আজ শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ইং

Advertise

মুক্তমত

মুজিব রহমান

২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০২:৩০

গণপিটুনি কোনো ন্যায়বিচারের বিকল্প নয়

সিক্সপ্যাক বডি বিল্ডার শাহজালাল রুমির বিরুদ্ধে হুজুরগণ বেজায় খেপেছেন। তারা একের পর এক বুস্টিং পোস্ট করেই যাচ্ছেন। কেনো অমনভাবে থাপ্পর দিবেন যাতে হুজুর ধরাশায়ী হয়ে মাটিতে পড়ে যাবে। এমন থাপ্পর যেনো তাদের বুকে গিয়ে লেগেছে। হুজুরগণ দাবি করছেন সামান্য একটা চুমুতেই কেনো এমন থাপ্পর দিবে? একটি শিশুর সাথে এই অপরাধটি খুবই ভয়ানক। সে তাকে বিভিন্নভাবেই যৌন হয়রানি করেছে। বাড়িতে এসব বলতে বারণ করেছে। এটা যে ভয়ানক কিছু ছিলো তার প্রমাণ হলো শিশুটি আর মাদ্রাসায় যেতে না চাওয়া। শিশুটির মনে মারাত্মক এক ট্রমা তৈরি হয়েছে। হয়তো দীর্ঘকাল তাকে এই ট্রমার মধ্য দিয়েই যেতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও হজুরদের শিশু ধর্ষণ ও বলাৎকারের সংবাদ আসছে। বড়দের সাথেও ঝামেলা করার সংবাদ দেখছি। বিপরীতে গণধোলাইও বিপুল হারে হচ্ছে। কোথাও মেরে চুল চেছে দিচ্ছে, কোথাও হুজুর পাজামা হাতে নিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন, কোথাও নারীরাই গণপিটুনি দিচ্ছেন, কান ধরে উঠবস করাচ্ছে মানুষ। কোথাও মাদ্রাসাই পুড়িয়ে দিতে দেখলাম। সম্প্রতি রুমির সামনে তারই এক শিশু আত্মীয়া/সন্তানকে হুজুর চুমু দেওয়ার কথা স্বীকার করা মাত্রই সজোরে চপেটাঘাত করে। এটাকে আমি ব্যক্তিগতভাবে সমর্থন করি না। এটাও ন্যায়বিচার নয়। কিন্তু বডি বিল্ডারের বিরুদ্ধে যেভাবে প্রতিবাদের জোয়ার বইয়ে দিচ্ছেন সেটা খুবই লজ্জাকর বলেও মনে করি। এ যেনো চোরের মায়ের বড় গলা। আমরা বুঝতে পারি যারা প্রতিবাদ করছেন তারা নিজেরাও বিভিন্ন সময়ে বলাৎকার ও শিশু ধর্ষণ করেছেন। ফলে এটাকে আর অপরাধ হিসেবেই মানতে রাজি হচ্ছেন না।


বাংলাদেশে মাদ্রাসার শিক্ষক, ইমাম, ধর্মীয় শিক্ষাগুরু বা প্রচলিত ভাষায় ‘হুজুর’-এর বিরুদ্ধে শিশু বলাৎকার ও ধর্ষণের অভিযোগ উঠলে কেনো এখন স্থানীয় মানুষের হাতে অভিযুক্ত ব্যক্তি গণপিটুনি বা গণধোলাইয়ের শিকার হচ্ছেন? আমরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছি, রাষ্ট্র এ বিষয়ে একটি বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিটি করুক। সারা দেশে এর ভয়াবহতা তুলে আনুক। বলাৎকার ও শিশু ধর্ষণের বিরুদ্ধে কঠোর আইন করুক এবং প্রতিটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নজরদারী করুক। শিশুদের রক্ষা করুক। মানুষ রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা রাখতে পারছে না বলেই আইন হাতে তুলে নিচ্ছে। আজ একজন বডি বিল্ডারের এক থাপ্পরে হুজুর চিৎপটাং হয়েছেন। কিন্তু সব শিশুরই পিতা/বা আত্মীয়ইতো বডি বিল্ডার নন। তারা তো তাদের শিশুদের রক্ষা করতে পারছেন না। বডি বিল্ডারের ধর্মবিশ্বাস নিয়েও কথিত প্রগতিশীলরা কটাক্ষ করছেন। সে বিশ্বাসী কি অবিশ্বাসী সেটা বড় কথা নয়। সে গিয়েছে একটি নিপীড়িত শিশুর পক্ষ হয়ে। একজন পিতা বা পিতৃব্য হিসেবে। হুজুর যেভাবে রসিয়ে চুমু খাওয়ার কথা স্বীকার করছিল তাতে মনে হয়েছে এটা যেতো তার অধিকার। তার আচরণ দেখে বডি বিল্ডার ফুঁসে উঠেন এবং এক থাপ্পড়ে ধরাশায়ী করেন। ওখানে লাল জামা পরা একজনও বডিবিল্ডারকে খেপিয়ে তুলতে ভুমিকা রেখেছেন। মনে হয়েছে ওটাও হুজুরের পক্ষের কেউ।


বর্তমানে প্রায় এক কোটি শিক্ষার্থী মাদ্রাসায় পড়ে। লক্ষ লক্ষ শিশু বলাৎকারের শিকার হয়ে বিকৃত চেতনাধারী হয়ে উঠছে। ফলে অনেকেই এটাকে স্বাভাবিক যৌনাচার হিসেবেই ধরে নিয়েছেন। আমি বহুবারই দেখেছি তারা এসবকে গোপন করতে মরিয়া হয়ে উঠেন। এবং এতোকাল তারা হাদিস শুনিয়ে গোপন করাতে সক্ষম হতেন। এখন মানুষ কিছুটা সচেতন। তারা আর চান না ধর্ম শিখতে গিয়ে তার সন্তানরা যেনো ধর্ষিতা বা বলাৎকার হয়। বডি বিল্ডারের চেয়ে সীমাহীন বহুগুণ অপরাধ ওই হুজুরের। অথচ অসংখ্য হুজুর ওই হুজুরের পক্ষে ও বডি বিল্ডারের বিপক্ষে পোস্ট দিয়েই যাচ্ছেন। বডি বিল্ডার একটা অপরাধের প্রতিবাদ করতে গিয়ে আইন হাতে তুলে নিয়েছেন। এটা সভ্য দুনিয়ায় হতো না। কিন্তু সভ্য দুনিয়াতে কি এখনও লক্ষ লক্ষ শিশু বলাৎকারের শিকার হয়? তাহলে এগুলো কে বন্ধ করবে? সরকার কোনোভাবেই করছে না? তাহলে কে করবে? বাধ্য হয়েই বডি বিল্ডার এগিয়ে এসেছে। একজন বডি বিল্ডারের থাপ্পরে যেনো সব হুজুর একসাথে কেঁপে উঠেছে। কিন্তু জনগণ তথা সাধারণ মানুষ আপনাদের সীমাহীন বলাৎকার, লাম্পট্য, ধর্ষণ ইত্যাদি দেখে দেখে ক্লান্তি বোধ করছেন তার রেজাল্ট টা কী হবে? এমন একটা শিশু নিপীড়কের পক্ষে হুজুরগণ কীভাবে অবস্থান নিতে পারেন? খুবই লজ্জাজনক আবার আতঙ্কেরও। এটা যদি তাদের মানসিকতাই হয়ে থাকে তাহলে, আমাদের লক্ষ লক্ষ শিশুদের বাস্তব অবস্থাটা কতোটা ভয়ানক?

শেয়ার করূন

আপনার মতামত