Advertise
১১ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:১৭
সর্বশেষ আপডেট :
১১ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:১৮
আজ রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালি মারতে গিয়েছিল একদল ছেলেমেয়ে। ওদের মধ্যে মেয়ে একটা খুব করে বক্তৃতা মারছিল সে কেন রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালি লাগাতে চায় সেটা ব্যাখ্যা করে। আপনি কি শুনেছেন ঐ মেয়েটার কথাগুলি? অথবা ওর সাথে অন্য যেসব ছেলেমেয়েরা ছিল ওদের কারো কথা? শুনে কি মনে হয়েছে আপনার?
দেখেন, এরা হচ্ছে আসলে সাম্প্রদায়িক এবং চেতনার দিক দিয়ে রাজাকার টাইপ- এবং অনিবার্যভাবেই নিতান্ত মূর্খ। এরা রবীন্দ্রনথের বিরোধ করে শুদ্ধ সাম্প্রদায়িক কারণে। রবীন্দ্রনাথ যদিও ব্রাহ্ম ধর্মাবলম্বী ছিলেন এই ধরণের লোকেরা এই ব্যাপারটা কখনোই অনুধাবন করতে পারেনা। এরা সম্ভবত ব্রাহ্ম ধর্ম আর হিন্দু ধর্মের মধ্যে পার্থক্যই জানেনা। এরা রবীন্দ্রনাথকে বলে হিন্দু কবি। লক্ষ্য করবেন ভারতীয় কবি নয়, হিন্দু কবি বলেই এরা রবীন্দ্রনাথের বিরোধ করে। ভারতীয় কবির বিরোধ করতে চাইলে তো আগে নজরুলকে ধরতে হয়- সেটা ওরা করে না। উল্টো নজরুলের প্রতি ওদের খুব মুহব্বত। কেন? নজরুলকে ওরা মনে করে মুসলিম।
আরেকটা কথা বলেছে মেয়েটা। রবীন্দ্রনাথের জমিদারীতে নাকি মুসলমান প্রজাদের অত্যাচার করা হতো। বেওকুফটাকে কেউ জিজ্ঞাসা করতে পারতেন, রবীন্দ্রনাথের জমিদারীতে কি হিন্দু প্রজাদেরকে রবীন্দ্রনাথ আদর করতেন? হিন্দু জমিদার বনাম মুসলিম প্রজা এই ফালতু তর্ক অনেক লেখাপড়া জানা মানুষকেও করতে দেখবেন। আমার সামনে পড়লে আমি জিজ্ঞাসা করি, হিন্দু জমিদার মুসলমান প্রজাদের শোষণ করতো, সত্যি কথা। কিন্তু কিছু জমিদার তো মুসলমানও ছিল, ওরা কি মুসলিম প্রজাদেরকে শোষণের পরিবর্তে চুমা দিতো? অথবা হিন্দু জমিদাররা কি হিন্দু প্রজাদেরকে আদর করতো? ফালতু কথা যতোসব।
এইগুলি নিতান্ত সাম্প্রদায়িকতা ছাড়া আর কিছু না। আরও স্পষ্ট করে বলতে পারেন হিন্দু বিদ্বেষ। কিছু কবি সাহিত্যিককেও পাবেন যারা একই মানের সাম্প্রদায়িক ও হিন্দু বিদ্বেষী। ওরা হয়তো খানিকটা কায়দা করে প্যাঁচিয়ে পুঁছিয়ে ঐসব হীন আচরণটা আড়াল করতে চেষ্টা করে- কিন্তু আসল চরিত্র সেইটাই, নিতান্ত হিন্দু বিদ্বেষ এবং অতি হীন ধরণের সাম্প্রদায়িক।
এদেরকে পুলিশ দিয়ে আপনি ঠিক করতে পারবেন না। ছেলেমেয়েরা একটু পড়াশুনা করলেই এইগুলি দূর হয়ে যাবে। রাষ্ট্রের একটু ভূমিকা আছে, রাষ্ট্রটি ধর্মনিরপেক্ষতা শক্ত করে ধরে রাখতে পারলে ধীরে ধীরে এইসব ময়লা চেতনা দূর হয়ে যাবে। আমাদের দেশে রাজনৈতিক দল, নেতা ও কর্মীদের মধ্যে সাম্প্রদায়িকতার উপস্থিতি খুবই তীব্র। আফসোসের কথা কি জানেন? এমনকি আমার পছন্দের দল সিপিবির মধ্যেও এইরকম সাম্প্রদায়িকতা পোষণ করার লোক আছে। উদীচী ভেঙে তো রীতিমত দক্ষিনপন্থী একটা গ্রুপই তৈরি হয়েছে। সিপিবি উদীচী ওদের মধ্যেও যদি এরকম হয়, তাইলে ভয়াবহতাটা বুঝে দেখেন।
সকলেই একটু মুখ খোলেন। সাম্প্রদায়িকতা প্রশ্রয় দেবেন না। একদম ন্যুনতম মাত্রায়ও না। সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে কথা বলুন, স্পষ্ট করে বলুন ধর্মের ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে বিভাজন করা একটি অসভ্য আচরণ, একটি মন্দ কাজ, একটি প্রতিক্রিয়াশীল কাজ। সাম্প্রদায়িক লোকদের নিন্দা করুন, ওদের সাথে সামাজিকতাও করবেন না। কি ধরণের হীন চিন্তা হলে রবীন্দ্রনাথকে আক্রমণ করতে চায়! ভাবুন।