Advertise
০৮ জানুয়ারী, ২০২১ ১৬:৫০
শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে করোনাভাইরাসের প্রকোপ ইউরোপে জেঁকে বসেছে।
পর্তুগালে আস্তে আস্তে কিছুটা ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে; যেখানে প্রথম ছয় মাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৭০ হাজারের মতো অথচ দ্বিতীয় আঘাতে আক্রান্তের সংখ্যা ৪ লাখ ৪৬ হাজার। একই চিত্র করোনায় মৃত্যু নিয়েও। যেখানে প্রথম ছয় মাসে মারা গেছে ২ হাজারের নিচে, সেখানে বর্তমানে মৃত্যুর সংখ্যা ৭ হাজার ৩৭৭ জনে এসে পৌঁছেছে।
বুধবার ৬ ডিসেম্বর দেশটিতে সংক্রমণের শুরু থেকে এ পর্যন্ত রেকর্ড সংখ্যক সর্বোচ্চ ১০ হাজার ২৭ জন একদিনে আক্রান্ত হন। একই দিনে ৯১ জন মৃত্যুবরণ করেন। এ চিত্রে পর্তুগালের নাগরিকদের মনে একপ্রকার আতঙ্কের উদ্রেক হচ্ছে। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আতঙ্কগ্রস্ত না হয়ে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
বুধবার সকালে পর্তুগালের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, স্বাস্থ্যকর্মীরা এক কঠিন সময় পার করছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকা মেনে চলুন এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হবেন না, এতে স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য সহায়ক হবে।
সবচেয়ে উৎকণ্ঠার বিষয় হচ্ছে যে, হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র মোট সক্ষমতার ৮০ শতাংশে পৌঁছে গেছে; যা ইতোপূর্বে কখনই ঘটেনি। উল্লেখ্য, করোনার পূর্বে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের সংখ্যা পর্তুগাল ১০০ শতাংশ বাড়িয়েছে। তারপরও এই চিত্র।
অপরদিকে আশার চিত্র হচ্ছে, পর্তুগালে ১ লাখ ৪০ হাজার লোক ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন। বলতে গেলে দুই-তৃতীয়াংশ স্বাস্থ্য কর্মীদের টিকার প্রথম ডোজ প্রদান করা হয়েছে, তাছাড়া বিভিন্ন বৃদ্ধনিবাস কেন্দ্রে বয়স্কদের টিকা প্রদান ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে যারা প্রথম ডোজ নিয়েছেন তাদের দ্বিতীয় ডোজ প্রদান করা হবে। তবে প্রথম ডোজ দেয়া হলেও দ্বিতীয় ডোজ ছাড়া স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরাপদ নয়। ইতিমধ্যে ইউরোপিয়ান মেডিসিন কর্তৃপক্ষ দ্বিতীয় টিকা হিসেবে মডেরনাকে অনুমোদন দিয়েছে; যা ইউরোপের ধীরগতির টিকাদান প্রক্রিয়াকে সচল করবে বলে কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছেন।