Advertise
১৯ অগাস্ট, ২০২৬ ২২:১০
অধ্যাপক আবম ফারুক নীরবেই চলে গেলেন! ইবসেনের "গণশত্রু" নাটকের চাইতেও তার কাহিনী আরও বহুগুন বেশি নাটকীয়।
একজন আদর্শবাদী বিশেষজ্ঞকে কিভাবে দুমড়ে মুচড়ে দেয় একটা ব্যবস্থা! ওই তুলনায় ইবসেনের কাহিনী বরং অনেক সরল, সাদামাঠা।
২০১৯ সালে আবম ফারুক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল রিসার্চ সেন্টারে বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া পাস্তুরিত দুধগুলো নিয়ে একটা পরীক্ষা করেন এবং তার সবগুলোতে উচ্চমাত্রার অ্যানটিবায়োটিক পান। এছাড়া কোন কোনটিতে পেয়েছিলেন ডিটারজেন্ট। আরেক গবেষণায় তিনি বাজারের অধিকাংশ চকলেট লজেন্স সহ শিশুদের পছন্দের খাদ্যে চিনির নিষিদ্ধ বিকল্পগুলো পান, খাবারের রঙের বদলে পেয়েছিলেন কাপড়ে দেয়ার রঙ। ইত্যাদি আরও অনেক কিছু।
নিরাপদ খাবার নিয়ে তার একটা পাগলামি ছিল।
যাহোক, আবম ফারুকের গবেষণার পর দুধ নিয়ে সেবার খুব হৈচৈ হয়েছিল, আবম ফারুককে বিপুল আক্রমণের মুখোমুখিও হতে হয়েছে। আমি তখন দীপ্ত টেলিভিশনে একটা অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করতাম।
সেখানে চা খেতে খেতে অধ্যাপক আবম ফারুককে খুবই আশাবাদী দেখতাম: "হৈ চৈ পড়ে যাবে, মানুষের ঢল নামবে, শুধু যদি পত্রিকাগুলোকে একটু কাছে পাই! আমেরিকাতে জানেন, দুধ নিয়েই এই রকম একটা ঘটনায় এত শোরগোল উঠেছিল, উপন্যাস লেখা হয়েছিল যে, রাষ্ট্র্রপতি পর্যন্ত একটা আইন প্রণয়নে বাধ্য হন! ওই থেকে শুরু মার্কিন এফডিএ-র।"
আমি অবশ্য একটা হতাশাজনক তত্ত্ব দিলাম তাকে: স্যার, আমার মনে হয় আমেরিকাতে এত হৈচৈ হয়েছিল, কারণ মার্কিন বড়লোকেরা নিজের দেশের দুধই খায়, এদিকে বাংলাদেশের বড়লোকেরা মার্কিন দুধ আমদানি করে খায়। ফলে আপনি যাদের নিয়ে আশা করতেছেন, তারা হয়তো ততটা খুশী হবে না।
আমার হতাশার কারণ ছিল। গণমাধ্যমে যুক্ত আমার একাধিক পরিচিতর কাছ থেকে ইতিমধ্যেই আবম ফারুকের অভিষন্ধি নিয়ে নানান ষড়যন্ত্র তত্ত্বের ডালপালা মেলবার কথা শুনতে পেলাম।
সকলেই জানতেন, আবম ফারুক মানুষ হিসেবে ছিলেন শিশুর মত। ওষুধ শিল্পের মান উন্নয়নের তার ভূমিকা বিশাল। কখনোই দুর্নীতি করেননি। কাজের ঘোরে থাকতেন সর্বদা।
এগুলো যেহেতু সবারই জানা, কাজেই "বিদেশীদের টাকা খেয়ে দুগ্ধ শিল্পের বারোটা বাজানো আবম ফারুকের" পাশাপাশি আরেকটা তত্ত্বও চলে এলো: "বেকুব আবম ফারুক, না বুইঝা বিদেশী দুধের দালালি করতেছেন।"
ওনার অনুরোধে একটা পত্রিকায় লিখলাম, "অধ্যাপক ফারুক দুগ্ধশিল্পের যে উপকারটি করেছেন"। মূল বিষয় ওটাই, বিদেশী দুধ আমদানির সমাধান আবম ফারুক দেননি, তিনি বাংলাদেশের দুগ্ধ শিল্পকে বাঁচবার পথ দেখিয়েছেন। তার দেখানো পথ না ধরলে দুধ চিরকাল ভেজাল থাকবে, বড়লোকেরা নিজের খামার বাড়িতে, মধ্যবিত্তরা আমদানি করা দুধে ভরসা রাখবেন। মানুষ নিশ্চিন্তে দেশের বাজারে দুধ খাবে না
কিছু সময়ের জন্য আবম ফারুক বেশ বেপরোয়া হয়ে উঠলেন। অন্য একটা টেলিভিশনে একজন বড় শিল্পপতি যখন সামনা সামনি তাকে বললেন যে, ফারুক সাহেবের বায়োমেডিকেল রিসার্চ সেন্টারের এমন গবেষণার সামর্থ্যই নাই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সব গবেষণা ফালতু, প্রত্যুত্তরে তিনি সপাটে জানালেন: আপনাদের প্রতিষ্ঠানে যে সব বিশেষজ্ঞ কাজ করেন, সবাই আমার ছাত্র। যোগ্যতা না থাকলে আপনারা ওদের নিচ্ছেন কেন? আর সক্ষমতার কথা বলছেন? চিনি আর রঙ এর মান ধরতে তো বিরাট গবেষণাগার লাগে না! আমাদের গবেষণাগারে আপনার খাবার আমরা পরীক্ষা করে দেখেছি, চিনি পাইনি, আপনাদের ব্যবহার করা রঙ খাবার রঙ না। আসেন আমরা যে কোন আন্তর্জাতিক গবেষণাগারে নমুনা পাঠাই। দেখা যাক, কারা সঠিক।
এত জোর দিয়ে তিনি কথা বলতে পেরেছিলেন, কারণ সবগুলো নমুনা তিনি সকল নিয়ম মেনে কয়েকটা বিদেশী গবেষণাগারেও পাঠিয়েছিলেন।
আবম ফারুকের এই সহজ সত্যের সামনে দাঁড়াবার ঝুঁকি নিলেন না ওই শিল্পপতি, বাঁকা পথ ধরলেন: আমাদের প্রতিষ্ঠানে এত হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়, আমরা এত টাকা কর দেই... বাংলাদেশের দুধ শিল্পের বিরুদ্ধে এটা একটা আন্তর্জাতিক চক্রান্ত চলছে!"
এবং এটাই শুরু হলো বড় আকারে। তৎকালীন খাদ্য সচিব তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দিলেন। আবম ফারুক দমে যাননি। তার কাজের প্রতিক্রিয়ায় গণমাধ্যম ও জনসমাজের যে সাড়া আশা করেছিলেন, তেমন কিছু না হলেও শুরুতে তিনি অন্তত তার সহকর্মীদের পাশে পেয়েছিলেন। অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে তার সমর্থনে কর্মসূচি হয়, শিক্ষক নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে বিবৃতি দেয়া হয়।
সচিবের হুমকিতে কাজ হচ্ছে না দেখে মাঠে নামেন খাদ্য মন্ত্রী রাজ্জাক। তিনি একইভাবে বিদেশী ষড়যন্ত্র ইত্যাদি বলে আরেক দফা হুমকি দেন।
আমার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলে তার ভেঙে পড়াটা দেখতে পেলাম। ক্ষমতাকে তিনি ততটা গুনতেন না, কারণ ভরসা রাখতেন মানুষের সমর্থনে। কিন্তু ভেঙে পড়লেও তিনি কথা বলা থামাননি। একদিন তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নামিয়ে দেয়ার সময়ে দেখলাম, একজন সংসদ সদস্যকে খানিকটা কাকুতি মিনতি করছেন তার কথাটা শোনার জন্য। আমি একটু ক্ষুদ্ধ হয়েই বলেছিলাম, আমরা তাকিয়ে আছি আপনার দিকে, আর আপনি মিনতি করছেন একজন ভূয়া ভোটের সংসদ সদস্যকে! উনি একটু বিব্রত হলেন। বললেন যে, আসলে তিনি একটু সময় নিতে চাচ্ছেন, কারণটা তখনও বলা যাবে না। কিন্তু সেটা ঘটলে খেলা হয়তো ঘুরে যাবে।
এরপর আসলো চূড়ান্ত আঘাত। প্রধানমন্ত্রী নিজে "প্রফেসর সাহেবের" দুধ নিয়ে গবেষণার বিষয়টা নিয়ে কথা তুললেন এবং বললেন "এখানে আমার মনে হচ্ছে যে, আমদানিকারক যারা তাদের কোনো কারসাজি আছে কি না -সেটা আমাদের দেখা উচিত...কাজেই যারা গুজব ছড়াবে বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করবে তাদের ওপর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। "
আবম ফারুক এরপর থেকে শুরুতে খানিকটা দমে, এবং শেষে বলতে গেলে চুপ করে গেলেন। একটা কারণ আমাকে বললেন, তার সহগবেষকরা তার কক্ষে এসে বলেছেন যে, তারা তওবা করেছেন, আবম ফারুকের সাথে তারা আর কাজ করবেন না!
আসল কারণটা তখনও বলেননি, সেটা জেনেছিলাম বহু পরে। সেইখানেই এই গল্পের শেষ।
যোগাযোগ কমে এসেছিল। আমি ইউপিএল এ শুনে একদিন নিজেই ফোন করে আসলেন, একটা পাণ্ডুলিপি নিয়ে। "খাদ্যে সন্ত্রাস: ভোক্তাদের যা জানা প্রয়োজন"নামে একটা বই তার ছিল, সেটাকেই আরও বড় করে, সমকালীন করে তৈরি করবেন।
আমি খুবই উৎসাহ পেলাম। কয়েকদিন কাজ চললো। নিয়মিত যোগাযোগ। কিন্তু টের পেলাম, তিনি আর আগের আবম ফারুক নেই। কিছু একটা বদলে গেছে। ভীরু, সাবধানী এবং সংযত। পাণ্ডুলিপিটা তিনি বই করতে চান, কিন্তু একপা আগান, তিন পা পেছান। এক বছর গেলো, দুই বছর গেলো, একসময়ে আমি হাল ছেড়ে দিলাম, যদিও তিনি হঠাৎ হঠাৎ সাহস ফিরে পান, আবারও আমাকে খবর পাঠান।
আমি অভয় দেই, স্যার, এটা এমন কোন বই না, সরকার এটা নিয়ে আদৌ ভাববেই না। আপনি নিশ্চিন্তে শেষ করেন।
উনি বলেন, না ফিরোজ সাহেব, সচিব, মন্ত্রী টন্ত্রী হলে কথা ছিল, প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত বিষয়টা নিয়ে কথা বলছেন, এত সহজ না।
আমি তো একদিন বলেই ফেললাম, স্যার, আপনি নিশ্চিত থাকেন, ব্যবসায়ীরা এই সব কথা পয়সা খরচ করে বলিয়েছিল, আপনার কথা ওদের এখন মনেই নাই।
শেখ হাসিনা ভুলেই গেছে যে আপনার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিবে সে, কিন্তু আপনি ওই ভয়টা নিয়ে এখনও বসে আছেন।
উনি বিষন্ন এবং গোমড়া হন। কিন্তু কিছু একটা গোপন করছিলেন তিনি।
৩.
এরপর আমাকে একদিন একটা বিবৃতি পাঠালেন হোয়াটাস্যাপে। তিনি বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন, সভাপতি ডাক্তার মালেক। মালেক সাহেবকেও চিনতাম, বাবার সাথে বন্ধুত্ব ছিল খুব। হাসিনার আমলের প্রথম শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারী নিয়ে একদিন আমার ভাইকে বলেছিলেন, কিভাবে তখনকার অর্থমন্ত্রীর ছেলে আর তার বউ এক ব্রিফকেস টাকা নিয়ে এসেছিলেন তার জন্য সুপারিশ করতে। মালেক সাহেব রাজি হননি।
আমি তো জানি হঠাৎ এই বঙ্গবন্ধু পরিষদে সক্রিয় হবার পেছনের কারণ। একটু রেগেই বললাম, স্যার, আপনাকে এখনো হাসিনা তাড়া করতেছে, হাসিনা কিন্তু আপনার কথা ভুলেও গেছে। আপনি নির্মল সেনের দল করতেন, শেখ মুজিবুর রহমানের সামনে সত্যি বলতে কোনদিন তিনি পিছপা হন নাই, স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই লিখছেন, আর আপনি বঙ্গবন্ধু পরিষদ হচ্ছেন।
স্যার ফোনেই একটু কাচুমাচু, বললেন, আসলে বুঝলেন কাজ করতে হলে অনেক সাবধানী হতে হবে, সব উপায় ব্যবহার করতে হবে। বইটার পাণ্ডুলিপি আপনাকে খুব দ্রুতই দিচ্ছি... আর বঙ্গবন্ধু তো সবার উর্ধে, না?
আমি বললাম, স্যার, এই পাণ্ডুলিপি করার নিরাপত্তার জন্য যদি বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হতে হয়, ঠিকাছে আমি হয়তো মেনে নিলাম। কিন্তু যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতেছেন, তারা চাইলে এইসব পরিষদ-টরিষদ উড়ে যাবে স্যার। বরং মানুষকে ভরসা করেন, মানুষ সচেতন হলে এগুলো লাগবে না। আর কাউকেই সবার উর্ধে রাখা গবেষকের জন্য মনে হয় ভালো না।
উনি মানতে চাইলেন না যে, এই কারণেই উনি বঙ্গবন্ধু পরিষদে সক্রিয় হয়েছেন। আমাকে বলতে থাকলেন, আসলে এটা আগে থেকেই ছিল.. ভাবলাম অবসরে আছি... পাণ্ডুলিপিটা ফিরোজ সাহেব আমি দ্রুত দিয়ে দেবো...
পাণ্ডুলিপি আর চূড়ান্ত হয়নি। এই করতে করতে চব্বিশ সালও চলে আসলো। সে আরেক কাহিনী, পাঠকের আর ধৈর্যচ্যুতি ঘটাবার দরকার নাই।
তবে আর একটা গল্প না বললে কাহিনী অসম্পূর্ণ থাকবে, সেটা অন্তত বলি।
২০২২ সালে একটা হৈচৈ হলো বেগুন নিয়ে। বেগুনে তীব্র মাত্রায় নানান রাসয়নিক মিললো।
তখনকার তিন সাংবাদিক মিলে একটা টিভি টকশোতে সেই গবেষককেই ধোলাই করলেন, তাহলে কি মানুষ বেগুন খাবে না? এই সব গবেষণার উদ্দেশ্য কি আপনাদের? সরকারকে বিপদে ফেলতে চান? বিদেশ খেতে বেগুন আমদানি করে খেতে হবে?
বেচারা অধ্যাপক গবেষকের চেহারাটা হয়েছিল দেখবার মতন। আবম ফারুক স্যারের মতই তিনিও হয়তো ভেবেছিলেন, -- খুব হৈচৈ হবে, সাংবাদিকরা তাকে ধন্যবাদ জানাবেন, তার গবেষণার পদ্ধতি নিয়ে জানবেন, এই সব ভারী ধাতু খাবারে কিভাবে আসে, তার কারণ জানতে চাইবে, তিনি উত্তরনের উপায়ও বলবেন-- দেশবাসী সতেচন হবে।
আবম ফারুক তখন মনে হয় বিদেশে, সম্ভবত মেয়ের কাছে। আমি ওই গবেষকের হেনস্তার ভিডিওটা তাকে পাঠালাম, একটা রূঢ় উদ্দেশ্য নিয়েই। সাথে এমন কিছু একটা লিখেছিলাম মনে হয়:
স্যার, আপনি তো দাঁড়ালেন না সোজা হয়ে, হাসিনা আপনাকে হুমকি দিয়ে নিজেই ভুলে গেলো, আপনি আর ভুললেন না। এখন দেখেন, দেশে গবেষকদের কী হেনস্তা চলতেছে। এই দেশে আর কোনদিন গবেষণা হবে?
উনি ঘন্টাখানেক বাদে ফোন করলেন। এবং এতদিন লুকিয়ে থাকা সেই কথাটা বললেন।
তার কণ্ঠ অসম্ভব ভারী ছিল সেদিন, বলতে গেলে কান্নাভেজা। বললেন, অধ্যাপক আনোয়ারদের কপাল ভালো, তারা তাদের পুরো গবেষণার খুঁটিনাটি ন্যাচারের মত জার্নালে ছেপে তারপর সংবাদ সম্মেলন করেছে। নাইলে ওকেও ছিড়ে ফেলতো। আমি আসলে ভুল করেছিলাম, আগে জার্নালে না ছেপে সংবাদ সম্মেলন করলাম-- আমার মনে হচ্ছিল এই রকম একটা বিষয় নিয়ে একদিনও দেরি করা যাবে না, আজকে থেকেই কাজ শুরু করতে হবে।"
আমি আসলে তখনো বুঝতে পারিনি এই আগে আর পরেতে কী আসে যায়। বুঝলাম একটু পর।
"প্রধানমন্ত্রী হুমকি দেয়ার পর আমার সহকর্মীরা আমার ওখানে এসে আমাকে বললো, স্যার আমরা সবাই বিপদে পড়বো, আমাদের ছেলেমেয়েরাও বলতেছে, বাবা তোমার কারণে আমাদের বিদেশে পড়তে যাওয়া হবে না; আপনি স্যার এখন, আমাদের সামনে, আপনার এই কম্পিউটার থেকে সব কিছু মুছবেন, সব ডাটা, সব অ্যানালাইসিস, সব। বুঝলেন ফিরোজ সাহেব, আমাদের অত দিনের কাজ আর কোথাও ছাপা হয় নাই। আমি একদম ভেঙে পড়লাম।"
যা লিখলাম, তা আসলে পুরো পর্বটার আমার যেটুকু জানা। হয়তো এই কাহিনীর আরও বহু ঘাত-প্রতিঘাত আছে। স্মৃতির ওপর ভর করতে হয়েছে অনেক বিষয়ে। এই কাহিনী বহুবার বলেছি আমার বন্ধু ও সুহৃদদের।
জানি না এই ঘটনাক্রম কোন কাজে লাগবে কি না মানুষের। কিন্তু অধ্যাপক আবম ফারুক আমার এত প্রিয় একজন মানুষ ছিলেন, মনে হলো তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাবার জন্য হলেও লিখে ফেলা দরকার। একজন সাহসী গবেষক যেভাবে দুমড়ে মুচড়ে যান, তাতে আমাদের প্রত্যেকেরই তো কিছু অংশভাগ আছে। এতে যদি তার খানিকটা মোচন হয়।
ভালো থাকবেন, স্যার।