন। সুতরাং আমার মনে হচ্ছে নিজ দেশে আপনার সিরিয়াস কোন প্রবলেম নেই। সুতরাং, ইউ গো ব্যাক। ব্যস, এখানেই জাজ সব ডিসমিস করে দিলেন।
সুতরাং যারাই ইউরোপ আমেরিকায় প্রবেশ করেন, প্রবেশের সাথে সাথেই ভাল আইনজীবীর শরণাপন্ন হবেন। এটিই সাজেশন। এরপর আইনিভাবে এই দেশগুলোয় থাকার চেষ্টা করবেন।
মনে রাখবেন, বাংলাদেশ থেকে টাকা খরচ করে অনেক সময় ইউরোপ আমেরিকার ভিসা পাওয়া সহজ এবং এখানে আসাও খুব সহজ কিন্তু এখানে এসে সেটেল হওয়াটা খুব কঠিন। এই কথাটির অর্থ যারা ইউরোপ-আমেরিকায় ইলিগ্যাল আছেন তারাই ভাল বুঝবেন।
ইদানিং পশ্চিমা দেশগুলোতে এশিয়ান মানুষের কাজের চাহিদা কমে যাচ্ছে। ইউরোপ আমেরিকানরা এখন ইমিগ্রেন্টদের উপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখছে। হাই টেক এবং উন্নত প্রযুক্তির কারনে এসব দেশে এখন সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থান কমে যাচ্ছে।
ছোট একটি উদাহরণ দেই, আমেরিকার শুধু নিউইর্য়ক শহরে দুই লাখ মানুষ টেক্সি চালান। আগামী দশকে সেল্ফ ড্রাইভ টেক্সি ইন্ট্রডিউসের ফলে ধীরে ধীরে এই টেক্সি ড্রাইভারদের অনেকের কোন কর্মসংস্থানই থাকবে না। তার মানে লক্ষ লক্ষ মানুষ চাকরি হারাবে এবং পুরোপুরি বেকার হয়ে পড়বে। এরকম অন্যান্য খাতেও অনেকেই চাকুরি হারাবে।
অত্যাধুনিক টেকনোলজি নির্ভর মেশিন-টুলসের কারণে কৃষিকাজ সহ সবকিছুতেই বিপ্লব দেখা দিয়েছে পশ্চিমা বিশ্বে। একেকজন মানুষ এখন অত্যাধুনিক মেশিনের সাহায্যে মাইলের পর মাইল একা কৃষিকাজ করতে পারে এবং প্রচুর ফসল উৎপাদন করতে পারে। এগুলো দিনদিন কর্মসংস্থান কমিয়ে দিচ্ছে।
সুতরাং যারাই বিদেশে এসে ইলিগ্যাল আছেন সর্বদা চেষ্টা করুন ভাল আইনজীবীদের শরণাপন্ন হতে এবং দ্রুত সেটেল হয়ে যেতে। কারণ দিনদিন ইমিগ্র্যান্টদের জন্য সেটেলমেন্ট প্রক্রিয়া আরও কঠিন হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।
আপনি প্রবাসে ইলিগ্যাল আছেন মানে আপনার জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে একটি দুশ্চিন্তা কাজ করছে।
কাজকর্মের ফাঁকে ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সাথে দুশ্চিন্তার বিষয়গুলো আলোচনা করুন এবং রিলাক্স থাকুন। যদি খুব টেনশন করেন তাহলে মনে মনে স্মরণ করুন যে মহান স্রষ্টা আমার ভাগ্যে যা লিখে রেখেছেন তাই ঘটবে।
এর ফাঁকে নিয়মিত কিছু টাকাপয়সা নিজের জন্য সেইভ করুন। যদি কখনো একান্তই দেশে ফিরে যেতে হয় তাহলে যেন এই সেভিংসের টাকাপয়সা দিয়ে আপনি দেশে কিছু একটা করে বাকি জীবন কাটাতে পারেন। দেশে ফিরে অন্যের কাছে হাত না পেতে যেন আপনি কিছু একটা করতে পারেন সেটিই যেন হয় মূল লক্ষ্য।
এই লেখাটির তেমন কোন উদ্দেশ্য নেই। পরিচিত কেউ কেউ যখন দীর্ঘ সময় বিদেশে থাকার পরে বিভিন্ন কারনে সেটেল হতে না পেরে দেশে ফিরে যান তখন খুব কষ্ট লাগে।
আমি চাই এই লেখাগুলো পড়ে যেন আগে থেকে সবাই সতর্ক হোন এবং সুন্দরভাবে সেটেলের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। বিদেশে প্রথম টার্গেট মিস হলেই কিন্তু একেকজন মানুষের কষ্টের সীমা থাকে না। কারো কারো সহজে আর এই দেশগুলোতে সেটেল হওয়াই সম্ভব হয় না। বাধ্য হয়ে অনেককে দেশে ফিরতে হয়।
একেকজন প্রবাসীর পরিশ্রমে দেশে সুখ-দুঃখে অনেকের চাহিদা পূরণ হয়। সুতরাং প্রবাসীরা বিদেশে এসে প্রথম শটেই যেন লিগ্যালিটি অর্জন করেন এটিই মূলত এই লেখাটির টার্গেট।