Advertise
০৪ অগাস্ট, ২০২৬ ২১:৫০
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক অধ্যাপক কাবেরী গায়েনের পাশে দাঁড়াবে না। সহকর্মীরাও দাঁড়াবে না। কারণ তাঁরা মনে প্রাণে ফ্যাসিবাদী। বিপক্ষ ও বিরুদ্ধ মতকে তাঁরা নির্মূল করবেন।
আপনি দাঁড়ান । কাবেরীর পাশে দাঁড়ানো শুভবুদ্ধিসম্পন্ন প্রতিটি মানুষের কর্তব্য।
কাবেরী " কার্যক্রম নিষিদ্ধ "আওয়ামী লীগের সমর্থক নন, বরং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির অধুনা পূর্ব কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। কাবেরী পিএইচডি করেছেন এডিনবরো থেকে। তার প্রধান কাজ হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধে নারীদের অবদান নিয়ে। মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে যারাই মনে প্রাণে ধারণ করেন বলে প্রমাণিত তারাই বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের টার্গেটে পড়েছেন। পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ছেন শিক্ষক নেটওয়ার্কের গীতি আরা নাসরীন গং। তাদের লক্ষ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে "শূন্য পদ" এবং সেই পদগুলোতে নিজ পক্ষের "মানুষ"দেরকে নিয়োগের ব্যবস্থা করা।
সানজিদা আহমেদ তন্বীর সাথে তৎকালীন উপদেষ্টা শারমীন মুর্শিদ ও ডাকসু ভিপি শিবির নেতা সাদিক কায়েমের কথোপকথনের ভিডিওতে সুস্পষ্ট " তন্বী শঠতা পূর্ণ আহতের অভিনয় করেছিলেন"। তন্বী সম্ভবত কোন একটা পুরস্কার নিচ্ছিলন উপদেষ্টার কাছ থেকে। শারমীন মুরশিদকে তন্বীর উদ্দেশ্যে বলতে শোনা যায় যে তন্বী কী সেই মেয়ে যে মুখে রঙ এঁকে আহত হওয়ার অভিনয় করেছিলো! তখন পাশে থেকে সাদিক কায়েমকে বলতে শোনা যায় যে জুলাইতে যার রক্তাক্ত ও ভীত সন্ত্রস্ত মেয়ের মুখ ভাইরাল হয়েছিল এটা সেই মেয়ে। এই ভিডিওর অকাট প্রমাণ স্বীকারোক্তি কেউ অস্বীকার করেননি।
তন্বী আসলেই মুখে টমেটোর সস মেখে আহত হওয়ার ভান করেছিলো কীনা সেই প্রশ্ন প্রমাণিত নয়? তন্বীর রক্তাক্ত ও ভীত মুখের ছবি এমনভাবে তোলা হয়েছিলো যে দেখে মনে হয়েছিলো তার পাশে উদ্যত লাঠি দিয়ে তাকে মেরে রক্তাক্ত করা হয়েছে। শারমিন মুরশিদের কাছে স্বীকারোক্তিমতে
সবাইকে যা জানানো হয়েছিল, সেটি প্রকৃত নয়। ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. কাবেরী গায়েনের যে লেখার বা পোস্টের কারণে তার বিরুদ্ধে তন্বীকে বা জুলাই আন্দোলনকে অবমাননার দায়ে শিবিরের তিন কর্মী ভিসি বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছিলো, সেই তদন্তে প্রক্টরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের সত্যানুসন্ধান কমিটি গঠিত হয়েছে। সেই কমিটি কেনো? ছাত্র শিবিরের তিন ছাত্রকে কমিটি ডেকেছে অভিযোগ সুস্পষ্ট জানতে । ছাত্রশিবিরের একজন কর্মীর স্বাক্ষরে "সন্ত্রাসবিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দ" নামের ফোরাম থেকে মব বা সন্ত্রাস করতে প্রক্টরের অফিসের সামনে এরা অবস্থান নিবে কাবেরীর বিরুদ্ধে? কাবেরী গায়েনকে অবহিত করা ছাড়াই তদন্ত শুরু হলো? তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ কি? সবার আগে তাঁকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া হলো না কেনো?
ড. গায়েন আমার বন্ধু তালিকায় আছেন। তাঁর সেই পোস্টে তিনি বিডিনিউজ২৪ এর একটা নিউজের স্ক্রিনশট শেয়ার করেছিলেন, সেখানে বলা হয়েছিলো জুলাই আন্দোলনের একজন তালিকাভুক্ত "শহীদ" মধ্যপ্রাচ্যে কাজ করছেন। জুলাই স্ক্যাম তালিকা নিয়ে প্রশ্ন তো করাই যায়! ড. গায়েন সেই নিউজ শেয়ার দিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন যে মুখে টমেটোর সস মেখে আহত সেজে জুলাইযোদ্ধা নাকি দেখা যাচ্ছে। তিনি কারো নামোল্লেখ করেননি এবং "সস মাখা" ফটোকার্ডও শেয়ার করেননি । দিয়েছিলেন ভুয়া শহীদের ব্যাপারে বিডিনিউজের খবরের স্ক্রিনশট । তিনি নিশ্চিতভাবে তন্বীর বিষয়ে কিছু বলেননি। ড. কাবেরী গায়েন প্রশ্ন করেছেন মাত্র!
জুলাই নিয়ে মিথ্যাচার ও প্রতারণা চলেছে এবং চলছে সেই শুরু থেকে। সরকারের প্ররোচনায় ভুয়া শহীদ, ভুয়া আহত, ভুয়া জুলাইযোদ্ধা ইত্যাদি প্রমাণিতপ্রতারকদের উদ্দেশ্য হলো বিশাল অঙ্কের জনগণের ট্যাক্সের টাকা ও এপার্টমেন্টসহ নানাবিধ সুবিধা আদায় করা। সরকার এসব প্রতারকদের প্রতারণা ও মিথ্যাচারীদের খুঁজে বের না করে উল্টো উৎসাহ দিচ্ছে।
তন্বীর বিষয়ে মন্তব্যের ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা প্রক্টর/ভিসির উচিৎ ছিলো এই বিষয়ে অধ্যাপক গায়েনকে অবহিত করা । সত্যানুসন্ধান কমিটির ব্যাপারে অধ্যাপক গায়েনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ প্রসঙ্গে গতকাল পর্যন্ত তাকে না জানিয়ে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। কেনো? কাবেরীকে না জানিয়ে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হলে তা হবে একতরফা।
ড. কাবেরী গায়েনকে হেনস্তা করতে চাইছে জামাত-শিবিরপন্থী শিক্ষকরা । বিএনপি ও সুবিধাবাদী ও স্বার্থান্বেষী "বাম" পন্থী শিক্ষকরা এতে যোগ দিয়েছেন। ড. গায়েন ধর্মীয় উগ্রবাদীদের লক্ষ্যে পরিণত হয়েছেন ।
কয়েকদিন আগে সিন্ডিকেট সভায় শিকার হয়েছেন অধ্যাপক সাদেকা হালিমসহ ৬ শিক্ষক। তাদের বিরুদ্ধে হাস্যকর অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কয়েকদিন আগে যাঁরা বিউটি পালের পাশে দাঁড়িয়েছেন তারা অধ্যাপক কাবেরী গায়েনের পাশে দাঁড়ান। তাঁর বিরুদ্ধে যে সত্যানুসন্ধান কমিটি হয়েছে তা বাতিলের আওয়াজ তুলুন। কাবেরীর বিরুদ্ধে জামায়াত - শিবির ও শিক্ষক নেটওয়ার্কের ষড়যন্ত্র রুখে দিতে সামাজিক গণমাধ্যমে ঝড় তুলুন। হোক প্রতিবাদ।