আজ শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং

Advertise

আন্তর্জাতিক

নিউজ ডেস্ক

০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৪৬


সর্বশেষ আপডেট :
০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:৩৭

বদলে যাচ্ছে বিশ্বের মানচিত্র

আমাদের চেনা মানচিত্রে অনেক দেশ ও মহাদেশকে যতটা বড় বা ছোট দেখা যায়, বাস্তবে তা একদমই অন্যরকম। যেমন—মানচিত্রে উত্তর আমেরিকার গ্রিনল্যান্ড দ্বীপকে দেখলে মনে হয় বিশাল এক অঞ্চল, ঠিক যেন পুরো আফ্রিকা মহাদেশের সমান!


অথচ আসল সত্যিটা হলো, আফ্রিকা মহাদেশ গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে প্রায় ১৪ গুণ বড়। শত শত বছর ধরে চলে আসা এই ভুল শুধরে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্বদরবার।

১৫৬৯ সালে জেরার্ডাস মার্কেটর নামের এক ইউরোপীয় মানচিত্রকর এই চেনা মানচিত্রটি তৈরি করেছিলেন। তখন সমুদ্রের জাহাজে পথ চেনার সুবিধার জন্য একটি বিশেষ নকশায় তা আঁকা হয়েছিল।

গোল পৃথিবীকে চ্যাপ্টা কাগজে আঁকতে গিয়ে দেখা যায়, পৃথিবীর মাঝখানের বিষুবরেখা থেকে দূরের দেশগুলো অযথাই অনেক বড় হয়ে যায়, আর মাঝের দেশগুলো ছোট হয়ে পড়ে। এর ফলে ইউরোপ বা আমেরিকা অনেক বড় দেখায়, আর আফ্রিকা বা ভারতের মতো বিশাল ভৌগোলিক অঞ্চলগুলো তাদের আসল আকারের চেয়ে অনেক ছোট হয়ে সামনে আসে।

 
ভৌগোলিকদের মতে, এটা কেবল একটি দেখার ভুল নয়। বছরের পর বছর এই মানচিত্র দেখে বড় হওয়ার কারণে বিশ্বজুড়ে মানুষের মনে ইউরোপ আর আমেরিকার প্রভাব খুব বড় হয়ে দাঁড়িয়েছিল, আর আফ্রিকার আসল বিশালতা আড়ালেই রয়ে গিয়েছিল।

এই ভুল ইতিহাস বদলে দিতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। প্রস্তাবে ‘মার্কেটর’ মানচিত্রের বদলে ‘ইকুয়াল আর্থ’ নামে একটি নতুন মানচিত্র ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে, যেখানে সব দেশের আসল আয়তন নিখুঁতভাবে ফুটে ওঠে।

ভোটাভুটিতে বিশ্বের ১৬৪টি দেশ নতুন এই মানচিত্রের পক্ষে সমর্থন জানায়, কেবল যুক্তরাষ্ট্র এর বিপক্ষে ভোট দেয়। জাতিসংঘ থেকে এই নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া না হলেও অনেক দেশ ইতোমধ্যে তাদের ভুল মানচিত্র পরিবর্তন করা শুরু করে দিয়েছে।

আফ্রিকার দেশগুলো আশা করছে, গুগল ম্যাপস ও পৃথিবীর সমস্ত পাঠ্যবইয়ে এই পরিবর্তন আসলে বিশ্ব অবশেষে তাদের সঠিক রূপ দেখতে পাবে।

সূত্র: ইন্ডিপেন্ডেন্ট।

শেয়ার করূন

আপনার মতামত