Advertise
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৯:৩৮
সর্বশেষ আপডেট :
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৯:৩৯
১৯০০ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যগ্রন্থ ‘ক্ষণিকা’ প্রকাশিত হয় শ্রাবণেই। এ কাব্যগ্রন্থে কবিতায় রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, ‘মরার পরে চাইনি ওরে অমর হতে/অমর হব আখির তব সুধার স্রোতে’। আবার ‘ক্ষণিকা’র শেষ কবিতায় রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, ‘থাকব না ভাই থাকব না কেউ/থাকবে না ভাই কিছু/সেই আনন্দে যাও রে চলে/কালের পিছু পিছু’। শ্রাবণে লেখা এমন সব পঙ্ক্তি মৃত্যুকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
শনিবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যায় ঢাকার ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টার আয়োজন করল বর্ষাকালীন সংগীত সন্ধ্যা— ‘শ্রাবণ সন্ধ্যা’। অনুষ্ঠানটি ভারতের হাইকমিশনের এমপি হল রুমে অনুষ্ঠিত হয়।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে অনুষ্ঠিত সংগীত সন্ধ্যায় ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীসহ হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এতে আরও উপস্থিত ছিলেন- ভারত ও বাংলাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী, কবি, লেখক, সাহিত্যিক, অভিনয়শিল্পী, চিত্রশিল্পী, বিভিন্ন দৈনিকের সম্পাদক, সিনিয়র সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন ভারতীয় হাইকমিশনের ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারের (আইজিসিইউ) সমন্বয়ক খোকন চদ্র দাস।
আয়োজকরা জানান, অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বর্ষা ঋতুকে উদযাপন করা হয়- যা কবি, সংগীতজ্ঞ ও শিল্পীদের চিরকালই অনুপ্রাণিত করে এসেছে। ভারতীয় ও বাঙালি সাহিত্য এবং সংগীত ঐতিহ্যে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ‘শ্রাবণ’ মাসটি প্রকৃতির সৌন্দর্য ও আবেগের এক অনন্য আবহ তৈরি করে। যত্নসহকারে নির্বাচিত গানের মধ্য দিয়ে এই সন্ধ্যায় বর্ষা ঋতুর মূল সুর এবং ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে এর স্থায়ী স্থানকে তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট শিল্পী অনিল কুমার সাহা এবং অলোক কুমার সেন। এরপর রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন প্রখ্যাত রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী ড. চঞ্চল খান। অনিল কুমার সাহা বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী ও সংগীত গুরু, যিনি হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সুপরিচিত।
শাস্ত্রীয় সংগীতে তালিমপ্রাপ্ত এই শিল্পী দেশে ও বিদেশে ব্যাপকভাবে সংগীত পরিবেশন করেছেন এবং গজল, রবীন্দ্রসংগীত ও আধুনিক বাংলা গানের হৃদয়স্পর্শী পরিবেশনার জন্য প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
ড. চঞ্চল খান বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী, গবেষক ও শিক্ষাবিদ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের হৃদয়স্পর্শী পরিবেশনার জন্য তিনি ব্যাপকভাবে সমাদৃত এবং দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেছেন। তিনি বর্ষা-কেন্দ্রিক বাংলা ও হিন্দি গানের এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা উপহার দেন। অনুষ্ঠানটি এক অনন্য সংগীত-অভিজ্ঞতা তুলে ধরে, যা বর্ষাকালের সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি ভারত ও বাংলাদেশের জনগণকে সংযুক্তকারী যৌথ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকেও উদযাপন করে।
১৯০৫ সালের ৭ আগস্ট কলকাতার টাউন হলের এক প্রতিবাদ সভায় ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’ গানটি গাওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এটি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে বিবেচিত হয়। ১৩২৯ বঙ্গাব্দের ২২ শ্রাবণ শান্তিনিকেতনে অনুষ্ঠিত বর্ষামঙ্গলে রবীন্দ্রনাথের ৯টি নতুন গান পরিবেশিত হয়। সেগুলোর মধ্যে কয়েকটি শ্রাবণ সন্ধ্যায় পরিবেশিত হয়। জীবনের গভীর উপলব্ধির অনুরণ রয়েছে এই গানগুলোয়।
শ্রাবণ নিয়ে আরও কত কথাই লেখা আছে রবীন্দ্রনাথবিষয়ক নানা বইপত্রে। ১৯৩৭ সাল থেকেই তার দীর্ঘকালীন অসুস্থতার সূত্রপাত। অবশেষে কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে ১৩৪৮ সনের ২২ শ্রাবণ লোকান্তরিত হন কবিগুরু।