আজ মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ইং

Advertise

মুক্তমত

মুজিব রহমান

১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৫৩

মসজিদের বারান্দায় চুমুর অভিযোগে বাংলাদেশি নবদম্পতির শিরশ্ছেদ

হায় বর্বরতা!


নামাজ পড়ে মসজিদের বারান্দায় এসে সুইটিকে চুম্বন করেছিলেন নজরুল। সেই অপরাধে সৌদি বর্বর সরকার শিরোশ্ছেদ করলো তাদের। এখন আমরা জানতে পারছি নজরুল ইসলাম ও সুইটি আখতার সিতি বিয়ের পরে ওমরা করতে গিয়েছিলেন। তারা মক্কা শরীফের বাইরের একটি মসজিদে একসাথে নামাজ পড়েন। দোয়া করেন। একসময় বারান্দায় এসে কপালে চুম্বন করেন। একজন পাকিস্তানি জানোয়ার এই চুম্বনের দৃশ্য ভিডিও করে সৌদি নিরাপত্তা কর্মীকে দিলে তারা দ্রুতই দম্পতিকে গ্রেফতার করতে আসে। তখনও সুইটি নামাজ পড়ছিলেন। নামাজ শেষে তাদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয়। এজন্যই হুমায়ুন আজাদ বলেছিলেন, পাকিস্তানিদের আমি অবিশ্বাস করি, যখন তারা গোলাপ নিয়ে আসে, তখনও।


সৌদির ক্রাউন প্রিন্স এবং প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের বিরুদ্ধে সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। সে সৌদিকে নাকি এগিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু একটি দম্পত্তি মসজিদের বারান্দায় ভালোবেসে চুমু খাওয়াকে মহা অপরাধ বানিয়ে শিরোশ্ছেদের পর্যায়ে নিয়ে গেলো। সৌদিতে বাইরের গৃহকর্মীদের হামেশায়েই ধর্ষণ করা হয়। বহু নারীকেই প্রতি বছর ধর্ষণে বাধা দেওয়ায় তারা হত্যা করেন। তাদের ক্ষেত্রে কোনো সৌদিয়ানকে কখনওই বিচার করা হয় না। ওরা টোটালিই একটা অসভ্য ও বর্বর জাতি। তারা চুমু খাওয়াকে পাপ মনে করে আর ধর্ষণকে পবিত্রে ভাবে।


বাংলাদেশের মুন্সগঞ্জের গজারিয়ার এমপি (শুনেছি ওনি নন-গ্রেজুয়েট এমপি) মোঃ কামরুজ্জামান রতন কীভাবে বলতে পারলেন, ‘আমি এই পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক তা চাই না’। কী বিস্ময়করভাবে তিনি এই কথাটি বলতে পারলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি করেছেন বলে মনে করেছিলাম ভিতরে আলো আছে। কিন্তু এমন অন্ধকার ধারণ করে কীভাবে দেশকে এগিয়ে নিবেন। তাঁর আমল থেকেই কি ঢাবি মাদ্রাসা হয়ে উঠেছিল? পরে তিনি ক্ষমা চাইলেন চাপে পড়ে কিন্তু তিনিতো নিজের ভিতরটা প্রকাশ করেছেন তার বক্তব্যে৷


সৌদির বিচারকগণও যে বর্বর তার প্রমাণটা রেখেছেন। ওটা ওদের সংস্কৃতি। ওই বিচারকগণও চুমুকে অপরাধ ভাবে আর সুযোগ পেলেই আমাদের মা-বোনদের ধর্ষণ করে। তারা গোপনে রায় দিয়ে ফেললো। এই তারাতো তো আরবি জানতেন না। তাদের বক্তব্য শোনার জন্য দোভাষীও নিয়োগ করেননি। বিচারক শিরোশ্ছেদের রায় দিয়ে বলতে পারলেন ‘আলহামদুলিল্লাহ’! মেয়েটির স্বামী বিয়ের পর হানিমুনে নেপাল বা মালদ্বীপে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মেয়েটি আবদার করে ওমরাহ পালন করে আল্লাহর ঘরে গিয়ে একসঙ্গে প্রার্থনা করবেন। নতুন সংসারের সুখ-শান্তি-সমৃদ্ধি এবং সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য দোয়া করবেন। সেজন্যই দম্পত্তি ওমরাহ পালনে গিয়েছিলেন।


দীর্ঘ চারমাস ধরে বিচার চলে গোপনে। বাইরের পৃথিবীর সাথে তাদের যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিচার প্রক্রিয়ায় নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপনও করতে পারেননি ভাষাগত জটিলতার কারণে। পাকি জানোয়ারটা আবারও সুযোগ পেয়ে একাত্তরের ভূমিকায় নামে৷ কী ভীষণ বর্বরতা! মসজিদ কক্ষের বাইরে একটি চুমু খাওয়ার স্বামী-স্ত্রীর শিরোশ্ছেদ করে ফেললো? এটা নাকি অমাজিক ও অশালীন কাজে লিপ্ত হওয়া! এই বর্বরতা আর কোন দেশে সম্ভব?

শেয়ার করূন

আপনার মতামত

সর্বশেষ