Advertise
২৯ জুলাই, ২০২৬ ২৩:০৫
আমি মোদীর রাজনীতিকে তো সমর্থন করিই না বরং তার বিপরীতে আমার অবস্থান কিন্তু রাজনীতি বিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে ভারতের রাজনীতি, সামাজিক কাঠামো ও সরকার পদ্ধতি বিষয়ে আমার একটি বিশ্লেষণ আছে।
মোদী ভারতের কোন এলিট বা খ্যাতিমান রাজনৈতিক পরিবার থেকে উঠে আসেনি। তিনি এসেছেন সমাজের নিখাদ প্রান্ত ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী থেকে। সেখান থেকে ভারতের মত একটি বৃহৎ পরাশক্তির প্রধানের পদ অর্জন করা চারটিখানি কথা নয়। তাকে তা অর্জন করতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। শুধু তাই নয় তিনি তৃতীয়বারের মত জনগণের ভোটে এই বৃহৎ দেশের ক্ষমতায়ও আছেন।
যাঁকে ঘিরে আছে জয় শংকর, অজিত দোভাল ও অমিত শাহের মত ঝানু, খ্যাতিমান ও কিংবদন্তী তুল্য রাজনীতিক। যাদেরকে বলা হয় মোদী ও ভারতের রাজনীতির প্রধান পিলার। যদিও উনারা কেউই বিতর্কের উর্ধের কোন ব্যক্তিত্ব নন। তবে তাদের রাজনীতির একটি আলাদা ছক আছে। সেই ছকে তারা কতটা ভুল করতে পারেন সেটা ভাবি..। সর্বশেষ পরিস্থিতি তাদের সেই বিচক্ষণতারই পরিচয়।
সেই দিক থেকে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন তথা ভারতের জেনজি’রা যেমন বাংলাদেশের মত নয়, সেখানকার রাজনীতিকরাও বাংলাদেশের মত নয়। এটা তো স্বীকার করেন যে ভারতীয়রা দেশ প্রেমিক। চুড়ান্ত বিবেচনায় তারা তদের দেশটাকে ভালবাসে, দেশটাকে রক্ষা করে, পশ্চিমা শক্তি তাদের বিভ্রান্ত করতে চেষ্টা করেছে কিন্তু চুড়ান্ত বিবেচনায় তারা তাদের দেশটাকে ভালবাসে। তারা অন্য কোন কিছুকে স্থান দেয়নি.. তারা সরকারের সাথে সমঝোতায় এসে তাদের প্রতি আস্থা রেখেছে। তাদের কাছে সবার আগে দেশ। তা স্লোগানে, বক্তব্যে নয় বাস্তবেও..।
এই পরিস্থিতিতে মোদি জাতির উদ্দেশ্যে কোন ভাষণ না দিয়ে, দেশ-বিদেশের ক্যামেরার সামনে না এসে সাধারণ ভঙ্গিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসে তিনি বাচ্চোদের ফ্রেন্ডস বলে সম্বোধন করে, তাদের আন্দোলনের যৌক্তিকতা উপলব্ধিক কথা বলেন। সেখানে কোন হুমকি-ধামকি, ভয়-ভীতি ছিল না। অথচ তিনি চাইলে দেশ-বিদেশের হাজারো ক্যামেরার সামনে গরম-গরম কথাবার্তা বলতে পারতেন কিন্তু তিনি তা করেননি।
আমাদের সরকার, রাজনীতিক ও ছাত্রদের মাথায় দেশ ছিল না, নেই। সেটা থাকলে ২৪-এ এমন অঘটন ঘটতো না। আমরা প্রতারিত হতাম না। দেশ বিরোধী চুক্তি হতো না। দেশকে পরাশক্তিগুলোর উন্মুক্ত-বিবাদের খেলার মাঠে পরিণত করতাম না।
সেদিন দেখলাম ভারতের সংসদে একজন মহিলা সাংসদ মোদীকে চা’ওয়াল, চা’ওয়ালা বলে ভৎসনা করছেন আর মোদী মোলিন বদলে তা শুনছেন। এভাবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অতীত দারিদ্রকে কটাক্ষ করা সমর্থন করি না কিন্তু তাদের তো লজ্জিত হওয়ার কথা যে, তাদের মত এলিটদের জনগণ গ্রহণ করছে না, মোদীকেই সমর্থন করছেন। তার কারণ কি? সেটা কি রিয়ালাইজ করবেন? এই পরিস্থিতির অন্তর্গত সত্য ও সমীকরণ কি?
ফেসবুকে দেখছি, কেউ কেউ মোদী সরকারের নতি স্বীকারের কথা বলছেন, ককরোচদের অভিনন্দন জানাচ্ছেন তাদের অর্জনের জন্য। বিষয়টি সেভাবে না দেখে বরং ককরোচ ও সরকার উভয়েই দেশের গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে একটি বোঝাপড়া করেছেন। ভারত বিরোধী নানা ষড়যন্ত্র ও উষ্কানিতে পা না দিয়ে উভয়েই দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। এটাই গণতন্ত্র ও ভারতের রাজনীতির সৌন্দর্য।
শোনা যায় কিছু কিছু এনজিও আন্দোলনে টাকা ঢেলেছে। সরকার তাদের অর্থের উৎসের সন্ধান করবে। এমন কি তাদের তহবিল বন্ধ ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। সেটা হলে এই প্রতিষ্ঠানগুলো শুকিয়ে মরবে, অনেক চাকরি হারাবে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এমন অভিযোগ প্রকাশ্যেই এসেছে, তার কি কোন তদন্ত হয়েছে? হবে? কিন্তু ক্ষমতায় বসে যারা ভাবছেন, সেগুলো অতীত, এবং আজকের দিনটাকেই শেষ কথা, তারা আরেকটি ভুল করছেন।