Advertise
২৯ জুলাই, ২০২৬ ২২:৪২
সর্বশেষ আপডেট :
২৯ জুলাই, ২০২৬ ২২:৪৩
সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রানী পালের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড করা সাধারণ একটি ফেসবুক রিল ভিডিওকে কেন্দ্র করে বর্তমানে তিনি সাইবার বুলিং ও হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬-এ সিলেট জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষিকা নির্বাচিত হওয়া বিউটি রানী পাল বিদ্যালয় ছুটির পর প্রাঙ্গণে শাড়ি পরে স্বাভাবিকভাবে হেঁটে যাওয়ার একটি ভিডিও পোস্ট করেন, যার ব্যাকগ্রাউন্ডে ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে’ গানটি যুক্ত ছিল। 'ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিদিন' নামক একটি অনিবন্ধিত ফেসবুক পেজ এই সাধারণ হাঁটার ভিডিওটিকে 'অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি' ও নেতিবাচক ক্যাপশন দিয়ে প্রচার করলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি সংকীর্ণমনা অংশ তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করে। বিস্ময়করভাবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারি কর্মচারী নীতিমালার আলোকে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
শিক্ষিকা বিউটি রানী পাল নিজে স্বীকার করেছেন যে তিনি মূলত রিল বা ছোট ভিডিও তৈরি করতে জানতেন না এবং এক সহকর্মীর সহায়তায় ছুটির পর শাড়ি পরে স্বাভাবিকভাবে হেঁটে এই ভিডিওটি ধারণ করেন। ভিডিওটিতে কোনো প্রকার অশ্লীলতা বা অনৈতিক উপাদান ছিল না। বাস্তবিকই আমরা তা দেখিনি৷ সংখ্যালঘু বলেই হয়তো অসভ্যরা সাইবার বুলিং অতিমাত্রায় করছেন৷ অথচ এমন রুচিশীল শিক্ষকই এদেশে বেশি নেই৷
একটি চক্র এআই (AI) ভয়েসওভার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ব্যবহার করে এটিকে নিউজ আকারে প্রকাশ করে, যা তাঁকে সামাজিকভাবে হেনস্তা ও মানসিক চাপে ফেলার একটি পরিকল্পিত প্রয়াস। সেই ধারাবাহিকতায় ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশনায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নীতিমালার কোনো লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, শুধু গান গাওয়ার মধ্যে তিনি কোনো অন্যায় দেখছেন না। তাহলে এই কমিটি বা তদন্তের উদ্দেশ্য কী? সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও সাতক্ষীরার মৌলবাদের প্রকটতার বিষয়ে আমরা অবগত৷ ফলে তারা একটু বেশিই সিডিউসড হয়েছে৷
এই অন্যায় প্রচারণার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে দেশের হাজার হাজার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা একই গান ব্যাকগ্রাউন্ডে ব্যবহার করে নিজেদের রিল ভিডিও পোস্ট করে। এই অভিনব ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিশাল সংহতি আন্দোলনের রূপ নিয়েছে। অভিনন্দন রুচির পক্ষে থাকা শিক্ষকদের৷
অনিবন্ধিত ফেসবুক পেজ বা ব্যক্তি যারা এই মিথ্যা ও বিকৃত প্রচারণা চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা আইনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। ইতোমধ্যে শিক্ষিকা বিউটি রানী পাল ফেঞ্চুগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন, যার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত। শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি সুনির্দিষ্ট 'শিক্ষক সুরক্ষা আইন' পাস করা দরকার। এতে করে পেশার বাইরের ব্যক্তিস্বাধীনতায় কেউ অযাচিত হস্তক্ষেপ বা হেনস্তা করার সাহস পাবে না।
সরকারি চাকরিজীবীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নীতিমালাকে এমনভাবে মূল্যায়ন করা উচিত যেন তা কোনো ব্যক্তির সুস্থ বিনোদন, সংস্কৃতিচর্চা এবং স্বাভাবিক ব্যক্তিস্বাধীনতাকে খর্ব না করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের সচেতনতা বাড়াতে হবে, যেন কেউ যাচাই না করে কোনো নারীর বিরুদ্ধে স্লাট-শেমিং বা অপপ্রচারে লিপ্ত হতে না পারে। শিক্ষকদেরও যে রক্ত-মাংসের মানুষ হিসেবে আনন্দ-বেদনা প্রকাশের অধিকার রয়েছে—এই সুস্থ মানসিকতা সমাজে প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।
ওই শিক্ষিকার হেঁটে যাওয়া দেখে যারা সাডিউসড বা যৌলমিলনে প্রলুদ্ধ হচ্ছেন তারা মাসখানেকের জন্য মাদ্রাসায় যেতে পারেন বলাৎকার হওয়ার জন্য৷ এটা পছন্দ না হলে দৌলদিয়া যৌনপল্লীতে যেতে পারেন৷ না হলে 'যার কেউ নাই তার হাত আছে'—এই পংক্তিও অনুসরণ করতে পারেন৷ অন্তত একজন রুচিশীল শিক্ষিকাকে বিরক্ত করা থেকে বিরত থাকুন৷