Advertise
১১ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:২৫
মরা গাঙে খানিটা পানি এসেছে। ‘জুলাই বেপ্লবের’ পতিত বুড়ো বাম অংশ দিল্লির ‘যন্তরমন্তর’-এর ‘বিশাল সমাবেশ’ দেখে পুলকিত। এদের একটা পোস্টে দেখলাম লিখেছেন-“৪০ হাজার পুলিশ, আরও হাজার হাজার বিভিন্ন নামের বাহিনী দিয়েও মোদি ‘বিশাল সমাবেশ’ ঠেকাতে পারেনি। এই অঞ্চলেরই কোথাও নাকি শেখ হাসিনা থাকেন। তিনি কি পূর্বাভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন মোদির সাথে?” এদিকে 'ইত্তেফাক' ফটোকার্ডে লিখেছে-"পতনের দ্বারপ্রান্তে মোদি"! বুঝুন অবস্থা! এদের ইকোয়েশন পরিষ্কার; ভারতে সরকার পড়ে গেলে ভারত ইয়া নফসি পড়বে, না লীগ, শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভাববে?
ভারতের এই ‘আমেরিকান প্রজেক্ট’ নিয়ে তেমন কোনও আগ্রহ নেই। আজ হোক বা কাল, মোদী সরকার পড়বে। সেটা ভিন্ন বিষয়। যদি এই আন্দোলন পুঁজিবাদী, বুর্জোয়া হঠিয়ে জনগণতান্ত্রিক বিপ্লব হতো, তাহলে আগ্রহ নিয়ে ভাবতে বসা যেত। যাকগে। আদার ব্যাপারির জাহাজের খোঁজে কাজ নেই। তবে কয়েকটা ইন্সিডেন্ট মনে করানোর জন্যই দুকথা লিখতে বসা।
দিনটা খেয়াল করুন-৮ অক্টোবর। একই দিনে ওয়াশিংটন থেকে ভারতের ওপর দুটো ‘বার’ বা নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। একটা করেছে ট্রা/ম্প সরকার। ‘ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব লেবার’ ভারতের INFOSYS, TCS, WIPRO, HCL, COGNIZANT, CAPGEMINI কে পার্মানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন থেকে সাসপেন্ড করেছে। এটা সেই সিস্টেম যেটা দিয়ে ফরেন এমপ্লয়ীদের গ্রীণকার্ডের ব্যবস্থা করা হতো। এতে H1B তে ৭০% ভারতীয়র জব মিলত। এখন পুরোপুরি বন্ধ। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের অভিযোগ-এই প্রোগ্রাম পুরোটাই ফ্রড। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মাইক্রোসফট ও অ্যাডোবিও।
ভারত সরকারের জবাব-“লাইসেন্সিং প্রসেস ফেয়ার হ্যায়, অওর ইয়ে আরোপ বেইসলেস হ্যায়।“
ওই একই দিকে ইলন মাস্কের এক্স পোস্ট! তার অভিযোগ ‘স্টার লিংক’কে ভারতে ঢুকতে দিচ্ছে না ভারতীয় আলিগার্ক আ/ম্বানী। তিনি লিখেছেন- “Is A.m.b.a.n.i the real boss of India?” ট্যুইটের উত্তরে রা/হুল গা/ন্ধী লিখেছেন- “Welcome to India E.l.o.n. Wait till discover the other guy, x/com” মাস্ক-এর জবাব-“Thank you R.a.h.ul. This is indeed troubling.”
এই দুটো কী কো-ইন্সিডেন্স? হালের ইতিহাস বলছে ‘রেজিম চেঞ্জ’-এর প্রায় প্রত্যেকটি ঘটনা এভাবেই শুরু হয়েছে। রেজিম চেঞ্জের ‘ডিল’ করতে সবচেয়ে দুর্বল ও স্পর্শকাতর তিনটি বাটনে চাপ দেয় ডি.প.স্টে.ট-যথাক্রমে- Jobs, Market, Public Narrative! বাকিটা মিলিয়ে নিন।
আসছে কাল জানা যাবে বছরের পর বছর ধরে কংগ্রেস জোট গড়েও জিততে পারছে না। আবার বামপন্থীদের কোনো আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে উঠছে না। সশস্ত্র সংগ্রাম করা পার্টিগুলো অকাতরে প্রাণ দিয়েও দল গোছাতে পারছে না রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন ও স্টাবলিশমেন্টের কাছে ‘বিক্রি হওয়ার’ কারণে ধ্বংস প্রায়। সেখানে হঠাৎ গজিয়ে ওঠা ‘ককরোচ’ এসে বাঘ-সিংহ-হাতি-গণ্ডারকে ফেল মেরে মারমার কাটকাট এগিয়ে যাচ্ছে! কীসের জোরে?