Advertise
২৬ অগাস্ট, ২০২৬ ২৩:১২
আমার ছোট মেয়েটাকে নিয়ে গিয়েছিলাম হাসপাতালে, ডাক্তার দেখাতে। ফিরতে বেশ দেরি হয়ে গেছে। খাওয়া দাওয়া শেষ করে তসলিমা নাসরিনের শুভ জন্মদিন উপলক্ষে একটা পোস্ট লিখে শেষ করেছি এমন সময় মনীষা এসে জানালো ডলি পারটন আর নেই, আজই কোন একটা সময় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মৃত্যুকালে ওর বয়স কতো হয়েছিল নির্দিষ্ট করে জানিনা, ৮০র উপরে হবে সম্ভবত।
ডলি পারটন এমনিতে আমাদের দেশে দৃশ্যত খুব লোকপ্রিয় শিল্পীদের একজন ছিলেন না। মূলত কান্ট্রি সিঙ্গার হিসাবেই তাঁর পরিচিত ছিল। কি করে জানিনা তিনি আমার প্রিয় শিল্পীদের একজন ছিলেন। আমার প্রথম ল্যাপটপ কম্পিউটারটা ছিল একটা তশিবা। বেশ ভারি ল্যাপটপ, আর বড় মনিটর। অনেকদিন ব্যবহার করেছিলাম সেটা। সেই কম্পিউটারে অনেক গান সংরক্ষিত ছিল। তখন ইউটিউব বা গান শোনার ঐসব সাইট ইত্যাদি ছিল না। গান ডাউনলোড করে সেইভ করে রাখতাম। সেখানে ডলি পারটনের প্রায় সব গানই ছিল। দুইটা গানের কথা আমার এখনো মনে আছে, মনে থাকবে সবসময়।
একতা গানের শিরোনাম ছিল 'নাইন টু ফাইভ'। গানের বিষয়বস্তু হচ্ছে শ্রমজীবী নারীর জীবন। প্রতিদিনের কষ্টকর জীবন, কঠোর পরিশ্রমের বিপরীতে অপর্যাপ্ত মজুরী, অত পরিশ্রমের পরও প্রাপ্য মর্যাদা ও স্বীকৃতি না পাওয়া এইসব নিয়ে গান। কথাগুলি ছিল, "Workin' 9 to 5, what a way to make a livin' / Barely gettin' by, it's all takin' and no givin' / They just use your mind, and they never give you credit / It's enough to drive you crazy if you let it" খুঁজে একবার শুনে দেখবেন। শ্রমজীবী নারীর জীবন, হোক সে নিউ ইয়র্ক, রোম বা ঢাকা- কোন মৌলিক পার্থক্য নাই।
এই গানটা ঠিক কতখানি লোকপ্রিয় হয়েছিল আমি জানিনা। প্রথম যখন আমি এই গানটা শুনি, আমাদের দেশের গার্মেন্টস শিল্প তখনো বিকাশমান পর্যায়ে। আমার কেবল শ্রমজীবী সেইসব নারীদের কথা মনে হতো গানটা শুনতে শুনতে। আর ভাবতাম, ঐ যে আমরা বইতে পড়ে আন্তর্জাতিকতাবাদ শিখেছি, সেইসব কথা। আমেরিকানদের গান শুনে ঐ বয়স্যা এইরকম আবেগাপ্লুত হওয়া- এখন ভাবলে একটু বিচিত্রই লাগে।
ডলি পারটনের আরেকটা গান আপনারা সকলেই জানেন- আই উইল আলঅয়েজ লাভ ইউ। গানটা লিখেছেন সুর করেছেন ও গেয়েছেন ডলি পারটন। অনেক আগের করা গান, আমি সবসময় পুরনো কান্ট্রি গান হিসাবেই জানতাম- কবেকার গান জানিনা। পরে এই একই গান হুইটনি হিউস্টন গেয়েছেন, সুরটা একটু ভিন্নরকম করে, কান্ট্রি ভাবটা আর ছিল না। হুইটনি হিউস্টনও আমার আরেকজন প্রিয় শিল্পী ছিলেন, মারা গেছেন বেশ কয়েক বছর হয়ে গেছে। কি যে অসাধারণ এক শিল্পী ছিলেন! হুইটনি হিউস্টনের কণ্ঠে গানটা অনেক জনপ্রিয় হয়েছিল, আমি দুই সংস্করণেই গানটা শুনতাম। দুইটাই চমৎকার।
ভিনদেশী শিল্পী, তবুও ডলি পারটনের মৃত্যুর কথা শুনে বেশ মন খারাপ হয়ে গেল। একটু ভিন্ন রকমের ভালোবাসা ছিলে এই শিল্পীর প্রতি। আহা। ডলি পারটন বেঁচে থাকবেন তাঁর শিল্পে। চমৎকার শিল্পী ছিলেন।