আজ শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং

Advertise

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

নিউজ ডেস্ক

৩১ জুলাই, ২০২৬ ১৯:৫৪

পাভেল দুরভ ইস্যুতে কঠোর অস্ট্রেলিয়া

বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ‘টেলিগ্রাম’-এর ওপর বিশ্বজুড়ে আইনি চাপ ও নজরদারি তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। একদিকে টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যকলাপে সহায়তার অভিযোগে মামলা করেছে রাশিয়া, অন্যদিকে চরমপন্থি ও সন্ত্রাসী উপাদান না সরানোর অভিযোগে প্ল্যাটফর্মটির বিরুদ্ধে আদালতে গিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

রাশিয়ার কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এফএসবি) জানায়, ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো টেলিগ্রামের ‘দাইভিঞ্চিক/লিও’ নামক একটি ডেটিং চ্যাটবট ব্যবহার করে তরুণদের নাশকতামূলক কাজে নিয়োজিত করছে।

টিণ্ডার রাশিয়া থেকে ব্যবসা গুটানোর পর এই চ্যাটবটটি স্থানীয় তরুণদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। অভিযোগ করা হয়েছে, গোয়েন্দা এজেন্টরা তরুণী সেজে তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিভ্রান্ত করত এবং পরবর্তীতে তাদের বিভিন্ন হামলা চালাতে বাধ্য করত।

গত এক বছরে এ সংক্রান্ত মামলায় ১২ থেকে ২২ বছর বয়সি অন্তত ৪৬ জন তরুণকে গ্রেফতার করেছে রুশ কর্তৃপক্ষ। তারা পুলিশ, যোগাযোগমাধ্যম, পরিবহন ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল বলে দাবি রাশিয়ার। ইউক্রেন অবশ্য এ নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

এফএসবি জানিয়েছে, পাভেল দুরভকে আন্তর্জাতিক ওয়ান্টেড তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চলছে। দুবাইয়ে অবস্থানরত এই প্রযুক্তি উদ্যোক্তাকে ফিরিয়ে আনা বা ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করার প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ।

বর্তমানে রাশিয়া টেলিগ্রাম ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপ করেছে এবং অধিকাংশ নাগরিক ভিপিএন ব্যবহার করে এটি চালান। তবে হাস্যকর বিষয় হলো, দেশটির সরকারের অনেক দপ্তর, সামরিক কর্মকর্তা ও ক্রেমলিন নিজেই দৈনন্দিন আপডেট দিতে এখনো টেলিগ্রামের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

উল্লেখ্য, রাশিয়ায় জন্ম নেওয়া দুরভ পরবর্তীতে ফ্রান্স ও আমিরাতের নাগরিকত্ব পান। ২০২৪ সালেও অপরাধমূলক কাজে টেলিগ্রাম ব্যবহারের অভিযোগে ফ্রান্সে গ্রেফতার হয়েছিলেন তিনি।

সম্প্রতি রাশিয়ার একটি আইনি নোটিশের জবাবে টেলিগ্রামের অফিশিয়াল এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে মধ্যমা প্রদর্শনকারী একটি ছবি পোস্ট করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন দুরভ। তিনি জানান, বাকস্বাধীনতা ও যোগাযোগের গোপনীয়তা রক্ষা করাই যদি তার অপরাধ হয়, তবে তিনি সেই অপরাধে গর্বিত।

এদিকে, টেলিগ্রামের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা। নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ ও আমেরিকার বাফেলোর সন্ত্রাসী হামলা এবং শিরশ্ছেদের মতো নারকীয় সব ভিডিও দীর্ঘ দিন নোটিশ দেওয়া সত্ত্বেও প্ল্যাটফর্ম থেকে না সরানোর অভিযোগে টেলিগ্রামকে আদালতে তুলেছে দেশটি।

সংস্থাটি জানায়, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে অক্টোবরের মধ্যে ব্যবহারকারীদের ১২টি অভিযোগের মধ্যে ১০টি পোস্ট সরাতে বা সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট স্থগিত করতে ব্যর্থ হয়েছে টেলিগ্রাম। বিচারে দোষী সাব্যস্ত হলে অস্ট্রেলিয়ার আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে ৫ কোটি ৪৬ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার (প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার) জরিমানা গুনতে হতে পারে।

অস্ট্রেলিয়া ও রাশিয়ার এই জোড়া আক্রমণের মুখে টেলিগ্রামও লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, চরমপন্থা দমনে তাদের ভূমিকা সুস্পষ্ট। কেবল ২০২৬ সালেই তারা হাজার হাজার চরমপন্থি গ্রুপ ও চ্যানেল ব্লক করেছেন।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে টেলিগ্রামের সক্রিয় মাসিক ব্যবহারকারী ১০০ কোটিরও বেশি। একদিকে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের অন্যতম প্রধান তথ্যের উৎস হিসেবে এর ব্যবহার বাড়ছে, অন্যদিকে নিরাপত্তা, গোপনীয়তা এবং কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণের ইস্যুতে বিশ্বজুড়ে কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন মেসেজিং দুনিয়ার এই পরাশক্তি।

শেয়ার করূন

আপনার মতামত