Advertise
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:৫৫
ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে গিয়ে ইতালিতে হামলার শিকার হওয়ার চেয়েও বড় ধাক্কা খেয়েছেন নিজের সিনেমার টিমের কাছ থেকে—এমনটাই অভিযোগ করেছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার টিমের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা এবং একপর্যায়ে তাকে পুরোপুরি বর্জন করার অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
গতকাল সোমবার সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বাঁধন জানান, বিদেশের মাটিতে হামলার শিকার হওয়ার পর ভেনিসে থাকা তার সিনেমার টিম পাশে দাঁড়ানোর বদলে উল্টো তাকে বর্জন করেছে।
টিমের আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বাঁধন বলেন, ‘হামলার শিকার হওয়ার পর ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ডিরেক্টর আমাকে সাপোর্ট করেছেন, ইতালির সরকার আমাকে সাপোর্ট করেছে। আমাদের দেশের সরকার সাপোর্ট করেছে। কিন্তু আমার যে টিম, তারা আমাকে ডিজওন করেছে। ফেস্টিভ্যালের বাকি দিনগুলোতে তারা আমাকে তাদের সঙ্গে অংশ নিতে নিষেধ করেছে। পরবর্তী সময়ে টরন্টো ফিল্ম ফেস্টিভ্যালেও আমার যাওয়ার কথা ছিল, তারা আমাকে সেখানেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।’
তবে পুরো টিম মুখ ফিরিয়ে নিলেও সহকর্মীদের মধ্যে সুনেরাহ, জায়নিন ও জায়নিনের মা তাকে এই দুঃসময়ে সহযোগিতা করেছেন বলে জানান বাঁধন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত সপ্তাহে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের ৮৩তম আসরে। উৎসবে ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়। প্রিমিয়ার শেষে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মেস্ত্রে শহরে ঘুরতে বের হলে হামলার মুখে পড়েন বাঁধন। তার দাবি, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সক্রিয় থাকার কারণেই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের প্রবাসী কিছু কর্মী তাঁর ওপর হামলা চালায়।
হামলার শিকার হওয়ার পর টিম পাশে না দাঁড়ালেও আন্তর্জাতিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ সহায়তা পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন বাঁধন। তিনি জানান, ঘটনার দিন রাতেই বাংলাদেশ সরকার ও ইতালির দূতাবাস তার সঙ্গে যোগাযোগ করে। এ ছাড়া উৎসবের পরিচালক, ইতালি সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় পুলিশ তাঁকে ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা প্রদান করে এবং নিরাপত্তার স্বার্থেই তাঁকে ভেনিস উৎসবের লিডোতে থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।
বিদেশের মাটিতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত বর্বরতা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে উল্লেখ করে বাঁধন বলেন, ‘প্রবাসী ভাইয়েরা আমার সঙ্গে বর্বরতা করেছে এবং আমাকে খুবই জঘন্যভাবে আক্রমণ করেছে। এটার কারণে আমাদের দেশের নাম বিদেশের মাটিতে কিন্তু ক্ষুণ্নই হলো। বিদেশিরা ভাববে, আমরা হয়তো জাতিগতভাবে সারাক্ষণ মারামারি করি।’ দলকানা না হয়ে প্রবাসীদের এমন অন্যায়ের পথ থেকে ফিরে আসার আহ্বান জানান এই অভিনেত্রী।