আজ শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং

Advertise

সাহিত্য-সংস্কৃতি

নিউজ ডেস্ক

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:৪৪

ঐতিহ্য প্রকাশ করবে কবি ও সম্পাদক ‘আবদুল হাই শিকদার-রচনাবলী’

বাংলাদেশের বিশিষ্ট কবি, লেখক, সাংবাদিক ও সম্পাদক আবদুল হাই শিকদারের সকল ধরনের রচনা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ ‘আবদুল হাই শিকদার-রচনাবলী’ প্রকাশ করতে যাচ্ছে দেশের সর্ববৃহৎ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘ঐতিহ্য’। এই উপলক্ষ্যে আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পুরানা পল্টনে ‘ঐতিহ্য’র প্রধান কার্যালয়ে লেখক আবদুল হাই শিকদার ও প্রকাশক আরিফুর রহমান নাইমের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়।

আবদুল হাই শিকদার বাংলাদেশের সমকালীন বাংলা সাহিত্যের একজন বহুমাত্রিক কবি, লেখক, সাংবাদিক ও সম্পাদক। তাকে শুধু কবি হিসেবে দেখলে তার কাজের পরিসরটি পুরোপুরি ধরা যায় না। কবিতা, ছড়া, গল্প, প্রবন্ধ, গবেষণা, জীবনী, ভ্রমণ, শিশুসাহিত্য, চলচ্চিত্র ও সম্পাদনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার দীর্ঘ সক্রিয়তা রয়েছে। প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা শতাধিক।

কবি আবদুল হাই শিকদার জন্মগ্রহণ করেন ১ জানুয়ারি ১৯৫৭, কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার দুধকুমার নদীর তীরবর্তী দক্ষিণ ছাট গোপালপুর গ্রামে। তার শৈশব ও কৈশোরে মওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক-সামাজিক প্রভাবের কথা তিনি নিজেই স্বীকার করেন। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বড় অংশ কেটেছে রংপুরের কারমাইকেল কলেজে। পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক সম্মান এবং পরবর্তীতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

আবদুল হাই শিকদারের সাহিত্যিক পরিচয়ের কেন্দ্রে রয়েছে তার কবিতা। তার কবিতায় দেশ, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, জাতিসত্তা, রাজনৈতিক সংঘাত, প্রেম, প্রকৃতি, ধর্মীয়-আধ্যাত্মিক অনুভব এবং সামাজিক প্রতিরোধ, এসব বিষয় বারবার এসেছে।

আবদুল হাই শিকদারের কবিতার একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো ইতিহাসকে বর্তমানের সঙ্গে যুক্ত করা। এ কারণে তাকে অনেকে ‘জাতিসত্তার কবি’ হিসেবেও অভিহিত করেন।

আবদুল হাই শিকদারের আরেকটি বড় পরিচয় সাংবাদিকতা। তার পেশাগত জীবন মূলত সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত। বিভিন্ন সময়ে তিনি সাংবাদিক সংগঠন ও গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

আবদুল হাই শিকদারের সাহিত্যিক কর্মকাণ্ডের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা কবি কাজী নজরুল ইসলাম। নজরুলকে নিয়ে তিনি গবেষণা, সম্পাদনা ও তথ্যচিত্র নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। জীবনী, গবেষণা ও ইতিহাসভিত্তিক কাজও তিনি করেছেন। তার দীর্ঘ সাহিত্যিক জীবনে বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন।

দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে আবদুল হাই শিকদার কবিতা, প্রবন্ধ, গবেষণা, সমালোচনা, সাংবাদিকতা, সম্পাদনা ও অন্যান্য সৃজনশীল ও মননশীল রচনার মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তার রচনায় একই সঙ্গে ইতিহাস, সমাজ, সংস্কৃতি, রাজনীতি, মানুষ ও সময়ের নানা অভিঘাত প্রতিফলিত হয়েছে। ফলে তার বিচিত্র ও বিস্তৃত সাহিত্যকর্মকে একটি সমন্বিত রচনাবলীর মাধ্যমে পাঠকের সামনে তুলে ধরা সময়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকাশনা উদ্যোগ বলে মনে করছে ‘ঐতিহ্য’।

 

‘ঐতিহ্য’ কর্তৃপক্ষ জানায়, আবদুল হাই শিকদারের এযাবৎ প্রকাশিত ও প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন ধরনের রচনা সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে পরিকল্পিতভাবে রচনাবলীটি প্রকাশ করা হবে। এর মাধ্যমে লেখকের দীর্ঘ সৃজনশীল জীবনের বহুমাত্রিক কর্মকে একত্রে সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

উল্লেখ্য বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ লেখকদের রচনাসম্ভার সংরক্ষণ ও পাঠকের কাছে সহজলভ্য করার ক্ষেত্রে ‘ঐতিহ্য’ দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে আসছে। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি ২৭টি রচনাবলী প্রকাশ করেছে। বাংলা ভাষার গুরুত্বপূর্ণ লেখকদের রচনাবলী প্রকাশের ক্ষেত্রে ‘ঐতিহ্য’ বর্তমানে বাংলাদেশের একটি অনিবার্য নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।

‘ঐতিহ্য’ জানায়, ‘আবদুল হাই শিকদার-রচনাবলী’-র সম্পাদনা ও প্রকাশনার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। শিগ্‌গিরই রচনাবলীটি পাঠকের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে।

শেয়ার করূন

আপনার মতামত