Advertise
২০ অগাস্ট, ২০২৬ ০০:০৯
মাদকের করাল গ্রাস থেকে আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করতে এবং একটি সুস্থ-নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার প্রত্যয়ে সামাজিক জাগরণের সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিয়ানীবাজার। এ লক্ষে বিয়ানীবাজারের গ্রামে-গ্রামে মাদকবিরোধী প্রতিবাদ ও সচেতনামুলক সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। থানা পুলিশের উৎসাহে মাদক বিরোধী সভাগুলো সামাজিকভাবে বেশ প্রভাব ফেলছে।
বিয়ানীবাজার মাদকমুক্ত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে উপজেলায় বাজছে প্রতিরোধের সুর। একদিকে সাধারণ মানুষের সচেতনতা অন্যদিকে পুলিশসহ আইনশৃংখলা বাহিনীর তৎপরতায় উপজেলায় মাদকের ব্যাপক বিস্তৃতি কমে আসছে বলে দাবী করা হচ্ছে।
বিয়ানীবাজারে মাদকের বিস্তার রোধে বিজিবি, পুলিশ ও র্যাব যৌথ ও পৃথকভাবে অভিযান পরিচালনা করছে। উপজেলার একাধিক সীমান্ত এলাকা দিয়ে মাদক প্রবেশে বিজিবি নানারকম নজরদারির পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। তবে শুধু অভিযান চালিয়ে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়; এ জন্য সচেতনতা সৃষ্টি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাই সবচেয়ে কার্যকর উপায় বলে মনে করছেন বিজিবি-৫২র নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা। গত প্রায় ৩ মাসে বিজিবি-৫২-‘র সদস্যরা বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করেছে। গ্রেফতার হয়েছেন বেশ কয়েকজন। থানা পুলিশের অভিযানে প্রায় প্রতিদিন মাদক উদ্ধার ও জড়িতদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, প্রতিবেশী জকিগঞ্জ, কানাইঘাট ও বিয়ানীবাজার উপজেলার একাধিক সীমান্ত দিয়ে মাদকের অবৈধ প্রবেশ হচ্ছে। বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করে মাদক কারবারিরা খুচরা বিক্রির জন্য এগুলো বিয়ানীবাজারে ছড়িয়ে দেয়। এসব প্রতিরোধের জন্য উপজেলার চারখাই, দুবাগের খাড়াভরা ও লাউতার গজারাই এলাকায় প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গ্রামীণ জনপদে মাদকের নীরব বিস্তার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন স্থানীয় সচেতনমহল।
বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জাফর মো: মাহফুজুল করিম বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। তবে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারলে এই সংকট পুরোপুরি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। মাদক ব্যবসায়ী কিংবা তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।